| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আব্দুল্লাহ আফফান
আমার ব্যাক্তিগত ব্লগ www.abdullahaffan.com এ আপনাদের স্বাগতম।
প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি ছাত্রকে স্কলারশিপ দেয়া হয় মিশরের এই প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নের জন্য। তাঁরই সুত্র ধরে বাংলাদেশকে ১৫-২০ টি সিট দেয়া হয়ে থাকে প্রতি বছর। বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাত্র বাছায়ের কাজ করে থাকে। বর্তমানে দ্যা ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন ফর আল আযহার গ্রেজুয়েটস (W.A.A.G) http://waag-azhar.org/ বাংলাদেশ শাখা এ কাজের দায়িত্ব গ্রহন করে আগামি এক দুই বছরের মাঝে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশে তাদের কাজক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। তবে মজার কথা হচ্ছে এখনো আযহার থেকে ভর্তি সম্পর্কিত কোন নির্দেশ আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করা হয়নি কিন্তু তা সত্ত্বেও এ বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় অঘোষিত ভাবে ছাত্র নির্ধারণ হয়ে গেছে আর নির্ধারণ কিভাবে হয়েছে তা আরা বলার অপেক্ষা রাখে না।
স্কলারশিপঃ
আমি আগেই বলে নেই যে আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যে স্কলারশিপ দেয়া হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণ বেসরকারী তবে সুযোগ সুবিধা সরকারী থেকে বহু গুণ বেশি। একটি বিষয় তা আগেই বলে নেয়া ভালো যে আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সুনাম তা হচ্ছে ইসলামিক ফ্যাকাল্টি গুলোতে আর শিক্ষার মাধ্যম আরবী ভাষা হওয়াতে অনারবের জন্যে অন্যান্য ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি কষ্টকর। আর যদি অন্য ফ্যাকাল্টিতে পড়তে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন এবং সেই সাথে শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি চান তাহলে আপনার জন্যে রয়েছে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে অধিকাংশ ফ্যাকাল্টির শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি এবং আল আযহার থেকেও শিক্ষার ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত। তো বাংলাদেশ থেকে যে সার্কুলার দেয়া হয় তা এমন
প্রথমে পেপার জমা হওয়ার পর সিলেক্টকৃত ছাত্রের ব্যাপারে এমব্যাসির মাধ্যমে যাবতীয় তথ্য গ্রহন করে মিশরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। আর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে তিন চার মাস লেগে যায়। প্রথমে পেপার গুলো যাবে আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের স্কলারশিপ বিভাগে সেখানে যদি সমস্ত পেপার ঠিক মত পায় তাহলে তারা সিলেক্ট করবে এবং এ বিষয়টি খুব গুরুত্তপূর্ণ সমস্ত পেপার ঠিকঠাক মত দেয়া আমার সমস্ত পেপার ঠিকঠাক ছিল বিধায় আমি এক বছর আগে আসতে পেরেছি আর আমার সাথেরই এক ক্লাসমেট দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত তার আসেনি আর সে স্কলারশিপও পায়নি পরের বছর সে পেপার ঠিকঠাক মতে দেয়াতে স্কলারশিপ পেয়েছে আর মিশরে আসতে পেরেছে। আর এর পর আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে তারা আবার পাঠাবে আল আযহার বোর্ডে সেখান থেকে আবার বাছাই হয় যে কাকে কোথায় মিশরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে এবং তারা যাবতীয় তথ্য পাবার পর তাদের কাছে যদি মনে না হয় যে উল্লেখিত ছাত্রটি মিশরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি না তখন তারা বাংলাদেশে অবস্থিত মিশরের দুতাবাসে তাদের লিস্ট পাঠাবে। তারপর দুতাবাস সেই লিস্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
