নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাজ্জাদ খান ফাহিম

সাজ্জাদ খান ফাহিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিষাক্ত প্রেম [গল্প]

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:০২

অনেক্ষন ধরে জুলি ড্রেস সিলেক্ট করার চেষ্টা করছে।কিছুতেই পছন্দনীয় ড্রেসটি মিলাতে পারছেনা ।এটা পরবে না ওইটা পড়বে ড্রেস মেলাতেও মেলাতেও ঘড়ির কাটা দশটা পেড়িয়ে গেল ।সাড়ে দশটার মধ্যে তাকে রেল ষ্টেশনে পৌঁছাতে হবে।আজকে এত সাজার ও কারণ আছে।জয় এর সাথে আজকে প্রথম দেখা হবে জুলির ।শেষমেশ জয় এর পছন্দের কালো রঙের ড্রেস পড়ে তড়িঘড়ি করে ঘর থেকে বেড়িয়ে রিক্সা ধরল।এদিকে জয় কে কল দিলেও মোবাইল সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না।ট্রেনে আছে তাই বোধহয় সংযোগ পাচ্ছে না।মাথায় ওজন ভর্তি টেনশন নিয়ে ভাবতে ভাবতে রেল ষ্টেশনে এসে পৌঁছল।

অপেক্ষায় আছে ঢাকা হতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য ছেড়ে আসা ট্রেনটির জন্য।এরই মাঝে ব্যাগ থেকে মেকাপ বক্সের আয়নায় নিজেকে বারবার দেখছে ।মাথায় ঘুরপাক করছে জয়ের ভালো লাগবে তো দেখে।ফেসবুকে তো প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে গেলো এইবার কি সরাসরি দেখে নতুন করে আরো একবার প্রেমে পরবে তো । মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছে নিজেকে দেখা দেয়ার আগেই যাতে জুলি জয়কে দেখবে।কোন মতে জুলি নিজেকে আগে দেখা দিতে রাজী নয় ।



জয় একটি এড ফার্ম এ জব করে ।হ্যান্ডসাম যুবক ।মার্ক জুকার জগতে এসে সেই স্বপ্ন পুরুষের সাথে পরিচয় ঘটে জুলির।জুলি সাধারণ রমনীয় গড়নের এক ধরনের উদাসী মেয়ে।নতুন নতুন ফেসবুক জীবন বেশ ভালই যাচ্ছে।প্রথম প্রথম বিধায় সব ধরণের বন্ধু বন্ধুতালিকায় বিদ্যামান ছিলো।এক সময় সেই খেয়াল করল জয় নামের ছেলেটা ফেসবুকের তার সকল কারিকুলামে প্রতিনিয়ত রেস্পন্স দিতো।জুলি প্রথম প্রথম এইসব কেয়ার করতোনা ।এইভাবে অনেকদিন চলে গেলো।হঠাত ফেসবুক থেকে জয় উধাও হয়ে গেলো ।উধাও হওয়ার পর জুলি ফেসবুকে জয়কে খুঁজতো ।খুঁজে না ফেলে জুলির মনের মধ্যে হালকা শীতল হাওয়া বয়ে যেত ।কিছুদিন পর হঠাত এসে জয় আকাশের দিকে উদাসী হয়ে হাত উঁচিয়ে কি যেন খুঁজছে এই রকম মুডে একটা ফটো আপলোড দিয়েছে।জুলি এর মনে কি উদয় হলো কে জানে হঠাত সেইদিন ওই ফটোতে গিয়ে কমেন্ট করে বসল ''আপনি কি দিনের আলোতে তারা খুঁজছেন নাকি অন্য কিছু'' ।প্রতুত্তরে জয়ের কমেন্ট আসে ''জুলিকে খুঁজছিলাম ,তখন পায়নি এখন পেয়েছি কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেলো,তাকে আর কখনো হারিয়ে যেতে দিবো না ''

