নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নানা দেশ কত কথা

কিছু দেশ দেখার সুযোগ হয়েছে এই জীবনে।ভ্রমণ আমার ভাল লাগে্‌ তাই সবার মাঝে তা জানাতে চাই।সবার উপরে ভালোবাসি বাংলাদেশ । ধন্যবাদ

শোভন শামস

আমার দেখা নানা দেশের কথা সবার জন্য - পাঠকের ভাল লাগাতেই আনন্দ

শোভন শামস › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভারত ভ্রমণ-১

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:৫৮

ভারত এত কাছে তবুও যাওয়া হয় না । তাই প্রতিবেশী দেশ ভারত দেখার ইচ্ছেটা সেই ছোট বেলা থেকে। কেন যেন সুযোগ হয়ে উঠছিলো না । পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ পেলেও পাশের দেশ ভারত অদেখাই রয়ে গিয়েছিল। ২০০৮ সালে এই সুযোগ এলো । সময়টা জুলাইয়ের শেষ দিকে । বেশ কদিন সময় পাব ভারতের রাজধানী , ভারতীয় সিলিকন ভ্যালী অর্থাৎ ব্যাংগালোর, বিশাখা পত্তম ও ভারতীয় পশ্চিম বংগের রাজধানী কলকাতা একটু ঘুরে ফিরে দেখার । এই ফাঁকে আগ্রা, জয়পুর দেখার সখটাও মিটিয়ে নেয়া যাবে । ৩০ জুলাই সকাল নয়টা ত্রিশ মিনিটের জেট এয়ার ওয়েজ এর ফ্লাইট নম্বর ৯ ডব্লিউ ০২৭১ এ করে ঢাকা থেকে ¢পস‘£ষ পথে রওয়ানা হলাম । ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট ফ্লাইট টাইম শেষে স্থানীয় সময় পৌনে বারটায় ইন্দিরা গান্ধী বিমান বন্দরে ল্যান্ড করল আমাদের প্লেন ।



ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, দিল্লী

কাষ্টম ও ইমিগ্রেশন শেষ করতে সময় লাগেনি । মোবাইলের সিম কিনতে ২ ঘন্টা লেগে গেল । সিম কিনলাম ৩৪০ ষ¦¢ভ দিয়ে । নিউ দিল্লীর রাজেন্দ্র ­ভ‘­ঢ়ষ হোটেল জয়পে সিদ্ধার্থতে আসতে আসতে ২টা ৩০ হয়ে গেল । ফ্রেস হয়ে ৩-৩০ এ রুম থেকে নেমে এলাম । লোকাল দোকানে বার্গার ও ড্রিংকস দিয়ে দুপুরের খাবার খেলাম, সাথে জুস । এরপর ৪-৩০ এ বাসে করে শহর ঘুরতে বের হলাম । প্রথম দেখায় পুরানো দিল্লী শহর বেশ নোংরা, ময়লা ও অনুন্নত, বাজে লাগলো পরে আস্তে আস্তে চোখে সয়ে গিয়েছিল। দেখতে দেখতে মোগল আমলের ঐতিহাসিক দিল্লী জামে মসজিদে চলে এলাম ।





জামে মসজিদ, দিল্লী

আসরের নামাজ জামে মসজিদে পড়লাম। জুম্মা মসজিদ সম্রাট শাহাজানের শেষ কীর্তি । লাল কেল্লার বিপরীত দিকে ১৬৫৮ সালে প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি এ মসজিদটি তৈরি করেন। পিয়াজ আকৃতির গম্বুজ আর দীপ শিখার মত মিনার যুক্ত অপরুপ সৌন্দর্য মন্ডিত ২০১ ফুট উচু মসজিদটিতে ৩৯ টি সিঁড়ি বেয়ে ঢুকতে হয় ।



জামে মসজিদ, দিল্লী

মসজিদের ভিতরে প্রায় পঁচিশ হাজার লোক একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন । এখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর চটি, একটি দাড়ি, তার সমাধির একটি চাঁদোয়া সংরক্ষিত আছে । বিশাল মসজিদ অর্থের অভাবে সংস্কার নেই তাই আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । সময়ের অভাবে এগুলো দেখা হয়নি, এর কাছাকাছি মিষ্টির দোকান থেকে দিল্লাকা লাড্ডু খেলাম ।



রাজঘাট, মহাত্মা গান্ধীর সমাধি

সেখান থেকে মহাত্মা গান্ধীর সমাধি রাজঘাট ঘুরে এলাম । রাজঘাট বেশ সুন্দর করে সাজানো। আবহাওয়া গরম, বাতাসে আর্দ্রতাও বেশ। গরমের কারণে তেমন ভাল লাগেনি । বিকেলেও গরম কমেনি। বহু খ্যাতনামা ব্যক্তির শেষ কৃত্যস্থল রচিত হয়েছে যমুনার পারে । এগুলো দেখতে হলে প্রথমেই আসতে হবে রাজঘাটে । ফিরোজশাহ কোটলার কাছে যমুনার পারে মহাত্মা গান্ধীর মরদেহ ভম্মীভূত হয় । এখানে তার সাদাসিদে সমাধি বেদিটিকে দেখা যাবে। এ সাধারণ বেদীটির সামনে দাঁড়ালে চোখের সামনে ভেসে উঠবে সেই অহিংসার ব্রতী, কাঠের খড়ম ও খদ্দর পরিহিত দেবতুল্য সাধারণ লোকটির চেহারা । এখানে আছে গান্ধী স্মারক সংগ্রহশালা। আরও তার সম্পর্কে লিখিত প্রায় পনেরো হাজার পুস্তক সহ তার লিখিত ও ব্যবহৃত বহু দ্রব্য সামগ্রী । এগুলোর মধ্যে তার চপ্পল, লাঠি , চরকা, জেলখানার বাসনপত্র ও জীবনের শেষ দিনে পরিহিত রক্তমাখা কাপড় । নাথুরাম গড্সে কর্তৃক বুলেট বিদ্ধ হয়ে নিহত হন গান্ধীজি ।



রেড ফোর্ট, দিল্লী

তারপর লাল কেল্লা বা রেড ফোর্ট দেখতে গেলাম। দিল্লী এসে প্রথম ধাক্কাতেই হতাশ হলাম। হিন্দি ছবিতে দেখা চাকচিক্যের সাথে বাস্তবের বেশ ফারাক । দিল্লীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সম্রাট শাজাহানের নির্মিত লাল কেল্লা বা রেড ফোর্ট । ১৬৪৭ সালে তিনি এই লাল কেল্লা তৈরির মাধ্যমেই দিল্লী নগরীর ভিত রচনা করেছিলেন । এক সময় সম্পূর্ণ জায়গাটা ছিল খোলা বিরান অঞ্চল, হায়েনার বসবাসের স্থান । সম্রাট শাহজাহান এই লাল কিল্লা প্রতিষ্ঠা করেন । তিনি আগ্রা থেকে মোগল সাম্রাজ্যের রাজধানী দিল্লীতে স্থানান্তর করার জন্যই এই স্থাপনা নির্মান করেন যার নির্মান কাজ ১৬৪৮ সালে শেষ হয় । সম্রাট এটার উদ্ভোধন করেন । বিপুল উৎসাহ ও বর্ণীল উৎসবের মধ্যে দিয়ে লাল কেল্লার সীমানা ছাড়িয়ে নতুন নগর শাহজাহানাবাদের পত্তন হয় । তখন এটিই ছিল শক্তি আর সৌন্দর্য্যরে আধার । এর চারপাশ ৯০ ফুট উচু দেয়াল আর ৩০ ফুট গভীর পরিখা দিয়ে ঘেরা । এক সময় এটি ছিল দুর্জেয় এক মহাশক্তিশালী দুর্গ । ১৭১৫ সালের ভূমিকম্প, ১৭৩৯ সালের নাদির শাহের আক্রমণ ও লুট, ১৭৫৯ সালে মারাঠি ও অন্যান্য আক্রমনে এই দুর্গ শক্তিহীন হয়ে পড়ে । তবে শক্তিহীন হলেও সে সৌন্দর্য্যরে মোহনীয় রুপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বহুকাল ধরে । ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় ব্রিটিশ সৈন্যরা এর অনেক ক্ষতি সাধন করে ।

