নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

শেরজা তপন

অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...

শেরজা তপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটি অসভ্য জাতির রাজনীতি!

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২১


সাল ২০০৮। ব্লগারদের দারুণ সমাগম আর চরম জোশ। ব্লগে ঝড় তুলে দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার।
বিএনপি আর জামায়াত জোট তখন ভীষণ কোণঠাসা। কেউ একজন মুখ ফসকে ওদের পক্ষে কথা বললেই তার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে, ছাগু-মাগু ট্যাগ দিয়ে ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে মুচমুচে ভাজা হতো ( ৫ই আগষ্টের পরে ব্লগে লীগ ভক্তদের যেমন হাল ছিল।)। প্রথম আলো ব্লগকে তাচ্ছিল্য করে সামু ব্লগাররা ‘আলু ব্লগ’ বলেই ডাকত। মাহবুব মোর্শেদ, ত্রিভুজের মতো ব্লগাররা নিজেদের একটু জাতে ওঠানোর জন্য ঠারে-ঠোরে সামুতে এসে দু’ছত্র লিখলেই আর যায় কই—খপ করে ধরে তাদের ন্যাংটো করে শূলে চড়ানো হতো। কত ডাকসাইটে ব্লগারের ব্লগিংয়ের অকালমৃত্যু হয়েছে তখন।

কিন্তু সেই প্রথম আলোর দেখানো পথেই সবসময় হেঁটেছে সামুর ব্লগাররা। আজকে ব্লগের এই যে অবনমন আর ভয়ংকর পরিণতি, সেটা ওদের বিশ্বাস আর আদর্শিক পথে তাল মিলিয়ে হাঁটার ফলই।

সেই ব্লগাররা আজ কোথায়, যারা লিখেছিলেন—
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৬
—বিগত চারদলীয় জোট আমলের লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি আর সীমাহীন দুঃশাসনেও মানুষ ছিল প্রায় নিশ্চুপ, কেননা জনগণ অপেক্ষায় ছিল হয়তো নির্বাচনের জন্য। তার মতামত প্রকাশের একটিই জায়গা, আর তা হলো ব্যালট পেপার। সেই ব্যালট পেপারে তার রায় দিতে দেরি হলো দুটি বছর, কিন্তু মানুষ ভুলে যায়নি; দু’বছর অপেক্ষা করেও তার রায় দিয়েছে সন্ত্রাস, সীমাহীন দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির বিপক্ষে। জনতা রায় দিয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।

বিষাক্ত বোলতার জন্ম (২০০৮-এর আগে আওয়ামী লীগ)
ডিম ফুটে লার্ভা বের হয়েছিল (পা নেই, সাদা কৃমির মতো)।
লার্ভা নিজে খাবার জোগাড় করতে পারে না।
কর্মী (আমরা আম জনগণ) বোলতা খাওয়ায়।
এই সময়েই বিষগ্রন্থি (venom gland) ধীরে ধীরে গঠিত হতে থাকে—তবে লার্ভা তখনও কামড়াতে পারে না।

ব্লগ তখন উত্তাল। বিএনপি জোটের ভরাডুবি আর আওয়ামী লীগের জয় যেন ছিল ব্লগারদেরই জয়। তারেক জিয়া তখন ‘খাম্বা তারেক’। হাওয়া ভবন তখন যেন বাংলাদেশের সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর দুর্নীতির কাঁচামালের ফ্যাক্টরি—পুরো দেশ আর সমাজ পচে গিয়েছিল তারেক জিয়ার ভয়ংকর, জটিল, কুটিল বিষনিঃশ্বাসে! এইট পাশ খালেদা জিয়া যেন দেশের সব সর্বনাশের মক্ষীরানি!!

