| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুক্তিকামী
ঘরের মধ্যে বন্দী না থেকে গুলি খেয়ে মরাটাই শ্রেয়। প্রতিক্ষায় আছি এক নতুন সূর্যোদয়ের। আমার বাংলা মা কে দেখতে চাই নতুন রূপে। যেখানে কেউ না খেয়ে মারবে না। সাম্যের নীতি প্রতিষ্ঠিত হবে সেখানে। অন্য রাষ্ট্রের কাছে ভিক্ষার হাত পাততে হবে না। স্বয়ংসম্পূর্ণ একটা দেশ আমি চাই। এই পত্যাশায় আমার পথ চলা।
শৈশবে সবাই কম বেশি বাঁদরামি করেছি । স্বীকার করতে ভয় কিসে ? এলা শুরু করলাম ।
বাপজানের ইচ্ছা নার্সারিতে ভর্তি করাইবে । হেডমাস্টার মশায় আমার প্রতিভা দেখিয়া এতই মুগ্ধ হইলেন যে তিনি ক্লাশ ওয়ানের খাতায় নাম টুকিয়া দিলেন । এখন আমাকে পায় কে ? নিজেরে বস ভাবিতে লাগলুম ।
স্কুলে বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা হইবেক । সব গুলা শাখায় মামলা থুক্কু নাম ঠুকিয়া দিলাম । অভিনয়, গান, আবৃত্তি, দৌড়, কৌতুক একটিও বাদ পড়িল না । মাস্টার মশায়গণ আমার সর্ব শাখায় প্রতিভার ঝলক দেখিতে পাইবেন বলিয়া বিশেষ পুঃত হইলেন । কেউ একজন দিখিতে পাইলেই হল, তত্ক্ষণাত্ প্রশ্নের তীর ছুড়িতেন, "কী হে ছোকড়া গান কেমন রিয়াজ করিতেছ ?" "ওরে হতচ্ছাড়া অভিনয়টা মন দিয়ে করছিস তো ?"
যাই হোক দিন গড়াইতে গড়াইতে অনুষ্ঠাণের দিনটি নাকের ডগায় আসিয়া ঠেকিল । আমার উত্কণ্ঠা যেন আলোর সহিত পাল্লা দিয়া বাড়িতে লাগিল । এহেন বিষম উদ্বেগের অবস্হার কারণ পাঠক কূল ধারণা করিতে পারিতেছেন যে নাচা, গানা, অভিনয়ে এই অধমের কোন গিয়ান পিলাচ দক্ষতা পিলাচ পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না ।
শেষ মেষ টিকিতে না পাড়িয়া মাকে বলিলাম ইশকুলে ত গান করিব বলিয়াছি, এখন কোন গানটি করিব? এহেন প্রশ্ন শুনিয়া তিন যেন সপ্ত গগন হইতে পড়িলেন । তাহার ভাবনা, যে ছোকড়া জীবনে সা রে গা হইতে মা পর্যন্ত উচ্চারণ করিল না সে করিবে গান ! মনের ভাব লুকাইয়া বলিলেন ঠিক আছে আমি খাতায় লিখিয়া দিতেছি তাহা শিখিয়া কণ্ঠস্থ করিয়া লও । তারপর সুর তরার চড়াইয়া ডেলিভারি দিবা । যথাসময় একখান দেশাত্মবোধক গান তিনি খাতায় লিখিয়া দিলেন । তাহা মুখস্ত করিতে গিয়া অবস্হা আরো কাহিল । উপায় নাই জেনে শুনেই বাঘের খাঁচায় ঢুকেছি । অতি কষ্টে গানখানা আত্মস্হ করার পর মনে ভীষণ আনুন্দ গান শিখিয়া ফেলছি ।
গান ত গেল এবার কৌতুক লইয়া যন্ত্রনায় পড়িলাম । একখানা রসের কৌতুকও যে আমার জানা ছিল না । এবার আর মাকে জ্বালাইলাম না । বন্ধুকুলের কাছে ছুটিলাম । পরাণের বন্ধুর জন্য তারা কি না করিল । যাচাই বাছাই করে একখানা কৌতুক বলিয়া দিল । আমিও মনে স্থিত করিয়া লইলাম ।
সেই বিশেষ দিনটি আসিয়া পড়িল । প্রথমেই দৌড়াইতে হইবে । যথাসময়ে বাঁশি বাজিল আমিও দৌড়াইতে লাগিলাম । দৌড়াইতে দৌড়াইতে একসময় আছাড় খাইয়া পড়িয়া গেলাম । নাহ বোল্ট হইবার স্বপ্ন সেখানেই মাটিচাপা পড়িল । দৌড় ঝাপ শেষ হইবার পড় আসিল আবৃত্তির পালা । বিশেষ কোন প্রস্তুতি নাই । পাঠ্য বইয়ের একখান কবিতা আউড়াইয়া আসিব মনস্হির করিলাম । নাম ডাকিল । মঞ্চে উঠিয়া নিজেকে রাজনৈতিক নেতা মনে হইতে লাগিল । কবিতার কথা ভুলিয়া গেলুম । পাশ হইতে মাস্টারর বলিলেন শুরু কর বাপু আর কত দম নিবে । শুরু করিলাম, এমন ভাবে শুরু করিলাম যে মুখস্ত পড়া বলিতেছি । এক দমে পুরা কবিতাখানা বলিয়া দিলাম । আশে পাশে তাকাইয়া দেখি সবাই বড় বড় চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে । ভড়কাইয়া গেলাম । তড়ি ঘড়ি করিয়া নামিয়া গেলাম ।
এবার গানের পালা । সহপাঠিগণের গান শুনিতে শুনিতে আত্মস্হ করা গান ভুলিয়া গেলাম । দুঃখে চোখে পানি আসিয়া পড়িল । এমনই সময় শুনিলাম "এবার গান গাইতে আসছে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ____"। স্বীয় নাম শুনিয়া দাঁড়ায়া গেলাম । পাশ হইতে এক চুইট আন্টি বলিলেন যাও বাপু গান একটু স্লো টেম্পুতে গেও । আবার মঞ্চে উপবিষ্ট হইলাম । কী গান করিব ? এদিক সেদিক তাকিয়ে শুরু করলাম "এই পদ্মা এই মেঘনা.....এ এ এ এ এ"। কিছুক্ষণ এ এ এ এ করিয়া মঞ্চ ত্যাগ করিতে হইল । স্বীয় ইচ্ছায় নয় । মাস্টার মশায় তাড়িয়ে দিয়েছিল ।
এবার পালা কৌতুকের । আমি যে কৌতুকখানা শিখিয়াছিলাম তাহা যে বন্ধুমহলের বাইরে বলা যাবে না তা আমি জানিতাম না । যাই হোক বিশেষ কৌতুক বলা আরম্ভ করিলাম । দুই লাইন বলার পর একখানা বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করিতে গিয়া চমকাইয়া গেলাম । ইহা আমি কী বলিতেছি । মাস্টার মশায় শুনলে ত ঠ্যাঙাবে । কতক্ষণ আমতা আমতা করে স্টেজ হইতে নামিয়া গেলাম ।
অভিনয়ের পালা আসিল । নাম ডাকা হইল । আমি আর বাড়াইলাম না । ব্যাগ খানা কাঁধে করিয়া বাটিতে ফিরিলাম ।
চলবে.....
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৯
কালোপরী বলেছেন: