| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশ জুড়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তার ক্ষয়ক্ষতি ছিল ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। সংবাদমাধ্যম ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী এর একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা:
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৫ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে দেশজুড়ে অন্তত ১ হাজার ৬৮টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ২২টি উপাসনালয় হামলার শিকার হয়। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনেও হিন্দু, আহমদিয়া মুসলিম ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক হামলার তথ্য উঠে আসে—বিশেষত ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, খুলনা, সিলেট ও রংপুরে। এসব হামলার পেছনে ছিল স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত গোষ্ঠী, যদিও নির্দিষ্ট সাংগঠনিক পরিচয় সব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত হয়নি।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা:
আওয়ামী লীগের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, দলটির নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর হয়েছে, যা বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার একাংশ ও স্থানীয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল।
ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস:
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী এই ধ্বংসযজ্ঞে সরাসরি জড়িত ছিল ইনকিলাব মঞ্চ ও এর ডানপন্থী সহযোগী সংগঠনগুলো।
পুলিশি স্থাপনা ও অস্ত্র লুট:
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শুধু ঢাকা মহানগর পুলিশের আওতাধীন থানা-ফাঁড়ি থেকেই প্রায় ১ হাজার ৯০০টি অস্ত্র লুট হয়, যার একটা বড় অংশ (প্রায় ১ হাজার ২০০টির বেশি) পরে উদ্ধার করা গেলেও দেড় হাজারের মতো অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানা যায়। এই লুটপাটে জড়িতা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে কেন আজও জনগন কিছুই জানে না। অস্ত্রাগুলো ভবিষ্যতে কখন কিভাবে কাজে লাগবে তা কি আমরা জানি? মনে রাখবেন এই অস্ত্র কাজে লাগানো হবে।
পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতা:
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যাতে ১৫৮ জন নিহত ও ৭ হাজার ৮২ জন আহত হন। এসব ঘটনার মধ্যে ৯১.৭ শতাংশে বিএনপি ও অন্যদলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়- অর্থাৎ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট শূন্যতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়ায়।
দখল ও চাঁদাবাজি:
টিআইবির প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, সরকার পতনের পর আগের সনকারের প্রতিষ্ঠান দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়-পরিবহন টার্মিনাল, বাজার, ঘাট, বালুমহাল ও পাথর কোয়ারি থেকে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কর্মীদের দ্বারা।
তিন দিনে প্রাণহানি:
শুধু ৪ থেকে ৬ আগস্ট- এই তিন দিনেই সারাদেশে নিহত হন ৩২৬ জন, যার মধ্যে ছিলেন শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষ।
সংক্ষেপে বলা যায়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সহিংসতার নেপথ্যে কোনো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী ছিল - যারা মিডিয়াতে বিক্ষুব্ধ জনতা হিসেবে পরিচিত হলেও তারাই ছিল প্রকৃত সন্ত্রাসী, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং ক্ষমতার দখলের প্রতিযোগিতায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা- কারণেই এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্ম দেয়।
২|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১
শাহিন-৯৯ বলেছেন:
৩২ নং আপনাদের কাছে তথা লীগের তীর্থভূমি হলেও আমাদের কাছে স্বৈরাতন্ত্রের আতুরঘর, এখান থেকেই জন্ম হয়েছিল সেই বাকশাল নামের একদলীয় স্বৈরা শাসনের।
যিনি সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে ক্ষমতা পেয়েই গণতন্ত্রের বদলে বামদের কুপরামর্শে (মণি সিং, মোজাফ্ফর গং) এক দলীয় বাকশাল করেছিল।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০৬
শাহিন-৯৯ বলেছেন:
ওবায়দুল কাদের বলেছিল- লীগ ক্ষমতা হারালে এক লাখ প্রাণহানি হবে!! কি পরিমাণ আকাম করলে এত ভয় ছিল মনে? কিন্তু বাস্তবে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘঠনা ছাড়া বড় কিছুই হয়নি দেশে সরকার না থাকার পরেও।
নিহত যে সংখ্যা ছিয়েছেন তা উল্লেখ্যযোগ্য নিহত হয়েছিল লুটপাট করতে গিয়ে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধান লেখাটির লিংক দিবেন দেখি কিভাবে অনুসন্ধান করেছে।