নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চাই প্রগতিশীল সমাজ

সাগর হাসি

জানতে চাই। জানাতে চাই।

সাগর হাসি › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্প-সাধারণ জীবনযাত্রা

২১ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:১৯

আফজল সাহেব সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। ছিলেন কারন এখন তিনি অবসরে। চাওয়া-পাওয়ার হিসাব করলে তাঁর পাওনা নেহায়েত কম নয়। দুই ছেলে আশরাফুজ্জামান নিলয় আর আশফাকুজ্জামান রাতুল ভালই প্রতিষ্ঠিত। নিলয় এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যাবসা করে আর রাতুল সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। অধিকাংশ উচ্চমধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তের মত গুলশান-বনানীতে বাড়ি না করে আফজল সাহেব বাড়ি করেছেন শনির আখড়ায়। মোটকথা তিনি এখন সুখেই অবসরযাপন করছেন। তিনি মনে করেন মানুষ তাঁর জীবনের একটা সময় কষ্ট করে আরেকটা সময় আরামে। হয় যৌবনে কষ্ট করো না হয় বার্ধক্যে। তিনি যৌবনে প্রচুর কষ্ট করেছেন। তার ফল এখন ভোগ করছেন।



সত্তর বছর বয়সে যতটুকু আরাম পাওনা ততটুকু আসলে করা যায়না। শরীর এই সুখের সবচেয়ে বড় বাধা। আফজল সাহেবের শরীরো বিদ্রোহ করলো। এক রাতে তিনি হার্ট-অ্যাটাক করলেন।



আধঘন্টা পর, এক যুবককে দেখা গেলো যাত্রাবাড়ী এলাকায় রঙ-সাইড দিয়ে আসা একটা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যাওয়ার রোড করে দিতে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি থামিয়ে পথ করার চেষ্টা করতে। রাস্তার বাঁ-সাইডে এত ভিড় ছিল যে রং-সাইড ছাড়া উপায় ছিল না। তবে এখানেও খাটনি কম নয়। কিছু যাত্রীকে দেখা গেল বাঙালি কমন্সেন্স নিয়ে কথা বলতে। কেউ কেউ সাইড দিতে নারাজ। অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে দেখা গেল একটা সেডান আর একটা সিএনজি। তারাও অ্যাম্বুলেন্সের সাথে রং-ওয়ে ধরে যেতে আগ্রহী। আরও কিছু লোককে দেখা গেল তারা যুবকের সাথে সাথে গাড়ি থামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রোড করে দিচ্ছে।



“উই আর সরি আশফাক সাহেব। আপনারা দেরি করে ফেলেছেন। রোগীকে আমরা বাঁচাতে পারলাম না।” শান্তগলা ডাক্তারের।

কান্নায় ভেঙে পড়লো শ্রান্ত-শোকার্ত রাতুল।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.