| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হাত বাড়ালেই স্যালাইন। শুধু ওষুধের দোকানেই নয়, স্যালাইন মিলছে মুদির দোকানেও। ডায়রিয়া বা যেকোনো ধরনের পানিশূন্যতা পূরণের জন্য খাচ্ছি স্যালাইন। খাওয়াচ্ছি শিশুদেরও। সুসংবাদ বটে। কিন্তু ‘টেস্টি’ স্যালাইনের নামে কী খাচ্ছি আর কী খাওয়াচ্ছি? অনুমোদন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কথিত কিছু খাদ্যদ্রব্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান উত্পাদন করছে টেস্টি স্যালাইন। দুঃসংবাদ হচ্ছে, এসব টেস্টি স্যালাইন স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে-এমন সাবধানবাণী শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব স্যালাইন কোমলপানীয় বা এনার্জি ড্রিঙ্কস হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে। অবৈধ এসব খাবার স্যালাইনে এখন বাজার সয়লাব। চোখ ধাঁধানো বাহারি মোড়ক ও চটকদার তথ্য প্রচার করে এসব স্যালাইন বিক্রি করা হচ্ছে।
‘টেস্টি স্যালাইন’ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই এ পণ্য তৈরি করছে। তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডও মানছে না। বিএসটিআইয়ের স্যালাইন অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তারা স্যালাইনের মানদণ্ড নির্ণয়ও করতে পারে না। এমন এক অবস্থায় টেস্টি স্যালাইন বাজারজাত চলছে। মানুষ চটকদার কথার প্রলোভনে পড়ে নির্দ্বিধায় এসব পান করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, এক প্যাকেট স্যালাইনে সোডিয়াম ক্লোরাইড ১.৩০ গ্রাম, পটাসিয়াম ক্লোরাইড ০.৭৫ গ্রাম, ট্রাইসোডিয়াম সাইট্রেট ১.৪৫ গ্রাম ও গ্লুকোজ অ্যানহাইড্রাস ৬.৭৫ গ্রাম থাকতে হবে। কিন্তু বাজারে বিক্রি হওয়া কথিত টেস্টি স্যালাইনগুলোর প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদান ও পরিমাণের কোনো মিল নেই। প্যাকেটের গায়ে লেখা পরিমাণ হু’র মানদণ্ডের অনেক কম। এমনকি এক প্রতিষ্ঠানের স্যালাইনের সঙ্গে মিল নেই অন্যগুলোর উল্লিখিত উপাদানেরও।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ ও একটি ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ইনডোর মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ডা. সায়েদুল ইসলাম বলেন, খাবার স্যালাইন শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইলেকট্রোলাইটরের ফলে দেখা দেওয়া পানি ঘাটতি পূরণ করে। কিন্তু অনুমোদিত বা অবৈধ স্যালাইন শরীরের সে ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। ফলে কার্যকর মনে করে এসব স্যালাইন খাওয়ালে অসুস্থ শিশু বা ব্যক্তি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে। অন্যদিকে খুব বেশি খেলে এসব স্যালাইন পানি ঘাটতি পূরণের পরিবর্তে শরীর থেকে পানি বের করে এনে শরীরকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অর্থাত্ এ ধরনের স্যালাইনে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।
সম্প্রতি বাজার থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানের অবৈধ খাবার স্যালাইন সংগ্রহ করা হয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর বাজার থেকে জব্দ করেছে আরও ১৫টি প্রতিষ্ঠানের অবৈধ স্যালাইন। অধিদফতরের সহ-পরিচালক সেলিম বারামী জানান, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের খাবার বা টেস্টি স্যালাইন উত্পাদনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাজারে পাওয়া খাদ্যদ্রব্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্যালাইন সম্পূর্ণ অবৈধ। কারণ তাদের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অধীনে গঠিত ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির অনুমোদন নেই। তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডও মানছে না।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপ-পরিচালক (মান সনদ শাখা) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএসটিআই কোনো টেস্টি স্যালাইনের অনুমোদন দেয় না। স্যালাইনের জন্য কোনো মানদণ্ডও বিএসটিআইয়ের নেই।
