নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সুখী ফয়সালের কটুকথা......

আমি অতি সাধারন একটা মানুষ......

ফয়সালের কটুকথা

আমি অতি সাধারন একটা মানুষ।

ফয়সালের কটুকথা › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিবেকের কাছে কিছু প্রশ্ন

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:০৩



আমি এক আমজনতা। যদি আমজনতার চেয়েও সাধারন কোনো জনতা থেকে থাকে আমি হয়তো সে হবো না, কারন আমি এই ব্লগটি লিখে আমার মনেজাগা অনুভূতিটা প্রকাশ করতে পারছি। সেই শ্রেনীর মানুষগুলো তা পারছে না! যেমন, একজন দিন মজুর কুলি অথবা রিক্সা ওয়ালা। নিজেকে সেই বিবেচনায় যথেষ্ট সৌভাগ্যবান মনে করি।তবু দেশের সুশীল শ্রেনীর কাছে আমি হয়তো কোনো মানুষই নয়, আমি এক গর্ধব শ্রেনীর গোবর গর্ভ মস্তিষ্কের মানুষ। আমার কথায় এই দেশের মেধাবী অথবা দেশের রাজনৈতিক সুশীলদের কিছুই যায় আসে না। তবুও আমজনতার খায়েশ হয়, নিজের মনে জাগা প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে। দেশ মাতৃকা আজ এমন এক চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে যেখানে সব ব্যপারে নাক গলানো যায় না, এখানে সকল বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর জানা যায় না। এরা গুগল কিংবা উইকিপিডিয়ার মত উদার না, এদের প্রশ্ন করা এবং উত্তর পাওয়া দু’টোই দূরহ ব্যপার।

তবু আমি এক আশ্চর্য্য বিশ্বাসী মানুষ। আমার খুব দৃঢ় ধারনা এই যে, এমন মানুষ কেউ না কেউ আছে যে নিরবে সাহস নিয়ে সব প্রশ্ন শুনবে এবং ঠান্ডা মাথায় যুক্তি দিয়ে তার প্রত্যেকটির যুক্তি খন্ডন করবে। আমি আশাবাদী হতে চাই, এই দেশের মানুষ আমার মত সত্য জানায় ও বলায় সাহসী এবং আগ্রহী হবে।

ইমাম গাজ্জালী’র একটা কথা মনে পড়ে-- নিজের চিন্তা মতামত এবং কাজ-কর্মকে কেউ যদি সর্বাপেক্ষা উত্তম মনে করে এবং অন্যের সব কিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করার চেষ্টা করে তার নামই আত্ম শান্তি এবং ইহা একটি মারাত্মক চারিত্রিক দোষ।

আমরা এই দোষে আক্রান্ত হতে চাই না, তবু কেন যে আজ আমাদের চার-পাশের মেধাবীগুলো নিজের কাজ এবং জ্ঞানকেই সর্বাপেক্ষা সঠিক বলে মূল্যায়ন করে তা আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না। কোনো মানুষেরই সব কর্ম-কথা সঠিক নয় আমার কারোই সব কর্ম-কথা ভুল নয়। তাই সাদা-কালো অথবা সত্য-মিথ্যা আলাদা করার এবং অন্যের মতামত-কে মুল্যায়ন করার মানসিকতা তৈরি করা খুব জরুরি মনে করছি।

আজ যুদ্ধপরাধের বিচার নিয়ে দেশ এক মারাত্বক ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে পড়েছে, শুরু হয়েছে চরম ঘৃণ্য ধর্মীয় আক্রমণ। এটাতো আমাদের শান্তি প্রিয় দেশের স্বাভাবিক চিন্তা ধারার একদম বাইরে। তবে কেন এই একটা ইস্যুতে দেশকে চরম অশান্তির দিকে ঠেকে দেয়া হচ্ছে? এই প্রসঙ্গে আমার কিছু জোরালো প্রশ্ন আছে, আমি জানি আমার এই ব্লগ পড়ার মত এত সময় রাষ্ট্রের নিতীনির্ধারকদের নেই। তবু নিজ মনে প্রশ্ন করে যাই কিছু মঙ্গল প্রয়াসের আশায়—



প্রশ্নঃ১। একটা রাষ্ট্রের বিধান অনুযায়ী জনগণের জান-মালের নিরাপত্তার দ্বায়ীত্ব সরকারের। সরকার বিশ্বজিতের জানের নিরাপত্তা দিতে পারেনি, পারেনি ব্লগার রাজীবের নিরাপত্তা দিতে। পারছেনা সংখ্যালঘু মানুষগুলোর পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, ইসলামের নামে কুৎসা রটানো এবং ধর্মীয় লেবাসে চলাচলকে স্বাভাবিক নিশ্চিত করতে পারছে না সরকার। বরং সরকারী বাহিনী দিয়ে সাধারন জনগনের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ভীতি চড়াচ্ছে কিন্তু তা কেন হবে? যার ক্ষুদ্র প্রমান এখানে--

Click This Link

প্রশ্নঃ২। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, এই নীতিতে বিশ্বাস করি। আমি একজন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মানুষ, আমি নামাজীদের অসম্যান সহ্য করতে পারি না। নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে পুলিশের বিভ্রতকর প্রশ্নের মুখে পড়ি। এর চেয়ে অপমান জনক আর কি হতে পারে?

প্রশ্নঃ৩। মানুষ মাত্রই আবেগী, যে কেউ তার পছন্দ-অপছন্দ অথবা ক্ষোভে আবেগ প্রবন হতেই পারে। এটা তার ব্যক্তিগত অধিকার, কিন্তু কারো আবেগ যদি রাষ্ট্রীয় অথবা আদালতের কার্যাক্রিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করে সেটা কি অস্বাভাবিক নয়? যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবী যখন কাদের মোল্লার রায়ের পর ‘ফাঁসীর দাবীতে’ রূপান্তরিত হলো, আমি ব্যক্তিগতভাবে একটুও অবাক হইনি। বরং সাহসী তরুনগুলোর জন্য সাহস করে এক গাল হেসেছি, ওরাইতো আসল তারুণ্যের প্রাণ। তিন দিন বন্ধুদের সাথে নিয়ে দেখে এসেছি তারুণ্যের প্রানের উচ্ছলতা, যার সাথে যোগ হয়েছে বহু রঙের বহু মানুষ।

আমার প্রশ্ন হলো, জনতার একটি অংশ যদি কাদের মোল্লার রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে তার রায় পরিবর্তনে আন্দোলন করতে পারে। তবে জনতার আরেকটি অংশ দেলোয়ার হোসেন সাঈদির মামলার রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলোন করতেই পারে। শাহবাগের আন্দোলোন যদি আবেগীয় যৌক্তিক হয়, তবে তাদের আবেগ আপনার কাছে অযৌক্তিক কেন?

আমার মন্তব্যঃ আবেগতো আবেগই, সেটা শাহবাগের হোক আর জামাত-শিবিরের হোক। কোনো আবেগকেই প্রশ্রয় দেয়া উচিত না, বিচার হবে সাক্ষ্মী-প্রমান এবং যুক্তি দিয়ে কারো আবেগের প্রতিবাদ দিয়ে নয়। আপনি অনুগ্রহ করে দুই প্রতিপক্ষ আবেগীদের ঘরে ফেরার আহবান করুন, যুক্তির বিচার ছাড়া মুক্তি অসম্ভব। আবেগ দিয়ে আর যাই হোক রাষ্ট্রীয় কিংবা জাতীয় কল্যান সম্ভব না।

প্রশ্নঃ৪। দেলোয়ার হোসেন সাঈদির বিচারের রায় নিয়ে তার প্রধান আইনজীবি ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য যথেষ্ট বিভ্রান্তিকর! তিনি বলছেন যে- দেলোয়ার হোসাইন সাঈদির বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি হত্যা কিংবা ধর্ষনের অভিযোগই প্রমান করা সম্ভব হয় নি, এটা নাকি কেবলি অনুমানে উপর দেয়া রায়! আজ (০৩,০৩,২০১৩)এর দিগন্ত টিভি’র দুপুরের সংবাদে যা প্রচারিত, দিগন্ত আরো এমন একজনের সাক্ষ্য ফাইল ফুটেজ উপস্থাপন করেন যার ভাই নাকি আদালতে সাক্ষ্মী হিসেবে ছিলো এবং পরবর্তীতে তিনি নাকি গুম হয়ে যান!! কি সব ভয়াবহ প্রচারনা!!!

যদি এই প্রচারনা গুলো সত্য না হয়, তবে সরকার কেন ব্যারিষ্ট্রার রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনছে না। এবং কেন দিগন্ত টিভি-কে ট্রাইব্যুনাল থেকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে না?

প্রশ্নঃ৪। মানুষ হত্যা কোনো সভ্য রাজনীতির নিদর্শন হতে পারে না। তবু এই দেশে তাই কেন হচ্ছে? হতেই পারে সে যে কোনো মতের বা যে কোনো দলের, তবু তার সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। আজ আওয়ামী লীগের কোনো প্রিয় নেতার বিরুদ্ধে যদি আদালত তার কৃত অন্যায়ের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণা দেয়, আবেগ প্রবন হয়ে হলেও অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী তার জন্য মাঠে নামবে এবং আন্দোলন করবে। পুলিশ বাঁধা দিলে হয়তো তারা সে বাঁধা মানবেও না। তাই বলে কি তাদেরকে গুলি করে মেরে পেলতে হবে?! অন্যায় করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হোক আইনের আওতায় আনা হোক, তাই বলে মানুষ মারতে হবে কেন?



ব্যক্তিগত মন্তব্যঃ জামাত-শিবিরের সাথে যেহেতু বিএনপি আছে এবং ট্রাইব্যুনাল ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে যেহেতু তারাও সন্তুষ্ট না। আমাদের মনে রাখতে হবে, তারা দেশের একটা বড় অংশ এবং প্রায় অর্ধেক অংশ। তার উপর এখন আবার ধর্মীয় মতধারার মানুষগুলো আলাদা হয়ে আরেক গ্রুপে আছে, এটা কোনোভাবেই একটা শান্তিপ্রিয় দেশের জন্য শুভ লক্ষন না। তাদের মতটাকে মূল্যায়ন করা উচিত, যৌক্তিক কথাগুলো শোনা উচিত। আবেগের বিচার থেকে নয়, আইনি এবং সঠিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই যুদ্ধাপরাধের বিচারের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে প্রতিষ্ঠা করা উচিত। হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান যে যাই হোক না কেন, আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা মানুষ। আমাদের মাঝে মনুষ্যত্ব নামক একটা বিশেষ জ্ঞান আছে, কোনোভাবেই তাকে অকার্যকর করা উচিত হবে না। কোনোভাবেই বিবেকবান মানুষ হয়ে অরেকজন মানূষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলা উচিত না। সবাই আপনার মত জ্ঞানী না এটা সত্যি আবার সবাই যে আমার মত ক্ষুদ্রজ্ঞানী সেটা ভাবাও বোধহয় উচিত না। সোস্যাল মিডিয়াতে এখন প্রায়ই দেখি ভিন্নমতের মানুষকে বলা হয় ‘ছাগু’ ‘আবাল’ ‘নষ্ট বির্য’ সহ আরো বহু কূরুচিপূর্ণ শব্দ। মনে রাখা উচিত যার যার ভাষা এবং ব্যবহার তার ব্যক্তিগত পরিচয় বহন করে। তর্ক করুন যুক্তি দিয়ে, আবেগ দিয়ে নয়।

আল্লাহ্‌ আমাদের সহায় হোক, শুভ হোক সকল মঙ্গল প্রয়াস।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:১২

ভুমি_রাজস্ব্_কর বলেছেন: প্রশ্নটা কি বিবেক খেয়ে ফেলেছে?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.