![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পেশায় সাহিত্যের শিক্ষক। মতাদর্শে মার্কসবাদী। কোলকাতার বাসিন্দা
ভারতীয় চ্যানেলগুলো ব্যান করার জন্য আপনাদের ওখানে আন্দোলন হয়েছিল না? সেটার এখন কি অবস্থা ? সরকার কি ভাবনা চিন্তা কিছু করছেন?
আমরা তো বাংলাদেশের চ্যানেল কোলকাতায় বসে কিছু দেখতে পাই না, আমাদের এখানে ওগুলো দেখানোর পারমিশন নেই বোধহয়। একসময় কোলকাতায় বসে বাংলাদেশের অনেক অনুষ্ঠান মানুষ দেখতেন, বুস্টার অ্যান্টেনা লাগিয়ে। এখন আর সে চল নেই।
একটা সাম্য থাকা উচিৎ দু দেশের নীতিতে। দেখানো হলে দু দেশেই দু দেশের চ্যানেল চলুক, না হলে দু দেশেই অন্য দেশের চ্যানেল বন্ধ থাক। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে দু দেশেই দু দেশের চ্যানেল সম্প্রচারের পক্ষে। তবে এখানে বাংলাদেশের চ্যানেল দেখানোর আবেদন নিয়ে কোনও আন্দোলন হয়েছে বলে জানি না।
একই ভাষাভাষী মানুষের দুটো ভূখণ্ড, হাজার বছর ধরে একই সভ্যতা, একই সংস্কৃতি। কিন্তু এখন আমরা কত আলাদা। তাও এখনো যে টানটা বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়, সেটা আর কতদিন থাকবে কে জানে। রাজনৈতিক, রাষ্ট্রনৈতিক কারণে তো এক দেশের লোক আর এক দেশের লোককে পর, এমনকী শত্রু বলেও ভাবে আজকাল। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেই এটা বেশি, আর সেটা খুব অন্যায্যও কিছু নয়, কারণ ভারতের দাদাগিরি, সম্প্রসারণবাদী মনোভাব তো অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট। আমরা একই ভাষা সংস্কৃতির উরররাধিকারী, তার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে আমরা কাঁটাতারের দু দিকের দুই রাষ্ট্রের নাগরিক - এই পরিচয় টা। আপনারা তাও এ পার বাংলার গান, কবিতা, সাহিত্য - অনেক মনোযোগে পড়েন, আমাদের উদাসীনতা (না ঔদ্ধত্য, মূর্খ ঔদ্ধত্য?) এ ব্যাপারে অনেক বেশি। উদারতা কিন্তু মহৎ গুণ, সেটা বর্জনীয় নয় কোনও অবস্থাতেই। বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন না, তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন ?
২| ১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ৯:৩২
ওবায়েদুল আকবর বলেছেন: দুই বাংলার মানুষের চেয়ে পান্জাবীদের মধ্যে টানটা বেশী মনে হয়। যদি গন্ডগোল থাকেও একে অন্যকে সম্মানটা ঠিকই দেয়। কেন যে বাঙ্গালীদের মধ্যে ঐক্য নেই এটা বুঝি না?
৪৭ এর সমস্যায় না হয় দুই পক্ষেরই কম বেশী দোষ ছিল কিন্তু ৭১ এর পর রীতিমত বমি আসে। আপনাদের মমতা তো পানি দিতেই চায়না!!!! আপনাদের মধ্যে আর একটা জিনিস কাজ করে সেটা হল সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স।
আর আমাদের এখানকার সমস্যা অন্য। একদলের যেমন পিরিত বাড়াবাড়ি রকমের বেশী আর এক দলের আবার সেইরকম রাগ।
আসলে ৪৭ এ দেশভাগ না করে জোড় করে এই দুইদেশকে এক করে বৃহৎ বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরী করা উচিৎ ছিল। ইতিহাসে সচেতনভাবে ভারতীয়রা কখনৈ একক রাস্ট্রাধীনে ছিলনা। একক ধর্ম হিসেবে হিনদুস্থান বলা হলেও ভাষা ভিত্তিক রাজত্বে বিভক্ত ছিল ভারত। শুধুমাত্র বহি:শক্তির মানে মঙ্গোল ইংরেজদের দখলদারিত্বের কারণেই এক অভিন্ন ভারতবর্ষের কথা শোনা যায়। নাহলে বৃটিশদের আসার আগে ভারতবর্ষ কিন্তু ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্রেই বিভক্ত হতে যাচ্ছিল।
৩| ১৮ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:৩৪
জাহাজ ব্যাপারী বলেছেন: “বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেই এটা বেশি” – এই কথাটা খুব একপেশে ও আপত্তিকর। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ কী একটু শান্তিতে থাকতে দিয়েছেন?
