| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?
সামুতে কিছু ব্লগার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পোস্ট লিখেন বলে অভিযোগ আছে। কিছু ব্লগার এ আই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কমেন্ট লিখেন। তবে, খালি চোখে সেইসব লেখা ধরার একটি উপায় হচ্ছেঃ আপনি যদি পোস্টে ছোট এরকম ' - ' এর জায়গায় লম্বা ড্যাশ '—' দেখেন, তাহলে, বুঝে ফেলবেন, এটা এ আই দিয়ে লেখা!
এছাড়া, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ধরার কিছু প্রযুক্তি অনলাইনে পাওয়া যায়। তবে, এক্ষেত্রে, আপনি যদি এ আই দিয়ে লেখা আর্টিকেল জিমেইল/হোয়াটসএপে কপি পেস্ট করে পোষ্ট করার পরে তা আবার কপি করে কোথাও পোস্ট করলে ধরাটা খুবই মুশকিল!
এছাড়াও, স্ক্রিন শট করা ছবিও বাজারে পাওয়া প্রযুক্তি বেশির ভাগই ধরতে পারে না!
সেজন্যে, এমন একটি এপ্লিকেশনের আইডিয়া মাথায় এসেছে, যা দিয়ে উপরে উল্লেখিত এ আই ধরার প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার পদ্ধতিকেও ধরা খাইয়ে দিবে! এই পদ্ধতি সামুর মতো লেখা নির্ভর ওয়েবসাইটে দরকার।
২|
১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৯
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
এই পোস্টটি একটি সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লেখা তৈরি, সম্পাদনা কিংবা মন্তব্য করার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে সামহোয়্যারইন ব্লগের মতো লেখানির্ভর একটি প্ল্যাটফর্মে কোন লেখাটি মানুষের নিজস্ব চিন্তা থেকে এসেছে, কোনটি এআইয়ের সহায়তায় তৈরি হয়েছে এবং কোনটিতে মানুষের সম্পাদনা ও এআইয়ের অবদান মিলেমিশে আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আপনার প্রস্তাবিত অ্যাপ্লিকেশনটি এই সমস্যার সমাধানে কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
তবে আপনার পোস্টের একটি বক্তব্যের সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত হতে পারছি না। আপনি বলেছেন, লেখায় ছোট হাইফেনের পরিবর্তে লম্বা ড্যাশ ‘—’ থাকলে বুঝে নেওয়া যায়, সেটি এআই দিয়ে লেখা। বাস্তবে এই ধারণাকে নির্ভরযোগ্য শনাক্তকরণ-পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। লম্বা ড্যাশ বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষার সাহিত্যিক ও প্রবন্ধধর্মী লেখায় বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হচ্ছে। কোনো লেখক নিজের লেখায় বক্তব্যের বিরতি, ব্যাখ্যা, বৈপরীত্য কিংবা বিশেষ কোনো ভাবকে জোরালো করার জন্য এই চিহ্ন ব্যবহার করতে পারেন। আবার এআই দিয়ে লেখা কোনো লেখা থেকে লম্বা ড্যাশ সরিয়ে দিলেও সেটি এআইয়ের লেখা হওয়া বন্ধ হয়ে যায় না। সুতরাং বিরামচিহ্নের ব্যবহার লেখকের লেখার ধরন সম্পর্কে কিছু ধারণা দিতে পারে, কিন্তু সেটিকে লেখার উৎসের চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যায় না।
এআই শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। কোনো শনাক্তকারী সফটওয়্যার একটি লেখাকে এআই-রচিত বলে চিহ্নিত করলেই সেটি নিশ্চিত প্রমাণ হয়ে যায় না। মানুষের লেখা ভুল করে এআইয়ের লেখা হিসেবে শনাক্ত হতে পারে, আবার এআইয়ের সাহায্যে তৈরি লেখা শনাক্তকরণ এড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে ভাষার বৈচিত্র্য, বাক্যগঠন, বানান, আঞ্চলিক শব্দ, লেখকের ব্যক্তিগত প্রকাশভঙ্গি এবং প্রশিক্ষণ-উপাত্তের সীমাবদ্ধতা ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই কোনো ব্লগারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে শুধু সফটওয়্যারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করা উচিত হবে না।
আমার মতে, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—এআই ব্যবহার করাটাই কি অপরাধ, নাকি এআই ব্যবহার করে নিজের মৌলিক চিন্তা ও অবদান সম্পর্কে পাঠককে বিভ্রান্ত করাটাই মূল সমস্যা? এই দুটি বিষয় এক নয়। একজন লেখক নিজের চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও যুক্তির ভিত্তিতে একটি প্রবন্ধ লিখলেন, পরে বানান সংশোধন, বাক্য পরিমার্জন কিংবা তথ্য গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এআইয়ের সাহায্য নিলেন। আরেকজন কোনো বিষয় সম্পর্কে নিজে চিন্তা না করেই এআইয়ের তৈরি লেখা নিজের নামে প্রকাশ করলেন। উভয় ক্ষেত্রেই এআই ব্যবহৃত হলেও লেখকের বৌদ্ধিক অবদান এক রকম নয়।
