| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
بسم الله الرحمن الرحيم
কুরআন হাদীসের দৃষ্টিতে তাবলীগ
তাবলীগ মুসলিম মিল্লাতের অতি পরিচিত একটি শব্দ। যার অর্থ প্রচার ও প্রসার। কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল বিশ্ব মানবের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাবার যে গুরু দায়িত্ব মুহাম্মদ সাঃ কর্তৃক সকল উম্মতে মুহাম্মদীর উপর অর্পিত হয়েছে, পরিভাষায় সেটাকেই তাবলীগ বলে।
মূলত রাসূল সাঃ বিশ্ব মানুষের কাছে দ্বীনের এ দাওয়াত পৌঁছাবার ও প্রচার-প্রসারের মহান দায়িত্ব নিয়েই পৃথিবীতে আগমণ করেছিলেন। যেমন আগমণ করেছিলেন রাসূল সাঃ এর পূর্বে অগণিত নবী ও রাসূল। রাসূল সাঃ কে তাবলীগ করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
{ يَاأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ [المائدة:67]
হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা আপনি প্রচার করুন। যদি আপনি তা না করেন তাহলে আপনি আল্লাহর বার্তা প্রচার করলেন না। (সূরা মায়েদা : ৬৭)
রাসূল সাঃ হলেন সর্বশেষ নবী। তার পর পৃথিবীতে আর কোন নবী আসবে না। তাই বিদায় হজ্বের সময় রাসূল সাঃ বজ্র কণ্ঠের ঘোষণা فليبلغ الشاهد الغائب তথা “পস্থিত লোকেরা যেন দ্বীনের এ দাওয়াত অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌছে দেয়” এর মাধ্যমে সমস্ত উম্মতে মুহাম্মদীই তাবলীগ তথা দ্বীন প্রচারের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হয়ে যায়। যে ব্যক্তি দ্বীন সম্পর্কে যা জানে তা’ই অন্যের কাছে পৌছে দেয়ার দায়িত্বশীল করে রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন-আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও [মানুষের কাছে] পৌঁছে দাও। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-৫৫৭০, সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩২৭৪, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬২৫৬, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৬৬৯}
সাহাবায়ে কিরাম রাসূল সাঃ এর উক্ত নির্দেশের বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন যথাযথভাবে। পরবর্তীতে সর্বযুগেই উলামায়ে উম্মত “ওলামায়ে কিরামই হলেন নবীদের ওয়ারিস” হাদীসের সফল বাস্তবায়নের জন্য জীবন বাজী রেখে সংগ্রাম করেছেন।
উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস ছাড়াও অসংখ্য আয়াত ও হাদীসে তাবলীগ তথা দ্বীন প্রচার ও প্রসারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ (النحل: ١٢٥(
আপনি আপনার প্রতিপালকের দিকে আহবান করুন হিকমত বা প্রজ্ঞা দ্বারা এবং সুন্দর ওয়াজ-উপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে উৎকৃষ্টতর পদ্ধতিতে আলোচনা-বিতর্ক করুন। (সূরা নাহল: ১২৫)
অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন
وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (آل عمران: ١٠٤(
আর যেন তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহবান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)
অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন:
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ )آل عمران: ١١٠(
তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে। তোমরা ন্যায়কার্যে আদেশ এবং অন্যায় কার্যে নিষেধ কর এবং আল্লাহতে বিশ্বাস কর। (সূরা আলে ইমরান: ১১০)
আল্লাহ তাবারকা ওয়া তাআলা আরও বলেন:
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (التوبة: ٧١ (
আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা ভাল কাজের আদেশ দেয় আর অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, আর তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। এদেরকে আল্লাহ শীঘ্রই দয়া করবেন, নিশ্চয় আল্লাহ পরক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা: ৭১)
সূরা তাওবার ১১২ আয়াতে, সূরা হজ্জের ৪১ আয়াতে, সূরা লুকমানের ১৭ আয়াতে ও অন্যান্য স্থানেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর প্রকৃত মুমিন বান্দাদের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ।
এ দায়িত্বপালনকারী মুমিনকেই সর্বোত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে পবিত্র কোরআনে।
মহান আল্লাহ বলেন:
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ )فصلت: ٣٣(
ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি তো মুসলিমদের একজন। ( সূরা ফুসসিলাত: ৩৩)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
الدِّيْنُ النَّصِيْحَةُ، قُلْنَا لِمَنْ قَالَ للهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأئمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتهِمْ. (رواه مسلم)
দীন হলো নসিহত। সাহাবিগণ বললেন, কার জন্য ? বললেন, আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য, মুসলিমগণের নেতৃবর্গের জন্য এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য। (মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নসিহতের জন্য সাহাবিগণের বাইআত তথা প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করতেন। বিভিন্ন হাদিসে জারির ইবনু আব্দুল্লাহ রা. মুগিরা ইবনু শুবা রা. প্রমুখ সাহাবি বলেন:
بَايَعْتُ رَسُوْل اللهِ صلى الله عليه وسلَّمَ عَلى إقَامَةِ الصَّلاةِ وَإيْتَاءِ الزَّكَاةِ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مسْلِمٍ (رواه البخاري)
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাইয়াত বা প্রতিজ্ঞা করেছি, সালাত কায়েম, জাকাত প্রদান ও প্রত্যেক মুসলিমের নসিহত (কল্যাণ কামনা) করার উপর। (বোখারি)।
এ অর্থে তিনি সৎকার্যে আদেশ ও অসৎকার্যে নিষেধের বাইয়াত গ্রহণ করতেন। উবাদাহ ইবনু সামিত ও অন্যান্য সাহাবি রা. বলেন:
إنَّا بَايَعْنَاهُ عَلى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ ..وَعَلى الأمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهيِ عَنِ المُنْكَرِ وَ عَلى أنْ نَقُولَ في اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالى وَلا نَخَافُ لَومَةَ لائِمٍ فيهِ (أحمد صحيح)
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বাইয়াত করি আনুগত্যের… এবং সৎকর্মে আদেশ ও অসৎকর্মে নিষেধের এবং এ কথার উপর যে, আমরা মহিমাময় আল্লাহর জন্য কথা বলব এবং সে বিষয়ে কোন নিন্দুকের নিন্দা বা গালি গালাজের তোয়াক্কা করব না। (আহমাদ, বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য সনদে)।
এ সমস্ত আয়াত ও হাদীসের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েই সকল যুগে ওলামায়ে কিরাম আপন দায়িত্ব পালনে সজাগ সতর্ক ছিলেন। অবশ্য সকল যুগে দাওয়াত ও তাবলীগের পদ্ধতি বা ধারা একই ছিল এমনটি নয়। যুগ চাহিদার ভিত্তিতে ওলামায়ে কিরাম কুরআন ও হাদীস বর্ণিত মূলনীতির আলোকে সমাজ ও জাতির জন্য ফলপ্রসু ও কল্যাণকর নতুন পন্থা ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করে মানব জাতিকে রাহনুমায়ী করেছেন হিদায়েতের পথে। কখনো মক্তব-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে। কখনো ওয়াজ ও নসীহতের মাধ্যমে। কখনো লিখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে। কখনো সহীহ হাদীস একত্র করা ও প্রচারের মাধ্যমে। কখনো খানকাহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। দাওয়াত ও তাবলীগের এ সকল পন্থাই কুরআন হাদীস সমর্থিত। সম্প্রতিকালে দারুল উলুম দেওবন্দ ভারতের সূর্য সন্তান হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহঃ এর কর্তৃক উদ্ভাবিত “দাওয়াত ও তাবলীগ” নামক দ্বীন প্রচারের এ পদ্ধতিটি সে ধারারই একটি কাজ। ইসলাম প্রচার ও প্রসারে এটি একটি নিরব বিপ্লব ও বটে।
তাবলীগ বিরোধী দু’টি বড় অভিযোগের জবাব
হক বাতিলের সংঘাত মুখর এ পৃথিবীতে বাতিলের সাথে অহর্নিষ সংগ্রাম করেই ইসলামকে সম্মুখে অগ্রসর হতে হয়েছে সর্বকালে। পরিণামে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হককেই বিজিত করেছেন যুগে যুগে। আর বাতিলকে করেছেন নিশ্চিহ্ন পরাভূত করে। তাবলীগ জামাআতের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
বর্তমান পৃথিবীতে এমন কোন বাতিল ফিরক্বা নেই, যারা আল্লাহর পধে আহবানকারী তাবলীগ জামাআতের উপর আক্রমণাত্মক হামলা করেনি। বিশেষ করে লা-মাযহাবী তথা কথিত আহলে হাদীস সম্প্রদায়। তারাই তাবলীগ জামাআতের উপর সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক হামলা করছে এবং তাবলীগ সম্পর্কে সবচে’ বেশি মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে চলছে। শুধু বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি এ ইংরেজ সৃষ্ট দলটি। সাধারণ মুসলমানদের দ্বীন প্রচারী জামাআত থেকে দূরে রাখতে বিভ্ন্নি প্রকার মিথ্যা ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে ঘৃণ্য পদ্ধতিতে। আল্লাহ তায়ালা সাধারণ মুসলমানদের এ বাতিল দলের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সহীহ বুঝ দান করুন। ওদের অভিযোগ করা দু’টি অভিযোগের জবাব নিচে বিধৃত হল-
তাবলীগ জামাআত ইসলাম ধর্মে একটি নতুন বিদআত?