মনের সংকীর্ণতা দূর করে বাস্তবতা মেনে নিন – “এপার ওপার বাংলা” না বলে ওয়েস্ট বেঙ্গল / ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশ বলুন।
“কাঁটাতারের দু দিকের দুই রাষ্ট্রের নাগরিক” - এই পরিচয়টা কেন আপনার অস্বস্তির কারণ উল্লেখ করলে ভালো হতো। আপনার সহোদর ভাই বোনেরা কী সবাই সব দিক থেকে অভিন্ন। প্রত্যেকের একটা অনস্বীকার্য স্বকীয় সত্তা থাকে – তাই না?
আগামীতে বাংলাদেশই হবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একমাত্র গন্তব্য। আর ওয়েস্ট বেঙ্গল হারিয়ে যাবে সর্বভারতীয় মোহে। সাহিত্যের শিক্ষক ও ওয়েস্ট বেঙ্গল-এর ইন্ডিয়ান হিসেবে এটা আপনার ভালোই বোঝার কথা।
৪| ১৯ শে মে, ২০১৩ রাত ৯:৩৬
ভাম_বেড়াল বলেছেন: দুই বাংলা কিংবা এপার বাংলা - ওপার বাংলা বলে কিছু নেই।
বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন দেশ আছে।
পশ্চিমবঙ্গ নামে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য আছে।
১৯ শে মে, ২০১৩ রাত ১১:১৬
সৌভিক ঘোষাল বলেছেন: পণ্ডিতপ্রবর। থাকা মানে শুধু রাজনীতির বাস্তবতায় থাকা বোঝায় না, সংস্কৃতি, স্মৃতি, চিন্তায় থাকাও বোঝায়। সেই থাকাটা অস্বীকার করবে কোন রাজনৈতিক বাস্তবতা ?
৫| ২১ শে মে, ২০১৩ ভোর ৪:৩৯
ভাম_বেড়াল বলেছেন: "সংস্কৃতি, স্মৃতি, চিন্তায় থাকাও বোঝায়"
তার মানে স্বীকার করে নিচ্ছেন সংস্কৃতি, স্মৃতি, চিন্তায় আপনারা ভারতের থেকে আলাদা? হিন্দির থেকে আলাদা? তাহলে একটা আলাদা জাতি হয়েও কেন দিল্লী আর হিন্দির দাসত্ব করছেন?
২৪ শে মে, ২০১৩ রাত ১:৫৮
সৌভিক ঘোষাল বলেছেন: পণ্ডিতপ্রবর। আপনাকে অনুরোধ করব পরিচিতি ও হিংসা সংক্রান্ত বিষয়ে আরো চিন্তাভাবনা করার জন্য। অমর্ত্য সেন এর বইটাও দেখতে পারেন। মানেন কি যে আমাদের অনেকগুলো পরিচিতি থাকে ? ভাষা, সংস্কৃতি একটা পরিচিতি, খুব গুরূত্বপূর্ণ পরিচিতি। সেই পরিচিতি নিয়ে পূর্ববঙ্গ আর পশ্চিমবঙ্গ কাছাকাছি আসে, আসতে চায়, বিনিময় করতে চায়।
আরো অনেক পরিচিতি আছে। গোটা ভারতীয় উপমহাদেশ মৌর্য সাম্রাজ্যের আমল থেকে ব্রিটিশ শাসনাধীন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আড়াই হাজার বছর ধরে এক শাসন ব্যবস্থায় থেকেছে। আলাদা আলাদা ভাষা, ধর্ম, খাদ্যাভাস ইত্যাদি নিয়েও। এই বিভিন্নতার মধ্যেও এর ঐক্যর আদল দীর্ঘ ইতিহাসে থেকেছে। ব্রিটিশ বিরোধী লড়াইয়ে যে ঐক্যর এক বিশেষ চেহারা দেখা গিয়েছে। অবিভক্ত ভারতের মুসলিমদের একটা অংশের মনে হয়েছিল এই ঐক্যটা নেই, বা বানানো একটা ঐক্য এটা, যেটা ছিন্ন করে বেরিয়ে আসা দরকার। একটি মাত্র পরিচয় সম্বল করে। একটি ধর্মগত পরিচয় পরিচয় সেটা। বেরিয়ে আসার পর পূর্ববঙ্গের লোকেরা দেখলেন ধর্মগত পরিচয়টিই একমাত্র থাকছে না, ভাষার পরিচয়টাও গুরূত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে আবার একটি নতুন দেশের জন্য লড়াই আর আবার দেশভাগ। একবার ধর্মের পরিচিতি নিয়ে, একবার ভাষার পরিচিতি নিয়ে।
