| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমার কাছে অনেক আইডিয়া আছে এবং আমি তা ব্লগে এপ্লাই করি! জানেনই তো, পৃথিবীর সব কিছুর মূলে রয়েছে আইডিয়া!
গতকাল রাত থেকে এই চিন্তাটা আমার মাথায় আসছে। বাংলাদেশে প্রতি তিন মাসে একবার 'কার্বন ফ্রি ডে' পালন করলে কেমন হয়? ঐ দিন বাংলাদেশে যত পেট্রোল,-ডিজেল-সিএনজি চালিত গাড়ি আছে, একমাত্র এম্বুলেন্স ছাড়া বাকি সব কিছু বন্ধ থাকবে। সেই দিন শুধু রিকশা আর অটো চলবে।
বাংলাদেশ প্রতি দিন ২,৯০,০০০ - ৩,৪২,০০০ টন কার্ব-ডাই অক্সাইড বাতাসে পুশ করে। আর, ২০২৩ সালের হিসাব মতে, আমাদের দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৯২ হাজার ১৯.৪০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার হয় যা থেকে ৫১,১৬১.০৮০৪ টন কার্বন প্রতি দিন বাতাসে মিশে। ডিজেল আর সিএনজি'র হিসাব করা হলে বাংলাদেশে প্রতিদিন কার্বন এমিশন আরও অনেক বেশি।
এর মানে বুঝেছেন? বর্তমানে সর্বনিম্ন কার্বন ক্রেডিট হচ্ছে - ৬.৩৪ মার্কিন ডলার। এই হিসেবে, বাংলাদেশে 'কার্বন ফ্রি ডে' পালন করা হয় এবং ৫০% পেট্রোল কম ব্যবহৃত হয়, তাহলে ১ দিনে প্রায় ২ কোটি টাকার কার্বন ক্রেডিট পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে, হিসেব করলে, টাকাটা অনেক কম। কিন্তু, ইমপ্যাক্ট হিসেবে দারুণ কার্যকরী হবে। প্রতি ৩ মাসে ১ দিন করে হলেও আমরা মুক্তবাতাসে একটু শ্বাস নিতে পারবো। চ্যালেঞ্জটা অন্য জায়গায়। বাংলাদেশে ১ দিনে যেই পরিমাণ পেট্রোল, ডিজেল আর সিএনজি ব্যবহৃত হয়, আর তা দিয়ে গোটা ইকনোমিতে যে পরিমাণ ভেল্যু ক্রিয়েশন হয়, তা কোন সরকার এবং জনগণ বন্ধ করতে চাইবেন কি?
যদি এমন করা যায়, যেই পরিমাণ কার্বন ক্রেডিট পাওয়া যাবে, তা বিক্রি করে যা পাওয়া যাবে, তা আমাদের ড্রাইভারদের 'টোকেন মানি' হিসেবে দেওয়া হলো, অর্থাৎ, ঐদিন ড্রাইভাররা গাড়ি বন্ধ রেখে ছুটি নেওয়ার জন্যে '১০০০ টাকা' হিসেবে পাবেন, তাহলে, এই কার্বন ফ্রি ডে পালন করা হয়তো সম্ভব হতে পারে।
এছাড়াও, কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করে পাওয়ার সরকারী টাকা দিয়ে কার্বন ট্রেপিং প্রজেক্টো নেওয়া যেতে পারে যা স্বল্প মেয়াদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল হবে।
©somewhere in net ltd.