তাবলীগ জামাআত কোন নতুন দল বা সংগঠনের নাম নয়, বরং নবী করীম সাঃ এর তিরোধানের পূর্ব থেকেই বিদায় হজ্বের পর থেকে ব্যাপক হারে সাহাবায়ে কিরাম রাঃ এবং রাসূল সাঃ এর মৃত্যুর পর থেকে নিয়ে প্রত্যেক যুগেই কমবেশি সম্মিলিত ও বিচ্ছ্ন্নিভাবে দাওয়াতের এ দায়িত্ব পালিত হয়ে আসছিল।
হযরত ইলিয়াস রহঃ ব্যাপক আকারে ও সংগঠিতরূপে সেটির পুনঃজাগরণের চেষ্টা করেছেন মাত্র। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানেরই যেমন কর্মধারা ও সূচি থাকে, তিনিও তেমনি এ জামাতের জন্য কিছু কর্মধারা তৈরী করেছেন সাধারণ মানুষের জন্য প্রাথমিকভাবে অধিক উপকারী ও জরুরী বিষয় চিন্তা করে। পূর্ণ শরীয়তকে সামনে রেখে এর মাঝে কোন বিষয়গুলো প্রথমে আমলে আনতে পারলে পূর্ণ শরীয়তের উপর পাবন্দ হওয়া সহজ হয়ে যাবে তা চিন্তা করে একটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। যা কোনভাবেই শরীয়তের গন্ডির বাহির থেকে নয়। সেই সাথে শরয়ী কোন হুকুমকে অস্বিকার করে নয়।
যেমন বর্তমান মাদরাসা শিক্ষা শরীয়তের মাঝে নতুন কোন সংযোজন নয়, বরং সাহাবায়ে কিরামের মাঝে আসহাবে সুফফার যে জামাআত সার্বক্ষণিক দ্বীন চর্চায় নিমগ্ন থাকতেন সেটাই ছিল সর্ব প্রথম মাদরাসা। যদিও বর্তমান মাদরাসা পদ্ধতি আর আসহাবে সুফফার মাদরাসার মাঝে পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। মৌলিকত্বে কোন পার্থক্য নেই। সে সময় কোন সিলেবাস ছিল না। ছিল না কোন ক্লাসিক্যাল অবকাঠামো। ছিল না সার্টিফিকেট দেওয়ার পদ্ধতি। ছিল না বিধিবদ্ধ শিক্ষক ষ্টাফের কোন মূলনীতি। কিন্তু পরবর্তীতে আম ফায়দার জন্য এবং দ্বীন চর্চায় অধিক উপকার অর্জনের নিমিত্তে একটি একাডেমিক পদ্ধতি আবিস্কার করা হয়েছে। যে আবিস্কার কোন বিদআত নয় মর্মে সকল ওলামায়ে কিরাম একমত। তেমনি তাবলীগ জামাআতের বর্তমান সাংগঠনিক ভিত্তি হিসেবে কিছু মূলনীতি নির্ধারণও কোন নতুন বিষয় নয়, বা বিদআত নয়। কারণ মাদরাসা শিক্ষার বর্তমান পদ্ধতিকে যেমন আমরা সওয়াবের কাজ মনে করি না, কিন্তু ইলমী দ্বীন চর্চাকে জানি সওয়াবের কাজ। তেমনি তাবলীগ জামাআতের পদ্ধতিটা মূলত সওয়াবের কারণ নয়, বরং এর দ্বারা যে কাজটি আঞ্জাম দেয়া হয় তথা তাবলীগ সেটি হল সওয়াবের কাজ। এ দু’টিতে কোন পার্থক্য নেই। সুতরাং তাবলীগ জামাআতকে দ্বীন এর মাঝে নতুন সংযোজন বলে বিদআত সাব্যস্ত করাটা বিদআতের সংজ্ঞা ও দ্বীন সম্পর্কে চূড়ান্ত পর্যায়ের অজ্ঞতার পরিচায়ক। কারণ বিদআত বলা হয়
عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-আমাদের দ্বীনের মাঝে যে ব্যক্তি নতুন বিষয় আবিস্কার করে যা তাতে নেই তাহলে তা পরিত্যাজ্য। {সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪৬০৮, সহীহ বুখারী, হাদিস নং-২৫৫০, সহীহ মুসলিম-৪৫৮৯}
এই হাদিসে লক্ষ্য করুন কি কি শর্তে নব আবিস্কৃত বস্তুকে পরিত্যাজ্য বলেছেন নবীজী সাঃ।
১-সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। যার কোন সামান্যতম প্রমাণ নবীযুগে বা সাহাবা যুগে নাই এমন বিষয় হতে হবে।
২-দ্বীনী বিষয় হতে হবে। সুতরাং দ্বীনী বিষয় ছাড়া যত নতুন বিষয়ই আবিস্কারই হোকনা কেন তা বিদআত নয়। যেমন বৈজ্ঞানিক আবিস্কার। নতুন নতুন আসবাব ইত্যাদী। এসব বিদআত নয়। কারণ এসব দ্বীনী বিষয় নয়। বরং বৈষয়িক বিষয়।
৩-দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার হতে হবে। দ্বীনের জন্য হলে সমস্যা নাই। কারণ দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার মানে হল এটা সওয়াবের কাজ। সুন্নাত, ওয়াজিব ইত্যাদী। আর দ্বীনের জন্য হলে সেটা মূলত সওয়াবের কাজ নয়, বরং সওয়াবের কাজের সহায়ক। যেমন মাদরাসা শিক্ষা একাডেমিক পদ্ধতি নববী যুগে ছিলনা। পরবর্তীতে আবিস্কার করা হয়েছে। এই একাডেমিক পদ্ধতিটি দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার নয়, বরং দ্বীনী কাজের জন্য সহায়ক হিসেবে আবিস্কার হয়েছে। অর্থাৎ দ্বীন শিখার সহায়ক। আর দ্বীন শিখাটা সওয়াবের কাজ। কিন্তু সিষ্টেমটা মূলত সওয়াবের কাজ নয় বরং সহায়ক। তেমনি তাবলীগের বর্তমান পদ্ধতিটি ইলিয়াস রহঃ আবিস্কার করেছেন দ্বীন প্রচারের সহায়ক হিসেবে। তথা দ্বীনের জন্য আবিস্কার। দ্বীন মাঝে আবিস্কার নয়। তাই এটি বিদআত হওয়ার কোন সুযোগই নেই।
যারা বলেন এ পদ্ধতি বিদআত, তারা মূলত দ্বীন সম্পর্কে চূড়ান্ত অজ্ঞতার পরিচয় দেন এসব কথা বলে।
তাবলীগ জামাআতের কাজ যেহেতু রাসূল সাঃ ও পরবর্তী সাহাবায়ে কিরামের প্রচার করা দ্বীন প্রচারেরই একটি সুসংহত রূপ মাত্র। তাই তাবলীগ জামাআতের কাজের সাথে সেসব ফযীলত শামিল হবে যা কুরআন সুন্নাহে বর্ণিত দ্বীন প্রচারের ফযীলত। যেমন দ্বীন শিক্ষার ফযীলত প্রাপ্ত হবে বর্তমান একাডেমিক পদ্ধতিতে পড়াশোনা করা মাদরাসা ছাত্ররা।
তাবলীগ জামাআতের ছয় উসুলে পূর্ণ ইসলাম নেই?
