| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যে দেশ সমুদ্রকে যত বেশি ব্যবহার করতে পেরেছে, সে দেশ অর্থনীতিকে তত বেশি এগিয়ে নিতে পেরেছে।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক পানি সীমার অন্তর্ভুক্ত প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার বর্গকিলোমিটার, যা দেশের মূল ভূখ-ন্ডের আয়তনের চেয়েও বিশাল। জানা গেছে, মোচাকৃতির এ উপসাগরের প্রায় ৭১০ কিলোমিটার উপকূলীয় তটরেখা এবং প্রায় ৩২০ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকা এদেশের একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলভুক্ত স্থান।
এ পানিসীমায় রয়েছে ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ও ৩৭ প্রজাতির চিংড়ি। আছে কাঁকড়া, কচ্ছপ, কুমির, হাঙর, সি-আরসিম, সি-কুকুমবার, জেলি ফিশ, শামুক, ঝিনুক। রয়েছে নানা পুষ্টিগুণসম্পন্ন আগাছা। কিন্তু এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে নেই সরকারি কোনো উদ্যোগ। অথচ আহরণ, সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এসব সামুদ্রিক সম্পদ রফতানি করে দেশ অর্জন করতে পারে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। আয় করতে পারে বিপুল রাজস্ব। শক্তিশালী হতে পারে দেশের অর্থনীতি।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে যে খনিজ সম্পদ আছে তা পৃথিবীর অন্য কোনো সাগর, মহাসাগর, উপসাগরে নেই। মণি, মুক্তা, স্বর্ণ, লোহা, তামা, রুপা, প্রবালসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ এখানে রয়েছে বলে প্রাচীন ভারতবর্ষের পৌরাণিকে বঙ্গোপসাগরের নাম দেয়া হয়েছিল ‘রত্নাকাগার’।
এছাড়া বাংলাদেশের পানিসীমায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক আগাছা। এগুলো ব্যবহার হতে পারে মানুষের খাদ্য হিসেবে। কিংবা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা যেতে পারে নানা ধরনের ওষুধ। বিদেশে এই আগাছার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কচ্ছপ, কুমির ও হাঙর। বিদেশে এগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
সামুদ্রিক সম্পদের মধ্যে হাঙর হলো উল্লেখযোগ্য মূল্যবান একটি সম্পদ। হাঙরের পাখনা বেশ মূল্যবান। এর পাখনা বিদেশে স্যুপ ও বেকারির তৈরি খবারের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া হাঙরের লিভার অত্যন্ত মূল্যবান। এ ছাড়া সি-আরসিম ও সি-কুকুমবার দেশে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না হলেও বিদেশে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। তারা এগুলোকে সুষম খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় থাকা আগাছা মানবদেহের জন্য পুষ্টিগুণসম্পন্ন। এ আগাছা প্রক্রিয়াজাত করে পশুপাখি, জীবজন্তুর খাবার তৈরি করে থাকে বিদেশিরা। অথচ তারা এসব মূল্যবান আগাছা উপকূলে কৃত্রিমভাবে চাষ করে প্রয়োজন মেটায়। সামুদ্রিক আগাছার মধ্যে ইসপিরুলিনা সবচেয়ে মূল্যবান, যা জাপান, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানুষ খাবার হিসেবে ব্যবহার করে। তারা এ আগাছার চাষ করে নিজেদের চাহিদা মেটায়।
বাংলাদেশের আরেক সামুদ্রিক সম্পদ জেলি ফিশ, যার বিপুল চাহিদা বিদেশে। এ ছাড়া শামুক ও ঝিনুক তো আছেই। এ ছাড়া রুপচাঁদা, নানা জাতের ভোল, পোয়া, ফাহা, তাপসী, শাপলা পাতা, রুই, কাতলা, পাঙ্গাশ, টেংরা, কাজলি, আইড়, বোয়াল, কোরাল ও লটিকাসহ জানা-অজানা হরেক প্রজাতির সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগর। এ সম্পদ হতে পারে অর্থনীতির চালিকাশক্তি।
বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলে রয়েছে চারটি মৎস্যক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রগুলোতে প্রায় ৪৪০ প্রজাতির মাছ বিচরণ ও প্রজনন করে থাকে। এখানে রয়েছে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি, পাঁচ প্রজাতির লবস্টার, ৩৩৬ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৬ প্রজাতির কাঁকড়া, সাত প্রজাতির কাছিম, ১০ প্রজাতির ডলফিন, তিন প্রজাতির তিমি এবং প্রায় ২০০ প্রজাতির সি উইড (ঘাস)। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে ৫২ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন চিংড়ি এবং চার লাখ ৬৪ হাজার ৬৯০ টন অন্যান্য মাছ আহরণ করা হয়।
প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের তলদেশে শৈবাল, প্রবাল, ফায়ার মুডিসহ মণি, মুক্তার সন্ধান পেয়েছে ডুবুরিরা। সেন্টমার্টিনের প্রবাল আর দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার সৈকতের শামুক-ঝিনুকে বছরে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফের বদরমোকাম পর্যন্ত দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় দুই কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৯৮ টন খনিজ পদার্থ অপরিশোধিত অবস্থায় আছে। জিরকন, কায়ানাইট, গারনেট, ম্যাগনেট্রাস্ট, মোনাজাইট, লিউকঙ্নিসহ সৈকতবালিতে প্রাপ্ত খনিজ সম্পদগুলোর বিপুল চাহিদা রয়েছে দেশ-বিদেশের শিল্প-কারখানায়। বাদামি রঙের মোনাজাইট অতি মূল্যবান পদার্থ। এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ পারমাণবিক বোমা তৈরিতে এবং পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের সূত্র মতে, সৈকতবালিতে মোট খনিজের প্রাক্কলিত মজুদের পরিমাণ ৪৪ লাখ টন। আর প্রকৃত সমৃদ্ধ খনিজের পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টন। বিশ্ববাজারে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন এসব সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ রফতানি করে আয় করা যেতে পারে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।
তবে এত বিশাল সামুদ্রিক সম্পদের ভা-ন্ডার থাকলেও দেশে নেই এগুলো আহরণ ও সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা। কারণ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ন্ত্রিত নয়, যেমনটা থাকা দরকার তেমনটা নেই।
কার্যতঃ এক সমুদ্র সম্পদই যে গোটা বাংলাদেশবাসীর ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। যথার্থ গবেষণা, ডাটা সংগ্রহ, তথ্যানুসন্ধানসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ ও উদ্যমের পাশাপাশি প্রয়োজন ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবিত অনুভূতি ও জজবা মুবারক।
হাদীছ শরীফ ইরশাদ হয়েছে, ‘যতক্ষণ তোমরা কুরআন শরীফ- সুন্নাহ শরীফ আঁকড়ে থাকবে, ততক্ষণ উন্নতির শীর্ষে থাকবে। আর যখনই তা থেকে বিচ্যুত হবে তখনই লাঞ্ছিত ও পদদলিত হবে।’
আমরা মনে করি, বাংলাদেশের সীমারেখা সংরক্ষণ, বৃদ্ধি, সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও সমৃদ্ধি সবই এ হাদীছ শরীফ আমলের উপর নির্ভর করে।
২|
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:৪৪
রিওমারে বলেছেন: হাসিনা সরকার এইটা জানতে পারলে ক্ষমতা থাকা কালীন সময়ে ইন্ডিয়ার কাছে ২৫ বছরের জন্য ইজারা দিয়ে যাবে।।আপনের এই পোশট শীগ্রই মুছে ফেলেন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:১৭
টাইটান ১ বলেছেন: ভালো পোস্ট।