নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সৌভিকের চিন্তাচর্চা

চারিদিকে দেখো চাহি হৃদয় প্রসারি

সৌভিক ঘোষাল

পেশায় সাহিত্যের শিক্ষক। মতাদর্শে মার্কসবাদী। কোলকাতার বাসিন্দা

সৌভিক ঘোষাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড এবং মুক্তমনের চলমান সংগ্রাম

০২ রা মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০১

মুক্তচিন্তার রক্তক্ষরণের এক মর্মান্তিক সময়ের মুখোমুখি আমরা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী প্রকাশ্য রাজপথে কিছু ধর্মান্ধ মুসলিম মৌলবাদী তথা দুষ্কৃতির হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়ে গেলেন লেখক সংগঠক অভিজিৎ রায়। নিরীশ্বরবাদের পক্ষে লেখালেখি করায় বাংলাদেশের ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক মুসলিম মৌলবাদীরা অতীতে অনেক বারই তাকে হুমকি দিয়েছে; এমনকী এও বলেছে যে আমেরিকাপ্রবাসী হওয়ায় তাকে এখন শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু বাংলাদেশে এলেই তাকে কোতল করা হবে। অভিজিৎ ঢাকায় আসার পর এই হুমকির বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে মৌলবাদীরা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে এই খুনের দায় স্বীকার করে নানাভাবে তাদের জান্তব আনন্দোল্লাস তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিজিতের ওপর এই আক্রমণ অবশ্যই বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয় এবং অভিজিতের মৃত্যুর পরবর্তী কয়েকদিন প্রতিবাদের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ধর্মান্ধ জল্লাদদের উল্লাসধ্বনিও বিপুলভাবে উপস্থিত। অভিজিতের মর্মান্তিক পরিণতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, ভাষাতাত্ত্বিক, সমাজতাত্ত্বিক হুমায়ুন আজাদের হত্যার কথা। ২১ এর বইমেলা চলাকালীন যেখানে অভিজিৎকে হত্যা করা হলো সেখানেই হুমায়ুন আজাদকে প্রাণাত্মক আঘাত দিয়েছিল মুসলিম মৌলবাদীরা। সে যাত্রা কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও আবার কয়েকমাস পরে তার ওপর নৃশংস আক্রমণে তাকে হত্যা করতে সমর্থ হয়েছিল মৌলবাদীরা। কিছুদিন আগে শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও লেখক রাজীব হায়দরকে একইভাবে খুন করে মুসলিম মৌলবাদীরা। যারা আজকে অভিজিৎ হত্যার প্রতিবাদ করছেন তাদের ‘কল্লা নামানোর’ হুমকি মুসলিম মৌলবাদীদের তরফে অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশ পাকিস্থান বা আফগানিস্থানে মুসলিম মৌলবাদের আগ্রাসী ভয়ংকর চেহারার উল্টোপিঠ হিসেবে ভারতে সংখ্যাগুরু হিন্দু মৌলবাদের ক্রীড়নকরা গণহত্যা, সংগঠিত দাঙ্গা বা ব্যক্তিহত্যার নানা ঘটনা ঘটাচ্ছেন। ইসলামিক স্টেট বা তালিবান বা জামাতি কার্যকলাপকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ইসলামভীতি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, চালানো হচ্ছে আধাসত্য অসত্য মেশানো নানা বিকৃত প্রচার। আর এসবের মধ্যে দিয়ে হিন্দু মৌলবাদ অপ্রতিহত ক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে। বস্তুতপক্ষে এই উপমহাদেশ এবং অন্যত্রও মুক্তচিন্তা, নিরীশ্বরবাদ এবং সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদ, ধর্মান্ধতা ও নানা প্রতিক্রিয়ার দর্শন এক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসরে দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও কোথাও মুসলিম মৌলবাদের প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নিচ্ছে ইসলামোফোবিয়ার মত আর এক প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তাভাবনা। জার্মানীতে পেগিদা (প্যাট্রিয়টিক ইউরোপিয়ানস এগেইনস্ট দ্য ইসলামাইজেশন অব দ্য ওয়েস্ট)র মত অনেক সংগঠনের বাড়বাড়ন্তর খবর আসছে। তারা বিভিন্ন শহরে বড় বড় সমাবেশও করছে। ফ্রান্সে শার্লি হেবদোর দফতরে নৃশংস হামলার রেশ মেলানোর আগেই আমাদের দেশে আমরা প্রবীন সি পি আই নেতা গোবিন্দ পানসারে গুলিবিদ্ধ হন ১৬ ফেব্রুয়ারী। পাঁচদিন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে তিনি চলে যান ২১ ফেব্রুয়ারী, মহারাষ্ট্রের আর এক মুক্তচিন্তার সংগ্রামী দাভোলকরের হত্যাকাণ্ডকে মনে করিয়ে দিয়ে। কয়েক বছর কেটে গেলেও দাভোলকরের খুনিরা এখনো ধরা পড়ে নি, শাস্তি তো দূরস্থান। দাভোলকর, পানসারে, অভিজিৎদের কাজ ও সংগ্রামের প্রতি আমাদের আবেগ এবং শ্রদ্ধাঞ্জলী এই নাছোড় লড়াইয়ে আমাদের সব ধরণের সাম্প্রদায়িক মৌলবাদ ও ফ্যাসিবাদকে পরাস্ত করার জন্য একজোট হবার আহ্বান জানাচ্ছে। সহজেই অনুমেয় শুধুমাত্র সরকারী প্রশাসনের কাছে দাবি দাওয়া জানানোর মধ্যেই ব্যাপারটা সীমাবদ্ধ রাখলে চলে না, কারণ মৌলবাদের বিতত বিতংস এর একাংশকেও নানাভাবে কব্জা করে নিয়েছে। মুক্তচিন্তার মানুষদের স্বাধীন সংগ্রাম এবং প্রশাসন যন্ত্রের ওপর নিরন্তর চাপ সহ নিরলস ও আপোষহীন নিরবচ্ছিন্ন নানামাত্রিক উদ্যোগই সাফল্যের একমাত্র শর্ত।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৬

সৌভিক ঘোষাল বলেছেন: এভাবে লেখক ও নিরীশ্বরবাদ আন্দোলনের সংগঠক অভিজিত রায়ের হত্যা মেনে নেওয়া যায় না। কিছু একটা করা দরকার যাতে দাভোলকর থেকে অভিজিত বা হুমায়ুন আজাদদের ওপর নৃশংস মৌলবাদী আক্রমণের যোগ্য জবাব তৈরি করা যায়। অভিজিতের মতো দাভোলকরের মত অনেক সংগঠকের উঠে আসা নি:সন্দেহে একটা রাস্তা. কিন্তু আরো অনেক রাস্তা খুজে বের করতে হবে আমাদের। করতেই হবে।

২| ০২ রা মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৯

মিতক্ষরা বলেছেন: ইসলাম অবমাননার কারনে পশ্চিম বংগে মমতা ব্যানার্জী তসলিমা নাসরিন এবং সালমান রুশদীকে প্রবেশের অনুমতি দেন নি।

ভারতে আইন করে ধর্মগ্রন্থের অবমাননা নিষিদ্ধ হয়েছে।

এই বিষয়ে আপনি কি বলবেন?

৩| ০২ রা মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৩

সামুরাই০০৮ বলেছেন: মুক্তমনা মানে কি? ধর্ম নিয়ে যা খুশি তাই লেখা?

৪| ০২ রা মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৮

মিতাহামিদা০০৭ বলেছেন: লেখক লিখেছেন " আমাদের দেশে আমার প্রবীন সি পি আই নেতা ...... "
দাদা ! আপনি যেহেতু ভারতীয় , সেহেতু আমাদের বাংলাদেশের ভিতরের ঘটনা নিয়ে আপনার তো মাথা না ঘামালেও চলবে ! বড়জোড় আপনি অভিজিতের জন্য একটু দু:খ প্রকাশ করতে পারেন আমাদের মতো !
এ দেশের সরকার কি করেন , দেখেন !

৫| ০২ রা মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫২

ঘুড্ডির পাইলট বলেছেন: তার কিছু লেখা আমি পড়েছি , যেখানে ইসলাম ধর্ম নিয়ে লেখাট গুলো কাঁচা লেখা মনে হয়েছে । অথবা কাঁচা লেখা না বলে কিছুটা অগোছালো বলবো আমি , অগোছালো না হলে অই লেখা পড়ে ইসলাম ধর্ম চর্চাকারী যে কেউ আঘাত পাবে ।
তার হত্যাকান্ড কে সমর্থন না করে আমি ছোট্ট একটা কথা বলে যাবো ।
মুক্তমনা দাবী করা অভিজিৎ অনেক ধর্মপ্রান মুসলমানের বিশ্বাসকে আঘাত করেছে ।
নিজের ভালো না লাগলে সে চর্চা করবে না কিন্তু অপর চর্চাকারীকে উপহাসের অধীকার তার নেই ।
আর বার বার হুমকি পাওয়ার পরেও , ব্লগার রাজিব এর ঘটনা জানার পরেও তার একা অনিরাপদভাবে চলাটা উচিৎ ছিলো না ।
পরিশেষে তার আত্বা শান্তি পাক এই কামনা করি ।

৬| ১৫ ই মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১:৩৫

সৌভিক ঘোষাল বলেছেন: ইসলাম বা ধর্ম নিয়ে কিছু লিখলে কারো আবেগে আঘাত লাগলে তারা সেটা উপেক্ষা করার চেষ্টা করবেন বা পাল্টা লিখবেন, যেভাবে ধর্মাচার নিরীশ্বরবাদিদের বিরক্ত করলে তারা সেটাকে উপেক্ষা করেন বা নিজের মত প্রকাশ করেন। কিন্তু মনের আঘাতের জন্য হত্যা করাটা আবার কি বর্বরতা ? নিরীশ্বরবাদীদের খারাপ লাগলে কি তারা ধর্মপালনকারীদের হত্যা করেন নাকি ?

৭| ১৫ ই জুন, ২০১৫ রাত ১০:৩১

সৌভিক ঘোষাল বলেছেন: ধর্ম প্রচারেও তো নাস্তিকদের আঘাত লাগতে পারে, লাগেও। তারা কি সেজন্য চাপাতি নিয়ে কোপাতে যায় পুরোহিত মৌলবীদের ? আসলে কমিউনিস্টদের মতো লাল ফৌজ তৈরি করে পালটা আঘাত নামালে তবেই ধর্ম ব্যবসায়ীদের দল খানিক ভয় পেতে পারে নাহলে শুধু ভালো ভালো পরামর্শে কাজ হবে না। আর আধুনিক মুক্তমনাদের বাহিনী সশস্ত্র ভাবে আসরে নামলে তবেই আর এস এস বজরং দল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জামাতে ইসলামি হেফাজতে ইসলাম ইত্যাদিদের শক্তির দৌড় টের পাওয়া যাবে। ধর্ম ব্যবসায়ীরা নন মিলিটারিস্টিক এনগেজমেন্টে খুশি না থেকে অস্ত্র তুলে নিলে পাল্টা লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই সবক শেখানো সম্ভব। ইতিহাস প্রমাণ করেছে আল কায়দা বা ইসলামিক স্টেট ই শুধু অস্ত্র হাতে দাপাতে পারে না, রেড আর্মিও নিজেদের আদর্শের জন্য তা পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.