এ অভিযোগটিও একটি অজ্ঞতার পরিচয়বাহী ও হিংসাত্মক অভিযোগ। যার কোন ভিত্তি নেই। তাবলীগের ছয় উসুলের মাঝে পূর্ণ ইসলাম আছে একথা কোন তাবলীগী ভাই বলেন নাকি? তারাতো সর্বদা একথার দাওয়াত দেন যে, ছয় উসূলের উপর চললে পূর্ণ দ্বীনের উপর চলা সহজ হয়। একথা কোন তাবলীগী ভাই বলেন না যে ছয় উসূলই পূর্ণ দ্বীন। সাথে সাথে তাবলীগ তথা দ্বীনের দাওয়াত শুধু একথার উপর দেয়া হয় না যে, শুধুমাত্র ছয় উসূল মানতে হবে, বরং দাওয়াত দেয়া হয় পূর্ণ শরীয়তের পাবন্দ হতে হবে। তাই নয় কি? সুতরাং এ দাবি করা যে, যেহেতু ছয় উসূলে পূর্ণ দ্বীন নেই, তাই তাবলীগী ভাইয়েরা অপূর্ণাঙ্গ দ্বীনের দিকে আহবান করে। কারণ ছয় উসুলের দাওয়াতের মাধ্যমে পূর্ণ দ্বীনের দিকেই আহবান করা হয়।
যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ছয়টি বিষয়ের অনুসরণ করলে বান্দা সফলকাম হয়ে যাবে মর্মে সূরায়ে মু’মিনূন এ ঘোষণা করেন-
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (1) الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاتِهِمْ خَاشِعُونَ (2) وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ (3) وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ (4) وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (5) الى اخر- وَالَّذِينَ هُمْ لأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ (8) وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ (9) أُوْلَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ (10) الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (11)
১-নিশ্চয় সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ। ২-যারা তাদের নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত। ৩-যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে। ৪-যারা যাকাত সম্পাদনকারী। ৫-যারা নিজ লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে। ৮-এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। ৯-এবং যারা নিজেদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষাবেক্ষণ করে। ১০ এরাই হল সেই ওয়ারিশ। ১১-যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তারাধিকার লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে। {সূরা মুমিনুন-১-১১}
এ আয়াত সমূহে লক্ষ করুন-ছয়টি কাজ করলে আল্লাহ তায়ালা সফলকাম হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সেই সাথে জান্নাতী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। অথচ এ ছয় কাজে রোযার কথা নেই। নেই হজ্বের কথাও। তাহলে কি আল্লাহর বলা সফলকাম হওয়ার জন্য রোযা রাখার প্রয়োজন নেই? নেই হজ্ব ফরজ হলে হজ্ব আদায়েরও। এ দু’টি গুরত্বপূর্ণ ফরজ ছাড়াই কি ব্যক্তি জান্নাতী হয়ে যেতে পারে? কিভাবে?
এর জবাব যেমন-এ ছয়টির মাঝেই পূর্ণ দ্বীন শামিল। তেমনি তাবলীগের ছয় উসূলের দাওয়াতের দ্বারাও পূর্ণ দ্বীনের উপর আমলের দিকেই আহবান করা হয়। যা কিছুতেই দ্বীনকে সীমাবদ্ধ করা নয়, যেমন আল্লাহ তায়ালা সীমাবদ্ধ করেন নি।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
সহকারী মুফতী-জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা
ইমেইল[email protected]
[email protected]
১০ ই মে, ২০১২ বিকাল ৫:৩৮
sowkat_a বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে.....মুসাফির
২|
১০ ই মে, ২০১২ দুপুর ২:১৭
