নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি মোঃ রাব্বি হোসেন। \"শ্রাবণ আহমেদ\" এটা আমার ছদ্মনাম। লেখালেখিতে নিজের এই ছদ্মনামটা দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পাবনা জেলার সদর উপজেলায় আমার জন্ম। বর্তমানে ঢাকা থাকি। মূলত সুন্দর কিছু মূহূর্ত আপনাদের উপহার দিতেই আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।

শ্রাবণ আহমেদ

শ্রাবণ আহমেদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্ক্রিপট- যারা নাটকের জন্য স্ক্রিপট লিখতে পারেন না। এটা মূলত তাদের জন্য।

১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৫৯

অভিনয়
লেখক: Srabon Ahmed (অদৃশ্য ছাঢা)
.
দৃশ্য-১
সময়: দুপুর
স্থান: চিপা গলি
চরিত্র: নিরব, হাসান, একটা অপরিচিত মেয়ে।

বাসা থেকে বের হয়ে হাসানের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে নিরব। চিপাগলিটা পার হতেই হঠাৎ করে একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা লাগে তার। সে পড়ে যাওয়া থেকে নিজেকে সামলিয়ে নেয়। মেয়েটাকে আচ্ছা মতো বকা দিবে বলে মেয়েটার সামনে দাঁড়াতেই উল্টো মেয়েটা তাকে এক গাঁদা ঝাড়ি দেয়।
মেয়েটা বলে....

মেয়ে: পথ দেখে চলতে পারেন না? কানা নাকি?
(নিরব কিছু বলে না) মেয়েটা নিরবের দিকে তাকিয়ে আবার বলে...
মেয়ে: ও... এ তো কানাই দেখছি। কানা না হলে কী মোটা ফ্রেমের চশমা পড়ে কেউ? যত্তসব ফালতু পোলাপাইন।

(নিরবকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মেয়েটা হন হন করে চলে যায়। নিরব হতভম্ব হয়ে মেয়েটারে পানে চেয়ে থাকে। কী থেকে কী হলো, কিছুই বুঝলো না সে)
নিরব আবার হাঁটতে শুরু করে হাসানের সাথে দেখা করার অভিপ্রায়।

কাট

(টাইটেল উঠতে থাকবে)
.
দৃশ্য-২
সময়: দুপুর
স্থান: হাসানের বাসা
চরিত্র: নিরব, হাসান আর হাসানের বোন

নিরব হাসানের বাসার কলিংবেল চেপে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। খানিক পরেই হাসান দরজা খুলে দেয়। ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে হাসান বলে...

হাসান: হঠাৎ কী দরকার পড়লো তোর আবার?
নিরব ইতস্তত বোধ করে বলে....

নিরব: দোস্ত জানিসই তো ঢাকাতে নতুন আমি। আশেপাশের কোনো কিছুই তেমন চিনিনা। যদি একটু ঘুরিয়ে দেখাতি আশপাশটা!  এই আরকি।
হাসান: হাহাহা, আরে বেটা এসব বলতে হয় নাকি? নিশ্চয়ই দেখাবো।
নিরব: বিকেলে আসবো তবে?
হাসান: উমম... হ্যাঁ আসতে পারিস।
নিরব: দোস্ত তবে আসি এখন।
হাসান: আরে কী বলিস এসব? মাত্রই আসলি,  আবার এখনই চলে যাবি? বস, চা খেয়ে যা।
নিরব: দুধ চা হবে তো?
হাসান: হ্যাঁ দুধ চা।

হাসান তার বোনকে ডাক দিয়ে বলে..
হাসান: ফিমা দুইটা চা করে দিস তো।

(খানিক বাদে ফিমা চা করে আনে। চা টা দিয়ে নিরবের দিকে একবার তাকিয়েই সে রুমে চলে যায়। চা খেতে খেতে নিরব বলে...)

