| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শব্দসেনা
নাম: মাহাথির হক বয়স: আঠারো বছর, এক মাস, তিন দিন, তের ঘন্টা, আট মিনিট (Last updated 17 april, 2013; 01:08 pm আমি নির্দিষ্ট ধরণের মানুষ না| একেক সময় একেক ধরণ| মুডের উপর নির্ভর করে| এখন পর্যন্ত নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলাম, কিন্তু বন্ধুসংখ্যা অনেক কম| মানে আমি যথেষ্ট সামাজিক না| নিষ্ক্রিয় গ্যাস টাইপ পাবলিক| ভালো অভ্যাস শুধু একটাই, গল্প-কবিতা পড়া| খারাপ অভ্যাসের অন্ত নেই, প্রায় সিগারেটও খাই| অন্ধকার খুব প্রিয়| ঝড়-বর্ষা খুব প্রিয়| মিষ্টান্নভোজী| প্রিয় রঙ কালো, সাদা, লাল, নীল| একটু অলস পাবলিক| বিতর্ক ও হাসিঠাট্টা পছন্দ| খুব বেশি মানুষের সাথে না মেশার কারণে সামাজিক আচরণগত সমস্যা আছে| সংশোধনের চেষ্টায় আছি|
পহেলা বৈশাখ, ১৪২০ বঙ্গাব্দ...
পরিবার সুদ্ধ সবাই বাইরে| আমি যাই নি| বাইরে গিয়ে কি লাভ? গাজীপুরের পুরোটা রাস্তা থাকবে অতিরিক্ত মেকাপ-ধারী গার্মেন্টস কর্মীদের দখলে| ওই freak show দেখার কোনো ইচ্ছাই নেই আমার| তার উপর গতকাল অবন্তির সাথে ঝগডা হইছে| সেজন্য বর্ষবরণের মুডে নাই...
মুডে না থাকলেও সমস্যা| গনতান্ত্রিক দেশ, অধিক মানুষের সিদ্ধান্তই সঠিক| অধিক মানুষের আবদারে সকল টিভি চ্যানেলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলছে| এখন এগুলো দেখতে মন চাইছে না| অনেক ভালো গান-ও ঘ্যামা লাগছে।
কোনো চ্যানেলে রাজনৈতিক আলোচনা হলে ভালো হত| আজকাল রাজনৈতিক আলোচনা শুনে টিভির সামনে বসে বেহুদা আস্ফলন করা একটা Hobby তে পরিণত হয়েছে|
কোনো কাজ না পেয়ে পত্রিকা নিয়ে বসলাম...
তখনই কলিংবেল বেজে উঠল| ডোরহোল-এ চোখ রাখতেই আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত| দরজার ওপাশে স্বয়ং অবন্তি!!!
এখন কি করব? যদি বাবা-মা চলে আসে? অবন্তি বলে উঠল
-এইযে মি. হক, আপনার ছায়া কিন্তু দেখছি| তাডাতাডি দরজা খোলো| নাহলে তোমার কপালে কিন্তু শনি আছে|
শনি থাকুক আর না থাকুক, কপালে চিন্তার বলিরেখা স্পষ্ট|
উপায় না দেখে দরজা খুলে দিলাম|
খুলতে না খুলতেই ঢুকে পডল ও| সেরকম একটা ঝামটা দিয়ে বলল "এত দেরি হল কেন?"| এই ঝামটা দেওয়াটাকে শরত্চন্দ্রীয় ভাষায় বলে "কপট রাগ"
ওসবের উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম:
-উপরে উঠলে কিভাবে? নিচে কেউ আটকায় নি?
-হুমমম... খালি গায়ে একটা গেটকিপার জিগ্গেস করেছিল কোন বাসায় যাচ্ছি|
-আমার মনে হয় উনি গেটকিপার না| আমাদের বাডিওয়ালা|
শুনেই অবন্তি অট্টহাস্য জুডে দিল| যেন বাডিওয়ালার খালি গায়ে থাকার চেয়ে হাস্যকর কোনো ঘটনাই নাই|
যদিও হাসি সংক্রামক ব্যাধি| একজন হাসলে অপর-ও হাসবে| সেটাই উচিত। কিন্তু আমি হাসতে পারতেছি না| কারণ দুইটি...
1. অবন্তিকে হাস্যরত অবস্থায় মাত্রাতিরিক্ত সুন্দর লাগে| এত সুন্দর জিনিস দেখে হাসতে হয় না, মুগ্ধ হতে হয়|
2. বাবা-মা কখন এসে পরে, সেই টেনশান|
আমি বোকার মত দাডিয়ে দাডিয়ে ওর হাসি দেখছিলাম| ও ধমক দিল
-দাডিয়ে আছো কেন? বসো!!!
আমি বসে পডলাম|
-তুমি কি জানো তুমি একটা গাধা? তুমি একটা গরু, ভেড়া...................
ও বিশাল এক বোকা জাতীয় দেশীয় প্রাণীর নামের লিস্ট বলে গেল| আমি বললাম
-হ্যা| জানি|
-কচু জানো| ফাজিল কোথাকার!
তারপর বিড়বিড় করে কি যেন বলল| মনে হয় ফাজিল জাতীয় কোন প্রাণীর নাম|
-নববর্ষের দিন টি-শার্ট পডে আছো কেন? পান্জাবি নাই?
-আছে।
-তাহলে যাও, পডে আসো|
পান্জাবি পরে এসে দেখি অবন্তি চা বানিয়েছে| আমার মন খুশিতে হাই জাম্প দিচ্ছে| কারণ আমার মতে, ওর চা খাওয়া একটা শিল্প পর্যায়ের জিনিস..... দেখতেও আরাম।
আমি নিঃশব্দে চা গিলছি আর ওকে দেখছি...
-কিছু না বলে আসায় রাগ করছো?
-না-না... আসলে বাবা মা যদি এসে পড়ে.......
-কি করবো বল? কাল রাতে তোমাকে বকাবকি করার পর থেকেই মন খারাপ|.........।
দেখলাম অবন্তির চোখ ভিজে উঠেছে| কন্ঠ ভারি হয়ে গেছে| আর মুখটা লাল হয়ে গেছে| মেয়েটাকে কখনো ঝরঝর করে কাঁদতে দেখি নি| এটাই ওর কান্না|
অবন্তি চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিল, আর ওর নিচের ঠোটে এক ফোটা চা লেগে থাকছিল| আমার বড় সাধ, একদিন ওই এক ফোটা চা আমি শুষে নেব| অবন্তি বলল:
-কি হলো? ওভাবে তা.............
কথা শেষ করতে দিলাম না| সাধ পূরণ করে ফেললাম| ঘটনার আকস্মিকতায় ও অপ্রস্তুত হয়েছিল বটে... কিন্তু সেকেন্ডেই হাতে ঢলে পড়ল...
রমনা বটমূলের অনুষ্ঠান টিভিতে সরাসরি দেখাচ্ছে| রবীন্দ্র সংগীত চলছে
".... বধু কোন আলো লাগলো চোখে..." নববর্ষে সব জায়গায় রবীন্দ্র সংগীত হওয়ার কারণটা ঠিক স্পষ্ট নয়। নববর্ষের সাথে রবী ঠাকুরের সম্পর্ক কি???
©somewhere in net ltd.