নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সিয়াম নুর ব্লগ

সিয়াম নুর

এসো সত্য ও সুন্দরের পথে এই ব্লগে আমার নিজের লেখা ছারাও আমার প্রিয় লেখকদের লেখার কপি পেস্ট দেবো।

সিয়াম নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই হয় না

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:১৫



আল্লাহমহান- সব ক্ষমতা তাঁরই হাতে, তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কোন কিছু হয় না। তিনি আমাদের স্রষ্টা, প্রতিপালক এবং তাঁরই ইচ্ছায় আমাদের বেঁচে থাকা, মরে যাওয়া এবং সুস্থতা, অসুস্থতা সব কিছুই তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। কিন্তু আমরা বলি এক, করি আরেক। আবার ভাবি এক রকম হয় অন্য রকম। আসলে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোন কিছুই হয় না। মানুষকে আল্লাহ কোন ক্ষমতাই দেননি। বরং সামান্য যা কিছু ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাতেই মানুষ নিজের ক্ষমতার প্রতি আস্থাশীল হয়ে নানা ঘটনা-অঘটনের জন্ম দেয়। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই হয় কি? মহান আল্লাহ বলেন- ‘তিনি (আল্লাহ) যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন কেবল বলেন ‘হও’ ফলে হয়ে যায়।’ (ইয়াসিন: ৮২)



দৃশ্য-অদৃশ্য বিষয় ও অনাগত ভবিষ্যত্ মহান আল্লাহই অবগত আছেন। তাই তিনি বলেন- “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে রয়েছে কেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞান এবং তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন আর তিনিই জানেন যা কিছু আছে মাতৃগর্ভে। কেউ জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মারা যাবে........!” (লোকমান: ৩৪)



দিন যায় সন্ধ্যা আসে, বছর ঘুরে বছর আসে এবং মাসের পর মাস, সে তো মহান আল্লাহরই ইচ্ছায় হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন “তিনি রাতকে দিনে পরিণত করেন ও দিনকে রাতে বদলে দেন। তিনি সূর্য ও চাঁদকে নিয়ন্ত্রণ করেন।” (ফাতির: ১৩) মহান আল্লাহ আরো বলেন- “তিনি ভোরবেলার সূচনা করেন আবার তিনি আরামের জন্য রাত এবং হিসাবের জন্য চাঁদ-সূর্য সৃষ্টি করেছেন।” (আনআম: ৯৬)



মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এ বিশ্ব হয়ে উঠে প্রাণময়, সবুজ-শ্যামল। মহান আল্লাহ বলেন- “এরপর তা দ্বারা পৃথিবীকে সুজলা-সুফলা করেছেন। তা উদ্ভিদহীন হওয়ার পরে এবং সব ধরনের প্রাণের অস্তিত্বদানে; বায়ু চলাচলের পরিবর্তনে এবং মেঘমালার অস্তিত্বে........ নিশ্চয়ই প্রমাণ করেছে জ্ঞানীদের জন্য।” (ভাবানুবাদ, বাকারা ১৬৪)



মানুষের জীবনচক্র আল্লাহই নিয়ন্ত্রণ করেন। জীবন-যৌবন সবকিছু মহানকারিগর আল্লাহ বলেন- “তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর শুক্রবিন্দু থেকে, পরে জমাট রক্ত থেকে। তারপর শিশু রূপে বের করেন, তারপর যৌবন পাও, তারপর পৌঁছাও বার্ধ্যকে। আর কারো কারো আগেই মৃত্যু ঘটে।” (মুমিন: ৬৭)



মানুষের আত্মশক্তি এক রহস্য। অনন্ত সম্ভাবনার সৃষ্টি মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয় ‘রূহ’ দ্বারা। আর রূহ বা আত্মার রহস্য মানুষের জানা নেই। মহান আল্লাহ বলেন- “তারা রূহের কথা জানতে চায়? বলো (হে রাসুল) রূহ আমার প্রতিপালকের একটি আদেশ মাত্র। এ বিষয়ে তোমাদের সামান্যই জ্ঞান দেয়া হয়েছে।” (বানী-ইসরাইল: ৮৫)