নিরব: দোস্ত তোদের এখানে আসার সময় পথে একটা মেয়েকে দেখলাম। চেহারা মাশআআল্লাহ, তবে আচার ব্যবহার চেহারার উল্টোটা।
হাসান: হাহাহা।
নিরব: হাসিস কেন?
হাসান: আরে মাত্র ঢাকাতে আসলি। কিছুদিন যাক। তারপর দেখবি এখানকার সব মেয়েরাই অনেক সুন্দর দেখতে।
নিরব: তবে যাই বলিস মেয়েটাকে পছন্দ হয়েছে।
হাসান: প্রেমে টেমে পড়িস না যেন, এখানকার মেয়েরা কিন্তু এক একটা জিনিস। তোকে পুরো ফকির বানিয়ে দেবে।
নিরব: আরে ধুর, প্রেমে পড়তে যাবো কেন?
হাসান: হ্যাঁ সেটাই।
চা খাওয়া শেষে নিরব বলে....
নিরব: দোস্ত এখন আসি তবে, বিকেলে দেখা হচ্ছে।

কাট
.
দৃশ্য-৩
সময়: সন্ধ্যা
স্থান: নিরব যে বাসায় থাকে সেই বাসার সিড়ি
চরিত্র: নিরব এবং সেই ধাক্কা খাওয়া মেয়েটা

বিকেলে ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যার সময় যখন নিরব বাসায় ফিরছিলো। ঠিক তখনই তার বাসার সিড়িতে দুপুরের সেই মেয়েটার সাথে দেখা হয়। নিরব মেয়েটিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটি বলে ওঠে...

মেয়ে: আপনি সেই ছেলেটি না?
(নিরব শুধু মাথা নাড়ায়)
মেয়েটি আবার বলে...
মেয়ে: আসলে আমি সরি। তখন রাগের মাথায় আপনাকে অনেক কিছু বলে ফেলেছি। কিছু মনে করবেন না প্লিজ।
নিরব: ইট'স ওকে।
মেয়ে: তখন আসলে মন মেজাজ ভালো ছিলো না। তাই রাগের মাথায় আপনাকে ওসব বলেছি।
নিরব: হুম.....
মেয়ে: আপনি এই বাসায় থাকেন?
নিরব: হ্যাঁ।
মেয়ে: কবে উঠেছেন?
নিরব: গতকাল রাতে।
মেয়ে: ও।

এটুকু কথোপকথনের পর নিরব উপরের দিকে পা বাড়ায়, আর মেয়েটা নিচের দিকে। ঠিক তখনই আবার পেছন ফিরে মেয়েটা নিরবকে বলে...

মেয়ে: এই যে মিস্টার, আপনার নামটাই তো জানা হলো না।
নিরব: আমি নিরব।
মেয়ে: আমি সোমা। কয় তালাতে থাকেন যেন?
নিরব: পঞ্চম তালায়।

(নিরব উপরে চলে যায় আর সোমা নিচে। বাসাটা সোমাদেরই। তারা তিন তালাতে থাকে। পঞ্চম এবং ষষ্ট তালায় শুধু ব্যাচেলর থাকে। তাছাড়া বাকি তালাগুলোতে ফেমিলি থাকে।)

কাট
.
দৃশ্য-৪
সময়: রাত
স্থান: সোমার রুম
চরিত্র: সোমা আর তার বান্ধবীর মধ্যে ফোনের কথোপকথন। (বান্ধবীটা হাসানের বোন ফিমা)

সোমা: দোস্ত একটা সুখবর আছে।
ফিমা: কী?
সোমা: শিকার পেয়ে গিয়েছি।
ফিমা: মানে?
সোমা: আরে প্রতিবার ভালোবাসা দিবসের আগে যেটা করি আমরা।
ফিমা: ও, গুড। তা শিকারকে শিকার করার ব্যবস্থা কর।
সোমা: অবশ্যই করবো।
ফিমা: ওকে, আর শোন..  কালকে কলেজে আসিস। তারপর এই বিষয় নিয়ে আমরা আরো পরামর্শ করবো।
সোমা: ওকে।

(ফোন রেখে দেয়ে সোমা। রুমের মধ্যে ফোন হাতে করে কয়েকবার পাঁইচারি দিয়ে সে শুয়ে পড়ে।)

কাট
.
দৃশ্য- ৫
সময়: পরদিন সকালবেলা
স্থান: ছাঁদ
চরিত্র: নিরব আর সোমা

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে ছাঁদে যায় নিরব। শীতের সকাল, তার উপর আবার মিষ্টি রোদ। এ যেন অপেক্ষাকৃত কোনো লগ্ন, যা তার জন্যই অপেক্ষা করছিলো।

ছাঁদের এক কোণে দাঁড়িয়ে দাঁত ব্রাশ করছে নিরব। আর অপর ছাঁদের দিকে তাঁকিয়ে আছে। তাকিয়ে থাকারও একটা কারণ আছে। কেননা, সেই ছাঁদটা নানান রকম ফুল গাছে ভরপুর।
সে যেই ছাঁদে রয়েছে, সেই ছাঁদে যে ফুল গাছ নেই, তা কিন্তু নয়।

হঠাৎই  ছাঁদে সোমার প্রবেশ। সোমা লক্ষ্য করে দেখলো, একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে তার ফুলগাছগুলোর পাশে। সে আচ্ছা মতো বকা দিবে বলে ছেলেটির দিকে এগিয়ে যায়। আর বলে ওঠে......

