| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গত কয়েকদিনে শিক্ষামন্ত্রীর এক
উক্তি নিয়ে ভার্চুয়াল
জগতে বিশাল ঝড় বয়ে গেছে। আমাদের
ছাত্র ও শিক্ষকসমাজ
ওনাকে রীতিমতো সার্ফ এক্সেল
দিয়ে ধোলাই করেছে,এ
বিষয়ে আমার ও একটু
এলার্জি আছে,আমি শিক্ষামন্ত্রীর
সাথে একটা জায়গায় একমত
যে পদ্ধতিটা ত্রুটিপূর্ণ, তবে তা শুধু
ভর্তিপরীক্ষার নয়,সম্পুর্ন শিক্ষাব্যবস্থার।
নিজের বিষয়(সি ইউনিট) দিয়েই শুরু
করি ভর্তিপরীক্ষায় হিসাববিজ্ঞান
পরীক্ষায় আসা একটি প্রশ্ন
হিসাববিজ্ঞানের প্রধান উদ্দেশ্য কি?
উত্তর : তথ্য সরবরাহকরন।আমি একাদশ
শ্রেণির অন্তত আটটি বোর্ড অনুমোদিত বই
ঘেটে দেখেছি,এ সম্পর্কে কিছু
বলা নেই,বরং কিছু
বইতে বলা আছে হি:বি: এর প্রধান
উদ্দেশ্য লেনদেন লিপিবদ্ধকরণ, কোন
বইতে হিসাব (আধুনিক) ৫ প্রকার,
কোনটিতে ৬ প্রকার আবার ৪প্রকার ও
আছে,এ রকম হাজারো প্রশ্ন
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায়
আসে,যার সম্পর্কে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির
বইতে কিছুই নেই। গতদিন কোন এক
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা প্রশ্ন
দেখলাম, যেখানে একটি প্রশ্ন:caveat
emptor কি? উত্তর:ক্রেতা সাবধান।আমার
যতদূর মনে পড়ে এই শব্দটি আমি প্রথম
শুনেছিলাম বিবিএ ২য় বর্ষে business law
কোর্সে,এই বিষয়টাতে ও এরকম
হাজারো প্রশ্ন
পাওয়া যাবে যা একাদশ- দ্বাদশ
শ্রেণির বইতে তো দূরের
কথা সিলেবাসে ও নেই।
সর্বশেষে ফেলের হাতিয়ার English ।
সাধারণত English প্রশ্নগুলো করা হয়
বিভিন্ন TOEFL বই থেকে।অথচ ৯০ শতাংশ
ছাত্র ছাত্রী রাই ভর্তিপরীক্ষার
প্রস্তুতির আগে জানে না TOEFL কি?
একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণির English তাদের
কোন কাজেই
আসে না,পরিনতিতে ফেল করে আর
সমালোচকগন
বলে উঠে"হুম,মনে হয় সাজেশন বা প্রশ্ন
পেয়ে a+ পেয়েছে।"
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘ বার বছর
আমাদের শিখায়
কিভাবে আটা দিয়ে রুটি বানাতে হয়
আর ভর্তিপরীক্ষায়
বলা হয়:রুটিকে আটাতে পরিনত কর ও এ
আটা দিয়ে কেক বানাও!!!!
বিষয়টা এইরকম যে, বার বছরের মেয়ের
কাছে বাসররাতের
অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হল,যিনি পারলেন
তিনি মেধাবী আর বাকীসব অকর্মণ্য,
জ্ঞানহীন, গাধা।এই কেক কেউ
একবারে বানায়,কেউ একবছর
পরে বানায় আর কারও আর
বানানোটা শিখাই হয় না।প্রথম দুই
শ্রেণির গায়ে মেধাবীর
তকমা লাগে,এদের মধ্যে আরেক
শ্রেণি আছে যারা s.s.c ও h.s.c
কোনটিতেই a+ পায়নি,এদের বেশির
ভাগই প্রচার করতে থাকে" a+এর দরকার
নেই,ভর্তিপরীক্ষায় নিজেকে প্রমাণ
কর"।আমার যতদূর জানা, a+ পাওয়াটা খুব
সোজা নয়,এজন্য পড়তে হয়(অবশ্য
যারা সাজেশন বা প্রশ্ন পায়
তারা ব্যতীত)। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি,
আপনি সেই মেধাবীদের সম্মান করলেন
না যারা আপনার
আগে নিজেকে দুইবার ( s.s.c ও h.s.c
তে)প্রমান করেছে!!!
