| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাবেয়া রাহীম
মানব মন বুঝে, সাধ্য আছে কার ! কখনো আবেগী গাঁথুনিগুলো যেন নিরেট কনক্রিট কখনো আবার গভীরে সাজানো আবেগগুলো- সৌরভে সুবাসিত হয়ে আনন্দে লীন !
বড় দুটি পাখা মেলে আকশযানটি যখন অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের উপরে ভেসে থাকে, তাঁর পেটের ভেতরে বসে থাকা আমার শরীরে কেমন যেন একটা শির শিরে অনুভুতি অনুভব হয়। তবে সেই সাড়ে তিন ঘন্টা সময় আমি চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টায় থাকি। সে যাইহোক বিমান ভীতি আমার সব সময়ের ছিল। তাই হয়ত ভীতি কাটানোর জন্যই নিজের দেশ ছেড়ে দশ হাজার মাইল দুরের ভিন একটি দেশে থিতু হতে হয়েছে। নিজ দেশের মাটির মায়া মাঝে মাঝে খুব বেশী কাছে টানে। তাই ছুটে যেতে হয় প্রিয় জন্মভুমিতে। সে কারনেই এই আকশযানে চড়া। তবে নিজ জন্মভুমির মাটির গন্ধ আলো বাতাস সব কিছুই অন্য রকম ভাল লাগায় মুগ্ধ করে রাখে সবসময়। যাত্রা পথের নানা ঝঞ্ঝাট সামাল দিয়ে বিমানটির চাকা যখন বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করে চোখে পানি চলে আসে। মনে হয় মায়ের কোলে ফিরে এলাম সারাদিনের খেলা শেষে।
বেশ কয়েক মাস ধরে মাঝরাতে ঘুম ভাঙাটা এখন যেন রুটিন হয়ে গেছে। অস্বস্তি লাগে খুব। তারপরেও এই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আমাকে প্রায় প্রতিদিনই পড়তে হচ্ছে। ঘুম ভাঙ্গার পর পর বুঝতে পারি, এই ঘুম সহজে আসবেনা, তখনই বিছানা ছেড়ে উঠে আসি।
তিন তলার উপর আমার এই ফ্ল্যাটের মোটা কাঁচের ঘেরা বারান্দায় দাঁড়ালেই মন ভালো হয়ে যায়। মাঝরাতে ম্যানহাটানের আলোকোজ্জ্বল বাতি গুলো অপূর্ব সুন্দর দ্যুতি ছড়িয়ে জল জল করে, কোথাও তেমন রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকার দেখা যায় না।
হ্যাঁ মন ভালো হয়। তারমানে মন খারাপ নিয়েই আমার ঘুম ভাঙ্গে। মন খারাপের নানাবিধ কারন। ঘুম ভাঙ্গার পর খুব চায়ের পিপাসা পায়। চায়ের তেষ্টা মেটাতে সোজা কিচেনে চলে যাই। আমার চা বানানো টাও অন্য রকম। হাড়িতে পানি গরম করে তার ভেতর চা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে ছাকনি দিয়ে ছেকে নেওয়া তেমন করে আমি আবার চা পান করি না। চায়ের জন্য আমি খুব সহজ পন্থা বেছে নিয়েছি। ইলেকট্রিক কেটলিতে পানি ফুটে উঠার পর এক ধরনের বিশেষ ধরনের ছাকনি পাওয়া যায় যেটা কাচের কেটলির ভেতর থাকে (এটা সাধারনত চীন দেশের মানুষ কে আমি ব্যবিহার করতে দেখেছি। তাদের কাছ থেকেই শেখা), ছাকনিতে চা পাতা দিয়ে ফুটন্ত পানি ঢেলে দেই। চায়ের গাড় সতেজ লিকার বের হয়ে অসাধারন গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চায়ের তৃষ্ণা আরও পেয়ে বসে। রাতের নিস্তব্ধতায় ইলেক্ট্রিক কেটলিতে ফুটন্ত এই পানির গুড় গুড় শব্দটাও কেমন যেন অন্যরকম ভাল লাগে।
এই এখন মাঝরাতে অর্ণব কে ফোন করতে খুব ইচ্ছে হয়। ওর ভরাট কণ্ঠটা আজো কানে বাজে। যে সম্পর্ক রাখতে চায় না, তাকে মাঝরাতে ফোন করা হাস্যকর ব্যাপার। তাই ইচ্ছেটাকে মনের ভেতর কবর দিয়ে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আমি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই।
