| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
স্বতঃস্ফূর্ত একাকী
থেমে যেতে যেতে একবার কোনমতে, জোর করে যদি একবার হেঁটে যেতে, বেঁচে নিতে যদি একবার, বড় ভালো হতো...
আমার বাসার গলিতে একটা কুকুর প্রতিদিন সকালে ডেকে উঠে, ঠিক সকাল ৫ টায়। ভাবি ব্যাপারটা কি, কুকুরটা কি সকালবেলা সবাইকে ডেকে তুলে দিয়ে বিশ্রামে যায়??!! ব্যাপারটাকি এমন যে “এবার তোমরা উঠো, আমি ঘুমতে যাবো”
আশ্চর্য হই!
খোঁজ নিয়ে জানলাম আসলে ব্যাপারটা কি, আমাদের বাসার দারোয়ান জানালেন, আমাদের গলিতে যে নাইটগার্ড কাজ করেন, কুকুরটি তার। প্রতি রাতে কুকুরটি তার সাথে পাহারা দেয়,ভোরের দিকে উনার চোখ বুজে এলেই কুকুরটি তাকে ডেকে উঠিয়ে দেয়। ব্যাপারটি শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ঘটনা শোনার পর থেকে কেন যেন কুকুরটি এবং তার মালিককে দেখবার প্রবল আগ্রহবোধ করছিলাম, কল্পনায় ভেসে উঠলো একজন মধ্যবয়স্ক লোক লাঠি আর টর্চ নিয়ে “ হুশিয়ার হুশিয়ার ” করে হাক দিচ্ছে আর পাশে একটি কুকুর হেঁটে যাচ্ছে, দারোয়ানকে বললাম সে এলে আমাকে জানাতে আমি দেখা করতে চাই।
তারপর একদিন রাত সাড়ে দশটার দিকে দারোয়ান ফোন দিয়ে জানালে নিচে নেমে দেখি একজন ২২/২৩ বছরের যুবক এবং তার পাশে বসা রুগ্ন একটি কুকুর। আমাকে দেখেই কুকুরটা ছেলেটার সামনে এসে দাঁড়ালো, আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি,
বললাম “ তুমি পাহারা দাও?”
ছেলেটি হেসে বলল “জি”
- তোমার বয়স কত?
- ২০/ ২২ হইবো, ঠাওর কইরা কইতে পারুম না”
- এই বয়সে পাহারা দিচ্ছো...
- হ, বেলা ১২ টা ঠিকা রিসকা চালাই, রাইতে গার্ড দেই।
- বল কি?
- হ
ছেলেটির সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, ও অষ্টম শ্রেনি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে, বাবা মারা যাবার ফলে আর পড়তে পারেনি। সংসারের সমস্ত ভার তার উপর। বাড়িতে আছেন মা, বোন আর তার ছোট দুই ভাই। বোন তার বড়, স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে এসেছে বছর পাঁচ। পুরো সংসারের ভার নিয়ে রবিউল এসেছে ঢাকা শহরে ২ বছর আগে। এখানে তার দূরসম্পর্কের চাচা যিনি নাইটগার্ডের কাজ করতেন তিনি রবিউলকে রিক্সা চালানোর কাজটা পাইয়ে দেন, আর গেলো ৭ মাস ধরে তিনি অসুস্থ থাকায় তার নাইটগার্ডের কাজটিও রবিউল করে যাচ্ছে। এতে রবিউলের বাড়তি কিছু আয় হচ্ছে যদিও নাইটগার্ড হিসেবে তার বেতনের অর্ধেক চাচাকে দিতে হয়। তবুও সে খুশি। বাড়িতে বাড়তি কিছু টাকা পাঠাতে পারছে সে, ছোট ভাইটার পড়ার খরচ চলে যাচ্ছে এদিয়ে।
আমি বললাম
- ভয় করে না তোমার?
- ভয় লাগবো ক্যান? বাদশাহ আছে না আমার লগে?
রুগ্ন কুকুরটি তার নাম শোনার পর একটু নড়ে চড়ে বসলো। নিজেকে জাহির করলো মুখ দিয়ে একটু শব্দ করে।
- এখন আমার যাইতে হইবো ।
বলেই গেটের দিকে হাটা শুরু করলো ... তার পেছনে লেজ নাড়াতে নাড়াতে বাদশাহ।
হঠাৎ ঘুরে দাড়িয়ে রবিউল বলল
- নিচ্চিত হইয়া ঘুমান। চোর ডাকাইত কিচ্ছু আইবনা ...
তারপর একটু হাসি দিয়ে সে বের হয়ে গেলো ।
আমিও হেসে তাকে বিদায় দিলাম।
তারপর অনেক দিন গেল। রবিউল আর বাদশাহকে প্রায় ভুলতেই বসেছিলাম।
হঠাৎ আজ সকালে একজনের চিৎকার করে কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙলো, নিচে নেমে দেখি বাদশাহর মৃত দেহ সামনে নিয়ে রবিউল কাঁদছে। গতরাতে কে বা কারা বাদশাহকে কিছু খাইয়ে মেরে ফেলেছে। রবিউল তখন ঘুমিয়ে পড়েছিল,সকাল ৬ টায় একজন পত্রিকা বিক্রেতা এসে তাকে ডেকে তুলে। চোখ খুলে সে বাদশাহ মৃত দেহ তার পায়ের কাছে দেখতে পায়। কাঁদতে কাঁদতে রবিউল অজ্ঞেন হয়ে পড়ে।
নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে পানি বেয়ে পড়ে। এভাবে তো ওদের ভুলে গিয়ে আবার আবিষ্কার করতে চাইনি আমি, ভাবি রবিউল বাদশাহকে তার সাহস হিসেবে নিয়েছিল, আর যারা ওকে মেরেছে ... তারা??!!!
বাসায় ফিরতে ফিরতে রবিউলের কণ্ঠ আবার শুনতে পেলাম, তার জ্ঞ্যান ফিরেছে। সে আবার চিৎকার করে উঠলো “ বাদশাহ রে...”
০৮ ই জুন, ২০১৩ রাত ১১:১৮
স্বতঃস্ফূর্ত একাকী বলেছেন: ধন্যবাদ! ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই জুন, ২০১৩ রাত ১১:১৫
সাদাত হোসাইন বলেছেন: ওয়েলকাম!