যাতায়াতঃ
আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নিয়ম অনুযায়ী এয়ার টিকেটের খরচ আল আযহার বহন করবে তবে তা এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। তবে সুইডেন বাংলাদেশ ট্রাষ্ট যারা ওয়ান ওয়ে টিকেটের ৭৫% টাকা ফেরত দেয় বিদেশে যাওয়ার এক বছর পর। মিশরে আসা নিশ্চিত হলে আসার সময় আর তারিখ বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনকে ফোনে বা এস এম এসের মাধ্যমে জানালে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনই এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ ও থাকা খাওয়া সহ যাবতীয় সব কিছুর দেখা শুনা করবে।
সতর্কতা
তা হচ্ছে বাংলাদেশের সাথে আল আযহার ইউনিভার্সিটির যে ইকুভিলেন্ট ছিল তা নবায়ন না করায় বাংলাদেশ থেকে আগত সমস্ত ছাত্রের ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি বন্ধ আর এই আয়োতায় শুধু বাংলাদেশ না বাংলাদেশ সহ আরো এগারোটি দেশ যেমন ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া। তাই বর্তমানে কেউ আসার আগে তাকে অবশ্যই ভেবে আসতে হবে যে এখানে ইউনিভার্সিটি পড়ার আগে স্কুল লেবেল থেকে শুরু করতে হবে এবং এ লেবেল মানের সার্টিফিকেট নিয়ে আযহার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে হবে। এর জন্য কম পক্ষে এক বছর উদ্ধে তিন বছর সময় লাগতে পারেআর এটা নির্ভর করে ছাত্রের চেষ্টা আর মেধার উপর। আমি এক বছরে স্কুল এবং ইনষ্টিটিউট শেষ করে ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন নিয়েছি। এখানে এক এক বার ভিন্ন ভিন্ন সিধান্ত নিয়ে থাকে সুতরাং ছাত্রকে অবশ্যই মেধাবী হতে হবে আর আরবী সম্পকে ভালো ধারনা থাকতে হবে কেননা মিশরের আরবী সাধারন আরবী নয় মিশরের আরবীতে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আর এসব বিষয় ভেবে ফিউচার এর জন্য সিধান্ত নেয়াই উত্তম বলে মনে করি।
খরচ
আল আযহার ইউনিভার্সিটির পক্ষথেকে বিদেশী স্কলারশীপ প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীদের জন্য রয়েছে প্রত্যেক মাসে ২০০ (দুইশত) ইজিপ্সিয়ান পাউন্ড দিয়ে থাকে আর অন্যান্য সব মিলিয়ে চারশত পাউন্ড হয় এবং এটা যথেষ্ট যেহেতু থাকা এবং খাওয়া হোস্টেল আল আযহার বহন করে থাকে। এবং ছাত্র প্রতি তারা ৫০০ (পাঁচশত) ডলার ব্যয় করে থাকে যা অনেক ব্যয়বহুল বটে। এবং রয়েছে সব ধরনের খেলাধুলার সুযোগ এবং জিমনিসিয়ায়াম সহ ফ্রী সার্বক্ষণিক মেডিকেলের সুবিধা।
খাবার
এখানে দৈনিক দুই বেলা খাবার দেয়া হয়ে থাকে।
সকালেঃ জনপ্রতি দুইটি মিশরী রুটি , ডাল/ ফুল, ২৫০মিলি দুধ, একটি সিদ্ধ ডিম, জেলী, পনির, মিশরী মিষ্টি, চা, চিনি, লেবু
দুপুরে ঃ জনপ্রতি দুইটি মিশরী রুটি, নুডুলস মিশ্রিত মিশরী ভাত, সপ্তাহে তিনদিন গরুর গোশত বাকি তিন দিন ১/৪ মুরগির ফ্র্যাই আর শুক্রবারে টুনা মাছ (কৌটা) আর সাথে তিন ধরনের যে কোন এক ধরনের তরকারী আর ফল বা জুস। রাতের জন্য একটি প্যাকেট দেয় তাতে থাকে দুটি কাঁচা ডিম, দই, মধু, মিশরের সব চেয়ে দামি পনির ১০০ গ্রাম, রাতে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় পেয়াজ, মরিচ, কেপসিকাম, টমাটো, গাজর, আর শশা।
সুযোগ সুবিধা