দিল্লীর রেডফোর্টে সন্ধার পর লাইট এন্ড সাউন্ড শো হয় । দর্শকদের বসার সুন্দর ব্যবস্থা আছে । দুরে বাদশাহদের দরবার, খাস মহল মসজিদ ইত্যাদি ভবন । এগুলোর উপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রংএর আলো ফেলে সাথে শব্দের সমন্বয়ে সুন্দর এই লাইট এন্ড সাউন্ড শো, টিকেট কেটে ভিতরে ঢুকতে হয় । হিন্দী ও ইংরেজী দুটো ভাষায় এই প্রোগ্রামটা হয়। ইংরেজীতে শেষ হলে ভারতীয় দর্শকদের জন্য হিন্দী ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। সন্ধ্যা ৭-৩০ এ লাইট এন্ড সাউন্ড সো দেখলাম রেড ফোর্ট এ । মোঘল আমলের ইতিহাস দিয়ে শুরু হয়ে ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ পর্যন্ত ধারাবাহিক ঘটনাগুলো শব্দ দিয়ে বর্ণনা করার চমৎকার ব্যবস্থা । সেনাবাহিনীর মার্চের পদধ্বনি, ড্রামের শব্দ, ঘোড়ার খুরের আওয়াজ পরিষদের কথাবার্তা সব মিলিয়ে আলো ও শব্দের মধ্যে রেড ফোর্ট যেন প্রান ফিরে পায় । মোগল আমল থেকে শুরু করে ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত ইতিহাসের টানাপোড়েন উত্থান পতন এর ইতিহাস সুন্দর ভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হয় এই অনুষ্ঠানে । তিন শতাব্দী ধরে এই লাল কিল্লা ভারতের বুকে দাড়িয়ে আছে । জীবনের শেষ প্রান্তে শাহজাহান ক্ষমতার লড়াইতে তার ছেলে আওরঙ্গজেব এর হাতে বন্দী হয় এবং ১৬৬৬ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এখানে বন্দী জীবন যাপন করেন । আওরঙ্গজেব এখানে দোর্দন্ড প্রতাপে রাজত্ব করেন এবং মোতি মসজিদ নির্মান করেন । এটাই কেবল তিনি এখানে যোগ করেছেন ।

আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর সাথে সাথে মুগল বংশের ক্ষয় শুরু হয় । পরবর্তী বাদশাহরা নাচ গান এ আসক্ত হয়ে পড়েন এবং একের পর এক ক্ষমতায় আসেন ও চলে যান । তারা বার বার পারস্য থেকে আসা নাদির শাহর আক্রমনের শিকার হয়ে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে পড়েন । শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর একজন কবি ও কবিতার ভক্ত ছিলেন । ১৮৫৭ সালের যুদ্ধের পর বাহাদুর শাহকে বার্মা মুলুকে নির্বাসন দেয়া হয় ও তার কিছু কিছু বংশধরকে হত্যা করা হয় । ভারত ইংরেজ শাসনের আওতায় আসে । পরবর্তী ২০০ বৎসর ইংরেজরা ভারতে তান্ডব চালায় । মহাত্মা গান্ধী, নেহেরু ও অনেক সাহসী বীর ভারতীয়রা ভারতকে স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহনে সাহায্য করে । শব্দ ও আলোর মুর্চ্ছনায় কখন যে সময় কেটে যায় বোঝা যায় না । ভারতের ইতিহাস না জানা থাকলেও একজন শ্রোতা এই অনুষ্ঠানে বসে অনেক অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে । এখানে মোগল সম্রাটদেরকেও ভারতের আগ্রাসী শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে । বিদেশীরা যে ভারতে থাকতে পারে না চলে যেতে বাধ্য হয় তাই দেখানো ও বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে ইতিহাস ও দেশপ্রেম মূলক এই অনুষ্ঠানে ফোর্ট ঘুরে দেখার পাশাপাশি এটাও একটা বিশাল অভিজ্ঞতা । বাইরে এসে নিম্বু পানি খেলাম। তারপর হোটেলে এসে ডিনার করতে বের হলাম । ডিনারে বিরিয়ানী খেলাম। সাউথ ইন্ডিয়ান রান্না মশলা, ঝাল ও তেলে একাকার।

