নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আসুন বাংলাদেশপম্থি হই।

মোঃ শফিকুল ইসলাম সজীব

আজ মেঘ করেছে শীতল ঘন কুয়াশা ভেঙে মন খোজে তারে এই মেঘলা দিনে শীতল কুয়াশাতে তার ষ্পর্শে এমনো দিনে তাকে খুজে পেতে চায় তার ছোয়ায় রাঙিয়ে মন চায় উষ্ন ভালোবাসা ...

মোঃ শফিকুল ইসলাম সজীব › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভালবাসা আর হতাশা।।

১২ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১২:৩৩

প্রেম ভালোবাসা মানব জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। সারা বিশ্বে যে কয়েকটি শব্দ বেশী ব্যবহৃত হয় তার মাঝে এই ভালোবাসা একটি। এই শব্দটাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় ,এমনকি হয়ে আসছে মানব সভ্যতা। কিন্তু এই শব্দটাই মানুষের জীবনকে জীবন্ত নড়কে পরিণত করে। আগে বিশ্বাস হতো না। কিন্তু চোখের সামনে অহরহ ঘটছে তখন আর না বিশ্বাস করে থাকা যায় না।



তৌহিদ সাহেব তেমনি একজন মানুষ। ভালবাসাই যার জীবনকে জীবন্ত গারদখানা। জীবনের শুরুতেই বাবা হারিয়ে কঠিন সময়ে অল্প সময়েই পা রাখেন। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েই শুরু করেন টিউশনি, পড়াতেন মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্রদের। নিজেও ছাত্র হিসেবে যথেষ্ট ভালো ছিলেন। এভাবেই এগিয়ে চলতে থাকে জীবন। পাঁচ ভাই বোনের সংসারে তৃতীয় সন্তানটি ছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে শিক্ষা জীবনের সকল স্তর পার করেন সফলতার সাথে।



কেমেস্ট্রিতে অনার্স মাস্টার্স শেষ করার মাঝেই জীবনের অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে স্বপ্ন দেখতে থাকেন একটু একটু করে। ছেলে হিসেবে খুব একটা খারাপ না থাকার কারনে তৌহিদ সাহেব কে অপছন্দ করতে পারলেন না মুনা। কথা দিয়েই ফেললেন। ধীরে ধীরে এগুতে থাকে সম্পর্ক। ভবিষ্যৎ চিন্তা করে একটা কোচিং শুরু করলেন তৌহিদ। প্রাইভেট ব্যাচে ছেলে মেয়েরা ভালো ফলাফল করাতে স্টুডেন্টের অভাব পরলোনা। প্রচন্ড খাটাখাটনি করে ধীরে ধীরেই সফলতার মুখ দেখতে যাচ্ছেন তৌহিদ। আর দেরি করতে চাচ্ছেন না তৌহিদ। মুনাকে ঘরে তুলেই ফেলবে এবার। কিন্তু মুনা পড়াশোনা শেষ না করে সে বিয়ে করবেনা।



- বিয়ের পর পড়াশোনা করা যায় তো?

- হ্যাঁ যায়।

- তাহলে বিয়ে তে আপত্তি কেন? তোমার যতদূর পড়ার ইচ্ছা তুমি পড়বে। আমি সব ব্যবস্থা করে দেব।

- ঠিক আছে।

বিয়ে হল। লেখাপড়া শেষ করলেন মুনা। স্ত্রী হিসেবে কোন অমর্যাদা করেনি তৌহিদ। নিজের শরীরের উপর দিয়েই সব নিয়েছে, স্ত্রীকে কিছু বুঝতে দেয়নি।



মানুষিকভাবে প্রচন্ড পরিশ্রান্ত তৌহিদ। ফলে দাম্পত্ত জীবনে মিল অমিলের হিসেব নিকেশ শুরু করে দিয়েছে মুনা, কারণ চাকরিও জুটিয়ে দিয়েছে পড়াশোনা শেখানোর পাশাপাশি। এসব কিছুর মাঝে ঘর আলো করে পরীর মত মেয়ের আবির্ভাব ঘটে। তাকেও যত্নের কোন ত্রুটি করেনি তৌহিদ।



ঘটনার আসল মোড় এখানেই শুরু। কোচিংয়ে হঠাৎই বিপর্যয় নেমে আসে। আয় অনেকটা কমে যায়। কিন্তু মুনা এ মেনে নিচ্ছে না। যা থেকে ঝগড়ার মাত্রা বেড়েই চলছে। একপর্যায়ে মুনা তৌহিদকে ছেরে এক বছরের মেয়েকে নিয়ে চলে যায়। মানুষিকভাবে অনেকটা ভেঙ্গে পড়ে তৌহিদ। রাত নেই দিন নেই খাওয়া নেই দাওয়া নেই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে থাকে। আশেপাশের লোকজন বলাবলি শুরু করে দিয়েছে তৌহিদ তো পাগল হয়ে গেছে! পরিবারে লোকজন ও একসময় বিশ্বাস করে যখন পুলিশ তৌহিদকে মাঝ রাতে রাস্তা থেকে তুলে এনে বাড়ীতে দিয়ে যায়।



মা ছাড়া কেউ এখন তৌহিদের পাশে নেই। ভায়েরা সবাই বলছে

- ওকে পাবনা রেখে আসি মা। এখানে আর রাখা যাচ্ছে না ওকে।

- না বাবা ওতো পাগল হয়নি , তোরা একটু ওকে ভাল দাক্তার দেখা ও ঠিক হয়ে যাবে। ও ওর মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারছেনা তাই।



তৌহিদ সাহেবের কান্না ছাড়া আর কিছুই নেই এখন।পুরুষ মানুষকে কাঁদলে মানায়না, তৌহিদ সেটা বুঝে কিন্তু বুকের ভেতর যে চাপা কষ্ট তা কাকে বলবে। সে শুধু আল্লাহকে ডাকে, আর বলে আমি তো পাগল না, আমাকে পাগল বলো কেন? মানুষের কি খাড়াপ সময় আসতে পারেনা?



পরিস্থতি শান্ত হচ্ছে তৌহিদ আবার তার জীবন শুরু করতে যাচ্ছে, আর তাকে সাপোর্ট দিচ্ছে তার ছোট বেলার বন্ধু। আবার টিউশনি শুরু করেছে । কিন্তু এখন সে টাকা জমাতে শুরু করেছে কারণ মেয়েকে নিজের কাছে পাওয়ার জন্য মামলা করেছে।



তৌহিদের মনে মুনার জন্য আর কোন জায়গা নেই, যে শুধু সুখের সময়ের সাথী হতে চায় দুঃখের সময় হারায় তাকে নিয়ে জীবন কাটানো যায়না। এখন শুধু মেয়েটাই তৌহিদের জীবন।মেয়েকেই নিয়েই বাকিটা জীবন পার করতে চায় তৌহিদ। প্রতিটি ভোর এখন তৌহিদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করে।



©SOJIB

FB & Email- [email protected]

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.