আর তৃতীয় শ্রেনি মা-বাবার
বঞ্চনা,পাড়া প্রতিবেশীর
গঞ্চনা,অপমান সহ্য করে ভর্তি হয়
প্রাইভেট অথবা জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভর্তিপরীক্ষার জন্য
যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তা আসলেই
ত্রুটিপূর্ণ। এক ঘন্টার একটি পরীক্ষা কখনই
মেধা যাচাইয়ের মানদণ্ড
হতে পারে না।গত
চারবছরে আমি অনেক ছাত্র
সম্পর্কে জেনেছি যারা অসুদপায় অবলম্বন
করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে,
(তাদের প্রতি ঘৃনা আর অভিশাপ
রইল),আমি মানছি এই পদ্ধতিতে ৮০
শতাংশ মেধাবী উঠে আসে,কিন্তু
বাকি ২০ শতাংশ ছাত্র ও
আসে যাদের যন্ত্রনায় ছাত্র,শিক্ষক এমন
কি বিশ্ববিদ্যালয় ও কাতরাতে থাকে।
তারা ক্লাস করেনা,সন্ত্রাসী কার্যক্রম
করে,ক্লাসরুমে তালা দেয়,শিক্ষকের
গায়ে হাত তোলে।আর রেজাল্ট?
তাদের কারনে শিক্ষকের
বদনাম,ডিপার্টমেন্টের
বদনাম,সর্বশেষে চাকুরীক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের
ও বদনাম হয়।
লেখাটা এখানেই শেষ হতে পারত
তাতে কেবল সমালোচনাই
হত,সমাধানের পথ টা খোজা হত
না,সমাধানটার জন্য এই অধমের
যা মনে হয়েছ্র তা নিম্নরূপ : ১)অনুগ্রহপুর্বক
ভর্তিব্যবস্থাকে সামনে রেখে বই লিখুন
ও ক্লাসে পাঠদান করুন(কলেজ শিক্ষকদের
প্রতি)
২)ইংরেজি শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন
আনুন, TOEFL,synonym& antonym,analogy
ইত্যাদি h.s.c তে সিলেবাসভুক্ত
করা হোক। (সম্মানিত
ইংরেজি শিক্ষকদের প্রতি)
৩)বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির
প্রশ্নগুলো একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবই
থেকে করুন(সম্মানিত বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষকদের প্রতি) ৪)বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভর্তিপরীক্ষাকে অন্তত দুটি ভাগে ভাগ
করা যেতে পারে,যেখানে ৬০ শতাংশ
m.c.q. ও বাকি ৪০ শতাংশ লিখিত
হতে পারে।অনেকেই এ পদ্ধতির
সমালোচনা করবেন কারন
তাতে শিক্ষকদের কষ্ট হবে,রেজাল্ট
দিতে দেরি হবে।সেক্ষেত্রে,
ভর্তি পরীক্ষা দুইদিনে হতে পারে,
প্রথমে mcq তার পর লিখিত,লিখিত
পরীক্ষায় কেবলমাত্র তারাই অংশ
নিবে যারা mcq পরীক্ষায় নির্দিষ্ট
পরিমান নম্বর পেয়ে উর্ত্তীন হয়েছেন।
এর থেকেও ভাল অনেক
পদ্ধতি থাকতে পারে, তা অধমের
স্বল্পজ্ঞান দ্বারা উপলব্ধিকৃত হয়নি।
এইপদ্ধতিতে হয়ত আমার মত এক শ্রেণির
লোকদের
ক্ষতি হবে,যারা ভর্তিপরীক্ষাকে কে কেন্দ্র
করে কিছু টাকাপয়সা আয় করে কিন্তু
উপকৃত হবে পুরো ছাত্রসমাজ তথা দেশ।
শিক্ষাব্যবস্থা বদলান,দেশ ও
বদলে যাবে।
শরীফ(ফিন্যান্স বিভাগ,চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়) উৎসর্গ:পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিবঞ্চিত
মেধাবীদেরকে
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৩:৫০
নিরব বাংলাদেশী বলেছেন: বালের সৃজনশীল বন্ধ করেন আগে। যেসব পন্ডিত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তথা শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানায় তাদের কানের নিচে একটা করে দেয়া লাগবে আগে।
এরপর পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ইংরেজী মাধ্যমে করা হোক, নুন্যতম ইংরেজীতে পারদর্শি করে ছেড়ে দেয়া হোক আর কিছু লাগবে না, যারটা সে করে নিতে পারবে কারন জাতি হিসেবে আমরা অত বোকা নই