| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে মাসে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তালাক ও পুনর্বিবাহের ঘটনা যেন ববিতার ব্যক্তিজীবনের এক অদৃশ্য দ্বন্দ্বের ছবি হয়ে রইল- ভালোবাসা, অভিমান, বিশ্বাস আর ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার এক জটিল সমীকরণ।
পর্দায় ববিতা ছিলেন অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা। তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর অভিনয়- সবই ছিল দর্শকের জন্য। অথচ ক্যামেরার আড়ালের মানুষটি যে কতটা নিঃসঙ্গতা, সংশয় আর আবেগ নিজের ভেতরে বহন করেছেন, তার খুব সামান্যই পৌঁছেছিল জনসমক্ষে।
সোনালি কাতান শাড়িতে সেদিন যে নারী স্বামীর হাত ধরে বলরুমে প্রবেশ করেছিলেন, তিনি হয়তো জানতেন না- জীবনের সবচেয়ে বড় দৃশ্যগুলো কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য মেনে এগোয় না। সেখানে নেই পরিচালক, নেই ‘কাট’ বলার সুযোগ, নেই দৃশ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা। আছে শুধু বাস্তবতা- কখনো উজ্জ্বল, কখনো নির্মম।
ববিতার সেই বিয়ের গল্প তাই নিছক এক তারকার বিয়ের গল্প নয়। এটি এমন এক নারীর গল্প, যিনি আলোয় থেকেও নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অনেকটা অন্ধকার নিজের মধ্যেই রেখে দিয়েছেন। যাঁর প্রেম নিয়ে ছিল অগণিত গুঞ্জন, কিন্তু নিজের সত্যটুকু তিনি বরাবরই রেখেছেন নিজের কাছে।
সময়ের স্রোতে সেই সোনালি কাতান হয়তো আজ আর নেই, ঝলমলে সেই বলরুমের রাতও হারিয়ে গেছে বহু দূরে। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় থেকে গেছে একটি দৃশ্য- ক্যামেরার ঝলকের মধ্য দিয়ে স্বামীর হাত ধরে হাসিমুখে এগিয়ে যাচ্ছেন ববিতা।
পর্দার নায়িকার জীবনে হয়তো সেটিই ছিল সবচেয়ে বাস্তব দৃশ্য- যেখানে অভিনয়ের কোনো অবকাশ ছিল না।
আর সেখানেই ববিতার গল্পটি হয়ে ওঠে শুধু এক তারকার বিয়ের গল্প নয়; হয়ে ওঠে ভালোবাসা, বিশ্বাস, ভাঙন আর মানুষের চিরন্তন সুখের সন্ধানের এক নীরব, বিষণ্ন উপাখ্যান।
আর সেখানেই ববিতার গল্পটি হয়ে ওঠে শুধু এক তারকার বিয়ের গল্প নয়- হয়ে ওঠে একজন নারীর হৃদয়ের গল্প। যে হৃদয় ভালোবাসতে চেয়েছিল, বিশ্বাস করতে চেয়েছিল, একটি সংসারকে আপন করে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু জীবনের সব স্বপ্ন তো আর পূর্ণতা পায় না। কিছু স্বপ্ন রয়ে যায় পুরোনো অ্যালবামের পাতায়, কিছু হাসি আটকে থাকে ক্যামেরার ফ্ল্যাশে, আর কিছু অশ্রু থেকে যায় একান্ত নিজের কাছে। সোনালি কাতানে সেদিনের সেই হাসিমুখী ববিতাকে দেখে কেউ হয়তো ভাবেনি, এই হাসির আড়ালেও একদিন জমবে অভিমান, আসবে বিচ্ছেদের দিন, আবার ফিরে আসার আকুলতাও জন্ম নেবে। পর্দায় তিনি ছিলেন লাখো মানুষের ভালোবাসার নায়িকা; কিন্তু জীবনের পর্দা নামার পর তাঁর নিজের গল্পের সুখ- দুঃখের দর্শক ছিলেন কেবল তিনি নিজেই। হয়তো এ কারণেই ববিতার সেই বিয়ের ছবি আজও শুধু একটি পুরোনো দিনের স্মৃতি নয়- এটি এক নারীর ভালোবাসার ওপর বিশ্বাস রাখার, ভেঙে যাওয়ার পরও ফিরে তাকানোর এবং শেষ পর্যন্ত নিজের নীরবতাকে নিজের কাছেই রেখে দেওয়ার এক বিষণ্ন উপাখ্যান। সময় অনেক কিছু মুছে দেয়, কিন্তু কিছু ছবি থেকে যায়—নীরবে, নিঃশব্দে; যেন বহু বছর পরও প্রশ্ন করে, সেদিনের সেই হাসির আড়ালে ববিতার হৃদয়টা সত্যিই কি সুখী ছিল?
©somewhere in net ltd.