কমেন্ট টা দেখার পর জয় এর প্রতি জুলির এক ধরনের ভালো লাগা সৃষ্টি হয়ে যায়।ভালোলাগার ও কথা অনেকদিন ধরে ফেসবুকে তাকে চিরুনী অভিযান চালিয়েও খুঁজে পায় নি ।তবে জয় হলো জুলির বড় বোনের খুব ভালো ফ্রেন্ড।জয় সবসময়য় জুলির সম্পর্কে ল্যাটেস্ট আপডেট বড় বোন থেকে নিতো ।জুলি কি করছে,কোথায় যায়,কেমন করে যাবতীয় ধরনের সব তথ্য তৃতীয় মিডিয়ায় জয়ের কাছে যেতো।সেই কমেন্ট থেকে তাদের ফেসবুকের ইনবক্সে কথা আদান প্রদান শুরু হয়ে গেলো ।শেয়ার বাজারের সূচক বেড়ে যাওয়া কিংবা নেমে যাওয়া সাধারণ ব্যাপার থাকলেও কিন্তু তাদের ফেসবুকে কথা বলার সূচক দিন দিন বৃদ্ধি পেতে চলেছে ।সারাটি দিন দুজন দুজনের আবেগ অনুভূতি ঘটনা সমস্ত কিছু একজন আরেকজনের কাছে শেয়ার করত ।এক সময় ফেসবুক থেকে সম্পর্ক বেড়িয়ে আসে মুঠোফোনে ।তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক দিন দিন গভীর থেকে গভিরতমে চলে যায় ।তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক আর নেই ।বন্ধুত্ব থেকে এক ধাপ উপরে আর ভালোবাসা থেকে এক ধাপ নিচে ।যেকোন মুহূর্তে অঘটন ঘটে যেতে পারে ।দুজনেই বেপারটা টের ফেলেও কেউ কাউকে বলে না । একদিন জয় তার মনের কথাটি জানায়।জুলি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারে নি,মনে হয় সেই মজা করছে।জুলি ভবিষ্যতের কথা ভেবে তার প্রস্তাবে অপারগতা জানায়।এরপর থেকে জয়ের এক ধরনের পরিবর্তন আসে।আগের মতো খবর নেয় না,একদম পাল্টে গেলো।জুলির খারাপ লাগা শুরু করে ।সেই খারাপ লাগা একসময় ভালোবাসায় পরিণত হলো।অবশেষে নিজের ভাবকে বিসর্জন দিয়ে সেই তার কথার ইতিবাচক উত্তর জানায়।এরপর থেকে তাদের সম্পর্কের ইতিহাস রচনায় শুরু হয়ে গেলো । সাথে সাথে দুই জেলার ও সম্পর্ক হয়ে গেলো ।জুলি থাকত চট্টগ্রামে জয় থাকত ঢাকায় ।দুই জন দুই মেরু থেকে তারা একে অপরকে ভালোবাসতে বাসতে ভালোবাসার রসাতলের গহ্বরে হারিয়ে যায় । জয় সবসময় জুলির খবর নিতো।প্রচুর পরিমাণে সময় দিতো আর কেয়ার করত।জুলির সব সিদ্ধান্তে জয় ছিলো মধ্যমণি।তাকে ছাড়া জীবন ঘড়ির কাটা আগাতো না জুলির দিন।জুলি একটু আবেগী মেয়ে হওয়াতে জয়ের এই সব কর্মকাণ্ডে প্রচন্ড ভাবে ভালোবেসে ফেলে তাকে।সেই যতক্ষন তার সাথে কথা বলত ততক্ষণই সেই মনে করত সেই তার জীবনের সেরা সময়টুকু উপভোগ করে।জয়ের কথার মধ্যে সেই এক অফুরন্ত সুখ খুঁজে পেত।তার কন্ঠে এক ধরণের প্রেমপ্রীতি ফুটে উঠত যে রমনী শুনবে সেই তার প্রেমে পড়ে যাবে।জুলি জয় কে দেখার জন্য উন্মাদ হয়ে থাকত সবসময়,কিন্তু জয়ের কাজের ব্যস্ততায় ঢাকা থেকে চট্টাগ্রামে এসে দেখা করার সেই সুযোগ তার হয়ে উঠে না।অনেক রিকুয়েস্টের পর অনেকদিন পর প্রায় এক বছর হবে জয় একদিন ঠিক করল সেই দেখা করতে আসবে ।জয় চট্টগ্রামে আসার খুশিতে জুলির মন বসন্তের বাতাসে উড়ছে ।এক সপ্তাহ আগে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করে রাখল কিভাবে সেই তার স্বপ্ন পুরুষকে গ্রহণ করে নিবে । দেখা হলে কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবে কোথায় কতক্ষন থাকবে কোন ড্রেসটি পড়ে যাবে এইসবের একটা রুটিন ও তৈরী করে ফেলল মনের ডায়রীতে ।



ঢাকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি এসে থামল।জুলি এর মনের অবস্থা আরো কোমলীয় হয়ে যাচ্ছে।হাত পা কাঁপতে শুরু করল।এখনই বোধহয় জয় ট্রেন থেকে নামবে। নামা মাত্রয় জুলির হাত ধরে বলবে চলো হাটি...। জুলির আত্মবিশ্বাস তার মনের ক্যানভাসে যে ছবিটি ধারণ করেছে সেই যেভাবে হোক তার প্রিয় মানুষকে হাজারো মানুষের ভীড় থেকে খুঁজে চিনে নিবে।যাত্রী নামা শুরু করল।সবাই নামে কিন্তু জয়কে নামতে দেখা যায় না।তাকে কল দিলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।জুলি ভাবলো হইত জয় তার সাথে লুকোচুরি খেলছে তাকে দেখেও সেই আড়াল হয়ে তাকে দেখছে।জুলির মনের মধ্যে প্রচুর টেনশন কাজ করছিলো।অনেকক্ষণ অপেক্ষায় জর্জরিত পর জয়কে দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে জুলি।মাথায় হাত দিয়ে প্ল্যাটফর্মে বসে পরে । অনেক ট্রেন ষ্টেশনে এসে থামে,ষ্টেশন মাস্টার হুইসেল মারে,জুলিকে আরো ঘোর থেকে কাটিয়ে আনে,যাত্রী নামে কিন্তু জুলি তার স্বপ্ন পুরুষকে নামতে দেখে না।সকাল পেড়িয়ে দুপুর গেলো বিকাল পেড়িয়ে সূর্য অস্তমিত যাওয়ার পথে তবুও সেই আসে না।বিরক্তি হয়ে জয়ের উপর রাগ করে মোবাইল বন্ধ করে বাসায় ফিরে আসে জুলি ।