মনিক০০৪ বলেছেন: আমাদের নবী (সা
দ্বীনের দাওয়াত দিলেন আর কাফির রা তার দাত ভেঙ্গে দিল । তাবলীগের ভাইজানরা কয়টা নিজ দেহের পসম হারিয়েছেন ? আপনারা অনান্য ইসলামী দল গুলোর চাইতে সংখ্যায় এখন অনেক শক্ত অবস্থানে । আমাদের দেশের মাঝে বিভিন্ন ঘটে যাওয়া অনইসলামী কাজের কোন প্রতিবাদ কেণ করেন না ? আপনারা ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন ভোট (সমর্থণ) দেন বাম পন্থি কাফির আর ফাসিকদের । কেন ? আপনারা কোন ব্যাংকে লেনদেন করেন ? ব্রাদার হুড, তালিবান, এরা নিজেদের জীবন দিচ্ছে, আপনারা কয় ফোটা রক্ত ঝরিয়েছেন ? আসা করি আমার প্রশ্নের উত্তর পাব । ধন্যবাদ ।
১০ ই মে, ২০১২ বিকাল ৫:৪৭
sowkat_a বলেছেন: তাবলীগ প্রচলিত ইসলামী দলগুলোর মত কোন দল নয়।
একে ঈমানী আন্দোলনের জামাত বলা চলে। আজ আমাদের ঈমান শিরক মিশ্রিত।
তাই ঈমানের দাওয়াতের মাধ্যমে ঈমান মজবুত করাও একটা উদ্দেশ্য বটে।
আর আপনি যে প্রশ্নগুলো করেছেন তার সব উত্তরই এখানে দিতে পারতাম কিন্তু সব চাইতে ভালো হয় আপনি কিছু সময় দিয়ে বাস্তব উত্তর জেনে নিলে।
ধন্যবাদ আপনাকে।
৩|
১০ ই মে, ২০১২ দুপুর ২:২৩
আবিরে রাঙ্গানো বলেছেন: তাবলীগ ভাল, কিন্তু তাবলীগের মাঝের বেশিরভাগ পন্ডিতেরা মনে করে যারা জীবনে ৩ চিল্লায় যায়নি তারা পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারেনি। তুমি মুসলমান কিনা সেটি তারা বিচার করে তুমি ৩ চিল্লা দিয়েছো কিনা। বাড়ীর ভাই-বোনেরা ঠিকমত পর্দা করে না নামায পড়ে না কিন্তু ৩ চিল্লা দিয়েছে তারাই বেশি ভাল মুসলিম তাদের চোখে। নিজের জ্ঞান নেই কয়েকটি হাদিস জানে তারাই পরিপূর্ণ মুসলিম।
আমি একজন তাবলীগের ছেলের সাথে কথা বলার সময় জানতে পারলাম আয়তুল কুরসী অনেকগুলো আয়াতের সমস্টি। আমি যখন বললাম আয়তুল কুরসী একটি মাত্র আয়াত তখন আমার সাথে তর্ক করেছিলো। অথচ সে বিয়ে করেছে তাবলীগ করা পিতার কোরআনে হাফেজ মেয়ে। ঐ মেয়েকে বিয়ে দেয়ার একমাত্র কারণ ছেলের মুখে দাড়ি আছে আর তাবলীগ করে, কিন্তু ইসলামের জ্ঞান কতটি আছে সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়।
১০ ই মে, ২০১২ বিকাল ৫:৫১
sowkat_a বলেছেন: আপনি যে অভিযোগ করেছেন তা কেউ ব্যক্তিগত ভাবে করে থাকলে আমিও সমর্থন করবো না। কিন্তু কোন ব্যক্তির কারনে এই কাজ থেকে দূরে সরে থাকা মোটেও ভালো কথা নয়।
৪|
১০ ই মে, ২০১২ দুপুর ২:৫৮
জাগরূ৪৯ বলেছেন:
তবলীগ জামাআত অনেক বড় খিদমত করে চলেছে সন্দেহ নেই।অনেক মানুষ দ্বীনের পথে তবলীগি কার্যক্রমের মাধ্যমে ফিরে আসছেন এবং ফরজ আমল সমূহের পাবন্দ হচ্ছেন।তবে "ছয় উসূলের উপর চললে পূর্ণ দ্বীনের উপর চলা সহজ হয়" একথার সাথে আমি একমত নই।ছয় উসূলের উপর চললে আংশিক দ্বীনের উপর সহজ হয় মাত্র,পূর্ণ দ্বীনের উপর নয়।তবলীগ জামাআতের সাথে সংশ্লিস্টরা যেসব কিতাব পড়েন এবং যে নির্দেশ তাদের মুরব্বিরা তাদের দিয়ে থাকেন তা তাদের সংকীর্ণ চিন্তার মুসলমানে পরিণত করে।
১০ ই মে, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৬
sowkat_a বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।
Click This Link
৫|
১০ ই মে, ২০১২ বিকাল ৪:৩৪
gymvwdi gvngy` বলেছেন: ' রক্তাক্ত তবলিগ চমতকার খোদাই মদদ' বই টি পরতে পারেন
১০ ই মে, ২০১২ বিকাল ৫:৫৪
sowkat_a বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
৬|
১০ ই মে, ২০১২ বিকাল ৪:৪২
gymvwdi gvngy` বলেছেন: মনিক০০৪ , আপনি যে মানিক হয়ে মনিকা মার্কা ছবি দিয়েছেন তার কোন প্রতিবাদ কেণ করেন না, করবেননা ?
