নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্বরলিপি

তুমি বললেই হবে, উল্টবে কাজ, পৃথিবীর আজ, দারুন অসম্ভবে।

স্বতঃস্ফূর্ত একাকী

থেমে যেতে যেতে একবার কোনমতে, জোর করে যদি একবার হেঁটে যেতে, বেঁচে নিতে যদি একবার, বড় ভালো হতো...

স্বতঃস্ফূর্ত একাকী › বিস্তারিত পোস্টঃ

তিতলী

১৫ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১১:৪১

আহসান শুয়ে আছেন খাটে, তার পায়ের কাছে জানলা দিয়ে একদৃষ্টিতে নিচের বস্তির দিকে তাকিয়ে আছে তিতলী । ছোট্ট একটি মেয়ে কিভাবে এতোটা পথ পাড়ি দেবে ভেবে পায় না আহসান। বছর দুই আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন, তখন তিতলীর বয়স মাত্র দেড় বছর। সেই দেড় বছরের মেয়ে কি অসম্ভব গম্ভীর একফোঁটা কাঁদেনি পর্যন্ত, শুধু মাঝে মাঝে তার দিকে তাকিয়ে জানতে চেয়েছে কেবল “ মা???”

এই এতোটুকুতেই আহসানের কথা হারিয়ে গেছে, সারা পৃথিবীর সকল ভাষা যেন ব্যর্থ এ জবাব দিতে। এতোটা অসহায় তিনি তার স্ত্রীকে হারিয়েও বোধ করেননি।



এখন তিতলীর সাড়ে তিন বছর আর সে এখন তার বাবাকেও হারাতে যাচ্ছে। ডাক্তার আহসানকে জানিয়ে দিয়েছে বড়োজোড় মাস ছয় বাঁচবেন তিনি, তার লিভার ক্যান্সার শেষ স্টেজে। আহসানের অনিদ্রায় রাত কাটে, মরে যেতে তার ভয় নেই। যত চিন্তা যত দুঃখ তার এই মেয়েটাকে নিয়ে। মেয়েকে কার কাছে রেখে যাবেন????



অনেক ভেবে তিনি তার নিরসন্তান বন্ধু শফিককে ব্যাপারটা বলতেই শফিক রাজি হয়ে গেলো। এখন প্রায় প্রতিদিন বিকেলে শফিক এবং তার স্ত্রী সুরাইয়া এসে হাজির হয়। আহসানও বিভিন্নভাবে মেয়েকে শফিক এবং তার স্ত্রীর প্রশংসা করে যান। কিন্তু তাতে কোন ভাবান্তর হয় না তিতলীর। সে তার মতো একমনে খেলে যায়...



আজ অনেকদিন হল তিতলী তার মায়ের কথা জানতে চায় না। আহসান ভাবে ছোট্ট মানুষটির মন থেকে তার মায়ের স্মৃতি আস্তে আস্তে মুছতে শুরু করেছে। এভাবে একদিন সে তার বাবাকেও ভুলে যাবে। ভেবে কেমন যেন একটু স্বস্তি পান তিনি।



হঠাৎ আহসানের মনে হল কি দেখছে এতো মনোযোগ দিয়ে মেয়েটি???



জানতে চাইলেন তিনি’



“কিরে মা নিচে?? কি দেখো এতো??”



তিতলী মাথা নাড়ে যার মানে কিছু না।



“ তাহলে?? এমনি এমনি দাড়িয়ে আছো মা??”



তিতলী কথা না বলে খাট থেকে নেমে চলে যায়।



আহসান ভেবে পান না এই বয়সে এতো গম্ভীর কেন তার মেয়েটি???হঠাৎ কি মনে করে উঠে গিয়ে জানলা দিয়ে নিচের দিকে উঁকি দেন তিনি, আচমকা বুকের ভেতর সব নড়ে উঠলো তার। নিচে একটি মা তার ছোট্ট মেয়েটির চুল বেঁধে দিচ্ছেন আদর করে। আহসান দৌড়ে পাশের ঘরে গিয়ে দেখেন তিতলী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়ানোর চেষ্টা করছে। আহসান তার পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়, তিতলী লজ্জা পেয়ে একটু হাসল। আহসান কান্না চেপে রেখে মেয়ের হাত থেকে চিরুনি নিয়ে চুল আঁচড়ে দিতে দিতে বলল,



মাকে মনে পড়ে মা??



তিতলী ভুবন ভুলানো হাসি দিয়ে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলল,



“ নাহ, আমার তো বাবা আছে...”



আহসানের মনে হল সারা দুনিয়া ভেঙ্গে পড়ল তার এক নিমেষে... সে তার মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে...

বুক ধুঁকরে কেঁদে উঠলো আহসান



...হায় সৃষ্টিকর্তা এতো অসহায় কেন করলে????



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.