| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সমগ্র জাতি। সবার প্রত্যাশা আজ একবিন্দুতে মিলিত, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি। অবস্থা বেগতিক দেখে অপরাধীরা শেষ রক্ষা কবচ হিসেবে বেছে নিয়েছে ইসলামের নামে অপপ্রচার। সে অপচেষ্টা রুখতে দেশের আলেম সমাজ আজ উচ্চকন্ঠ, উন্মোচিত হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের মুখোশ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, জামায়াতের যুদ্ধাপরাধ, ভন্ডামী আর ধর্ম ব্যবসার কথা সবার জানা। কেবল বিএনপি জানে না! এটা কী অচেতনতা নাকি ভিন্ন ব্র্যান্ডের জামায়াতি রাজনীতি?
হালের রাজনীতিতে জামায়াতের মুখপাত্র হয়ে উঠা বেগম জিয়া দেশকে দুই ভাগে বিভক্ত করার দায় দিলেন সরকারের উপর। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়া ও তা করা যদি জাতিকে বিভক্ত করা হয়, তাহলে 'ওয়ার এগেইনষ্ট টেররিজম' বলায় বিভাজিত বিশ্বের দায়ও আমেরিকার। উল্লেখ্য, 'টেররিজম' এর আড়ালে উগ্রপন্থী ইসলামী সংগঠন ও রাষ্ট্রকেই বুঝানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত যুদ্ধগুলো এর সত্যতা নিশ্চিত করে। বেগম জিয়া সেই আমেরিকার হস্তক্ষেপের জন্য মায়াকান্নায় ভরা কলাম লিখলেন। বিদেশি পত্রিকায় লেখা ঐ কলাম নিয়ে প্রশ্নের অন্ত নেই। তথাপি এখানে দুটি প্রশ্ন না করলেই নয়। প্রথমত, জনগণের সরকারকে উত্ক্ষাত করতে বিদেশী শক্তির সাহায্য চাওয়া গণতান্ত্রিক মনোভাবের পরিচায়ক? দ্বিতীয়ত, আমেরিকার সাহায্য চাওয়া ইমানি জোরের কমতি কিনা?
ক্ষমতার জন্য আপোষহীন(!) নেত্রীর আপোষনামা অন্তহীন। একবার ভারত তোষণের সিদ্ধান্ত নেন আবার পরক্ষণেই ভারত বিরোধীতাকেই একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান। চেয়েচিন্তে প্রণব মুখার্জির সাথে সাক্ষাতের সময় নিয়ে নিজেই বৈঠক বাতিল করেন। এতে সফররত একজন বিদেশি রাষ্ট্রপতির সাথে শিষ্টাচারের ঘাটতি হলো কিনা সে বিবেচনার সুযোগ কোথায়! যদিও অনেকেই মনে করেন, প্রণব মুখার্জির মুখোমুখী হবার সত্ সাহস খালেদার ছিল না। সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলন করে জামায়াত-শিবিরের তান্ডবকে নির্লজ্জ সমর্থন দেবার কারণে দেশময় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যে ’৭১ এর অনুরূপ আক্রমণ সংগঠিত হয়েছে তার দায় খালেদা এড়ান কী করে!
সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে একদিকে তিনি দেশবাসীকে রাজপথে নেমে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান, অপরদিকে জাতিকে বিভক্ত করার জন্য সরকারকে হুশিয়ার করেন। সমগ্র জাতি যদি তাঁর কথাতেই নেমে আসে তবে সরকারকে হুশিয়ার করার তাত্পর্য বোধগম্য নয়। হয়ত বেগম জিয়া জেনে গেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাঁর কথায় রাজপথে নেমে আসবে না। এমনকি তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের সবাই মাঠে থাকবে না। কারণ সেই একটাই, বিভাজন। দেশে যেমন তেমন তাঁর দলেও এই বিভাজন স্পষ্ট। তাই শুধুশুধু সরকারকে দুষে লাভ নেই। এই বিভক্তি অনেক আগে থেকেই ছিল, সেই ’৭১ থেকে। তবে ’৭১ এর পরাজিত অপশক্তি কখনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সাহস পেত না। এখন পাচ্ছে। এর শুরুটা করে গেছে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়া।
জিয়া ’৭১ এর চেতনাকে বিনষ্ট করে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে ’৪৭ এ। জিয়ার কারণে আজ উগ্রপন্থীদের এই দৌরাত্ম। বেগম জিয়া সেই ধারাবাহিকতা জারি রেখেছে মাত্র। ’৯১ এর নির্বাচনে জামায়াতের সাথে গোপন আঁতাতে ক্ষমতায় আসেন, ২০০১ এ জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হয়েই সরকার গঠন করে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতার অংশীদার করেন এবং সামনের নির্বাচনে মনে হচ্ছে জামায়াতই সিদ্ধান্ত নেবে জোটে বিএনপিকে রাখবে কিনা। সেই ভয় থেকেই হয়ত বিএনপি জামায়াতের মুখপাত্রের ভূমিকা নিয়েছে। বিএনপির ডাকা সাম্প্রতিক সময়ের হরতালেও দেখা যাচ্ছে বিএনপির জামায়াত নির্ভরতা। দিন যত যাচ্ছে জামায়াতে বিলীন হচ্ছে বিএনপি। ফলে আজ বিভাজন রেখার উপরে কেউ নেই, স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত।
আমেরিকার ঘোষিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুষ্টিমেয় সন্ত্রাসী ও জঙ্গী সংগঠন এর বিপরীতে শান্তিকামী সমগ্র বিশ্ব। তারপরও সন্ত্রাসীদের সংঘবদ্ধ আক্রমণে অস্থির সবাই। বাংলাদেশেও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেনতার বিরুদ্ধচারীরা সংখ্যায় নিতান্ত নগণ্য কিন্তু তাদের অপতত্পরতা অবশ্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়, হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বিএনপি নেত্রীর সমর্থন জামায়াত-শিবিরকে আরও বেশি মরিয়া করে তুলেছে। তারা একদিকে ’৭১ এর কায়দায় প্রগতিশীল তরুণদের হত্যা করছে, হিন্দু নিধন শুরু করেছে, অন্যদিকে সত্যিকারের আলেমদের নির্মূলে চক্রান্ত করছে। এককথায় একটা ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টির অপচেষ্টা পরিলক্ষিত। তবে আশার কথা, চারিদিকে এত ষড়যন্ত্র, এত নৃশংসতা, এত নাশকতার পরও ’৭১ এর চেতনা ফিরিয়ে আনতে জেগেছে তরুণ। প্রজন্ম চত্বর থেকে তারা ডাক পাঠাচ্ছে, আজ আরেকবার জেগে উঠার দিন।
©somewhere in net ltd.