পনেরো দিন পর জুলি মোবাইল অন করে।মোবাইল খুলে সেই আরো হতাশ হয়ে পড়ে।কোন মেসেজ আসেনি জয়ের ।ফেসবুকেও সেই কোনো মেসেজ পাঠায়নি।বড় আপুর কাছেও ফোন করে একবার জানতে চায় নি সে কেমন আছে ।জানতে চায় নি মোবাইল কেনো বন্ধ করে রেখেছে। সেই ভেবেছে তার রাগ ভাঙ্গানোর জন্য জয় কল দিবে।আগে জুলি রাগ করলে সেই রাগ ভাঙ্গানোর জন্য কতই না চেষ্টা করত,কত আকুতি মিনতি করত কিন্তু এইবার কোন খবর নেই তার।কষ্ট আর ক্ষোভ মনের মধ্যে জমে রাখতে না পেরে শেষপর্যন্ত সেই নিজেই কল দেয়।কল দিলে সেই সাথে সাথে রিসিভ করে না,কয়েকবার রিং পড়ার পর ধরে ।আগের মতো ভালোভাবে কথা বলে না জয় ।বিরক্তি স্বরে কথা বলে ।এইভাবে কয়েকদিন যায় তবুও জয়ের পরিবর্তনের কোন লক্ষণ দেখে না ।জয়ের কোন কারণ ছাড়ায় পাল্টে যাওয়ায় জুলি সহজে নিজেকে মেনে নিতে পারছেনা ।কেঁদে কেঁদে বালিশ ভিজায় ।জয় জুলিকে বলে দেয় সেই যেন তাকে ভুলে যায় ।কারন জিজ্ঞেস করলে এড়িয়ে চলে ।জুই সেটা বিশ্বাস করতে পারে না ।সেইদিন যখন প্রপোজ করেছিলো সেটাও বিশ্বাস করতে পারে নাই আজ ও যখন ভুলে যেতে বলেছে সেটাও মেনে নিতে পারে না । জুলি ওকে বুঝায় সে যেন আগের মতো ফিরে আসে।অপেক্ষায় থাকত হইত সেই একদিন ফিরে আসবে।এইভাবে করতে করতে তিন মাস চলে গেলো ।যেদিন জয় সিঙ্গাপুর চলে যাবে সেদিন একটা মেসেজ করে জানিয়ে দেয় তার সাথে যেন আর যোগাযোগ করার চেষ্টা না করে ।এরপর থেকে তাদের আর কোন যোগাযোগ হয় নি।জুলি ফেবুতে তার ওয়ালে গিয়ে প্রতিদিন দেখত সেই কি করে,কেমন আছে ।প্রথম প্রথম মেসেজ পাটাতো উত্তর না আসাতে সেই আর মেসেজ দিতো না।ফেসবুক আইডি ডিয়েক্টিব করে রাখে জুলি ।অনেকদিন পর ফেসবুকে লগিন করে জয় এর প্রোফাইল ছবিতে সিঙ্গাপুর এর একপ্রবাসী মেয়ের সাথে বিয়ের ফটো দেখে ।জয় জুলিকে সবসময় স্বপ্ন দেখাতো তাদের বিয়ে হবে,তাদের একটি ছোট্ট ঘর হবে,সংসার হবে ।যে ঘর আলোকিত করার জন্য আসবে নতুন মুখ।এমনকি সেই নতুন মুখের নাম ও নির্ধারণ করে রেখেছে ।তারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি কথা বলত ।ছবিটা দেখার পর জুলি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে ।পায়ের নিচে কূল খুঁজে পায় না সেই ।জুলির শেষ পর্যন্ত সকল আশা-প্রত্যাশার মৃত্যু ঘটে।জুলি অপেক্ষায় থাকত হইত সে কোনোদিন নিজ ভুল সংশোধন করে আবার ফিরে আসবে ।আবার তাকে আগের মত ভালোবাসবে। কিন্তু সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো।দেখা হলোনা আর হৃদয়ে মন্দিরে যাকে নিয়ে স্বপ্নের বীজ বুনে ছিলো সেই স্বপ্ন পুরুষকে ।যাকে দেখার জন্য এতদিন আশায় থাকত আর কোনদিন সেই আশায় বুক বাঁধতে পারবেনা ।সেই অধিকারটুকু যে আর নেই।চোখের জল বাধাহীন স্রোতের মত গড়িয়ে যায় ।লবণাক্ত অশ্রু গুলো এখন বিষাক্ত পানিতে পরিণত হয়েছে।এই জলের স্রোত হইত কোনদিন থামানো যাবে না ।স্বাভাবিক জীবনের গতি হারিয়ে ফেলে ।তার এখন একটাই চাওয়া জয় যাতে সংসার নিয়ে অনেক অনেক সুখে থাকে সারাজীবন।

জুলির শুধু একটি প্রশ্ন মনের মধ্যে জ্বালাতন করে ,কি দোষ ছিলো তার ? কেনো সেই এত বড় ধোঁকা দিলো? কেনো সেই এতদিন তার মন নিয়ে খেলা করেছে ?কেনো সেই এতদিন মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়েছে ?

হইত প্রশ্ন গুলোর উত্তর সেই কোন একদিন পাবে,পাবে জনলোকের সান্ত্বনা,কিন্তু হৃদয়ে যে বিষাক্ত আগুনের পিণ্ডটি জ্বলবে সেইটা কি নিভাতে চাইলে আর নিভানো যাবে কখনো ??



