| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সজীব ঘোষ
একদমই নতুন
শুভ্র, সবেমাত্র একটি সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছে এবং যে কোন মূল্যে বি.এস.সি তে এ বছরই ভর্তি হবার পণ করেছে। সে আর এমন কি, যে কেউই তো তাই করে বা করছে। কিন্তু শুভ্রর জন্য শুধু সিদ্ধান্ত নেয়া আর তাকে বাস্তবে পরিনত করার মাঝে বিস্তর তফাৎ। তার মূল কারন শুধুমাত্র তার দারিদ্রতা নয় বরং দারিদ্রতা+ বড়দের সিদ্ধান্ত।যে কারনে ইচ্ছা থাকা সত্বেও তার লক্ষ্যের জন্য প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ সে করতে পারেনি। যেগুলো না করলেই নয় এমন তিনটি কাজ। সে এও জানে এখন আর কোন সুযোগ নেই আর আগের মত খুব একটা আফসোসও তার নেই। থাক সে প্রসঙ্গ, পুরনো কাসুন্দি ঘেটে সময় নষ্ট না করাই ভালো। বিংশ শতাব্দীতে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের কতখানি ধৈর্য ধারন করা দরকার তা সে হয়তো এ কদিনে বেশ ভালই বুঝেছে। আর তাই আজ পনের দিন ধরে চাকরীর ট্রেনিং এর নামে সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্তও সে স্থান পরিবর্তন না করে বসে থাকতে পারছে। ফেলে আসা দিনগুলোতে সে তার সাধ্যমত অনেক কিছুই শিখতে চেষ্টা করেছে।২০১৪ সালে এসে তার যোগ্যতা অনুসারে চাকরি পাওয়া কতটা দূরহ ব্যাপার সেটা তার অজানা নয়। তবুও অনেকের মত তার একটা চাকরি না হলেই নয়। বাবার ২০ বছরের পুরনো ডায়াবেটিসের সাথে আরও অনেক রোগ শরীরে বাসা বেধেছে, মা অনেক কষ্টে টিউশনি করে কিছু টাকা সংসারে দেবার চেষ্টা করছে আর ছোট বোনটা সবেমাত্র ষষ্ঠ শ্রেনীতে। তাই প্রতি রাতে সে ভাবে এখন তার একটা চাকরি না পেলেই নয়। বাবা তার জন্য অনেক যায়গায় চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। সেও বিডি জবস ঘেটে নানান জায়গায় তার বৃত্তান্ত পাঠাচ্ছে কিন্তু কিছুতেই কোন ব্যবস্থা করে উঠতে পারছে না। কখনও শুভ্রর হাতে সূদুর ঢাকায় গিয়ে ইন্টারভিউ দেবার মত টাকা থাকেনা অথবা কোনভাবেই সে তা যোগার করতে পারেনা আবার সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবার পরে যেকোন একটা কারনবশত তাকে বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়। এবার সে তার এক কাজিনের রেফারেন্সে সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ারিং পোষ্টের জন্য এক মাসের ট্রেনিং সম্পন্ন করল। যেই পোষ্টিং এর সময় হল তখনই তাকে বাবার আদেশে আবারও ঢাকা ছুটতে হল ভাল আরেকটা চাকরির উদ্দেশ্যে। তার কোনই ইচ্ছা ছিলনা। রাতে তার ভাল ঘুম হলনা। সকালে সে ইন্টারভিউ দিতে গেল এবং পূর্বে তার বিব্রতকর পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থাকায় চাকরীপ্রার্থী হিসেবে তাকে দারোয়ান এর অবজ্ঞা সে স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই দেখল আর মনে মনে বলল হায়রে বেকার, চাকরির যে অবস্থা এর থেকে ভাল কি আশা করবি আর।
©somewhere in net ltd.