| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হয়ত প্রমিজ করছি নিজের কাছে- আগামীকাল থেকে সিগারেট আর নয়, মিনিমাম এক ঘন্টা ব্যায়াম করব প্রতিদিন, আট কাপের বদলে ২ কাপ চা খাব, স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের চার্ট ব্লগের শো-কেসে সেভ করা আছে - কাল থেকে অবশ্যই ফলো করব । হতে পারে এই প্রমিজ শুধু আজ রাতে না, আরও বারবিশেক করেছিলাম নিজের কাছে । নতুন বছরের শুরুতে New Year's Resolution হিসেবে তো সবসময়ই মাথায় থাকে এগুলো । কিন্তু নিজের কাছে কথা রাখতে পারছি না কোনবারই । কেন এমন হচ্ছে?
এককথায়, জীবনযাত্রা পরিবর্তন সহজ নয় । আপনি একদিন বসে আপনার জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যাসগুলোর লিস্ট বানালেন । আপনি একধাপ এগিয়ে গেলেন, কিন্তু সারাজীবনের জন্য সেই নিয়ম মেনে চলা সত্যি চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত যে জীবন একটাই । জীবন আপনার-আমার কাছে অবশ্যই অনেক দামি । সেইসাথে সামাজিক জীব হিসেবে আপনার জীবন আরও কিছু জীবনের সাথে সম্পর্কিত- হতে পারেন তারা আপনার মা, বাবা, সন্তান, ভাই-বোন, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং আরও অনেকে (সহকর্মী, সহব্লগার, বাড়ীর পাশের দোকানদার, সন্তানের টিচার, কাজের বুয়া প্রমুখ)। আপনাকে সবার দরকার । তাই কিছু অভ্যাস পরিবর্তন জরুরী । এক্ষেত্রে কিছু গবেষণা এবং পরিকল্পনার বিশেষ দরকার ।
এক্ষেত্রে পাঁচটি টিপস- যা হয়ত সহায়ক হতে পারে আপনার জন্যঃ
১। সঙ্গতিপূর্ণ পরিকল্পনা করুনঃ অভ্যাস পরিবর্তনে পরিকল্পনা হচ্ছে ম্যাপের মত । আপনি অ্যাডভেঞ্চারে যাচ্ছেন, আপনার জন্য একটা ম্যাপ জরুরী । সেই ম্যাপ তৈরিতে স্পেসিফিক হন । ধরুন আপনি এক্সারসাইজ আরেকটু বেশী করতে চান, সেক্ষেত্রে দিনের কোন সময়টা আপনার জন্য উপযুক্ত , কতক্ষন এক্সারসাইজ করবেন - বিশদভাবে লিখুন । সময় নির্বাচন এমনভাবে করবেন না যা আপনি পালন করতে পারবেন না । যেমন আপনি ঠিক করলেন ভোর ৫টা থেকে ৬টা - হাঁটা । কিন্তু ঘুম থেকে উঠলেন ৮টায় । আপনার ম্যাপ সেক্ষেত্রে ভুল । যদি দেখেন একঘন্টা সময় ব্যায়ামের জন্য ব্যয় করা আপনার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, সেক্ষেত্রে আধঘন্টা সময় নির্বাচন করুন, অথবা ১৫ মিনিট করে দিনে দুইবার হিসেবে সময় নির্বাচন করতে পারেন । পরিকল্পনাটি এমন কোথাও ঝুলিয়ে রাখুন যেখানে সবসময় আপনার চোখ পড়বে, আপনাকে মনে করিয়ে দেবে ।
২। লক্ষ্য ছোট রাখুনঃ ধরুন আপনি ওজন কমাতে চান । এটি হল আপনার দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্য । এই দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্যকে কয়েকটি ছোট ধাপে ভাগ করুন । ধরুন আপনি ২০ পাউন্ডস ওজন কমাতে চান আগামী ৫ মাসে । তাহলে এই লক্ষ্যকে স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্যে পরিনত করা যাক । আগামী ১ মাসে কমাতে হবে ৪ পাউন্ড, তাহলে প্রতি সপ্তাহে কমাতে হবে ১ পাউন্ড । এর জন্য আপনার দরকার সঠিক খাবার নির্বাচন, ব্যায়াম কিছুটা বাড়ানো । প্রতি সপ্তাহ শেষে ওজন মাপুন। ফ্রুট, ভেজিটেবলস, আর ননী ছাড়া দুধ/দই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করবে আপনাকে ।
৩। একই সময়ে একটি করে বদভ্যাস নির্বাচন করুনঃ বাজে অভ্যাস বদলানো সহজ নয়, কারণ তা অনেকবছর ধরে হয়ত আমরা লালন করে যাচ্ছি। তাই বাজে অভ্যাসগুলোরও একটা তালিকা বানালে ভাল হয়, যেটার পরিবর্তন আপনার জন্য সবচেয়ে জরুরী সেটাকে প্রায়োরিটি দিয়ে ১ নম্বরে আনুন । এভাবে ২, ৩ , ৪ করে তালিকা তৈরি করুন । প্রথমে ১ নম্বরটাকে পরিবর্তনের চেষ্টা করুন । একসাথে অনেকগুলো অভ্যাস বদলানোর চেষ্টা করলে তা অনেক বেশী চাপ সৃষ্টি করে, যার জন্য বাস্তবায়ন অনেক কঠিন হয়ে পড়ে । ১ নম্বরে অভ্যস্ত হলে ২ এ যান ।
৪। একজন বন্ধু কে অন্তর্ভুক্ত করুন যার একই ধরণের সমস্যাঃ বন্ধু, সহকর্মী, অথবা পরিবারের সদস্য - যে কোন একজনকে আপনার পরিকল্পনার সাথী করুন। তবে খেয়াল রাখবেন তিনিও আপনার মত একই সমস্যায় ভুগছেন, তিনিও সেই সমস্যা থেকে আপনার মত পরিত্রাণ পেতে চান। হতে পারে তিনি আপনার ব্যায়ামের সঙ্গী হবেন, অথবা আপনারা দুজনেই সিগারেট ছাড়তে চান। একই ধরণের মোটিভেশন আপনাকে বাজে অভ্যাস ত্যাগে যথেষ্ট সাপোর্ট দেবে । আপনার কাজ অনেক সহজ মনে হবে, আর সঙ্গী নিয়ে যাত্রা আপনার পথের ক্লান্তি অনেকটাই লাঘব করবে ।
৫। দরকার হলে সাহায্য প্রার্থনা করুনঃ আপনার প্রতিজ্ঞা পূরণে দরকার হলে সাহায্য চান । যখন একা পারছেন না, তখন পরিবার বা বন্ধুদের ভেতর যারা আপনাকে পছন্দ করেন তাদের কাছে খুলে বলুন কেন আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছেন না । তাদেরকে বলুন তাদের সহযোগিতা আপনার দরকার। অবশ্যই কিছু ফিডব্যাক পাবেন । প্রয়োজনে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান । তাঁরা এক্ষেত্রে পেশাদার । শরীর আর মনের ভেতরে যে সম্পর্ক তা একজন বিশেষজ্ঞ চমৎকারভাবে আপনাকে ব্যাখ্যা করতে পারবেন, আপনার করণীয় কি তা দেখিয়ে দিতে পারবেন । এর মানে এই না যে সারাজীবনের জন্য আপনাকে বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে - হয়ত কয়েকটা সেশনেই আপনি আপনার গন্তব্য বুঝতে পারবেন । আপনার পারিপার্শ্বিকতার প্রেক্ষিতে চমৎকার সাজেশান দিতে পারবেন তিনি।
নিজেকে বদলানো সহজ নয়, প্রচুর সময় এবং অঙ্গীকার (commitment) দরকার আছে তাতে, কিন্তু অসম্ভব মোটেও নয় । হয়ত মাঝেমাঝে গ্যাপ পড়বে আপনার রুটিনমাফিক চলাতে - হয়ত আপনার আজ বিরিয়ানী খেতে ইচ্ছে করলো, হয়ত আজ ব্যায়াম করতে ইচ্ছে হলো না। মাঝেমাঝে নিজের প্রতি এমন সদয়(?) হওয়া ঠিক আছে, কিন্তু হাল ছাড়বেন না কখনই । গন্তব্য জানা আছে, সাথে ম্যাপ আছে, আপনি পারবেন ।
( APA: American Psychological Association )
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৩৪
সমানুপাতিক বলেছেন: নিয়মিত মেডিটেশন, জীবনকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেয়।
তাই পরিবর্তনের জন্যে মেডিটেশন এখন একটি প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানে রুপান্তরিত হয়েছে।
আপনার ভাবনার সাথে আমি একমত । ধন্যবাদ কসমিক- ট্রাভেলার ।
২|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:৩৮
যাযাবর বেদুঈন বলেছেন: নিজেকে বদলানর পক্ষে নই আমি। যেমন আছি তেমন থাকতেই ইচ্ছা। বদলে যাওয়ার চেষ্টা করতে ইচ্ছাই করেনা।
আপনার পরামর্শ ভাল লাগছে।
মানুষের জীবন সুন্দর ও সুখের হোক।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৪৫
সমানুপাতিক বলেছেন: আপনি যদি আপনার বর্তমান নিয়ে সুখী থাকেন, তাহলে এই পোস্ট আপনার জন্য নয় । এটি মূলতঃ তাদের জন্য লেখা হয়েছে, যারা নিজেদের কিছু বদভ্যাস সম্পর্কে সচেতন, এবং সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন ।
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ যাযাবর বেদুঈন ।
৩|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:৫৩
নাসরিন চৌধুরী বলেছেন: নিয়ম মেনে চলতে পারাটা ভাল। অনেকেরই হয়ত উপকারে আসবে।
ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পোষ্টটির জন্য।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:০৩
সমানুপাতিক বলেছেন: পাঠের জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ নাসরিন চৌধুরী ।
৪|
১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫২
খায়রুল আহসান বলেছেন: ছোট্ট করে খুবই চমৎকার একটি পোস্ট লিখেছেন। এবং জনহিতকরও তো বটেই!
পোস্টে ভাল লাগা (প্লাস) + +।
২ নং মন্তব্য এবং প্রতিমন্তব্য, দুটোই ভাল লেগেছে। +
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:৩০
কসমিক- ট্রাভেলার বলেছেন:
নিয়মিত মেডিটেশন, জীবনকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেয়।
তাই পরিবর্তনের জন্যে মেডিটেশন এখন একটি প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানে রুপান্তরিত হয়েছে।
লেখা ভালো লেগেছে , শুভেচ্ছা সতত।