৪৫ টি বিল্ডিং নিয়ে অবস্তিত এই আল আযহারের বিদেশি ছাত্রাবাস এখানে ১০৫ টি দেশের পাঁচ হাজার ছাত্রের বসবাস। প্রত্যেক ছাত্রের জন্য আলাদা আলাদা রুমের ব্যবস্থা।এবং তিনজন মিলে এক সাথে থাকার ব্যবস্থা উভয়টি বিদ্যমান, গোসলের জন্য ঠাণ্ডা ও গরম পানির ব্যবস্থাঅ।ছেলেরা যেটাতে থাকে সেটাকে(মদিনায়ে কোবরা) বড় শহর বলা হয়। সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তা, পরিপূর্ণ একটি শহর এখানে দোকানপাট, ব্যাংক, হাসপাতাল অফিস সব কিছু আছে এবং শহর বলতে যা বুঝায় সমস্ত সুযোগ সুবিধা এখানে বিদ্যমান। মেয়েদের জন্যে আলাদা শহর ওটাকে (মদিনায়ে সুগরা) ছোট শহর বলা হয়। ওখানেও সমান সুবিধা বিদ্যমান। সেখানে ৫৫ টি দেশের ৫০০ জন মেয়ে থেকে পড়াশুনা করে। আর এই শহর দুটিকে পরিচালনার জন্য একজন হল প্রভোস্ট আছেন আর তার ক্ষমতা যে কোন সচিবেরও উপরে।
আল আযহারে বাংলাদেশি ছাত্ররাঃ
আল আযহার ইউনিভার্সিটির সু দীর্ঘ ইতিহাসে বিদেশি কোন ছাত্রের এতো ভালো ফলাফলের কোন রেকর্ড নেই আর বাংলাদেশী ছাত্ররা তা করে নজীর স্হাপন করেছে এবং এবং আজো তার ক্রমধারা বজায় আছে।শুধু আল আযহারে নয় বরং মিশরের অধিকাংশ ইউনিভার্সিটির সেই একই রেজাল্ট এবং তুলনামূলক ইন্ডিয়া আর পাকিস্তানের ছেলেদের চেয়ে বাংলাদেশি ছাত্ররা ভদ্র এবং নম্র আচরণ বলে বাংলাদেশী ছাত্রদের এখানে আলাদা কদর। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যে আল্লাহ আমাদের ইন্ডিয়ার মত বড় দেশ বা ফিল্মি বাণিজ্য না দিক বা পাকিস্তানের মত পারমাণবিক না দিক কিন্তু আমাদের দেশে এমন কিছু মেধাবী সন্তান দিয়েছেন যা আর কাউকে দেন নি। শুনে অবাক হই মালয়েশিয়ার মত ভালো দেশের ছেলেদের অবস্থা শুনে যে আল আযহারে আট হাজার মালয়েশিয়ার আর পাঁচ হাজার ইন্দোনিশিয়ার ছাত্র, ছাত্রী পরা শুনা করে কিন্তু তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ফেল করে। আর অনার্স পাশ করতে তাদের সাত বছর বা আট বছর লেগে যায়। আর তারা মনে করে যে চার বছরে অনার্স পাশ করা মানে আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ মেধা। আর সেখানে বাংলাদেশি ছাত্রদের প্রতি বছর ফাস্ট ক্লাস ও এক্সিলেন্ট ফুল ঝুরি হয়। মিশরে বাংলাদেশি ছাত্রদের উপর তিনটি সংগঠন কাজ করে থাকে। আর এই তিনটি সংগঠন থেকে নির্বাচিতদেরকে নিয়ে গঠিত হল বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন মিশর। এখানে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন এর কার্যক্রম হল যে বাংলাদেশ থেকে নতুন আগত ছাত্রদের যাবতীয় কাজ করা, বাংলাদেশ দুতাবাসের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা, ছাত্রদের পড়াশুনার বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা, নতুন ছাত্রদের ভর্তির ও স্কলারশিপের বিষয়াদি নিশ্চিত করা।
আপনাদের আরো কিছু জানার থাকলে আমাকে জানাবেন আমি সাধ্য অনুযায়ী জানাতে চেষ্টা করব।
যে কোন সহযোগিতার জন্যেঃ
আব্দুল্লাহ আফফান
ফ্যাকাল্টি অফ ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড এরাবিক ল্যাংগুয়েজ
আল আযহার ইউনিভার্সিটি
কায়রো, মিসর
[email protected]
২|
১৮ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৯:০৮
মাহমূদ হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ!
১৮ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:০৬
আব্দুল্লাহ আফফান বলেছেন: انت كمن
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই মার্চ, ২০১১ ভোর ৬:৪৭
আব্দুল্লাহ আফফান বলেছেন: Click This Link