নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

চাঁদনী রাতের দেবী সেলিনের গল্প

০৬ ই জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:০৪



বাফা লেইকের ধার ঘেষে যে পর্বতগুলো আছে, তাতে ছাগল আর ভেড়া চড়াতো এন্ডিমিয়ন নামের এক রাখাল। সে ছিলো অতি সাধারণ একটি মানুষ। পর্বতগুলো'র পাথুরে জমিতে ছাগল চড়ানো'র ফাঁকে বাঁশি বাজাতো এন্ডিমিয়ন। জীবনের চলার পথে এই বাঁশিটিই ছিলো তার একমাত্র বন্ধু ও সাথী। ব্যস্ত শহুরে জীবন ফেলে সেই পর্বতগুলোর কোলে এসে ঝর্ণাধারা, গাছ, পাখ-পাখালী'র গান তার বাঁশির সুরে ফুটে উঠতো।

শহর থেকে বিচ্ছিন্ন সে চারণভূমিতে তার বাঁশির আওয়াজ কেউ শুনতে পেতো না, শুধু চাঁদের আলো ছাড়া। চাঁদের দেবী সেলিন তাকে চুপি চুপি দেখতেন। এভাবে একদিন প্রেমে পড়ে গেলেন তার।

প্রতি রাতে এন্ডিমিয়ন যখন সবুজ ঘাসে ঘুমিয়ে পড়তো, তার উপর নিজেকে এলিয়ে দিতেন সেলিন। নিজের আলো দিয়ে জড়িয়ে ধরতেন তাকে, চুমু খেতেন এন্ডিমিয়নের ঘুমন্ত শরীরে।

এভাবেই চলছিলো প্রতি রাতেই। চাঁদ যখন আকাশের কোল ঘেষে জেগে উঠতো, সেলিন নেমে আসতেন মর্তে। প্রেমিকের অজান্তে তার পাশ ঘেষে শুয়ে তাকে আলিঙ্গন করতেন ভালবাসা ভরে।

একদিন ঘুম ভেঙ্গে গেলো এন্ডিমিয়নের। জেগে দেখতে পেলো দেবীকে। সে প্রথমে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, যেখানেই সে যায়, চাঁদ তাকে অনুসরণ করে, সাথে দেবীও। একসময় ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ে এন্ডিমিয়ন, মুচকি হেসে তার পাশে এসে বসলেন সেলিন। দেবী'র অপার সৌন্দর্যে বাধা পড়ে সে। ভালোবেসে ফেলে মন থেকে।

....

তদের এ ভালোবাসা স্বর্গের দেবতারা সুনজরে দেখতে পারলেন না। কারণ, তারা চান না কোন মানুষ অমর্ত্য সুধা পান করে অমর হয়ে যাক। কিন্তু, দেবতা জিউস ছিলেন ভিন্ন রকমের। তিনি সেলিন আর এন্ডিমিয়নের এই ভালোবাসাকে সমর্থন করলেন। তাই, তিনি একদিন নেমে আসলেন পৃথিবীতে।

এন্ডিমিয়নের সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, কি বর চাও তুমি?

এন্ডিমিয়ন বললো, আমাকে অমর ঘুম দিন।

দেবতা তাকে তা-ই দিলেন। সেই বরের কল্যাণেই পৃথিবী'র মানুষেরা আজো ঘুমের ঘোরে ভালো স্বপ্ন দেখে।


আর, দেবী সেলিনের কি হলো?



আজো দেবী সেলিন পৃথিবী'র বুকে নেমে আসেন। প্রেমাস্পদের চীর ঘুমন্ত শরীর কোলে নিয়ে সারা রাত কাটিয়ে দেন। পাইনের পাতাগুলো ঝড়ে পড়ে ঢেকে দেয় তাদের সারা শরীর। পর্বতের ফাঁকে ফাঁকে ধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে এন্ডিমিয়নের একাকী বাঁশির সুর!



(অনুবাদটি গ্রীক পূরাণ অবলম্বনে)

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:৩০

কামাল১৮ বলেছেন: কার লেখা,বইয়ের নাম কি।ইডিপাস পড়েছেন?

০৮ ই জুলাই, ২০২৪ দুপুর ১২:০২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:


মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.