নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সৌভিকের চিন্তাচর্চা

চারিদিকে দেখো চাহি হৃদয় প্রসারি

সৌভিক ঘোষাল

পেশায় সাহিত্যের শিক্ষক। মতাদর্শে মার্কসবাদী। কোলকাতার বাসিন্দা

সৌভিক ঘোষাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

কমিউনিস্ট রেজ্জাক মোল্লা এবার মৌলবাদী তালিবানী মুসলিমের ভূমিকায় নেমে ভোটব্যাঙ্ক বাঁচানোর চেষ্টা করছেন

০২ রা নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:২৬

[লেখার প্রথমে যে খবরের ভিত্তিতে এই লেখা সেই সংক্তান্ত লিংকগুলো দিয়ে দিই। যারা বিষয়টি জানেন না, তারা খবরটি লেখাটি পড়ার আগে জেনে নিতে পারবেন।]

লিংক

১) আনন্দবাজার Click This Link

২) এই সময় Click This Link



জামাত এ ইসলামি হিন্দের ডাকে 'নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার অভিযান' শীর্ষক এক জনসভায় যোগ দিয়ে রেজ্জাক মোল্লা সাহেব মন্তব্য করেছেন, "এখন যারা প্যান্ট-গেঞ্জি-টপ পরছে তারা গোল্লায় যাক। আপনারা সালোয়ারের উপরে উঠবেন না”। “আমরা বাড়ির দুই মেয়ের একজন ডবলিউবিসিএস এবং একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার৷ তাদের দু'জনকে সালোয়ার-কামিজের মধ্যে ধরে রেখেছি৷”

সাম্প্রতিক এই মন্তব্য নিয়ে কয়েকটি কথা সরাসরি বলি রেজ্জাকবাবুকে

১) আপনার বাড়ির মেয়েদের আপনি নিয়ন্ত্রণ করেন কেন? তারা তো প্রাপ্তবয়স্ক। [উচ্চশিক্ষিত কথাটা এখানে বলার নয়, তার কারণ অল্পশিক্ষিত হলেও তাকে নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা থাকা উচিৎ নয়।]

২) প্যান্ট গেঞ্জি টপ কুরুচি সম্পন্ন পোষাক এটা আপনাকে কে বলল?

৩) কুরুচি সম্পন্ন পোষাক নারী নিগ্রহের কারণ - কটা নিগ্রহের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে আপনার এমত মনে হয়েছে ?

রেজ্জাকবাবু আপনি নারীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার নামে বলতে এসে আসলে তাদের মর্যাদা ও অধিকারকেই খর্ব, নিয়ন্ত্রিত করে ফেলেছেন। নারীদের নির্ভয় স্বাধীনতার জন্য চলমান আন্দোলনের বিপ্রতীপ স্রোত পুরুষতন্ত্রকেই এসমস্ত মন্তব্যে জোরদার করা হয়। অতীতে তৃণমূলের বিধায়ক অভিনেতা চিরঞ্জিৎকে আমরা এ ধরণের মন্তব্য করতে শুনেছি। ধর্ষিতার চরিত্র নিয়েও নানা সময়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পার্ক স্ট্রিটের ধর্ষণ কাণ্ডকে শাসক দলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ‘মহিলা ও তার ক্লায়েন্ট এর বনিবনার অভাব’ বলে মন্তব্য করতে চেয়েছিলেন। দিল্লি ধর্ষণকাণ্ডের পর প্রতিবাদের পর্বে এই আন্দোলনকে ‘ডেন্টেট পেইন্টেড’ তরুণীদের আন্দোলন বলে খোঁচা দিতে চেয়েছিলেন বিধায়ক ও রাষ্ট্রপতি তনয় অভিজিৎ মুখার্জী। আসলে পুরুষতন্ত্র এমনকী ধর্ষণের যাবতীয় দায়ও মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়ে পোষাক ফতোয়া ও অন্যান্য আচরণবিধি জারী করে। আক্রান্ত মহিলার চরিত্র চালচলন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চায়। ধর্ষণের ঘটনাগুলিকে জুজু হিসেবে সামনে রেখে পিতৃতান্ত্রিক বিধি বিধানকে আরো জোরদার করতে চায়। ধর্ষণের সংস্কৃতিকে পালটানো পুরুষতন্ত্রের সামগ্রিক আগ্রাসনকে পালটানোর বৃহৎ লড়াইয়ের বাইরের কোনও ব্যাপার নয়। ধর্ষণ শারীরিক লালসার পরেও নারীর ওপর আধিপত্য কায়েমের একটা মনোভাব, যার চিহ্ন পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘বিতত বিতংসে’র মতো ছড়িয়ে আছে।

সি পি এমের পরাজয়ের পর এই রেজ্জাক মোল্লা সাহেবই ২০১১ র বিধানসভা ভোটের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কিছু সদর্থক কথা বলছিলেন। কৃষকের জমি কেড়ে পুঁজিপতির কাছে আত্মসমর্পণ ই যে সি পি এমের পতনের মূল কারণ সেটা বাকি নেতারা সরাসরি তেমন স্বীকার করতে চাইছিলেন না। কংগ্রেসের সাথে জোট ভেঙে যাওয়া থেকে সাম্রাজ্যবাদের অঙ্গুলিহেলন, টাকার খেলা ইত্যাদিকে সি পি এমের পলিটব্যুরো, কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা নেতৃত্ব যখন জোরেসোরে সামনে আনছিলেন,তখন রেজ্জাকই সবচেয়ে মুখরভাবে সত্যর প্রধান দিকটা কিছুটা এলোমেলো জবানীর মধ্যে দিয়ে হলেও তুলেছিলেন।

এই প্রক্রিয়ার জন্য সে সেময় সি পি এমের বিরোধী এ রাজ্যের সংগ্রামী বাম শিবিরের সাথে রেজ্জাকের কিছু মতের আদান প্রদানও হয়েছিল। এই আদান প্রদান হয়েছিল বাম জমানায় শাসকের রক্তচক্ষুকে নিয়ে তার দশকের পর দশক অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের জ্বলন্ত ইতিহাস সত্যেও। আসলে ব্যক্তি রেজ্জাকের থেকেও কৃষকনেতার জবানীতে উঠে আসা কথাগুলো সমকালীন বাম বিতর্কে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক ছিলো।

সেই পর্বেও রেজ্জাক সাহেব বেশ কিছু মন্তব্য ও কার্যকলাপে আবার কমিউনিস্ট কৃষক নেতার থেকে ভিন্ন পথে যাবার পরিচয় দিয়েছিলেন। হজে যাওয়া ও প্রসঙ্গহীন ভাবে স্ব/অ-যাচিত মন্তব্যে মার্কস ও মহম্মদের তুলনা ও মহম্মদকে মার্কসের তুলনায় অনেক উর্ধ্বাসন দান আসলে তার একটা ভিন্ন লক্ষ্যকে স্পষ্ট করে তুলছিল। তিনি ‘ভালো’ মুসলমান হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তার জনাধারকে ধরে রাখতে চাইছিলেন। বিশেষ করে তার মুসলমান জনগোষ্ঠী প্রভাবিত এলাকায় রাজনীতি করা ও বর্তমানে তার রাজনৈতিক ‘জমি’ কেড়ে নেওয়া তৃণমূলের খুল্লামখুল্লা ধর্মীয় কার্ড খেলার প্রেক্ষিত বাস্তব ভোট রাজনীতির দিকে চেয়ে তাকে এ কাজে উৎসাহ দিয়েছিল।

বুকিশ কমিউনিস্ট ছাড়া কেউই নিজের জনাধারকে ছেড়ে দিতে চাইবে না কিন্তু এজন্য নিজেদের রাজনীতিকে কতটা আপোষের জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে,আর সেটা কিসের বিনিময়ে, সেটা একটা মৌলিক প্রশ্ন। অনেকেই আপোষকে পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে ব্রাত্য কাজ বলে মনে করলেও লেনিন অন্তত তা করেন নি। 'বামপন্থার শিশুসুলভ বিশৃঙ্খলা'তে তিনি স্পষ্টতই বলেছিলেন আপোষ সবাইকে করতে হয়, কখনো কখনো কমিউনিস্টদেরও। কিন্তু কমিউনিস্টরা সেই আপোষ করে তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রেণির বৃহত্তর স্বার্থকে মাথায় রেখে। বুদ্ধবাবুরা টাটাকে ধরে রাখার জন্য আপোষ করেছিলেন এটাই শুধু দেখলে পুরোটা দেখা হবে না, তাদের বড় ভুল ছিল নিজেরা যে কৃষক শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেই কৃষকের স্বার্থকে জ্বলাঞ্জলি দিয়ে একচেটিয়া পুঁজির পক্ষে আপোষ করেছিলেন বলে। রেজ্জাকবাবুর কমিউনিস্ট কৃষকনেতার পাশাপাশি মুসলমান হিসেবেও নিজেকে দেখিয়ে জনাধারকে ধরে রাখার চেষ্টা নিয়ে ব্যক্তিগত মতামতের প্রেক্ষিতে নানা বিতর্ক চলতে পারে, কিন্তু কমিউনিস্ট আদর্শের নিরিখ থেকে বিচার করতে গেলে দেখতে হবে এই আপোষটা শ্রেণির রাজনীতিকে পুষ্ট করছে না দুর্বল করছে।

মুসলিম দলের ডাকা সাম্প্রতিক সমাবেশে রেজ্জাক এই আপোষের জায়গাটা আরো প্রসারিত করতে চেয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হলো এটা করতে গিয়ে তিনি যেখানে পৌঁছেছেন সেটা মুসলিম মহিলাদের ক্ষমতায়নের এমনিতেই দুর্বল জায়গাকে দুর্বলতর করবে আর সামগ্রিকভাবে নারীর নির্ভয় স্বাধীনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে পুরুষতন্ত্রকে মদত যোগাবে। দেশ এবং আমাদের রাজ্য যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে নারীর নির্ভয় স্বাধীনতার আন্দোলন তার গুরূত্বপূর্ণ অক্ষ। এই অক্ষকে দুর্বল করে করা কোন আপোষ কৃষক বা কমিউনিস্ট আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে, এমনকী অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল জনাধারকে ধরে রাখতেও সহায়ক হবে না। কমিউনিস্ট আন্দোলন বুর্জোয়া পথে এগোতে চেয়ে সাময়িক সাফল্য পেলেও পরিশেষে কি হয় ২০০১ থেকে ২০০৬ এর ‘সাফল্যে’র পরের পর্ব তার শিক্ষণীয় উদাহরণ। বুর্জোয়াদের সাথে শুধুই ‘কালো চুলের মদ্দ ছেলি’ দিয়ে লড়া যাবে না,মতাদর্শ দিয়েও লড়তে হবে - সেটা রেজ্জাকবাবুরা বুঝলে ভালোই হত। মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে না পারলে ‘কালো চুলের মদ্দ ছেলি’রা আরাবুলের বাইক বাহিনী হিসেবে ভাড়া খাটতেই এখন বেশি উৎসাহ পাবে, ‘বোরখা পড়া রমণীদের নিয়ন্ত্রক’রা তাদের সমাজকে বিধান দেবেন ‘নাস্তিক কমিউনিস্টদের’ পরাস্ত করতে হবে। বুর্জোয়াদের মত করে কমিউনিস্টরা তাদের রাজনীতি করতে পারে না, এটা জমি অধিগ্রহণের প্রশ্নে রেজ্জাক বুঝলেও নারী আন্দোলনের প্রশ্নে এখনো বুঝে উঠতে যে পারেন নি, এই মন্তব্য সেটা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম গুরূত্বপূর্ণ অক্ষ প্রসঙ্গে রেজ্জাকবাবু যে অবস্থান নিচ্ছেন তাতে মতাদর্শ যেমন আক্রান্ত হবে, তেমনি জনাধারকেও বজায় রাখা যাবে না।



মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৫৫

নাজ_সাদাত বলেছেন: রেজ্জাক মোল্লার এই সব কার্যকলাপ হতে পারে ভোট ধরে রাখার কৌশল তবে জামাত ই ইসলামী হিন্দের মত একটা ইহুদীবাদের দালাল শয়তানদলের সঙ্গ কতটা মুসলিম ভোট ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে আমার সন্দেহ আছে।

আর ভারতীয় কম্যুনিস্টরা কতটা সাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনার উদ্ধে সে বিষয়ে একটা উদাহরণ দেই।

দেশহিতৈষীর এবারের শারদ সংখ্যায় অশোক ভট্টাচার্য লিখেছেন "বর্মীরা আরাকান দখল করে নিলে দলে দলে রাখাইনরা চলে আসে বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলাতে............। অন্যদিকে ব্রিটিশ আমলে পটুয়াখালী জেলায় নদীর পাড়ে বাঁধ দেওয়াতে প্রচুর জমি চাষের পক্ষে অনুপযুক্ত হয়ে ওঠে .............................. রাখাইনরা নিজেদের শ্রমে তাঁদের ভূমিকে শস্যশ্যামল করে তুলেছিল তারাই হয়ে পড়ল নিজ ভুমে পরবাসি। ..............................আরাকান প্রদেশে রাখাইন ও বর্মীদের সম্পর্ক সব সময়ই খুব খারাপ। এর পর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনদের আরাকান ত্যাগের সুযোগ নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করে মুসলিম রেহেঙ্গারা"। লক্ষ্য করুন রাখাইনরা তাঁদের বসবাসস্থল পাল্টালেও তাঁদের ক্ষেত্রে সুযোগ নেওয়ার কথা আসলোনা। পাল্টানো ভূমি তাঁদের নিজ ভূমি হল। আর মুসলিমদের ক্ষেত্রে এই ভাবনা তার থাকলো না।

২| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১:৩৯

বিশ্বাস করি 1971-এ বলেছেন: এটা বাংলাদেশের ব্লগ দাদা। পশ্চিমবঙ্গের খবর শোনার সময় কোথা?

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০৫

সৌভিক ঘোষাল বলেছেন: এটা বাংলাভাষার লেখালেখির জায়গা জানতাম, বাংলাভাষার সব মানুষের। বাংলাদেশের মানুষের শুধু এরকম নাকি? আর আপনার দেশে পলিটিকাল সায়েনস বিভাগগুলো তুলে দেবেন? সেখানে তো নানা দেশ নিয়ে আলাপ আলোচনা চলে।

৩| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১০:১৭

লিখেছেন বলেছেন: মাম্মা থাম্লে বাল লাগে!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.