| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঘটনাটা ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মাঝামাঝি কোনো একসময়ের । ঘটনাক্রমে আসাদকে তার মামার বাসায় উঠতে হলো। আসাদের মামা মি: জামান সাহেব একটু কড়া টাইপের লোক। কিন্তু আসাদকে খুব স্নেহ করেন। আসাদের মামাতো বোন বিন্দু । যেহেতু আসাদ এই বাসাতেই থাকবে, তাই আসাদের দা্যিত্ব পড়লো বিন্দুকে স্কুল থেকে আনা-নেওয়ার। আসাদ মনে মনে খুব খুশি আনা-নেওয়ার এই সময়টাতে সে বিন্দুকে একেবারে একা পাবে। যাইহোক বিন্দুকে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসার কাজ চলতে থাকলো। একদিন আসাদ বিন্দুকে স্কুলে থেকে আনতে গেছে , আকাশে বেশ মেঘ ছিলো। মেঘ দেখে আসাদ বাসা থেকে ছাতা নিয়ে বের হয়েছিলো। স্কুল গেটের কাছে আসতেই খুব জোড়ে বৃষ্টি এলো। বিন্দু আসাদকে আগেই দেখেছে , তাই দৌড় দিয়ে আসাদের ছাতার নিচে চলে আসলো। বিন্দু যখন আসাদের পাশে দাড়ালো , ছাতার নিচে আসাদের এক আদ্ভুত ভালোলাগা ঘিরে ধরলো। সেই ভালোলাগার সাথে এই বীশ্বভ্রমান্ডের কনোকিছুর তুলনা করা যাবেনা। বিন্দু বললো আইসক্রিম খাবো, আসাদ বললো কি আইসক্রিম খাবে? বিন্দু বললো ইগলুর কৌন আইসক্রিম। স্কুলের পাশে একটা দোকানে আইসক্রিম চাইতেই বললো কৌন আইসক্রিম নাই। আশেপাশে আর দোকান ছিলোনা। কি আর করা ! বিন্দু বললো থাক বাসাই চলেন, অন্য সময় খাবো। আসাদের মনটা খুব খারাপ হলো , বিন্দু এই প্রথম আসাদের কাছে কিছু খেতে চে্যেছে। সব-সময় এই দোকানে কৌন আইসক্রিম থাকে ,শুধু এখন নাই।আসাদের মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। বৃষ্টি তখনও হয়ে যাচ্ছে।একটা খালি রিক্সসা দেখে আসাদ চিৎকার করে ডাকলো। বিন্দু আসাদের কান্ড দেখে একটু হেসেই ফেললো। ওরা দুজনে তাড়াতাড়ি রিক্সসায় উঠে পড়লো। রিক্সসাও্য়ালা বললো কোনদিকে যামু, আসাদ বললো সোজা যেতে থাকেন। কিছুদূর যাবার পর একটা দোকান খোলা দেখে আসাদ রিক্সসা দাড় করালো । দৌড় দিয়ে একটা কৌন আইসক্রিম কিনে আনলো। বিন্দু আইসক্রিম খাচ্ছে , ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, আসাদ বিন্দুর পাশে আর রিক্সসাটা ধীর গতিতে এগিয়ে চলছে । আসাদ এক দৃষ্টিতে বিন্দুকে দেখছে, আনেকটা হা-করে দেখা যাকে বলে। বিন্দু বললো আপনি আইসক্রিম খাবেন না ? আসাদ বললো তুমি খাচ্ছো সেটা দেখতে ভালো লাগছে, খেতে ইচ্ছা করছে না। আসাদ বিন্দুকে চরম ভালোবাসে । ছোট্রবেলার প্রেম বলতে যা বোঝায়। শুধু বিন্দুর দিকে তাকিয়ে আসাদ দিনের পর দিন পাড় করে দিতে পারে। আসাদের পৃথিবীটা শুধুই বিন্দুকে নিয়ে। চাওয়া-পাওয়ার পুরোটাই শুধু বিন্দুকে ঘিরে। বিন্দু আসাদের এই আনুভূতির কতটুকু বুঝে তা আসাদ বলতে পারবে না। রিক্সসাটা চলতে চলতে বাসার সামনে চলে আসলো ।
এখন ২০১৪ সাল। ঐ ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর। আসাদ অফিস থেকে বের হয়েছে । এরমধ্যে আকাশটা কালো হয়ে আসছে। মটরসাইকেলে কিছুদূর এগুতেই প্রচন্ড বৃষ্টি। রাস্তার পাশে বাইকটা রেখে দৌড় দিয়ে একটা দোকানের নিচে দাড়ালো। সিগারেটা ধরিয়ে রাস্তার বৃষ্টি যখন দেখছে , ঠিক তখন একটা ছেলে আর একটা মেয়ে রিক্সসায় হুড তুলে যাচ্ছে। মেয়েটি আইসক্রিম খাচ্ছে আর ছেলেটি আপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মিনিট খানেকের মধ্যে রিক্সসাটা চলে গেলো কিন্তু সিগারেটা যখন পুড়তে পুড়তে আঙ্গুলে লাগলো তখন আসাদের তন্দ্রা ফিরলো। ১৫টা বছর পার হয়ে গেছে। বিন্দু আর আসাদ একজন আরেকজন থেকে আনেক দূরে । সৃতির খাতাগুলো এতো ভারি হয় কেন ? জীবনের আবিচল চলার গতি কেন সৃতিকে মুছতে পারেনা ? বিন্দু কি সুখি হতে পেড়েছে ? ও কি আসাদকে কখনো মনে করে ? উল্টা-পাল্টা এসব ভাবতে ভাবতে বৃষ্টিটা থেমে আসলো । আসাদ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা করলো । বৃষ্টির পর ঠান্ডা বাতাস আর ধিরে ধিরে মটরসাইকেল নিয়ে বাসার দিকে এগিয়ে যাওয়া। আনেকটা পথ যাবার পর আসাদ বুঝলো তার চোখের কোণা্য় এখনও জল।
২|
১৯ শে মে, ২০১৪ সকাল ১০:৪২
সত্য সাধক বলেছেন: জীবন মানেই প্রেম !!!!!!!
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৫:৫০
নাজমুল হাসান মজুমদার বলেছেন: সব প্রেম !!!