মানুষ তার চেহারার সৌন্দর্য ও গঠন প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে চায় কিন্তু এগুলোও মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি বলেন- “তিনিই সেই সত্তা যিনি মাতৃগর্ভে তোমাদের আকৃতি গঠন করেন যেভাবে তিনি ইচ্ছা করেন।” (আল-ইমরান: ০৬)



সন্তানের মাধ্যমে মানুষ তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনে যায়। অনাগত বংশধরদের মধ্য দিয়ে অনন্তকাল বেঁচে থাকার আশা করে কিন্তু সন্তান-সন্ততিও হয় আল্লাহর ইচ্ছায়। মহান আল্লাহ বলেন- “তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র অথবা দান করেন পুত্র-কন্যা উভয়ই আর যাকে ইচ্ছা তিনি বন্ধ্যা করে দেন।” (সুরা: ৪৯, ৫০)



বিশ্বের শত সহস্র মানুষ ও কোটি কোটি জনতার ব্যতিক্রমী রূপ, রং, ভাষার প্রকাশ মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। আল্লাহর ইচ্ছায় হয়ে থাকে সব কিছু। এজন্যই তিনি বলেন- “তারই নিদর্শনের অন্যতম হলো নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি আর তোমাদের ভাষা-বর্ণের পার্থক্য।” (রূম; ২২)



মানুষের স্রষ্টা আল্লাহ, হেদায়েতের মালিক আল্লাহ! তিনিই মানুষের সব; তাঁরই হাতে সুস্থতা ও অসুস্থতা। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর বক্তব্যের মাধ্যমে এ মহাসহ্য প্রকাশ করেছেন- “যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাকে সত্পথ প্রদর্শন করেছেন এবং তিনি আমাকে খাওয়ান ও পান করান। যখন আমি অসুস্থ হই তখন তিনিই আমাকে সুস্থতা দান করেন এবং তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাবেন!” (শুআরা: ৭৮-৮১)



মহান আল্লাহর ইচ্ছায় সবকিছু নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। মানুষের জ্ঞান সীমিত, অভিজ্ঞতা অস্পষ্ট এবং সামর্থ্য নেই বললেই চলে। এ জন্যই পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- “তাঁরই কাছে আছে অদৃশ্যের চাবি! তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানেন না। তিনি জানেন যা কিছু আছে স্থলে ও জলে। গাছের একটি পাতাও ঝরে না তাঁর অজ্ঞাতসারে। কোন শস্যকণা মাটির গভীর আঁঁধারে অংকুরিত হয় না অথবা ভেজা আর শুকনো কোন জিনিশ নেই যার স্পষ্ট বিবরণ তাঁর লিখনীতে (কিতাব, বিধানে) নেই।” (আনআম: ৫৯)



মানুষ আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামত ভোগ করেও আল্লাহকেই অস্বীকার করে। সবকিছু বুঝে কিন্তু বিশ্বাস করতে চায় না আল্লাহর একত্মে। আপন আঁঁধারে মানুষ অবিশ্বাসের জালে জড়িয়ে যায়। কেন না হেদায়েত বা সত্পথের মত অমূল্য সম্পদ আল্লাহর দান, এক কথায় নেয়ামত। তাই হেদায়েতও তাঁরই ইচ্ছাধীন। মহান আল্লাহ বলেন- “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে ধর্মের দিকে পরিচালিত করেন।” (শুরা: ১৩) ক্ষমতা, অর্থ এবং সম্পদ ও সামর্থ্যের কারণে মানুষ নিজের প্রতি অতিমাত্রায় আস্থাশীল হয়ে ওঠে। কিন্তু এগুলোও তো মহান আল্লাহর অনুগ্রহ এবং ইচ্ছাধীন। তাই পবিত্র কুরআনের নির্দেশ- “বল, সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্যদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজ্য কেড়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মানিত কর আর যাকে ইচ্ছা কর অপমানিত। সব কল্যাণ তো তোমারই হাতে.........।” (আল ইমরান: ২৬)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.