এআইকে আমি একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে দেখি। একজন লেখক যেমন অভিধান, তথ্যভান্ডার, বই কিংবা সম্পাদকের সহায়তা নিতে পারেন, তেমনি এআইয়ের সাহায্যও নিতে পারেন। কিন্তু এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই করা, যুক্তির যথার্থতা বিচার করা, লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব নেওয়া এবং ভুল হলে তা সংশোধন করা লেখকেরই দায়িত্ব। এআইয়ের লেখা অন্ধভাবে গ্রহণ করলে যেমন সমস্যা তৈরি হয়, তেমনি এআইয়ের সহায়তা নেওয়া প্রত্যেক লেখককে অমৌলিক বলে বিবেচনা করাও অন্যায়।
আপনার প্রস্তাবিত অ্যাপ্লিকেশনটি যদি সামহোয়্যারইন ব্লগে চালু করার কথা ভাবা হয়, তাহলে আমার পরামর্শ হবে, সেটিকে শুধু এআই শনাক্তকারী হিসেবে না দেখে লেখার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির একটি বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। যেমন, লেখক চাইলে পোস্টের সঙ্গে জানাতে পারেন—লেখাটি সম্পূর্ণ নিজের রচনা, নাকি তথ্য অনুসন্ধান, ভাষা সম্পাদনা, অনুবাদ কিংবা খসড়া তৈরিতে এআইয়ের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এতে পাঠক লেখাটির প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাবেন। তবে এ ধরনের ঘোষণা কীভাবে দেওয়া হবে, তা ব্লগের নীতিমালা ও লেখকের স্বাধীনতা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
আরেকটি বিষয় বিবেচ্য। কোনো অ্যাপ্লিকেশন যদি লেখকের ব্যক্তিগত খসড়া, সম্পাদনার ইতিহাস, কপি-পেস্টের তথ্য কিংবা স্ক্রিনশট বিশ্লেষণ করতে চায়, তাহলে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও সম্মতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। প্রযুক্তি দিয়ে অসততা কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে যেন লেখকের ব্যক্তিগত তথ্যের অনাকাঙ্ক্ষিত সংগ্রহ বা নজরদারির ব্যবস্থা তৈরি না হয়। প্রযুক্তির কার্যকারিতার পাশাপাশি তার নৈতিক সীমাও নির্ধারণ করতে হবে।
সামহোয়্যারইন ব্লগের জন্য আমার কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নীতি হবে—লেখার মান, মৌলিক চিন্তা, তথ্যের যথার্থতা, যুক্তির গভীরতা এবং পাঠকের প্রতি লেখকের সততাকে গুরুত্ব দেওয়া। কোনো লেখা এআইয়ের সহায়তায় তৈরি হয়েছে কি না, সেটি একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হতে পারে; কিন্তু শুধু এই একটি বৈশিষ্ট্য দিয়ে লেখাটির সাহিত্যিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। এআইয়ের সাহায্যে লেখা দুর্বলও হতে পারে, আবার মানুষের সহায়তায় তৈরি কোনো লেখা যথেষ্ট চিন্তাশীল ও মূল্যবানও হতে পারে। একইভাবে, সম্পূর্ণ মানুষের লেখা হলেই সেটি যে ভালো হবে, তারও নিশ্চয়তা নেই।
আপনার প্রযুক্তিগত উদ্যোগের ধারণাটি তাই আলোচনার যোগ্য। তবে অ্যাপ্লিকেশনটির সাফল্য নির্ভর করবে সেটি কতটা নির্ভুলভাবে কাজ করে, ভুল শনাক্তকরণ কতটা কমাতে পারে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা কতটা রক্ষা করে এবং তার ফলাফলকে চূড়ান্ত রায় না বানিয়ে যাচাইয়ের একটি সহায়ক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় কি না, তার ওপর।
সবশেষে বলব, প্রযুক্তির কাজ হওয়া উচিত লেখককে ভয় দেখানো নয়, বরং লেখালেখির পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। এআইয়ের ব্যবহার বন্ধ করা হয়তো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়; বরং দায়িত্বশীল ব্যবহার, তথ্য যাচাই, মৌলিক চিন্তার মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই অধিক কার্যকর পথ। আপনার প্রস্তাবিত অ্যাপ্লিকেশনটি যদি এই লক্ষ্য সামনে রেখে তৈরি করা হয়, তাহলে সেটি সামহোয়্যারইন ব্লগের জন্য সত্যিই উপকারী উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৩৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পোস্ট লিখেন
পোস্ট পড়ুন
পোস্ট আলোচনা করুন
...........................................................
এর জন্য চাই লেখক ও পাঠক ,
কতজন সময় দেওয়ার লোক আছে ?
তাই প্রযুক্তির যুগে, প্রযুক্তির সাহায্য সবাই নেবে
সেজন্য সাহিত্য থেমে যাবেনা ।