কিছুকথাঃ গল্পটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা ।আমার ফেসবুকে পরিচিত এক বান্ধবী আমার লেখালেখি দেখে তার কষ্টের কাহিনী আমাকে বলে।তার কষ্টের কথা শুনে আমি আর না লিখে বসে থাকতে পারিনি ।ভালোবাসা পবিত্র যেটা স্বর্গ থেকে সাত আসমান জমিনে আসে।কিন্তু এই পবিত্র শব্দকে যারা সাময়িক সুখের লোভে মিথ্যা অভিনয় করে মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে ব্যবহার করে ধোঁকা দেয় তারা কখনো ভালোবাসতে জানে না জানবেও না কোনদিন ।তাদের জন্য ভালোবাসা আসেনি ।তারা প্রতারক,ভন্ড,ইতর,লম্পট ।ভালোবাসা আসছে তাদের জন্য যারা হৃদয় দিয়ে আকড়ে ধরে তার মুল্যটুকু দিতে জানে। মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা।আবেগের বশে তারা হুট করে অতিমাত্রায় আবেগপ্রানিত হয়ে কারও অতীত কিংবা বর্তমান বা ভবিষ্যৎ না ভেবে যাকে বলে শুদ্ধ ইংরেজী ভাষায় লাইক করা বা ভালোলেগে যাওয়া বা অবচেতন বা জাগ্রত মনে কারো কথা ভেবে দিন পার করা । এক সময় দেখা যাবে,অতিমাত্রায় তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে,যার ফলে ওই ভাললাগা থেকেই অনেকের জীবনের অধরা স্বপ্নে থাকা ভালোবাসা নামক দুর্লভ সেই বস্তুটি সুলভে হাতছানি দিয়ে থাকে আর কারো জীবন হয়ে পরে জুলির মতো বিষাক্ত পিন্ড, নির্মম,নিষ্টুর,বেদনাদায়ক ।

আমি আগের এক গল্পে লিখেছি এখানেও লিখছি যাকে ভালবাসো,তাকে মন দিয়ে সব কিছু উজাড় করে ভালবাসো ।সময় কাটানোর জন্য করে বলে কাউকে প্লিজ ধোঁকা দিবেন না ।দুপক্ষ কখনো সময় পাসের জন্য করবেনা,এদের মধ্যে যেউ কেউ একজন সত্যি কারের ভালবাসবে । আর ওই একজনের জন্য ভালবাসাটা বহমান নদীর মতো কোন এক গন্তব্যহীন পথে চলা শুরু করবে ,হউক সেটা ফেইক কিংবা রিয়েল ।তোমার জন্য হইত সময় পাস করা,কিন্তু সেই তো তোমাকে সত্যিই ভালবাসবে।তোমার জন্য হইত প্রথম প্রেম নয়,কিন্তু সেই তো তোমাকে তার হৃদয়ে প্রথম জন্ম নেওয়া সহস্র আবেগ অনুভুতি দিয়ে হৃদয়ের শুন্য স্থান পুরণ করে নিবে।প্রেম ভালোবাসা এগুলো শিশুর হাতের মোয়া নয় যা চাইলে পাওয়া যায় আবার এইসব খেলনাও নয় যখন খেলতে ইচ্ছে করবে খেলবে ভালো না লাগলে ছুঁড়ে ফেলে দিবে।কারো জীবন নিয়ে খেলা করার মত আমাদের কারোর অধিকার নাই । আর যাকে ভালবাসবে তাকে কখনও অবহেলা করবে না।পরে যখন নিজের ভুল বুঝতে পারবে,নিজেই অনুশোচনার আগুনে পুড়বেন তখন তার প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইলেও ওই সুযোগ আর হয়ে উঠবেনা। ভালবাসুন,ভালবাসতে শিখুন,মানুষকে ভালবাসা দিতে শিখুন,দেখবে তোমার জীবন অনেক মধুময় হয়ে উঠবে।



উৎসর্গঃআমার সেই ফেসবুকে পরিচিত বান্ধবীকে যাকে নিয়ে এত লেখা ।ভেঙ্গে পড় না এত সহজে,বাস্তবতা অনেক কঠিন হতে পারে কিন্তু জীবন অনেক সুন্দর ।



************ সমাপ্ত *************

১০/০১/১৩

সাজ্জাদ হোসেন ফাহিম

বহাদ্দারহাট,চট্টগ্রাম

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:১৪

জেমসবয় বলেছেন: ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না। :p

২| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:৪৭

সাজ্জাদ খান ফাহিম বলেছেন: tik bolechen :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.