| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাবেয়া রাহীম
মানব মন বুঝে, সাধ্য আছে কার ! কখনো আবেগী গাঁথুনিগুলো যেন নিরেট কনক্রিট কখনো আবার গভীরে সাজানো আবেগগুলো- সৌরভে সুবাসিত হয়ে আনন্দে লীন !
সুখের অসুখ ১ম পর্ব
ভোর ছ্য়টা ১০ মিনিট। সূর্যের আলোর হাল্কা আভা জানালার পর্দার ফাঁক গলে আহসান সাহেবের মুখে এসে পড়ে। ঘুম ভেংগে যায় তার। এক মুহুর্ত ভাবার চেষ্টা করেন পুরো পরিস্থিতি । মুহূর্তেই মনে পড়ে মাধবীর কথা। ধীর পায়ে তিনি এগিয়ে আসেন শোবার ঘরের দিকে। ভোরের মায়াময় আলো চারপাশ ছড়িয়ে আছে। আধো আলো আধো অন্ধকার ঘরে বাসর শয্যায় শুয়ে থাকা মাধবীর মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকেন তিনি। বাচ্চাদের মত করে ঘুমাচ্ছে মেয়েটি। দেখতে বেশ লাগছে। কি নিষ্পাপ মুখ! আপন মনেই ভাবেন---এই মেয়ে বিয়ে করে তিনি ভুল করেননি। মাধবীর ঘুম না ভাঙিয়েই তিনি চলে আসেন।
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে ঘুম ভাঙ্গে মাধবীর। আজকের এই ঘুম ভাঙ্গা প্রতিদিনের মতো করে নয়। সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে অচেনা জায়গায় একাকি নিজেকে আবিষ্কার করে সে। সব কিছুই তাঁর কাছে খুব অচেনা লাগে। বিছানা ছেড়ে জানালার কাছে এসে দাঁড়ায় মাধবী। জানালায় সূক্ষ্ম সুতার কারুকাজে ভারি পর্দা সরিয়ে দিতেই সকালের এক ঝাঁক মায়াবী আলোয় মন ভাল হয়ে যায় তাঁর। বাতাসে শীতের আমেজ মাখানো মধ্য পৌষের শীতে খুব শান্ত পরিবেশ চারিদিকে।
"বউমনি ঊঠে পড়েছেন"?--- দরজার ওপাশ থেকে মিহি কন্ঠ জানতে চায়।
পর্দা থেকে হাত সরাতে যেয়ে হাত ভর্তি কাঁচের চুড়ির রিনিঝিনি শব্দের ঢেউ তুলে মাধবী উতসুক হয়ে জানতে চায় ---
"কে? ভেতরে এসো"
"আমি শেফালীর মা, আপনার সাথে এখন থেকে সারাক্ষণ থাকবো"।
"সারাক্ষণ কেন থাকবে"? অবাক হয়ে মাধবী জানতে চায়
মুখ ভর্তি পানে এক গাল হেসে শেফালীর মা বলতে থাকে----"বড় সাহেব এমন বলেছেন আমাকে। নীচে বড় সাহেব নাস্তার টেবিলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন। আপনাকে ডেকেছেন।"
মাধবী নিজেকে পরিপাটি করে গুছিয়ে শেফালীর মা'র পিছু নেয়।
নীচের তলার পুরোটাই বসার ঘর, ডাইনিং, রান্না ঘর আর কাজের লোকদের থাকার ব্যবস্থা। বাড়ীর সামনে বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে বাহারি ফুলের টবের সারি। দেবদারু আর ইউক্যালিপটাস গাছ বাড়ীর সীমানা প্রাচীর ধরে লাগানো। চারিদিকটা খুব নির্জন ! অবশ্য পাশের রাস্তা ধরে কিছু রিকশার টুংটাং বেলের আওয়াজ নির্জনতায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
হরেক রকম খাবারে ডাইনিং টেবিল সাজানো। আহসান সাহেব বসে আছেন হাতলওলা বড় চেয়ারে। খবরের কাগজ দিয়ে মুখ ঢাকা তাঁর। মাধবীর পায়ের শব্দ, শাড়ির খসখস, চুড়ির রিনঝিন আহসান সাহেবের প্রতিদিনের খবর পড়ায় বাধা হয়ে উঠে, খবরের কাগজ সরিয়ে মাধবীর দিকে চেয়ে নরম গলায় বলেন----
"আমার সাথে নাস্তা করো"।
তিনি বুকে ছটফটানি অনুভব করেন। গতকাল রাতে নববধুকে সময় না দিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়াটা বেশ বোকামির পর্যায়ে হয়ে গেছে।
সন্ধ্যা প্রায় শেষ হতে চলল। এই সময়টায় আকাশ থেকে ভেসে আসা অদ্ভুত আলোর রাশি পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করে রাখে। সব কিছুই খুব মায়াময় হয়ে উঠে! মাধবী বিছানার উপর শুয়ে আছে । মোটামুটি বেআবরু অবস্থায় । আহসান সাহেবকে ঘরে ঢুকতে দেখে একটু চমকালো। বিছানা ছেড়ে উঠে নিজেকে খানিকটা ঢাকার চেষ্টা করে সে। গোলাপি শাড়ীতে আজ তাকে অবাক করা সুন্দর লাগছে।
আহসান সাহেব মাথার বালিশটি খাটের উপর সোজা করে দিয়ে তাতে ঠেস দিয়ে বসে পরলেন । মাধবীকেও ইশারায় বসতে বললেন
মাধবী ঠিক যেন কাঠের পুতুল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । পেন্ডুলামের মত এদিক ওদিক মাথা নেড়ে খাটের এক পাশে বসে পড়লো । আহসান সাহেব অভিভাবকের সুরে বলেন---
"কখনো আমার অবাধ্য হবার চেষ্টা করবেনা, আমি এতোটা বয়সে যেমন তেমনই থাকবো, আমাকে বদলানোর চেষ্টা করবেনা"।
মাধবী তার কাজলমাখা গভীর কালো চোখ তুলে তাকালো। সেই চোখে প্রবল বিস্ময়! দুচোখ উপচে উঠা জলে ঝাপসা দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকায় সে । উপর নিচে মাথা নাড়ে শুধু । তার মানে সে সব মেনে নিয়েছে।
মাধবীর চেহারার সরলতায় আহসান সাহেবের চোখে ঘোর। পৃথিবীটা যেন এই সময়ে অবাক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকে তাঁদের দিকে !
পেটের উপর খুব ভারী বস্তুর আনুভবে হাঁসফাঁস করে ঘুম ভেঙ্গে যায় মাধবীর । আহসান সাহেবের বিকট নাক ডাকার শব্দেও কিছুটা ভীত হয়ে পরে সে। পেটের উপর থেকে স্বামীর হাত সরিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় মাধবী। আজ খুব কুয়াশা চারিদিকে। খুব কাছে কোথাও সিকিউরিটি গার্ডের বাঁশির হুইসেল বেজে উঠে। বারান্দার আবছা অন্ধকারে আরাম চেয়ারটার দিকে এগিয়ে যায় মাধবী। বিয়ের পর আজ তার দ্বিতীয় রাত এই বাড়ীতে। হঠাত শরীরটা দুর্বল লাগে। কেমন এক মন খারাপ করা একাকীত্বও পেয়ে বসে। বুকের ভেতরে জমানো তীব্র অভিমান চোখ বেয়ে নেমে আসে।
(অনেকদিন পর দ্বিতীয় পর্ব লেখার ইচ্ছা হোল জানিনা আবার পরের পর্ব লেখার ইচ্ছা কতদিন পর হয়)
১৪ ই জুন, ২০১৭ রাত ৯:৩৬
রাবেয়া রাহীম বলেছেন: তাই বা কম কি অনেক তৃষ্ণার পর!!
ধন্যবাদ অনেক ।
২|
১৪ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৫০
শায়মা বলেছেন: আহসানসাহেবকে আমার ভয় লাগছে।
বাট অনেক ভালো লাগা গল্পে আপুনি! যেন সিনেমার মত দেখতে পেলাম!
১৪ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:১৭
রাবেয়া রাহীম বলেছেন: ভীতিকর চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে আমারও ভয় লাগে আপু ---তাই এত দেরি হয়
তোমার ভাল লাগায় আনন্দ পেলাম অনেক । ভালবাসা নিও ।
৩|
১৫ ই জুন, ২০১৭ রাত ৩:৫০
মিঃ আতিক বলেছেন: সুখের অসুখ নামে একটা উপন্যাস লিখেছিলেন ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সিটিউট এর শিক্ষক জনাব ইদ্রিস আলী। দেখি আপনারটার গল্পের শেষ কি হয়।
১৫ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৪:০০
রাবেয়া রাহীম বলেছেন: হুম --দেখা যাক
অনেক ধন্যবাদ।
৪|
১৫ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২৯
গেম চেঞ্জার বলেছেন: এটা কি হলো! ![]()
এইরকম একটা মেয়েকে বিয়ে করাটা কি ঠিক এই টাইপ বুড়ো মানুষের?
খারাপ লাগলো খুব!
১৫ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫১
রাবেয়া রাহীম বলেছেন: ভাইয়া আমাদের রেল মন্ত্রীর কথা মনে আছেনা ?
অনেক ধন্যবাদ খারাপ লাগলো বলে তারমানে চরিত্র ঠিক ঠাক এগোচ্ছে ![]()
৫|
১৫ ই জুন, ২০১৭ রাত ৮:০২
গেম চেঞ্জার বলেছেন: এর পরের পর্ব দ্রুত চাই-ই-ই-ই
১৫ ই জুন, ২০১৭ রাত ৮:১৪
রাবেয়া রাহীম বলেছেন: এখন তো খেলা দেখি । আরেকটু পরে লিখতে বসি? ![]()
৬|
১৫ ই জুন, ২০১৭ রাত ৮:১৭
গেম চেঞ্জার বলেছেন:
আমি তো টিভি বন্ধ করে ফেবু/ব্লগে চলে আসলাম!! ![]()
৭|
২২ শে জুন, ২০১৭ রাত ২:৫১
নাগরিক কবি বলেছেন: বুবু আপনি দেখি ছবি বানায় ফেলছেন
, পূর্বের লিংক গুলো এড করে দিতে পারতেন এভাবে কপি করে না দিয়ে। ![]()
২২ শে জুন, ২০১৭ ভোর ৫:০৪
রাবেয়া রাহীম বলেছেন: চল্মান ছবি কে কীবোর্ডের আচরে ধরার চেষ্টা । লিঙ্ক দিলাম কপি করে। কিন্তু গল্প কেমন লাগলো সেটা বলতে ভুলে গেছো । ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই জুন, ২০১৭ রাত ৯:৩৩
চাঁদগাজী বলেছেন:
এই পর্বে তো কিছু নেই, কলসীর তলায় সামান্য পানি মাত্র