সোমা: এক্সকিউজ মি!

(ছেলেটি ঘুরে তাকায়, সে তাকাতেই সোমা চুপ হয়ে যায়। কেননা, ছেলেটি যে নিরব। ধমক দেওয়ার জন্য যে সকল চিন্তাভাবনা করেছিলো সে, তা নিমিষেই মন থেকে ঝেড়ে ফেলে।)
নিরব বলে....

নিরব: জ্বী, কিছু বলবেন?
(সোমা আমতা আমতা করে বলে.....)
সোমা: না, না, কী বলবো?
নিরব: তা ডাকলেন যে!
সোমা: ও হ্যাঁ, একা একা ছাঁদে দাঁড়িয়ে কী করছেন?
(নিরব তার ব্রাশটা দেখিয়ে বলে.....)
নিরব: এইতো দাঁত ব্রাশ করি।
সোমা: ও গুড।

কিছুক্ষণ নিরবতা। নিরব আনমনে দাঁত ব্রাশ করে যাচ্ছে। আর সোমা মনে মনে ভাবছে, তাকে কী প্রশ্ন করা যায়! কিভাবে তাকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা যায়!
কিছুক্ষণ ভেবে সোমা বলে......

সোমা: আপনি কিসে পড়েন?
নিরব: অনার্স ফাইনাল ইয়ার। আপনি?
সোমা: আমি ইন্টার ফাইনাল। তা কোন কলেজে পড়েন?
নিরব: এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা। আপনি?
সোমা: বাংলা কলেজ, মিরপুর।
নিরব: ও, গুড।
সোমা: তা, ফাইনাল পরীক্ষা না দিয়ে ঢাকায় কী করতে এসেছেন?
নিরব: একটা চাকরির খোঁজে। আর মাস্টার্সটা এখানেই করবো।

খানিকক্ষণ আরো কিছু কথোপকথন চলে তাদের মধ্যে।

কাট
.
দৃশ্য- ৬
সময়: বিকেল
স্থান: পরিপাটি ফুটপাত।
চরিত্র: সোমা, ফিমা এবং তার বান্ধবীরা।

তারা সকলে একটা গাছের নিচে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। সকলের উদ্দেশ্যে সোমা বলে ওঠে.....

সোমা: তোদের কার্যক্রম কতদূর?
(তার কথার উত্তরে মাঝখান থেকে একজন বলে ওঠে....)
বান্ধবী: আমারটা হয়ে গিয়েছে।
(পাশে থেকে আরো কয়েকজন বলে তাদেরটাও হয়ে গিয়েছে।)
সোমা ফিমাকে জিজ্ঞেস করে.....

সোমা: কিরে তোরটা হয়েছে?
ফিমা: না হয়নি।
সোমা: কেন?
ফিমা: ভাইয়া এ সম্বন্ধে কিছু জানতে পারলে আমাকে মেরে ফেলবে।
(সোমা ফিমার উপর রাগ দেখিয়ে বলে....)
সোমা: তোর দ্বারা কিছুই সম্ভব না, ভিতুর ডিম কোথাকার। দেখিস এবার আমার শিকারটা কেমন হয়!

কাট
.
দৃশ্য-৭
সময়: রাত
স্থান: বেলকনি
চরিত্র: নিরব

রাতে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে নিরব। রাতের আকাশে উজ্জল তারা না থাকলেও তার কাছে আকাশটা উজ্জল মনে হচ্ছে। বারবার তার শুধু সকালের ঐ মেয়েটা অর্থ্যাৎ সোমার কথা মনে হচ্ছে। আহা কী অপরুপ সে। কথা বলাটাও যেন নিদারুণ প্রকাশভঙ্গি। যত দেখে তারে ততই মনটা ভরে যায়।
হঠাৎই নিরবের ফোন বেজে ওঠে। ফোন বের করে দেখে হাসান ফোন দিয়েছে।

হাসান: কি অবস্থা দোস্ত?
(নিরব অতি আবেগে খুশির সাথে উত্তর দেয়.....)
নিরব: অবস্থা খুবই ভালো দোস্ত।
হাসান: তোকে বেশ খুশি খুশি মনে হচ্ছে!
নিরব: দোস্ত তোকে ঐ দিন একটা মেয়ের কথা বলেছিলাম না........