বাজার থেকে সংগৃহীত স্যালাইনের প্যাকেট থেকে স্যালাইন ও প্রস্তুতকারক সাতটি প্রতিষ্ঠানের নাম জানা গেছে। এগুলো হল-ইউনিভার্সাল টেস্টি স্যালাইন, ইউনিভার্সাল ফুড লিমিটেড, দিলালপুর, পাবনা; ইন্ট্রা টেস্টি স্যালাইন, ইন্ট্রা ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বলরামপুর, পাবনা; শ্যামলী টেস্টি স্যালাইন, শ্যামলী ফুড প্রডাক্টস লিমিটেড, পাবনা; সোশ্যাল টেস্টি স্যালাইন, সোশ্যাল ফুড প্রডাক্টস, রাজবাড়ী; বেনিসন টেস্টি স্যালাইন, বেনিসন ফুড প্রডাক্টস, গাজীপুর ও টেস্টি স্যালাইন-প্লাস, টেস্টি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা। অন্যদিকে কিছু স্যালাইনের প্যাকেটের গায়ে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম বা ঠিকানা নেই। এদের একটি নিয়ম ফুড-টেস্টি স্যালাইন। নিয়ম ফুড টেস্টি স্যালাইনের মোড়কে কোনো ঠিকানা বা উপাদানের পরিমাণ লেখা নেই। নেই ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুমোদিত ডিএআর (ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেজিস্ট্রেশন) নম্বর। সবকটি মোড়কের রং একই। নজর কাড়তে ও বিক্রি বাড়াতে গায়ে দেখা গেল চটকদার সব তথ্য। ইন্ট্রা টেস্টি স্যালাইনের মোড়কে লেখা রয়েছে, ‘ইন্ট্রা টেস্টি স্যালাইন ওষুধ নয়, এনার্জিসমৃদ্ধ কোমল পানীয়’। নিয়ম ফুড টেস্টি স্যালাইনের মোড়কে লেখা, ‘সুস্বাদু এনার্জি জাতীয় খাদ্য উপাদান দ্বারা প্রস্তুতকৃত’। ইন্ট্রা ও শ্যামলী টেস্টি স্যালাইনের প্যাকেটের গায়ে উত্পাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই।
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহ-পরিচালক সেলিম বারামী জানান, উল্লিখিত স্যালাইন ছাড়াও তারা বাজার থেকে অন্তত আরও সাত-আট ধরনের অবৈধ টেস্টি স্যালাইন জব্দ করেছেন। এর মধ্যে বেশি জব্দ করা হয়েছে ইউনিভার্সাল টেস্টি স্যালাইন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তবুও উত্পাদন বন্ধ নেই।
ঢাকা কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গেটসংলগ্ন শরীয়তপুর ফার্মেসির বিক্রেতা কবীর জানান, ওষুধের দোকানগুলোতে অনেক রকম স্যালাইন বিক্রি হচ্ছে। তারা বিক্রি করছেন কেবল সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি ও গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির স্যালাইন। বাকি স্যালাইনগুলো টেস্টি স্যালাইন নাম দিয়ে এনার্জি ড্রিঙ্ক হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। সবকটির দামই প্যাকেটপ্রতি ৫ টাকা। তবে ‘টেস্টি’গুলো বাজার থেকে দোকানিরা কিনছেন মাত্র এক থেকে দেড় টাকায়।
সরকারি খাবার স্যালাইনের উত্পাদন ও বিতরণ সেলের উপ-পরিচালক ডা. শাহআলম বলেন, খাবার স্যালাইন তৈরি করতে হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া মানদণ্ড মানতেই হবে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, খাবার স্যালাইনকে কোমল পানীয় কিংবা এনার্জি ড্রিঙ্কস হিসেবে লেখা ঠিক নয়। যেহেতু এসব স্যালাইনের কোনো পরীক্ষিত অনুমোদন নেই, তাই এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
২|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:১৪
শহীদ ২৩ বলেছেন: অতিস্বত্তর এসব সেলাই উৎপাদন ব্ন্ধ করার দাবি জানাই
৩|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:২৫
সরকার আল-আমীন বলেছেন: আমরা ভেজালেই মানুষ, ভেজালেই বড় হচ্ছি।
৪|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:৩৯
একজন ঘূণপোকা বলেছেন:
৫|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:৪৩
নাগরি২৯০ বলেছেন: এটা ও একপ্রকার ডিজিটাল স্যালাইন ,যার নাম টেস্টি স্যালাইন
৬|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:১৪
শূন্য পথিক বলেছেন: আমারও জানার ছিল...
৭|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:২১
মাহী ফ্লোরা বলেছেন: ভাল পোষ্ট।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:০৫
জনৈক গণ্ডমূর্খ বলেছেন: