নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নানা দেশ কত কথা

শোভন শামস

আমার দেখা নানা দেশের কথা সবার জন্য - পাঠকের ভাল লাগাতেই আনন্দ

শোভন শামস › বিস্তারিত পোস্টঃ

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল বিশ্ব এবং এর মাঝেই আমাদেরকে একটু আনন্দ নিশ্চিত করতে হবে

২৩ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯








ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহ অতিক্রম করছে। যুদ্ধের তীব্রতা না কমে বরং পারস্পরিক হামলা ও হুমকি আরও জোরালো হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই জলপথ খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর আতংক ক্রমেই বাড়ছে। ইরান জানায়, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি শোধন অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। এই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই যুদ্ধ বিশ্বকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্যে ফেলে দিবে।
এই যুদ্ধ ও চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের উন্নয়নশীল ও সম্ভাবনাময় দেশগুলোর উন্নয়নের গতি থেমে যাচ্ছে কিংবা ধীর হয়েছে।কোভিড ১৯, ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা আক্রমণ, সবশেষে ইরান আমেরিকা যুদ্ধ পৃথিবীর মানুষের মনের আনন্দের স্বতঃস্ফূর্ততায় আঘাত হেনেছে। এই রোজা ও ঈদে ইরানের মানুষ গাজার মানুষের মত শোচনীয় সময় পার করছে। সারা বিশ্বের শান্তি এখন একটা অশান্ত পরিস্থিতি পার করছে।
এই ঈদে আমাদের দেশে তেলের পাম্পে লাইন থাকলে ও মানুষ একটু আনন্দের জন্য ঘর ছেড়ে বের হয়েছে। ঢাকা শহরের দর্শনীয় জায়গা গুলোতে শিশু ও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল উপচে পড়া। আমাদের দেশের এই আঠার থেকে বিশ কোটি মানুষের জন্য বিনোদনের জায়গা সীমিত। একটু খোলা মেলা পরিছন্ন পরিবেশ একটু আনন্দ হাসি ও বিনোদন কে না চায়।
আমাদের দেশ থেকে অনেক টাকা পাচার না হয়ে এই টাকা দেশে পর্যটন ও দীর্ঘ মেয়াদী বিনোদনের উপযোগী পরিবেশ ও স্থাপনা তৈরিতে ব্যবহার হলে এর উদ্যোক্তারা দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান হত এবং সাধারণ মানুষ তাদের নিত্য দিনের বাহিরে একটা নতুন পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিত ও আনন্দ করতে পারত।
চীনে তাদের দেশের দর্শনীয় স্থান গুলোতে আসা দর্শকদের ৯৯ ভাগ হল চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ। তেমনি ভাবে ইন্দোনেসিয়া ও মালয়েসিয়াতে ও পর্যটনের জন্য সুন্দর স্থাপনা আছে এবং সারা বছর ধরে সেসব জায়গায় স্থানীয় ও বিদেশী পর্যটক ভ্রমণ করছে।
আমাদের দেশে এসব নিয়ে গবেষণার সুযোগ আছে এবং এই বিনিয়োগে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। টাকা পাচার করে বিদেশে থাকা ও সেখানে যাওয়া সামনের দিনগুলোতে নিরাপদ হবে না বলেই মনে হচ্ছে। মধ্য প্রাচ্যের ডুবাই কাতারে আগে আপাত শান্তি থাকলে ও সামনের দিনগুলোতে এই নিরাপত্তা না ও থাকতে পারে। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মানুষেরা ও নিজেরা বেশী ভাল নেই। এই পরিস্থিতিতে আমাদের এই দেশকে কি করে আর ও সুন্দর, নিরাপদ ও আনন্দময় করা যায় সে দিকে দৃষ্টি ও গুরুত্ব দিতে হবে।
ভ্রমণের জন্য স্থাপনা, পরিবহন, নিরাপত্তা ও প্রচারনা বাড়াতে আমাদেরকে একটা বাস্তবায়ন যোগ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করে কাজে নেমে যেতে হবে। নিরাপত্তা ও আর্থিক সাশ্রয়ী যে কোন স্থাপনায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যাবে ও প্রান জুড়ানো সময় কাটাতে পারবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। দ্রুত অর্থবান হওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে আমাদেরকে পরিকল্পিত ভাবে দেশের ও মানুষের উন্নয়নে এগিয়ে আসার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কিছু কৃত্রিম স্থাপনা মিলিয়ে হৃদয় গ্রাহী পরিবেশ সৃষ্টি করলে মানুষ সেখানে যেতে চাইবে সেগুলো সব বয়সের মানুষকে টানবে।
নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মানসিকতা বাদ দিয়ে দেশের মানুষের আনন্দ বিনোদনের জন্য কিছু করা গেলে তা হবে একটা সার্থক অর্জন।আমাদের দেশে যাদের সামর্থ আছে তাঁরা এসব উদ্যোগ নিয়ে আগিয়ে আসুক এটাই সবাই চায়।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪

হুমায়রা হারুন বলেছেন: জিরাফগুলো কি ভাবছে?

২৩ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৫

শোভন শামস বলেছেন: এত মানুষের আর কিছু কি দেখার নাই।
এরা আমাদের চেয়ে অভাগা নাকি
সাথে থাকবেন, ধন্যবাদ

২| ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




বেশ গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয়ে পোস্ট দিয়েছেন। ইরান- ইজরাইল- যুক্তরাস্ট্র যুদ্ধে সর্বশেষ খবরে দেখা যায় যুক্তরাস্ট্র
সাময়িকভাবে কিছুটা পিছু হটছে ( সুত্র : দৈনিক প্রথম আলো) ।

দেশের অর্থ বিদেশে বিবিধভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে এটি ঠিকই বলেছেন । তারপরেও আরো একটি বিষয় উদ্বেগের
সাথে লক্ষ্য করা গিয়েছে যে বৈধ অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের সিংহভাগ আবাসন খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ও হচ্ছে।

বাংলাদেশ একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হলেও নগরায়ণের দ্রুত গতির ফলে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড়
শহরগুলোতে হাইরাইজ (উচ্চ ভবন) আবাসনখাতে বিপুল বিনিয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বিনিয়োগ অর্থনীতির
একটি বড় অংশ দখল করে থাকলেও প্রশ্ন উঠছে এই বিনিয়োগ কতটা উৎপাদনশীল? এবং যদি এই অর্থ কৃষি
ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে দেশের জন্য বহুমুখী অনেক বেশ সুফল সৃষ্টি হতে পারত?

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট ও আবাসন খাত বর্তমানে অর্থনীতির একটি বড় অংশ তার পরেও এ খাত দেশের
জিডিপিতে মাত্র ৫-৬% পর্যন্ত অবদান রাখছে ।
২০২৩ সালে শুধুমাত্র বিলাসবহুল ফ্ল্যাট লেনদেনই প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে ।সাম্প্রতিক সময়ে
বছরে ৫০০০০ কোটি টাকার বেশি ফ্ল্যাট বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

এছাড়া শহরভিত্তিক উচ্চবিত্ত ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কারণে হাইরাইজ ভবন নির্মাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ,
দেশের বিপুল সঞ্চয় ও পুঁজি শহুরে আবাসনে, বিশেষত উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ হচ্ছে।
যদিও আবাসন খাত অর্থনীতিতে কিছু অবদান রাখে, তবুও এর একটি বড় অংশকে অনুৎপাদনশীল বলা হয় কারণ
এটা সরাসরি উৎপাদন তৈরি করে না।

একটি ফ্ল্যাট ক্রয় বা নির্মাণ খাদ্য, পণ্য বা রপ্তানিযোগ্য দ্রব্য তৈরি করে না। নির্মাণকাজে অস্থায়ী শ্রম সৃষ্টি হলেও
দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী কর্মসংস্থান নাই বললেই চলে , একটি দশতলা এপার্টমেন্ট ভবনের জন্য মাত্র ১/২জন কেয়ার
টেকারের চাকুরী হয় ।
সম্পদ জমে থাকে (dead capital) অনেক ফ্ল্যাট খালি পড়ে থাকে বা শুধুমাত্র সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে
ব্যবহৃত হয়।
বিলাসবহুল আবাসন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে, শুধু দুর হতে মাথা তুলে হাই রাইজ ভবন গুলির সোন্দর্য
দেখে , এই সৌন্দর্য দেখাটাই যেন তাদের কাছে একমাত্র বিনোদন ।


অথচ একই পরিমান অর্থ কৃষি খাতে বিনিয়োগ করলে বহুমুখী সুফল ফলত। বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড
কৃষি। এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেতো ,উন্নত প্রযুক্তি, সেচ, বীজে বিনিয়োগ করলে খাদ্য
উৎপাদন বহুগুণ বাড়তে পারে।গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেতো । কৃষি খাত সরাসরি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি
করতে পারত ।সবজি, ফল, মাছ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বিদেশে রপ্তানি করে অধিক পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন
সম্ভব হতো। গ্রামীণ উন্নয়ন হলে শহরমুখী জনস্রোত কমবে, গ্রামেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারতো ।

শিল্পখাতে বিনিয়োগ করলে বহুমুখী উন্নয়ন হতো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেতো । শিল্পখাত সরাসরি পণ্য উৎপাদন
করে যা জিডিপিতে বাস্তব অবদান রাখে।দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান হতো ।একটি কারখানা হাজারো মানুষের চাকরি
সৃষ্টি করতে পারে।গার্মেন্টসের মতো অন্যান্য শিল্প (ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং) বিকশিত
হতে পারত।

শিল্পের সাথে পরিবহন, ব্যাংকিং, প্রযুক্তি সব খাত যুক্ত হয়ে ব্যাকওয়ার্ড-ফরওয়ার্ড লিংকেজে সামগ্রিক উন্নয়ন
ঘটাত।
অবশ্য মানুষ আবাসনে বেশি বিনিয়োগ করছে কারণ এটা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত ।জমি ও ফ্ল্যাটের দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায় ।ব্যবসার ঝুঁকি এড়াতে মানুষ সম্পদ লক করে রাখে ।

তাই এখনো সময় আছে । নতুন সরকার দেশের অনুৎপাদনশীল আবাসন খাতে অতিরিক্ত জল্পনা/ফটকাবাজী
(speculation) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কৃষি ও শিল্পে কর ছাড় ও প্রণোদনা বাড়িয়ে দিতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী
এগ্রো বেইসড শিল্প উন্নয়নে জোড় দিতে পারে । গ্রামীণ শিল্পায়নে গুরুত্ব দিতে পারে । বিনিয়োগকারীদের
জন্য ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থা করতে পারে ।

এ সমস্ত করতে পারলে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বিদেশগামী হবেনা । তবে উচ্চ বিত্ত ও মেধাবীদের বিদেশমুখীতা বন্ধ করা
যাবেনা বিবিধ কারনে , কারণ যারা এটা বন্ধ করবে তারা পরিবারসহ বিদেশমুখি হবেই হবে । তাদের এক পা
দেশে তো আর এক পা বিদেশে থাকবেই থাকবে ।

আর হাঁ একই সময়ে, কৃষি ও শিল্পের সাথে বিনোদন/লেইজার খাতে বিনিয়োগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে বহুমুখী অবদান রাখতে পারে।

বিনোদন ও লেইজার (Entertainment & Leisure) খাতকে প্রথাগতভাবে অউৎপাদনশীল মনে করা হয়, কারণ
এটি সরাসরি খাদ্য, পোশাক বা প্রযুক্তি উৎপাদন করে না। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকে
এর গভীর উৎপাদনশীলতা রয়েছে ।

বিনোদন ও লেইজার কার্যক্রম (পার্ক, থিয়েটার, সিনেমা, খেলাধুলা, সঙ্গীত) মানুষের মানসিক চাপ কমায়।
স্বাস্থ্যবান ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল কর্মীরা কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। অফিস কর্মী বা কারখানা
শ্রমিক নিয়মিত বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নিলে absenteeism কমে এবং output বাড়ে।

বিনোদনমূলক শিল্প (মিউজিক, সিনেমা, নাটক, ডিজাইন) মানুষের সৃজনশীল ক্ষমতা বাড়ায়। সৃজনশীলতা
ও problem-solving দক্ষতা শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ভিডিও গেম ডেভেলপার,
অ্যানিমেশন, আর্ট ডিজাইন বা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন।

বিনোদন ও লেইজার খাত সরাসরি অর্থনীতিতে বিভিন্ন চেইন তৈরি করে। কর্মসংস্থান হিসাবে অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী,
খেলোয়াড়, গাইড, থিয়েটার কর্মী। সরবরাহ ও সেবা ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, যাতায়াত, প্রযুক্তি, লাইসেন্সিং। কর ও রপ্তানি
আন্তর্জাতিক ফিল্ম, সঙ্গীত, ভ্রমণ ও হোটেল পর্যটন ও স্থানীয় শিল্প উন্নয়ন যথা বিনোদন কেন্দ্র (Theme Parks,
Cultural Festivals) গ্রামীণ ও শহুরে পর্যটনকে উদ্দীপ্ত করে। স্থানীয় হস্তশিল্প, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পরিবহন
খাতের বৃদ্ধি। উদাহরণ হল কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবনের ইকোট্যুরিজম।

সামাজিক বিনোদন সামাজিক সংহতি ও মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি করে। সংঘাত হ্রাস, কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ বৃদ্ধি,
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে। তাই বিনোদন ও লেইজার খাত সরাসরি উৎপাদন না করলেও মানবসম্পদ উৎপাদনশীলতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, নতুন শিল্প ও পর্যটন বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে বহুমুখী অবদান রাখে।

এখন কথা হল প্রাইভেট কিংবা পাবলিক বিনোদন খাত কোন বেশী সহায়ক হবে ?
বাংলাদেশের মতো নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে বিনোদন খাতের কার্যকারিতা নির্ভর করে প্রাইভেট বনাম পাবলিক
খাতে বিনিয়োগের ধরন এর উপরে ।প্রাইভেট খাতের সুবিধা হল প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ, ব্র্যান্ডিং
ও মার্কেটিং। উদাহরন হিসাবে বলা যায় বেসরকারি থিম পার্ক, সিনেমা হল, VR গেমিং, ফিটনেস ক্লাব।

তবে এর সীমাবদ্ধতা ও রয়েছে যথা দামী, সীমিত নাগরিক-ভিত্তি (গ্রামীণ জনসংখ্যা কম পৌঁছায়)। লাভ-প্রধান
হওয়ায় সামাজিক সমতা ও ব্যাপক সম্প্রসারণ কম। পক্ষান্তরে পাবলিক খাতের সুবিধা হল জনগণের জন্য
বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে পরিষেবা। বৃহত্তর সামাজিক এবং স্বাস্থ্যগত সুফল পার্ক, খোলা স্টেডিয়াম, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
এগুলিতে গ্রামীণ ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীও সহজে অংশগ্রহণ করতে পারে। উদাহরণহল শহরভিত্তিক পাবলিক
পার্ক, স্কুল/কলেজের ক্রীড়া মাঠ, পাবলিক লাইব্রেরি।
তবে Public-Private Partnership (PPP) মডেল সবচেয়ে উপযোগী। উদাহরণ হল Theme Park,
Cultural Hub, Sports Academy প্রভৃতির জন্য সরকার ভিত্তি তৈরি করে দিবে, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান এগুলি
পরিচালনা ও প্রযুক্তি যোগ করবে। এর সুবিধা হল সামাজিক সমতা, বাণিজ্যিক সাফল্য, দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা।

এ লক্ষ্যে সরকারকে নীচে বলা কিছু নীতিগত সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে ।
১. পাবলিক বিনোদন অবকাঠামো বৃদ্ধি: পাবলিক পার্ক, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, গ্রামীণ পর্যটন হাব।
মানসিক স্বাস্থ্য ও সমাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বিনামূল্যে/সুলভ মূল্য।
২. প্রাইভেট বিনোদন উদ্যোগকে কিছু প্রণোদনা দিতে হবে যথা কর ছাড়, বিনিয়োগ প্রণোদনা, প্রযুক্তি ও
ব্র্যান্ডিং সহায়তা।
৩. PPP মডেল সম্প্রসারণ হিসাবে প্রাইভেট উদ্যোগ পরিচালনা করবে, পাবলিক অবকাঠামো বা জমি সরকার দেবে।
৪. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সুযোগ সুবিধা দিয়ে বিনোদন খাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে দিতে হবে ।

মোট কথা হল বাংলাদেশের মতো নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে বিনোদন ও লেইজার খাত শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক
ও উৎপাদনশীল দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।এটা সরাসরি উৎপাদন না করলেও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য, সৃজনশীলতা,
কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে। পর্যটন ও হোটেল/রেস্টুরেন্ট শিল্পকে প্রসারিত করে।

পাবলিক বিনোদন সামাজিক সমতা বৃদ্ধি করে, প্রাইভেট বিনোদন বাজারভিত্তিক উদ্ভাবন ও টেকসই উদ্যোগের
জন্য কার্যকর। তবে সর্বোত্তম হচ্ছে PPP মডেল, যেখানে প্রাইভেট দক্ষতার সাথে পাবলিক কাঠামো একত্রিত হয়।
বাংলাদেশে বিনোদন খাতকে টেকসই, বহুমুখী এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক
উৎপাদনশীলতা ও সামাজিক সমতা বৃদ্ধি সম্ভব।

মুল্যবান একটি পোস্ট দিয়ে এ বিষয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক আলোচনার সুযোগ তৈরী করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

ঈদ শুভেচ্ছা রইল

২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৩৩

শোভন শামস বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার তথ্য বহুল সুচিন্তিত ও সময় উপযোগী মন্তব্যের জন্য।
আমাদের গুরুত্ব পূর্ণ কিছু খাত চিহ্নিত করতে হবে এবং সেখানে বিনিয়োগে উদ্যোক্তা দেরকে উৎসাহিত করতে হবে।
এসবের জন্য দেশপ্রেমিক নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে।
আমাদের দেশ থেকে টাকা পাচারের যে আগ্রহ দেশে বিনিয়োগের সেই আগ্রহকে যদি সম্মান ও নিরাপত্তা দেয়া হয় তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে।
হাজার খানেক বিভিন্ন পদে থাকা বাংলাদেশী যদি দেশকে ভালবেসে দুর্নীতি বন্ধ করে দেয় তাহলে এই দেশ সোনার দেশ হতে বাধ্য।
লি কুয়ান ইউর পাওয়া ষাটের দশকের সিঙ্গাপুরের চেয়ে আমাদের অবস্থা অনেক ভাল। আমাদের দরকার সঠিক নেতৃত্ব।
আমাদের চিকিৎসা খাত ১৮ কোটি মানুষের, এই খাত কেন লাভজনক হবে না, কেন মানুষ বিদেশে যাবে, আমাদের ডাক্তার অনেক উন্নত মানের তাদেরকে কাজে লাগাতে হবে।
আমাদের সব প্রতিষ্ঠান নষ্ট করে ফেলা হয়েছে যাতে আমরা গোলামির শিকলে বাধা পড়ি আর কিছু মানুষ এই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে দেশকে শূন্য করে। কি হতভাগা আমরা।
এই দুর্ভাগা পরিস্থিতি থেকে উত্তরন অতি জরুরী। সাথে থাকবেন।

৩| ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩১

রাজীব নুর বলেছেন: অনেকদিন ধরে ভাবছি, মেয়েকে নিয়ে চিড়িয়াখানা যাবো। কিন্তু যাওয়া হচ্ছে না।
মেয়ের যখন ৮ মাস তখন একবার নিয়ে গিয়েছিলাম।

২৫ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৩

শোভন শামস বলেছেন: অবশ্যই নিয়ে যাবেন। আমাদের দেশে আরও এ ধরনের চিড়িয়াখানা দরকার। মাঠ , পুকুর সব ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রান খুলে শ্বাস নেয়ার জন্য ও মানুষের ক্লান্তি দূর করতে খোলামেলা জায়গা কোথায়? বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও সম্পদশালীরা নিজ দেশে পর্যটন, স্বাস্থ্য সুবিধা ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।
ধন্যবাদ সাথে থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.