এভাবে কিছুক্ষণ কথা বলে নিরব আর হাসান। কথা বলা শেষ হলে নিরব রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়ে।

কাট
.
দৃশ্য-৮
সময়: সকাল
স্থান: ছাঁদ
চরিত্র: নিরব আর সোমা

গতদিনের মতো আজও নিরব দাঁত ব্রাশ করতে ছাঁদে যায়। আনমনে গুন গুন করতে করতে সে ফুল গাছগুলোর দিকে পা বাড়াতেই চমকে যায়। নীল শাড়িতে কে যেন দাঁড়িয়ে রয়েছে সেখানে। নিরব গলা খাকারি দিয়ে ওঠে। শাড়ি পরিহিতা মেয়েটি ঘুরে তাকায় তার দিকে। মেয়েটি ঘুরতেই নিরব অবাক হয়ে যায়। কিছুক্ষণ অপলক চেয়ে থাকে সে তার দিকে। কারণ মেয়েটি হলো তার সহসা পছন্দ হওয়া সেই সোমা।
নিরব অনেক্ষণ ধরে তাকিয়ে আছে সোমার দিকে, এটা দেখে সোমা বলে.....

সোমা: এই যে মিস্টার কী দেখেন অমন করে?
(নিরব আনমনে উত্তর দেয়....)
নিরব: পরী।
সোমা: কী?
(সোমার 'কী' বলাতে সে চৈতন্য ফিরে পায়। হকচকিয়ে সে বলে....)
নিরব: ক.. ক..... কই কী?
(নিরবের অবস্থা দেখে সোমা প্রাণ খোলা একটি হাসি দেয়। তার হাসি দেখে নিরব আবার দ্বিতীয়বারের জন্য ক্রাশ খায় তার উপরে। নিরব মনে মনে ভাবে, মেয়েটা এতো সুন্দর কেন? সব রুপ যেন তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।)
সোমাকে হাসতে দেখে নিরব বলে....
নিরব: হাসছো কেন অমন করে?
সোমা: আপনার কথা শুনে।
নিরব: সোমা একটা কথা বলি?
সোমা: জ্বী বলুন....
নিরব: কপালে একটা টিপ পড়লে আরো সুন্দর লাগতো।
(নিরবের কথা শুনে সোমা লজ্জা পেয়ে যায়। সে মনে মনে ভাবে, এইতো শিকার ফাঁদে পা দিয়েছে মাত্র। সে বলে....
সোমা: কেন? আপনার কথা শুনবো কেন আমি, হুহ? আপনি কে যে আপনার কথা শুনে আমি টিপ পড়বো?
নিরব: আজ কেউ না, তবে আগামীতে যে হবে না, তার গ্যারান্টি কী?
সোমা: কী বললেন, বুঝিনি।  আবার বলুন।
নিরব: না, কিছু না।

(নিরব আর কোনো কথা না বাড়িয়ে ছাঁদ থেকে নেমে আসে।)

কাট
.
দৃশ্য- ৯
সময়: বিকেল
স্থান: বেডরুম
চরিত্র: নিরব আর হাসানের ফোনে কথোপকথন।

নিরব রুমে শুয়ে গল্পের বই পড়ছে। হঠাৎই ফোনটা বেজে ওঠে। ফোন হাতে নিয়ে দেখে হাসানের কল। সে রিসিভ করতেই......

হাসান: দোস্ত কোথায় তুই?
(হাসানকে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখে নিরব ভয় পেয়ে যায়। কারো কিছু হয়নি তো? সে বলে....)
নিরব: বাসায়,  কেন কী হয়েছে? আর তোর কন্ঠটা এমন শোনাচ্ছে কেন?
(হাসান হাঁপাতে হাঁপাতে বলে....)
হাসান: দোস্ত তোর রক্তের গ্রুপ A+ না?
নিরব: হ্যাঁ, কেন?  কার কী হয়েছে?
হাসান: দোস্ত ফিমা হাসপাতালে। সে এ্যাক্সিডেন্ট করেছে। তুই একটু আয় না দোস্ত।
নিরব: ওকে আসতেছি, তুই টেনশন নিস না। হাসপাতালের ঠিকানাটা সেন্ড কর আমাকে।
হাসান : ওকে, দোস্ত তাড়াতাড়ি আয় প্লিজ।

(অপর পাশ থেকে হাসান ফোন রেখে দেয়। নিরব উঠে বসতে বসতেই হাসানের টেক্সট আসে। সে মেসেজে হাসপাতালের ঠিকানাটা সেন্ড করেছে।  নিরব হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে)

কাট
.
দৃশ্য-১০
সময়: সন্ধ্যা
স্থান: হাসপাতাল
চরিত্র: নিরব, হাসান এবং ডাক্তার

নিরব ভেতরে রক্ত দিচ্ছে। আর হাসান বাইরে পাইচারি করছে। ঘন্টা খানেক পর ডাক্তার রুম থেকে বের হয়ে আসতেই হাসান ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে....

হাসান: ডাক্তার সাহেব, এখন আমার বোনের কী অবস্থা?
ডাক্তার: রক্ত দেওয়া হয়েছে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান ফিরবে। আগামী পরশু নিয়ে যেতে পারবেন।
(এটুকু বলেই ডাক্তার চলে যায়। তার ঠিক খানিক্ষণ পর নিরবও রুম থেকে বেরিয়ে আসে। নিরব বাইরে আসতেই হাসান তাকে জড়িয়ে ধরে বলে.....)

হাসান: দোস্ত তোকে আমি কী বলে যে ধন্যবাদ দিবো, সেটা ভেবে পাচ্ছি না। তোর কাছে আমি চির ঋণি।
(নিরব তার হাতটা এদিক ওদিক করতে করতে বলে.....)
নিরব: আরে বিপদে যদি সাহায্যই না করি, তবে বন্ধু কিসের?

(হাসানের চোখ দু'টো জলে ভরে ওঠে।)

কাট
.
দৃশ্য-১১
সময়: বিকেল
স্থান: ছাঁদ
চরিত্র: নিরব আর সোমা

বিকেলের অম্লান সূর্যের তাপটা উপভোগ করতে নিরব ছাঁদের দিকে পা বাড়ায়। ছাঁদে উঠতে সে অনুভব করে কেউ একজন আছে সেখানে। সূর্যটা পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার কারণে নিরব ছাঁদের রৌদ্রের কোণাটায় যায়। কিন্তু এ কি! কে যেন দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। নিশ্চয়ই সোমা হবে। অনুমান করে নিরব। এই ক'দিনে সে সোমাকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু সাহসের অভাবে সে বলতে পারে না। ধীর পায়ে মেয়েটির দিকে এগিয়ে যায় সে। তারপর একটা কাঁশি দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে বলে....

নিরব: কেমন আছো সোমা?

(সোমা বলে.....)
সোমা: এইতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সূর্যবিলাস করি।
নিরব: সূর্যবিলাস? হাহাহা....
সোমা: হ্যাঁ, সূর্যবিলাস।
নিরব: জীবনে চন্দ্রবিলাসের কথা শুনেছি। কিন্তু সূর্যবিলাস! হাহাহা
(নিরব হাসতে থাকে। কিন্তু সে এখনো সোমার দিকে ভালো করে তাকায়নি। যখন সে তার দিকে তাকালো, তখন সে ভাবনায় ডুবে গেলো। আহা! ভেজা চুলে কন্যা দাঁড়িয়েছে ছাঁদে, সূর্যবিলাস করবে বলে। খানিক বাদেই সূর্যমামা নিজ রাজ্যে পড়বে ঢলে। কিছুক্ষণ দু'জনের মধ্যে নিরবতা চলে। নিরবতা ভেঙে সোমা বলে.....)

সোমা: মিস্টার নিরব, আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো।
নিরব: আমারও একটা কথা বলার ছিলো।
সোমা: তো, বলে ফেলুন আপনার কথাটা।
নিরব: না না, আগে তুমি বলো।
সোমা: শুনুন, আমি সোজাসাপটা কথা বলি। তাই ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে পারবো না।
নিরব: হ্যাঁ, বলো না।
(নিরবের মধ্যে উত্তেজনা কাজ করছে।  কী বলতে সোমা তাকে!)
সোমা: আপনাকে আমার ভালো লাগে। আপনাকে ভালোবাসি আমি।

(নিরব স্তব্ধ হয়ে সোমার কথা শুনে। সে ভাবতেই পারছে না। সোমা তাকে এই কথাটা বললো। নিরবকে চুপ থাকতে দেখে সোমা বলে.....)