আমার তখন মনে হয়েছিল—
“তারেক জিয়া যদি কোনো দিন নায়কের বেশে দেশে ফেরে, সেদিন যেন আমার মৃত্যু হয়।”
তবে বারবার নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিয়েছি যে—আরে নাহ্‌, এটা কখনো হয় নাকি! এটা হওয়ার নয়।

মরা তখন বুঝে-না-বুঝে তাল মিলিয়েছি!! এরপর সময় বহিয়া গেল—লীগ তখন যেন পিউপায় রূপান্তরিত হলো।
লীগ যেন বোলতার লার্ভার মতো নিজেকে কোকুনে মুড়িয়ে নেয়—বাহ্যিকভাবে নড়াচড়া নেই।
ভেতরে বড় পরিবর্তন হয়—ডানা তৈরি, চোখ, পা, হুল (stinger)।
পুরো বিষাক্ত ব্যবস্থা (venom system) তৈরি হয়।

শুরু হলো আরেক খেলা—রাজাকারদের ফাঁসি। ব্লগ ফের উত্তাল হলো শাহবাগের সাথে। রাজাকারদের ফাঁসিই যেন আমাদের লক্ষ ব্লগারের ধ্যান, জ্ঞান, স্বপ্ন—সব।
কোনো অদৃশ্য গুটি খেলায় আমাদের বদ্ধমূল ধারণা হয়েছিল যে, রাজাকারদের ফাঁসি হলেই দেশের সব সমস্যার চট করে সমাধান হয়ে যাবে।

অবশেষে রাজাকারদের ফাঁসি হলো। আমাদের মনে হচ্ছিল—‘নটে গাছটি মুড়ল, আমার গল্প ফুরল।’

কিন্তু না; লীগ তখন তাদের ভয়ংকর হুল নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বোলতায় রূপ নিল।

প্রথমেই বেছে বেছে মিডিয়ায় আক্রমণ ও খবর প্রচারে নিয়ন্ত্রণ শুরু হলো। ব্লগারদের কাজ তখন শেষ। যারা দায়িত্ব নিয়ে বিশেষ মিশনে ব্লগে এসেছিলেন, তারা অনেকেই ধীরে ধীরে কেটে পড়লেন। বাকি রইল বোকাচোদা কিছু ব্লগার, যারা ঘরের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানো শুরু করলেন। এদের অনেকেরই ঠাঁই হয়েছিল আয়নাঘরে, কিংবা জান দিতে হয়েছে ক্রসফায়ারে।
এই ব্লগটা ধ্বংসের পেছনের কারিগরদের আমরা কি কখনো খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছি??

আজ তারেক জিয়া মহা নায়কের বেশে ফিরে এসেছে, আর আমি শালা বেঁচে আছি বহাল তবিয়তে। এখন অপেক্ষায় আছি—কোনো একদিন মহানায়কের বেশে আরেক রাজপুত্র ফেরার - আপাও বেঁচে থাকলে ফিরবেন। কী, ফিরবে না কি বলেন??
***
নিজেকে নিজে প্রতিদিন গালি দিই—রাজনীতির গুষ্টি কিলাই। ভারতকেও গালি দিই, কিন্তু রাজনীতির খবর দেখা বাদ দিয়ে ‘ভারতীয় কপিল শর্মার কমেডি শো’ দেখি।
***
এই দেশের পচা-গলা রাজনীতি নিয়ে যাদের সাথে অকারনে দ্বন্দে জড়িয়েছি তারা ক্ষমা করে দিয়েন।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৮

কিরকুট বলেছেন: ছাগল কে ছাগল বলতে সময় বা পরিস্থিতি কোন বিষয় না। যারা ছাগল প্রজাতির তারা ওটাই থাকবে, কেউ না বললেও থাকবে বললেও থাকবে। কয়লা ধুইলে ময়লা যাবার সম্ভাবনা শূন্যের কোটায়। যাহ শালা, মুখ ফসকে কোটা বলে ফেলেছি, কোটা না মেধা, এটাই তো ছিলো সেই সব সিকৃত ছাগলদের শ্লোগান, তো আজ মেধা কোন ড্রেনে আছে সম্ভাবত, ছাগলদ্বারা ধিকৃত কোটার কাঠাল পাতাই কিন্তু এরা চিবোচ্ছে।

অনেক কথা বলে ফেলেছি, ক্ষমা ঘেন্যা করে ক্ষমা করবেন।

২| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

পথের ধূলো বলেছেন: মুদ্রার এপিট আর ওপিট। আমাদের রাজনীতি উদ্দেশ্য বিধেয় যেন সব একই :(

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.