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ভাবনার অতলে ডুবে যাই। ভাবি এই যে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো এরকম কি অর্ণবেরও হয়? তখন সে কি করে? আমার মতই চা বানায়? নাকি বই পড়ে? রাত জেগে বই পড়া তার খুব পছন্দের ছিল, এখনো কি আছে এই অভ্যাসটি? কি যেন, আছে হয়ত! অর্ণবের সাথে সম্পর্কের ব্যর্থতাগুলো খুব ভাবায়। আচমকা ভেসে উঠে অর্ণবের সহজ সরল মুখটা। তাকে ভেবে মন খারাপ হয় অনেক রাত নির্ঘুম কাটে। কিন্তু যখন বুঝতে পারি সেও নিজেকে একাকীত্বের শৃঙ্খলে বেঁধে নিয়েছে তখন সুক্ষ মমত্ব বোধ মনের গভিরে জেগে উঠে । মায়াটা বড় অদ্ভুত একটা জিনিস, চাইলেই কাটিয়ে উঠা যায়না, এর রেশ ঠিকই থেকে যায়। যাই হোক আজকে এতো সব কথা কেন ভাবছি ? একবার একটা মানুষকে চিনলে তাকে তো ভুলে যাওয়া সম্ভব না হঠাত বুকের ভেতর কেঁপে উঠে অর্ণব এর জন্য।
(চলুক)
০২ রা আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৬:৫৪
রাবেয়া রাহীম বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। এটা আমার আত্মকথন নয় । আত্মকথন এর আদলে গল্প লেখার চেষ্টা মাত্র।
আপনার ভাল লাগায় অনেক উতসাহ পেলাম।
২|
০১ লা আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৯:১৬
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: সাতকাহনের মেতাই সাত কাহন ![]()
+++++++++++
০২ রা আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৬:৫৫
রাবেয়া রাহীম বলেছেন: অনেক অনেক ভাল লাগা রইল। ২য় টা লিখে ফেলেছি। দেখি কতদুর যেতে পারি। এক্সপেরিমেন্টাল ।
৩|
০১ লা আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৯:১৭
খায়রুল আহসান বলেছেন: আরেকটু বড় হলে ভালো হতো। ঘুম ভাঙ্গার পর আপনার চায়ের তেষ্টার মতই গল্পের শেষে এসে আরেকটু জানার তেষ্টা অনুভব করলাম। চালিয়ে যান লেখা, অপেক্ষায় থাকবো।
০২ রা আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৬:৫৬
রাবেয়া রাহীম বলেছেন: খায়রুল ভাই আপনার তেষ্টা মেটানোর জন্য আজ অনেক খানি লিখেই ফেললাম।
অপেক্ষার কিছুটা অবসান হবে।
অনেক অনেক ধন্যবাদ রইল, ভাল থাকবেন।
৪|
০২ রা আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৬:০৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন: খুবই ভাল লাগল। আরো একটু বড়
হলে লিখাটি পড়ে আরো অনেক সুখ পাওয়া যেত।
শুভেচ্ছা রইল ।
০২ রা আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৬:৫৮
রাবেয়া রাহীম বলেছেন: আজ আরও একটু লিখলাম । আশা করছি কিছুটা সুখি হবেন,
উৎসাহ মুলক মন্তব্যের জন্য ক্রতিজ্ঞতা রইল।
অনেক ভাল থাকবেন।
৫|
০২ রা আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৭:০৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ প্রতি উত্তরের জন্য । নতুন লিখাটি দেখা হয়েছে ।
৬|
১৪ ই আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৭:২৬
অরুনি মায়া অনু বলেছেন: সেথা মোর দ্বীপ নেভা রাতে, নিদ নাহি দুটি আঁখি পাটে,,,,,
গল্পটি পড়ে গানটি মনে পড়ে গেল।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৯:১৬
আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আপনার আত্মকথন ভালো লাগলো। ধন্যবাদ রাবেয়া রাহীম।