সোমা: কী হলো, চুপ করে আছেন কেন? কিছু তো বলেন।
নিরব: হুম
সোমা: কী হুম?
নিরব: আমিও বাসি?
সোমা: না, ওভাবে না।
নিরব: তবে?
সোমা: বলুন, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
(নিরব শুধু একটা হাসি দেয়। মনে মনে বলে কী বোকা মেয়েরে বাবা!)

কাট
.
দৃশ্য- ১২
সময়: রাত
স্থান: বেডরুম
চরিত্র: সোমা আর ফিমা

(সোমা আর ফিমা দু'জনে ফোনে কথা বলছে।)

সোমা: দোস্ত, আমার শিকারটা ফাঁদে পা দিয়েছে। এখন শুধু তাকে আয়ত্তে আনবো।
ফিমা: গুড। তা এবারের টার্গেট কী থাকবে?
সোমা: সময় হলেও দেখতে পারবি।
ফিমা: ওকে। তবে শোন, ছেলেটাকে দেখাবি কিন্তু?
সোমা: হ্যাঁ,  অবশ্যই দেখাবো। তবে একটা কথা কী জানিস?
ফিমা: কী?
সোমা: ছেলেটা অনেক সহজ সরল। তার সাথে কী এমনটা করা ঠিক হবে?
ফিমা: মনের মধ্যে ভালোবাসা জন্মালে কিন্তু টার্গেট মিস হয়ে যাবে।
সোমা: হুম, সেটা জানি। তবুও.....
ফিমা: তবুও কী?
সোমা: না,  কিছু না।

কাট
.
দৃশ্য- ১৩
সময়: রাত
স্থান: ছাঁদ
চরিত্র: নিরব আর সোমা

এক মাস পর......

(এর মধ্যে নিরব আর সোমার রিলেশনের এক মাস পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আজ ফেব্রুয়ারি মাসের এক তারিখ। সোমা হঠাৎ করেই রাত ১১টার দিকে নিরবকে ফোন করে ছাঁদে যেতে বলে। নিরব তখন মাত্রই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। সোমার ফোন পেয়ে সে আর ঘুমাতে পারলো না।)
ছাঁদে গিয়ে দেখে সোমা দাঁড়িয়ে আছে। নিরব কাছে গিয়ে একটা কাঁশি দিয়ে বলে.....

নিরব: হঠাৎ এতো রাতে,  এখানে!
সোমা: না মানে, ঘুম আসছিলো না তাই।
নিরব: চেষ্টা করলেই তো ঘুম এসে যায়।
সোমা: চেষ্টা করবো না, আমি এখন তোমার বুকে মাথা রেখে চাঁদের অম্লান আলো নিজ গায়ে মাখবো।
নিরব: এতো রাতে চাঁদ দেখবে? আমার ঘুম পাচ্ছে খুব।
সোমা: ঘুম পেলেও এখানে থাকতে হবে। পারলে দুজন আজ ছাঁদেই ঘুমাবো, তবুও তোমায় থাকতে হবে।

(নিরব অসহায়ের মতো তাকিয়ে হু বলে। কালকে একটা চাকরির ইন্টারভিউ আছে। সকাল আটটায় উঠতে হবে। রাত জাগলে চলবে না। সে সোমাকে নানান ভাবে বলে রুমে গিয়ে ঘুমাতে। কিন্তু সোমা শোনে না। এক পর্যায়ে আর পেরে উঠতে না পেরে নিরব হার মেনে থেকে যায়।
সোমা নিরবের বুকে মুখ লুকিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে আছে। নিরবও পরম আবেশে তাকে তার বাহুডরে আবদ্ধ করে রেখেছে।

কিয়ৎকাল পর সোমা মুখ উঁচু করে বলে..

সোমা: সামনে তো ভালোবাসা দিবস। কোনো প্ল্যান করেছো?
নিরব: না, সেদিন সারাটাদিন ঘুমাবো।
সোমা: কী?
নিরব: হ্যাঁ।
সোমা: আমার না অনেক দিনের ইচ্ছা, আমার যে বয়ফ্রেন্ড হবে। সে আমাকে একটা স্বর্ণের আংটি গিফট করবে।

(সোমার মুখে এমন আবদার ঘনিত কথা শুনে নিরব কিছুটা অবাক হয়। তবুও সে মাথা নাড়িয়ে শুধু হ্যাঁ বলে।)

কাট
.
দৃশ্য-১৪
সময়: ১৪ ফেব্রুয়ারির রাতে
স্থান: নিজের রুম
চরিত্র: নিরব

সারাদিন ঘুরাফেরা করে ক্লান্ত নিরব। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে একটা লম্বা ঘুম দেয় সে। রাত দশটার দিকে ঘুম ভাঙলে সে সোমাকে কল দেয়। কিন্তু সোমার ফোনে কল ঢোকে না। নাম্বার বন্ধ দেখায়।

নিরব বিছানা ছেড়ে উঠে এদিক ওদিক পাইচারি করে আর সোমাকে কল দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সোমার ফোনে কল আর ঢোকে না। অনেকক্ষণ পরেও যখন কল ঢুকলো না। তখন সে আর কিছু  না ভেবে আবারও ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।)

দৃশ্য-১৫
সময়: সকাল
স্থান: নিজের রুম
চরিত্র: সোমা, সোমার বাবা, নিরব এবং নিরবের রুমমেট।

নিরব ঘুমিয়েই আছে। হঠাৎই নাঈমের ডাকে তার ঘুম ভাঙে। নাঈম তার রুমমেট। নাঈম বলে.....

নাঈম: দোস্ত ওঠ, ওঠ। একটা মেয়ে তোর সাথে দেখা করতে এসেছে।
(নিরব ঘুম ঘুম চোখে জবাব দেয়.....)
নিরব: কে?
নাঈম: উঠে গিয়ে দেখ কে!

(নিরব ঘুম জড়ানো চোখে দরজার কাছে যেতেই এক বয়স্ক মাপের লোক বলে ওঠে.....)

লোক: তুমিই নিরব?
নিরব: জ্বী আংকেল আমিই নিরব। কিন্তু আপনি.......

(নিরবকে সম্পূর্ণ কথাটুকু বলতে না দিয়েই লোকটি বলে ওঠে......)
লোক: আমি সোমার বাবা। তুমি আমার মেয়ের সাথে কী করেছো?

(সোমার বাবার কথা শুনে নিরব অবাক চোখে চেয়ে আমতা আমতা করে বলে....)
নিরব: কে.. কে...কেন? কিছু করিনি তো!

(হঠাৎই পাশ থেকে সোমা বলে ওঠে.....)
সোমা: বাবা, এই ছেলেটি আমাকে ডিস্ট্রাব করে। এর জন্য আমি ছাঁদে উঠতে পারি না ঠিকমতো। পথে বের হতে পারি না।

(সোমার এরুপ কথা শুনে নিরব অবাক থেকে অধিকতর অবাক হয়। এসব কী বলছে সোমা! নিরব সোমাকে বলে....)

নিরব: সোমা তুমি এসব কী বলছো? আমি তোমাকে ডিস্ট্রাব করি?
(সোমা কোনো উত্তর দেয় না। সোমার বাবা নিরবকে বলে.....)
সোমার বাবা: আজকেই তুমি এই বাসা থেকে বের হয়ে যাবে। তোমার এডভান্সের টাকা নিয়ে যেও।

(সোমা আর তার বাবা এটুকু বলেই প্রস্থান করে।)

কাট
.
দৃশ্য-১৬
সময়: পরদিন সকাল
স্থান: হাসানের বাসা
চরিত্র: হাসান, ফিমা আর নিরব

পরদিন সকালে নিরব তার ব্যাগপত্র নিয়ে হাসানের বাসায় কড়া নাড়ে। সোমাদের বাসা থেকে আসার সময় সিড়িতে সোমার সাথে দেখা হলে, সে তার হাতে একটা ছোট্ট চিরকুট দিয়ে আসে। যাতে লেখা ছিলো "ভালো থেকো।"
নিরব হাসানের বাসার কলিং বেল বাজিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর দরজা খোলার আওয়াজে সে সামনে তাকিয়ে দেখে ফিমা দাঁড়িয়ে।
ফিমা বলে......

ফিমা: কেমন আছেন ভাইয়া?

