নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সবার আমি ছাত্র

ইমরান আহমেদ সৈকত

জীবনের শুরু এবং শেষ, এ দুটোর মধ্যে আছি

ইমরান আহমেদ সৈকত › বিস্তারিত পোস্টঃ

দায়িত্ব কি কখনো ছোট্ট হয়?

০৪ ঠা জুন, ২০২৩ রাত ১২:৫১

আমার ছোট্ট ভাইটির বয়েস ৩ বছর, আর তার বড়োটি বোন আমার। বয়েস ৫ ছুই ছুই। আমি বাড়ি যাবো শুনলেই অধীর আগ্রহে আমার জন্যে অপেক্ষা করে তারা। ঘরে পা রাখতেই তারা আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করে। আমিও তাদেরকে নিয়ে হাটতে বের হই, বর্ণমালা শিখাতে বসি। আর নতুন করে আমিও তাদের কাছ থেকে শিখি, কিভাবে বাচ্চা বনে থাকতে হয়? এই দু'টোকেই এবার সাঁতার শিখানোর জন্যে পুকুরে নামিয়েছি। বোনটি একটু ভয় পায়, আর ভাই ছোটটা কোল থেকেই ঝাপ দিতে চায়। সেদিন তো একধাপ এগিয়ে সাপ ধরার জন্যে দৌড় দিতে গিয়ে ধপাস করে পানিতে পড়ে গিয়েছিলো। এসব দেখে ছোট্টবেলার কথা মনে পড়ে যায়। আমিও কি এমোন ছিলাম?



এইতো সেদিনের কথা, ভাই ছোটটা খুবই দুষ্টুমি করে, সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করে, তার মা'কে কতোরকম ভাবে জ্বালানো যেতে পারে সেটা আমি তার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখি। কথায় কথায় মা আমার প্রসঙ্গ টেনে আনলো হঠাৎ করে। আমি নাকি এর চেয়েও বেশি জ্বালিয়েছি আমার মা'কে। নিজের কেচ্ছাকাহিনী শুনতে ভালোই লাগে। সেদিন তাদের কে কোলে নিয়ে শুয়ে-বসে আছি। আর গল্প শোনাচ্ছি। ভুতের গল্প, পরীর গল্প, সাত-ভাই চম্পার গল্প। কতোটুকু তারা বুঝে উঠে সেটা জরুরি নয়, কিন্তু তারা প্রশ্ন করে। আমি প্রশ্নের উত্তর করি। আর নিজের ছোট্টবেলাকার কথাগুলো মনে করি। নানুর কোলে শুয়ে আমিও এভাবে গল্প শুনতাম, আমাদের এলাকায় যাকে 'কিচ্ছা' বলে। কতোরকম গল্প, হরেকরকম গল্প। এগুলোই আমার স্মৃতির পাতায় লিখা, আর আমার ছোটদের কাছে আমিই হয়তো স্মৃতি হয়ে থাকবো।

বোন ছোটটা আমার ফোন নিয়ে তাদের ছবি দেখে, মাস ছয়েক হলো ছোটটাও যোগ দিয়েছে এই দলে। কিন্তু, আমি সময় বেধে দিয়েছি, ৫ মিনিট। বোনটি মন খারাপ করে কিছুক্ষণ চুপ বসে থাকে, আর ছোটটা মাটিতে গড়াগড়ি করে। দেখতে ভালোই লাগে তাদের চেহারা, তাদের এই অবস্থা দেখে। কিন্তু, আমি তাদের হাতে ফোন তুলে দেই না। তাদের কে কোলে নিয়ে, হাত ধরে হাটতে বের হই। কিন্তু, স্মার্টফোনের অভ্যেস তাদের আমি হতে দিবো না। আরো কিছুটা বড়ো হোক, তাদের হাতে বই তুলে দিবো। বই পড়তে দিবো। প্রতি বই শেষে উপহার দিবো, ভালোবাসা দিবো সাথে আরো কিছু বই দিবো। কিছুটা বড়ো হবে, বুঝতে শিখবে, তখনই তারা হয়তো বিরক্ত নিয়ে স্মরণ করবে আমি তাদের পছন্দের জিনিস তাদের হাতে তুলে দেই নি।



কিন্তু, একদিন তারা গ্রাজুয়েট হবে, জীবনের দৌড়ে প্রবেশ করবে, স্ব-শিক্ষিত হবে। সেদিন তারা আমাকে স্মরণ করবে আর নিজের মনেই বলে উঠবে, 'ধন্যবাদ, ভাইয়া। আমাদের হাতে বই তুলে দেয়ার জন্যে।'

আর, আমি সেদিন ছোট্ট এই একটি দায়িত্বের কারণে নিজেকে স্বার্থক মনে করবো।

( *** স্থিরচিত্র দু’টো গুগল হতে সংগ্রহ করা ***)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.