৭|
২২ শে জুন, ২০১২ রাত ১১:৩৯
মো. আদম শফিউল্লাহ বলেছেন: বর্তমান সময়ে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসারী হতে হলে ঈমানী আন্দোলন তথা তাবলীগের কোন বিকল্প নাই। রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কে অনেকে অনেক কথাই বলেছেন, তারা আজ কোথায় আর যারা উনাকে অনুসরণ করে সাহাবী হয়েছেন তারা কোথায়, একটু চিন্তা করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। অতএব কল্যাণ বুঝে শুনে মেহনত করার মধ্যেই।
আল্লাহ বুঝার এবং আমাল করার তৌফিক দান করেন।
১৭ ই জুলাই, ২০১২ বিকাল ৩:৪২
sowkat_a বলেছেন: ধন্যবাদ...
৮|
১৭ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ২:৩৬
ণত্ববিধান বলেছেন: তবলিগ বুঝার জঁনন ইলিয়াস এর ভুয়ামি শিখার দরকার নাই। যাদের জনমো শিরক দারা, তাদের সব কিসু বরজনিয়। ইসলাম কোনো ফালতু ধরম নয়। যাদের শুরু মিথঠা দিয়ে ...।
সপনে পাওয়া ধরম কোনো ইসলাম ধরম নয়। ঘিননা লাগে ওদের ভনডামি দেখলে।
আমাদের নবী (সা
দ্বীনের দাওয়াত দিলেন আর কাফির রা তার দাত ভেঙ্গে দিল । তাবলীগের ভাইজানরা কয়টা নিজ দেহের পসম হারিয়েছেন ? আপনারা অনান্য ইসলামী দল গুলোর চাইতে সংখ্যায় এখন অনেক শক্ত অবস্থানে । আমাদের দেশের মাঝে বিভিন্ন ঘটে যাওয়া অনইসলামী কাজের কোন প্রতিবাদ কেণ করেন না ? আপনারা ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন ভোট (সমর্থণ) দেন বাম পন্থি কাফির আর ফাসিকদের । কেন ? আপনারা কোন ব্যাংকে লেনদেন করেন ? ব্রাদার হুড, তালিবান, এরা নিজেদের জীবন দিচ্ছে, আপনারা কয় ফোটা রক্ত ঝরিয়েছেন ?
১৭ ই জুলাই, ২০১২ বিকাল ৩:৪৯
sowkat_a বলেছেন: দূর থেকে তো দেখবেন না একটু কাছে এসে দেখুন.......
৯|
১৪ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ২:২৮
সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: মূলত রাসূল সাঃ বিশ্ব মানুষের কাছে দ্বীনের এ দাওয়াত পৌঁছাবার ও প্রচার-প্রসারের মহান দায়িত্ব নিয়েই পৃথিবীতে আগমণ করেছিলেন। যেমন আগমণ করেছিলেন রাসূল সাঃ এর পূর্বে অগণিত নবী ও রাসূল। রাসূল সাঃ কে তাবলীগ করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
{ يَاأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ [المائدة:67]
হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা আপনি প্রচার করুন। যদি আপনি তা না করেন তাহলে আপনি আল্লাহর বার্তা প্রচার করলেন না। (সূরা মায়েদা : ৬৭)
সূরা মায়েদো ৫:৬৭ আয়াতঃ يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللّهَ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ
অর্থঃ হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।
এই আয়াত কোন তাবলীগ প্রচার করার আয়াত নয়। লুৎফুর রহমান ফরায়েজী একটু ইসলামের ইতিহাস পড়ুন তার পড় ধর্ম জানুন। খুব ভালো করবেন। মায়েদোর ৬৭ আয়াতটি নাজিল হয়েছিলো বিদায় হাজ্জ্ব এর ভাষনে; এটা ছিলো গাদিরের খুমে। এই আয়াতে আল্লাহ রাসুল (সাঃ) কে বলছেঃ আপনাকে আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন এই কথা কেন বললেন জানেন? এখানে তাবলীগ প্রচারের কথায় রক্ষা করার কথা কেন আসলো বা আসবে। আসলে ঘটনাটা ভিন্ন। গাদিরের খুবে এই ৬৭ নং আয়াতটি নাজিল হয়; এর আগেও এই আয়াতটি নাজিল হয়েছিলো কিন্তু রাসুল তা বাস্তবায়ন করেন নাই মানুষের ভয়ে; রাসুল (সাঃ) মানুষকে