(নিরব মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে বলে....)
নিরব: হ্যাঁ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?
ফিমা: জ্বী ভাইয়া ভালো।
(নিরব তার হাতের ব্যাগগুলো ফিমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে.....)
নিরব: এইগুলো একটু ধরো তো।

(সে ফিমার হাতে ব্যাগগুলো দিয়ে বাসার ভেতরে ঢোকে। ফিমা তার ভাইকে ডাক দিয়ে বলে, ভাইয়া দেখো নিরব ভাইয়া এসেছে। হাসান আসলে নিরব বলে.....)

নিরব: দোস্ত একটু সাহায্য করতে পারবি?
হাসান: কেন কী হয়েছে তোর? শরীর ঠিক আছে তো?
নিরব: হ্যাঁ, ঠিক আছে। আমাকে থাকার জায়গা দিতে পারবি?
হাসান: কেন?  কী  হয়েছে তোর?

(নিরব তারপর তাকে সবকিছু খুলে বলে। ফিমা তখনও সেখানে দাঁড়িয়ে।  নিরবের বলা ঘটনা শুনে ফিমার চোখ পানিতে ভর ওঠে। সে চোখ মুছতে মুছতে হঠাৎই তার রুমে চলে যায়। যে ছেলে তাকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচালো। আর সে কি না সেই ছেলেকই বিপদে ফেললো।
হাসান নিরবের সকল কথা শুনে বলে.....)

হাসান: দোস্ত এখানে থাকার জায়গা তো হবে না। তবে আগামী মাস থেকে একটা বাসা ঠিক করে দিবো তোকে।
নিরব: কিন্তু এখন থাকবো কোথায়?
হাসান: তুই একটু যেমন তেমন করে এই কয়েকটা দিন মেনেজ করে নে।

(হাসানের মুখে এমন কথা শুনে নিরব আর সেখানে এক পাও দাঁড়ায় না। সে তার ব্যাগপত্র নিয়ে বের হয়ে আসে হাসানের বাসা থেকে।
সূর্যের তাপটা তীক্ষ্ণভাবে পৃথিবীর বুকে বিচরণ করছে। আর নিরব সেই উত্তাপিত রৌদ্রের মাঝে ফুটপাত ধরে হেঁটে চলেছে।)

(একটা স্যাড গান বাজবে তখন)
.
মিরপুর, ঢাকা।
২৫/০১/২০১৯

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:৪৪

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: ভালো লেগেছে।

১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:১২

শ্রাবণ আহমেদ বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয়

২| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:৫২

সেতুর বন্ধন বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন।

১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:১৩

শ্রাবণ আহমেদ বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয়

৩| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:৩২

চাঙ্কু বলেছেন: স্ক্রিপ্টটা ভালো হয়েছে! এখন দেখেন কেউ এইটা নিয়ে নাটক বানায় কিনা!

১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:১৩

শ্রাবণ আহমেদ বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয়।

৪| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৯:১৫

ইসিয়াক বলেছেন: সুন্দর

১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:১৪

শ্রাবণ আহমেদ বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয়

৫| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: ওরে বাবা। খুব কষ্টের কাজ। আমি পারবো না।

৬| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:২৩

মাহমুদুর রহমান জাওয়াদ বলেছেন: এগুলো আমাকে দিয়ে হবে না।

৭| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৯

শায়মা বলেছেন: আমি জীবনে এমন অনেক কাজ করেছি যাকে বলে চোখ বুঝে আগুনে ঝাঁপ দেওয়া।

স্ক্রিপ্ট রাইটিংও এমনই এক কাজ ছিলো আমার জীবনে।

কাজেই মিলিয়ে নিলাম!


দেখলাম আমি স্ক্রিপ্ট ভালোই লিখতে জানি।

৮| ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:৩৯

রাকু হাসান বলেছেন:

ধন্যবাদ ।ক্রিপ্ট রাইটারের খুব অভাব আমাদের । আগে সৈয়দ শাসছুল হকের মতো মানুষরা ক্রিপ্ট/পান্ডুলিপি লিখতেন । পরিচালকরা ভালো বাজেটও রাখতেন গল্পের পেছনে । কিন্তু এখন বাজেটই কম । শ্রম ও নেই । যাক আপনার এই পোস্ট অনেকের কাজে দিবে । এসব বিষয়ে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট বিস্তারিত লিখলে পাঠক উপকৃত হবে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.