নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাংলা আমার

জানতে ও জানাতে চাই

শেখ সাইফুল

আমি যেন আমার কাজটা সঠিক ভাবে করতে পারি এই আমার প্রত্যাশা।

শেখ সাইফুল › বিস্তারিত পোস্টঃ

শিক্ষা

১৬ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১০:৫০

শিক্ষার বিস্তার আমাদের গ্রামে অনেক পরে ঘটেছে। এখন ও যে খুব বেশী হয়েছে তা বলা যায় না। আমার বাপ চাচার সময় ও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হত না শিক্ষার উপর। তখন চাকুরী কে মানুষ খুব একটা মূল্যায়ন করত না। যাদের কিছু করার ছিল না তারা চাকুরী করত। আর যার বাবার মাঠে জমি বাড়িতে টিনের বাড়ি ছিল তাদের সন্তান রা তো চাকুরী করত ই না। বরং যারা চাকুরীি কতর তাদের কে ছোট করে মূল্যায়ন করত। আমার বাবা চাচারা কেউ লেখাপড়া খুব একটা শিখি নি, কেই তিন ক্লাস কেউ সর্বোচ্চ আট ক্লাশ পর্যন্ত পড়েছে। তখন আট ক্লাশ পড়লেও একটা কেরানীর চাকুরী পাওয়া যেত । কিন্ত ঐ যে খাওয়া আর খেলা করার অসুবিধা তো ছিল না তাই আর প্রয়োজন বোধ করিনি বাড়তি কাজের। তবে খেলা বলতে তখন হা ডু ডু আর গাদন খেলা ছিল জনপ্রিয় খেলা। আমাদরে পাহাড়পুরে আবার হা ডু ডু 'র ভাল খেলোয়ার ছিল। আমরা যখন একটু বড় হই তখনও ঘরে অনেক হা ডু ডু খেলার প্রাইজ মনে শীল দেখেছি। যে গল্পটা বলব সেটা কিন্ত এটা নয়। আমাদের বাবার বয়সী একজন আমাদের গ্রামের মধ্যপাড়া বাড়ি নাম চয়না সর্ম্পকে আমাদের দাদা হয়। তিনি এখনও বেচেঁ আছেন। আর গ্রামের ছেলেরা ঐ সময় স্কুলে যেত বিয়ে করার কিছু দিন পূর্বে না বিয়ে করার জন্য নয়। বাবা মা দশ বারো বছরের পূর্বে স্কুলে পাঠাতো না। কারন তখনকার স্কুল শিক্ষক রা আবার বেতের ব্যবহার টা বেশী করত তাই মা বলত আমার এত ছোট ছেলে মাস্টারর মার সহ্য করতে পারবে। তাই আমার সেই চয়না দাদা একটু বেশী বয়স হলেই স্কুলে গিয়েছিল। প্রথমদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরল বেশ ক্লান্ত। ছেলে অনেক পড়া করে এসেছে মা তার খাওয়ার জন্য তাড়া দিতে লাগল। বাবা তার জমির দলিল নিয়ে কি সমস্যা হয়েছে তাই হাতে নিয়ে চিন্তা করছে। পড়ার উপায নেই কারন সে পড়তে পারে না। তাদের সময় স্কুল ই ছিল না। ছেলেকে দেখে সে আনন্দের সাথে বলল বাবা চয়ন স্কুল থেকে আসলি আয় তো আমার এই দলিল টা পড়ে দে তো কি একটা সমস্যা হচ্ছে। ছেলে জবাব দিল বাবা আমি আজকে একদিন স্কুলে গেলাম আমি কি পারি ? তখন বাবা রেগে বলল যা যা যে চুদাই সে একদিনেই চুদাই ( এটা ঐ সময় গ্রামীন একটা ভাষা হিসাবে গন্য হত আজকে এটা অকথ্য , অর্থ ছিল যে পারে সে একদিনেই পারে) । আমার বাবাও মাঝে মাজে বলত যার ধার আছে তাকে কাজ শিখিয়ে দেওয়া লাগে না। আজকে বুঝতে পারি হয়ত পরিবেশের কারনে মানুষ পরিবর্তন হয় কিছুটা কিন্ত অর্ন্তনিহিত বোধ শক্তির যে খুব একটা পরিবর্তন হয় তা আমার মনে হয় নি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.