ভয় পাচ্ছিলেন, তায় আল্লাহ তাকে সাহস দিচ্ছিলেন। আসলে কি কথা যে রাসুল বলতে ভয় পাচ্ছিলেন? কথাটি ছিলো এই। "হে নবী আপনাকে শ্রীঘ্রই তুলে নিবো আমার কাছে আপনি আপনার খলিফা মনোনিত করুন"। রাসুল (সাঃ) বললেনঃ কাকে খলিফা নিযুক্ত করবো? আল্লাহ্ বললেনঃ খেলাফত নেয়ার মত আলী ছাড়া আর কে আছেন। রাসুল আল্লাহর এমন হুকুম শুনে ভাবলেন আলী আমার জামাতা আমি তার কথা যদি মানুষ কে বলি তাহরে মানুষ মনে করবে আমি খলিফা নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব করলাম; এই ভয়ে রাসুল (সাঃ) শংসয়বোধ করছিলেন। তায় আল্লাহ তাঁকে সাহস দিয়ে পূনরায় কথাটি পূনরাবৃত্তি করলেন। অনেক ইসলামী স্কলার, কোরআন গবেষকরা বলেন এই আয়াতে হযরত আলী (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ ছিলো। এই খলিফা নির্বাচিত করার এই আয়োতের শেষে'ই ছিলো মায়েদার ৩ নং আয়াত। কোরআনের শেষ আয়াত এর পর আর কোন আয়াত নাজিল হয় নাই;সেই দিক থেকে শেষ কথা ছিলো আজ তোমাদের দ্বীন ইসলামকে আমি পরিপূর্ণ করে দিলাম। কিন্তু আলী (রাঃ) কে ৩ কলিফা কখনো মেনে নিতে পারে নাই। এটা ছিলো হাশেমী ও অহাশেমী গোত্রের লড়াইয়ের জের। ৩ খলিফার সাথে আলী (রাঃ)-এর বিরোধ থাকার কারনে তারা এই আয়াতটি নিয়ে ছেড়াফাটা করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী আপনি ৬৭ নাম্বার আয়াত ও ৩ নাম্বার আয়াতটি অবশ্য পড়বেন। এবং কথগুলি মিলাবেন। আপনিতো জানেন কোরআন সংকলনের সময় আলীর কাছে থাকা পান্ডুলিপি গুলি ৩ খলিফা গ্রহণ করে নাই। কেন নেন নাই এটা জানার চেষ্ট করুন। আর সূরা মায়েদার তিন নং আয়াতটি ছিলো ৬৭ নং এর শেষের আয়াত। তাকে কেটে মায়েদার ৩ নং ঢুকানো হয়েছে। চলুন নিম্নে দেখিঃ
সূরা মায়িদার ৩ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলছেঃ তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কন্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যা, যা শিং এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে, কিন্তু যাকে তোমরা যবেহ করেছ। যে জন্তু যজ্ঞবেদীতে যবেহ করা হয় এবং যা ভাগ্য নির্ধারক শর দ্বারা বন্টন করা হয়। এসব গোনাহর কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।
তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কন্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যা, যা শিং এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে, কিন্তু যাকে তোমরা যবেহ করেছ। যে জন্তু যজ্ঞবেদীতে যবেহ করা হয় এবং যা ভাগ্য নির্ধারক শর দ্বারা বন্টন করা হয়। এসব গোনাহর কাজ। এই কটা কাজ যদি কেউ বর্জন করে তাহলে এই আয়াত অনুযায়ী তার দ্বীন ইসলাম পূর্ণ হয়ে যাবে। লুৎফুর রহমান ফরায়েজী ঠিক কি তায় ?
মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয় এই সব ধরনের মাংস না খেলেই যদি ইসলাম পরিপূর্ণ হয় তাহেলে নামাজ রোজ,হাজ্জ্ব,যাকাত এই গুলি দরকার আছে? আসলে এই আয়াতটি নাজিল হয়েছিলো বিদায় হাজ্জ্ব থেকে ফেরার পথে গাদিরের খুম নামক স্থানে।
বললে অনেক বলতে হবে, সময় করে কথা হবে। ভালো থাকুন।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই মে, ২০১২ দুপুর ২:০৮
মুসাফির... বলেছেন: আপনার লেখা ভাল লাগল... প্রিয়তে নিলাম...
তাবলীগ নিয়ে বিভ্রান্তি- আমার কিছু কথা- পর্বগুলো পড়ার অনুরোধ
http://www.somewhereinblog.net/blog/mcsbd