নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সৌভিকের চিন্তাচর্চা

চারিদিকে দেখো চাহি হৃদয় প্রসারি

সৌভিক ঘোষাল

পেশায় সাহিত্যের শিক্ষক। মতাদর্শে মার্কসবাদী। কোলকাতার বাসিন্দা

সৌভিক ঘোষাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভারতীয় নির্বাচনী রাজনীতি ২০১৩

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৪৯

গুজরাট ও হিমাচলের বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে

২০১২ শুরু হয়েছিল পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর্ব দিয়ে। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, উত্তরাঞ্চল, গোয়া ও মণিপুরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বছরটি শেষ হল গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এই সাতটি রাজ্যের মধ্যে চারটিতে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ বহুজন সমাজবাদী পার্টির হাত থেকে সমাজবাদী পার্টির হাতে গেছে, উত্তরাঞ্চল এবং হিমাচল বিজেপির হাত থেকে গেছে কংগ্রেসের হাতে, অন্যদিকে প্রথমবারের জন্য বিজেপি গোয়ায় একক শক্তিতে ক্ষমতায় এসেছে। অন্য তিনটি রাজ্যে শাসক দল ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এর মধ্যে গুজরাটে বিজেপি এবং মণিপুরে কংগ্রেসের জয় প্রত্যাশিতই ছিল, তবে পাঞ্জাবে শিরোমণি আকালি দল বিজেপি জোটের জয় খানিকটা চমক হিসেবেই এসেছে। কংগ্রেস বিজেপির দ্বৈরথের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ণ ছিল উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটের নির্বাচন। উত্তরপ্রদেশে অবশ্য কংগ্রেস, বিজেপি - শাসক শ্রেণির প্রধান দুই দলের কারোরই জেতার কোনও প্রশ্ন ছিল না, কেবল দেখার ছিল তারা তাদের হারানো জমির কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারে। ফলাফল এটাই দেখাল যে জমি পুনরুদ্ধার দূর অস্ত, তারা অনেক জমি নতুন করে হারিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের চতুষ্কৌণিক যুদ্ধ এখন দ্বিমেরু যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ২০০৭ এ বহুজন সমাজবাদী পার্টি যদি রেকর্ড ভোটে জিতে থাকে, তো এবার পালা সমাজবাদী পার্টির।

গুজরাটে নরেন্দ্র মোদীর জয় প্রত্যাশিতই ছিল। ২০০২ এবং ২০০৭ এ নির্বাচনী ভবিষ্যৎ বক্তাদের মিথ্যা প্রমাণ করে মোদীর বিরাট জয়ের পর এবার সবাই আগেভাগেই তার বিরাট জয়ের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছিল। আগের বারের তুলনায় দুটি আসন কম পেয়ে বিজেপি এবার ১১৭ টি আসন পেয়েছে। অনেক পেছনে থেকেছে গতবারের তুলনায় দুটি আসন বেশি পেয়ে ৬১ তে পৌঁছানো কংগ্রেস। এই নির্বাচনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই প্যাটেল এর নবনির্মিত গুজরাট পরিবর্তন পার্টি মাত্র তিনটি আসন জিতলেও অন্তত এক ডজন আসনে ভোট কেটে বিজেপির পরাজয় ঘটিয়েছে। অন্যদিকে হিমাচল লোকহিত পার্টির তরফে দাঁড়ানো বিজেপি বিক্ষুব্ধরাও হিমাচলে বিজেপির পরাজয়ের কারণ হয়েছেন।

মোদীর আক্রমণাত্মক সাম্প্রদায়িকতা, কর্পোরেটবান্ধব অর্থনীতি এবং গুজরাটি অস্মিতার মিলিত প্যাকেজের যে মিশ্রণ গুজরাটের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনায়াস জয় পেয়েছে, তাকেই অনেকে এবার ভারতব্যাপী মডেল করে তোলার কথা বলছেন। তাদের আশা এবার মোদীর বিজয়রথ আমেদাবাদ পেরিয়ে দিল্লির দিকে ছুটবে। কিন্তু হিমাচল নির্বাচনের ফলাফল তাতে অনেকটাই জল ঢেলে দিয়েছে। দুর্নীতি বিদীর্ণ হিমাচলে জর্জরিত বিজেপিকে বাঁচাতে মোদীর প্রচার এখানে তেমন কোন কাজেই আসে নি। স্থিতাবস্থা বা পেছনের দিকে চলতে থাকা বিজেপিকে মোদী কতটা চাঙ্গা করার ক্ষমতা রাখেন হিমাচলের নির্বাচনে তার প্রমাণ রইলো।

তবে মোদী অনুগামীদের মোদীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার স্বপ্নে কোনও বিরাম নেই। মুকেশ আম্বানী তাঁর বাবা ধীরুভাই আম্বানীর একটি উক্তিকে সামনে এনেছেন, যিনি বলেছিলেন, ‘মোদী লম্বা দৌড়ের ঘোড়া’। মোদী নিজেও তাঁর প্রধানমন্ত্রী হবার স্বপ্নকে লুকিয়ে রাখতে চান না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গুজরাট নির্বাচনে বিজয়ের পর গুজরাটীর বদলে হিন্দিতে দেওয়া তাঁর ভাষণে তিনি জানিয়েছেন, শুধু গুজরাটীদের জন্য নয়, উন্নয়নকামী সব ভারতীয়দের জন্যই তাঁর এই বার্তা। এন ডি এ র মধ্যে থাকা সংযুক্ত জনতা দলের মত কেউ কেউ হয়ত মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বকে মেনে নিতে পারবে না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীত্বের লম্বা দৌড়ের পথে পুরোনো কোনও কোনও সাথীর বিদায় আর নতুন সাথীর সংযোজন বিশেষ বিষ্ময়ের ব্যাপার নয়। অনেকেই অবশ্য মনে করছেন এন ডি এ-র সঙ্গীরা নন, বরং বিজেপি নেতৃত্বের একাংশই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হিসেবে মোদীকে মেনে নিতে প্রস্তুত নন। তবে জনগণই শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীত্বের পথে মোদীর স্বপ্নদৌড় থামাতে পারেন। ২০১৩ সাল জুড়ে কর্পোরেট লুঠের বিরুদ্ধে আন্দোলন যত তীব্র হবে, গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে জনগণ যত তীব্রভাবে পথে নেমে আন্দোলন করবেন, বিজেপির ক্ষমতায় আসা ও মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বের মারাত্মক স্বপ্ন ততই ক্ষীণ হবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.