আমরা অন্যভাবে ভেবেছি। আমাদের কাছে পরিচিতিগুলি মূল্যবান। যে কোন মানুষের মতোই। কিন্তু বিভিন্ন আলাদা আলাদা পরিচিতি কোনও রাষ্ট্রে থাকতে পারবে না, এরকম আমরা ভাবি নি। কেউ কেউ যারা ভেবেছি, যেমন নাগা, মিজো বা পাঞ্জাবের কেউ কেউ, তারাও এখন সেভাবে ভাবেন না। ওন্তত বেশিরভাগ ভাবেন না। এখন কাশ্মীরের লোকেরা ভাবেন অনেকে। আজাদ কাশ্মীর চান। সেখানে ধর্মর প্রশ্ন আছে, আর আছে অন্যায় রাষ্ট্রীয় দমনের প্রশ্ন। খুবই অন্যায় রাষ্ট্রীয় দমনের প্রশ্ন। সে প্রেক্ষিত, কাশ্মীর প্রেক্ষিতে এখন যাচ্ছি না। কিন্তু তাছাড়া বিভিন্ন সত্তা যে একসঙ্গে থাকতে পারে, ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থা তার একটি সফল উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্য দিয়ে ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত। আমাদের ক্ষণে ক্ষণে মিলিটারি শাসনের দরকার হয় নি। আপনাদের তো পছন্দের ভিত্তিতে সত্তা অনুযায়ী গঠন করে নেওয়া দেশ। তাও গণতন্ত্র এত ভঙ্গুর কেন? মাঝেমাঝেই সেনাশাসন স্থাপিত হয় কেন ? পশ্চিমবঙ্গকে ঈর্ষাবশত দিল্লির উপনিবেশ হিসেবে গণ্য না করে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গর সত্তাগত পরিচয়গত দিকগুলি আরো গভীরভাবে ভেবে দেখুন।
৬| ২৪ শে মে, ২০১৩ রাত ২:০৩
মিনেসোটা বলেছেন: দাদা,
স্কটল্যান্ড স্বাধীন হচ্ছে, আপনারা আগের মত এখনও পরাধীন কেন আছেন?
৭| ২৪ শে মে, ২০১৩ সকাল ১০:৩৫
ভাম_বেড়াল বলেছেন: "পূর্ববঙ্গের লোকেরা দেখলেন ধর্মগত পরিচয়টিই একমাত্র থাকছে না, ভাষার পরিচয়টাও গুরূত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে আবার একটি নতুন দেশের জন্য লড়াই আর আবার দেশভাগ। একবার ধর্মের পরিচিতি নিয়ে, একবার ভাষার পরিচিতি নিয়ে।"
ইতিহাস জ্ঞান দেখে হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ। কী লিখেছেন আবার পড়ুন। বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে ভাগ হয়েছিলো ভাষার পরিচয়ের জন্য! কস্কী মমিন!!!
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ৯:১৭
রইসউদ্দিন গায়েন বলেছেন: লেখক পেশায় একজন সাহিত্য-র শিক্ষক জেনে খুব খুশি হলাম!আপনার বক্তব্যে সহমত হলেও দু'একটা ছোট প্রশ্ন-র উত্তর পেতে চাই।পশ্চিমবঙ্গীয় মানুষের হিন্দু-হিন্দি-হিন্দুস্তানি মানসিকতার জন্য কি দু'দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় বিঘ্নিত হচ্চেনা?আর একটি প্রশ্ন: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে পশ্চিমবঙ্গে দাদাগিরি মানসিকতার জন্যে কি দু'দেশের সম্পর্ক বিঘ্নিত হচ্ছেনা?...শেষের কথাটি হয়তো একটু বেশি অপ্রিয় মনে হতে পারে,তার জন্য দু:খিত!