পরদিন সকাল বেলা হোটেলে নাস্তা খেলাম তারপর কাজকর্ম সেরে দুপুর বেলা আবার হোটেলে ফেরৎ। দিল্লীর রাজপথ গুলো দেখা হলো । মানুষজন তেমন নেই, রাস্তা প্রশস্থ, গাড়ীগুলো বেশীরভাগ ভারতীয়। দুপুরে লাঞ্চ করতে গেলাম, ফ্রাইড রাইস ও ভেজিটেবল খেলাম রাজেন্দ্র প্লেস ষ্টেশন এর কাছে ছোট একটা রেস্তোরাতে, এক শিখ তরুন এর মালিক । ৯ রুপি দিয়ে টিকেট করে রাজেন্দ্র প্লেস মেট্রো স্টেশন থেকে কনট প্লেস যাওয়ার জন্য তৈরী হলাম । রাজীব চক ষ্টেশনে নামতে হলো, তারপর হেঁটে কনট প্লেস । বেশ সুন্দর জায়গা । কনট প্লেস থেকে জুতা ও জামা কাপড় কিনলাম । কনট প্লেসের কাছেই দিল্লী আন্ডার গ্রাউন্ড এসি মার্কেট পালিকা বাজারে নামলাম । অনেক আগে এর নাম শুনেছিলাম । আজ নতুন অভিজ্ঞতা হলো দিল্লীর মেট্রোতে চড়া, এছাড়া বাসে করে ঘুরার সময় সুন্দর রাস্তাগুলো দেখলাম । একটু পরিচ্ছন্নতা ও নতুনত্বের ছোঁয়াতে গতকালের হতাশা কিছু কমে গেছে আজ । বৃষ্টি হলো আজ দিল্লীতে । ইন্ডিয়া গেট দেখলাম । পরে আসলে ছবি তুলতে হবে এই বিখ্যাত স্থাপত্যের ।

আগস্ট মাস ভারতের স্বাধীনতা দিবস এর মাস । ১ লা আগস্ট ইন্ডিয়া গেট এর সামনে বেড়াতে গেলাম ছবি তুললাম বেশ কিছু । বেশ গরম আর রৌদ্র । ৪-৩০ এর দিকে মেট্রো ট্রেনে করে ক্যারলবাগ মার্কেট দেখতে গেলাম। অনেক দোকান পাট । একটা সোজা রাস্তার দুপাশে মার্কেট। ব্রান্ডের জিনিষ পত্রের অনেক গুলো দোকান আছে। কে এফ সি’র মত আন্তর্জাতিক চেইন সপ অনেক আছে । সব ধরণের পণ্যের সমাহার থেকে পছন্দ করে কিনে নিলেই হলো , দামও সাশ্রয়ী। আজকে দিল্লী ঘুরতে ভালই লাগল । আকবর রোড, তোঘলক রোড, মানসিংহ রোড, আশোকা রোড দেখলাম । আগামীকাল আগ্রার পথে রওয়ানা হব ।

আগ্রা

সকালে ৬-৩০ এ উঠে হোটেলেই নাস্তা করলাম । ৭-৩০ এ আগ্রার উদ্দেশ্যে বাসে করে রওয়ানা হলাম । দিল্লীর সীমানা পেরিয়ে হরিয়ানা প্রদেশ হয়ে উত্তর প্রদেশে ঢুকলাম। দুইবার হাইওয়েতে টোল দিতে হলো । হরিয়ানা একটু নীচু এলাকা, এখানে জমিতে পানি জমে । চলার পথে উত্তর প্রদেশ সীমান্তের কাছে একটা হোটেলে যাত্রা বিরতী। হোটেলটা পর্যটকদের জন্য বিশেষ ভাবে বানানো । ফ্রেস হবার জায়গা অন্যান্য কেনাকাটি এবং খাবারের ব্যবস্থা আছে। সুভ্যেনিরের বেশ দাম তবে ভাল সুভ্যেনির আছে । দুপুর ১ টায় আগ্রায় পৌঁছালাম । আগ্রাক্যান্ট এর চাইনিজ রেস্তোরাতে বেশ মজা করে লাঞ্চ করলাম । তারপর ৪ টার দিকে জয়পে প্যালেস হোটেলে এলাম । সুন্দর সাজানো, রুমগুলো বেশ ভাল, আমাদেরকে বেশ আন্তরিকতার সাথে রিসিভ করল হোটেল কর্তৃপক্ষ । ৪-৩০ এ তাজমহল দেখতে গেলাম ।



তাজমহল,আগ্রা

পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের আরও একটা নিদর্শন দেখার সৌভাগ্য আল্লাহ দিলেন । ভেতরে ঢোকার টিকেট এর ব্যবস্থা আছে । বাংলাদেশীদের জন্য সাতশ পঞ্চাশ রুপী করে টিকেট । বেশ চেক করে ভেতরে ঢুকার আয়োজন । পৌনে ছটা পর্যন্ত ভেতরে ঘুরে ঘুরে দেখলাম অপূর্ব সুন্দর দেখার মত স্থাপনা । মানুষ পৃথিবীতে কত সম্পদ ঢেলেছে তা দেখা যায় এখানে । সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে দেখলাম চোখ জুড়িয়ে যায় । ক্যামেরায় ছবি তুললাম তাজমহলের । ৬ টায় আগ্রা ফোর্টে এলাম।

বিশাল কারবার, বাদশাহদের থাকার জায়গা বেগম ও শাহজাদীদের থাকার ব্যবস্থা দেখলাম । শাহজাদী জাহানারা ও রওশন আরার মহল দেখা হল । বন্দী অবস্থায় শাহজাহান যে জায়গা থেকে তাজমহল দেখতেন সেখানে গেলাম । সন্ধ্যায় আগ্রার বাজার এলাকা থেকে খাবার কিনলাম । রাতে রুমে টিভি দেখে সময় কাটালাম । পরদিন ভোর ৭-৩০ এ আগ্রা থেকে জয়পুর এর দিকে রওয়ানা হলাম । পথে ১০-৩০ এ ফতেহপুর সিক্রিতে গেলাম । সম্রাট আকবর এটা বানিয়েছিল । এখানে ১৫০ রুপি দিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানের উপর নির্মিত কয়েকটা সিডি ও বই কিনলাম একটা ছেলের কাছ থেকে । ব্যাটারী চালিত টেক্সি নিয়ে ফতেহপুর সিক্রিতে এলাম ।



ফতেহপুর সিক্রি থেকে যাত্রা করে জয়পুর পৌঁছাতে ৩ টা বেজে গেল। জয়পুরে রাস্তার পাশে আকবর হোটেলে যোহরের নামাজ পড়লাম । এটা খাবারের রেস্তোরা । ২০০ রুপি দিয়ে ভাত মাংস ডাল দিয়ে দুপুরের খাবার খেলাম । তারপর আম্বর প্যালেস দেখতে এলাম । সম্রাট আকবরের হিন্দু রাজপুত রাণী জুদাবাই এর প্রাসাদ এটা । জয়পুরের রাজপুত রাজা মানসিংহ এটা নির্মাণ করেন । জয়পুরকে পিংক সিটিও বলে । জয়পুরে কয়েকটা ছবি তুললাম । আম্বর প্যালেসে পরিবেশ বান্ধব ব্যাটারী চালিত জীপে করে যেতে হয় । পাহাড়ের উপর অনেক উঁচুতে প্রাসাদ। সবদেখার পর মার্কেটিং করতে এলো। সবই ফিক্স প্রাইস এর দোকান । চুড়ি কিনল অনেকে, শাড়ীও পাওয়া যায় । ৬ টার দিকে দিল্লীর পথে রওয়ানা হলাম । রাত ১১-৩০ এ মাইল স্টোন ৩২ নামের ক্যাফেতে ডিনার খেলাম। দিল্লী তখনও ৩২ মাইল দুরে । হোটেলে আসতে আসতে ১২-৩০ বেজে গেল । সব গুছিয়ে ঘুমাতে ২ টা বাজলো । ৭০০ কিঃমিঃ এর মত বাস ভ্রমণ হলো আজ। এটা ভারতে অবস্থানকালীন একদিনের দীর্ঘতম বাস যাত্রা । সকাল ৪ টায় উঠে হোটেলের ডাইনিং এ নাস্তা খেতে গেলাম । হালকা নাস্তা খেয়ে ৫-৩০ এ এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম ।



ব্যাংগালোর বিমান বন্দর

জেট এয়ারে দিল্লী ব্যাংগালোর ২-৩০ মিনিট এর ভ্রমণ, সময়মত রওয়ানা হলাম । ১২-৩০ এর দিকে ব্যাংগালোর বিমান বন্দরে পৌঁছালাম। প্লেনে নাস্তা দিল সার্ভিস ও বেশ ভাল । ব্যাংগালোর বিমান বন্দর বেশ সুন্দর। ইউরোপের মত খোলামেলা ও পরিচ্ছন্ন। এয়ারপোর্ট থেকে ৪৫ কিঃমিঃ দুরে আমাদের হোটেল । কোন ট্রাফিক জ্যাম নেই । আমরা ভাইসরয় হোটেলে উঠলাম । ব্যাংগালোরকে ভারতের সিলিকন ভ্যালীও বলা হয় । রুমে এসে হোটেলের ডাইনিং এ লাঞ্চ করতে গেলাম । বেশ মজার খাবার ১২৫ রুপি বিল এলো ।

আজ বিকেলে ভারতের অন্যতম সফ্্টওয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনফোসিস দেখতে গেলাম । বেশ সুন্দর কনফারেন্স রুম, জনসংযোগ কর্মকর্তা একজন প্রাণোচ্ছল তরুন । ভাল ব্রিফ করল । তারপর ইনফোসিস এর ৮০ একর জায়গাতে ব্যাটারী চালিত কারে করে বিভিন্ন ধরণের আধুনিক স্থাপনা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা ঘুরে ঘুরে দেখলাম । সন্ধ্যায় পর সিল্ক শাড়ীর বাজারে গেলাম । বেশ সুন্দর শাড়ী পাওয়া যায় এখানে,এরাই বানায় । রাতে ৮৫ রুপি দিয়ে মজা করে ২ টা শোয়ারমা ও জুস দিয়ে ডিনার করলাম । পরদিন সকাল ১০ টার দিকে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস্্ লিমিটেড এ ভিজিট ছিল । ভারত যে অনেক এগিয়ে আছে এ ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান দেখে তা বুঝা যায় । ভারত এখন হেলিকপ্টার বানাতে পারে ।



সফ্্টওয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, ইনফোসিস

১২ টার দিকে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড এ গেলাম । অনেক রকম ইলেকট্রনিক্স ও যুদ্ধের যন্ত্রপাতি বানায় এই প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ৭৬ঃ২৪ শেয়ার সরকার ও পাবলিক এর। নাসডাক নিউইয়র্কেও এদের শেয়ার আছে । বিকেল ৫ টায় শহর দেখতে বের হলাম।



ব্যাংগালোর শহরের দৃশ্য

ব্রিগেড রোড ও মহাত্মা গান্ধী রোডে গেলাম। ছবি তুললাম । অনেকক্ষণ হেঁটে মসজিদ খুজে পেলাম সুলতান মসজিদ,এখানে মাগরেবের নামাজ পড়লাম, বেশ বড় মসজিদ । কে এফসি’তে ৩০০ রুপি দিয়ে ডিনার করলাম । তারপর ৬০ রুপি দিয়ে সি এন জি ট্যাক্সিতে করে হোটেলে ফিরে আসলাম। পানি কিনলাম ১ লিটার । গোসল ও নামাজ পড়ে ব্যাগ গোছালাম । বেশ ভোরে উঠতে হবে। ব্যাংগালোর শহর সারাদিনে কিছুটা দেখা হলো ।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৬

বিল্লা বাবা বলেছেন: বস, হায়দ্রাবাদ কি গেসিলেন? যাইয়া থাকলে ওইটার বর্ণনা দিয়েন।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:০৭

শোভন শামস বলেছেন: ধন্যবাদ সাথে থাকবেন।

২| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:৩৪

মনিরা সুলতানা বলেছেন: হু ...

পড়লাম :)

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:০৭

শোভন শামস বলেছেন: ধন্যবাদ সাথে থাকবেন।

৩| ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:৪৬

েবনিটগ বলেছেন: +

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:০৭

শোভন শামস বলেছেন: ধন্যবাদ সাথে থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.