নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সুখী ফয়সালের কটুকথা......

আমি অতি সাধারন একটা মানুষ......

ফয়সালের কটুকথা

আমি অতি সাধারন একটা মানুষ।

ফয়সালের কটুকথা › বিস্তারিত পোস্টঃ

সত্য কি!

০৫ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:০৫





ফেসবুক সহ ভিবিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় হুজুগে বাঙ্গালের আজ হিড়িকিয় হুজুগের জয় জয়কার দেখা যাচ্ছে। জামাত-শিবিরের কিছু স্বল্প জ্ঞানী কর্মী নিজকে অধিকজ্ঞানী প্রমান করার জন্য কিছু কিছু মহা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কথাকে সাক্ষ্মী বানাচ্ছেন!

বিখ্যাত জ্ঞানী ড. মুহাম্মদ শহীদুলার একটা বচন- ‘যার মধ্যে কোরআনের জ্ঞান নেই সে পন্ডিত বটে তবে মুর্খ পন্ডিত’। এই কথাটি কে স্থির করে প্রচার করা হচ্ছে যে জনাব মুনতাসির মামুন, শাহরিয়ার কবির, ড. আনোয়ার হোসেন, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, হাসানুল হক ইনু এবং রাশেদ খান মেনন সহ ভিবিন্ন বিশিষ্টজনদের জ্ঞানের মাপ কাঠি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের বলা হচ্ছে মূর্খ পন্ডিত! ভাই আমার, বিনয়ের সাথে আপনাদের জিজ্ঞেস করি—পবিত্র আল-কোরআন সম্পর্কে আপনার বা আপনাদের সঠিক এবং পূর্ণ জ্ঞান আছেতো? এই প্রশ্নে আমার ব্যক্তিগত সন্দেহ প্রকট! যদি সত্যিকারের কোরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত হতেন, তবে কারো ব্যপারে ভালো না জেনে কূৎসা রটানোর চেষ্টা করতেন না। মনে রাখবেন, অন্যের জন্য গর্ত করলে সেই গর্তে আপনাকেই পড়তে হয়।

আপনার আমার মনে রাখা উচিত তারা যেই মানের জ্ঞানী তার ক্ষুদ্র কণা টুকুও আমাদের অনেকের নেই, জ্ঞানীর প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য সঠিক জ্ঞানটাই থাকা উচিত। কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলা একমাত্র নির্বোধকেই সাজে।

প্রশ্ন উঠেছে ড. আনোয়ার হোসেন স্যার নাকি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে মাওলানা সাঈদিকে “কুত্তার বাচ্চা” বলে গালী দিয়েছেন! কয়েকটি দৈনিকে প্রচারিত খবর অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে নিজের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ শোনার পর আত্মপক্ষ সমর্থন করে কিছু বলতে চেয়েছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। কাঠগড়া থেকে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বিচারকদের উদ্দেশে কিছু বলতে চাইলে ‘কুত্তার বাচ্চা চুপ, একদম চুপ’ বলে তার দিকে তেড়ে যান জাবি ভিসি আনোয়ার হোসেন। তার সঙ্গে যোগ দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসূফ বাচ্চু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুনতাসীর মামুন, প্রসিকিউটর শাহিদুর রহমানসহ কয়েকজন। ইউসূফ বাচ্চু ও মুনতাসীর মামুন ‘তুই রাজাকার চুপ, কোনো কথা বলবি না, চুপ। রাজাকারের আবার কিসের কথা’ বলে চিল্লাতে থাকেন। জনাব বাচ্চু ‘ওই রাজাকারের বাচ্চা, চুপ কর’ বলে তার দিকে তেড়ে আসেন।

যদি এই কথাগুলো সত্য হয়, তবে আমি চরম আহত ও হতাশ! একজন গুনী ব্যক্তির কাজ থেকে আরেকজন গুনীর কদর আমরা আশা করতেই পারি। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদির বিরুদ্ধে কি এবং কেমন অপরাধের অভিযোগ আছে তা হয়তো সবাই জানেনা কিন্তু তার মত ব্যক্তিদের গুণ ও জ্ঞান নিয়ে আশা করি আমাদের কারোই সন্দেহ থাকার কথা না। ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এই মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দেননি এবং সেখানে উপস্থিতও ছিলেন না, তার বাবার হত্যাকান্ড সম্পর্কে “জোছনা ও জননীর গল্পে” হুমায়ুন আহমেদ স্যার সাঈদিকে অভিযুক্ত করে কোনো লেখা লিখেছেন বলে আমি দেখিনি। আমি বিশ্বাস করি, জাফর ইকবাল স্যারের শত ক্ষোভ এবং চুড়ান্ত আবেগ জমে গেলেও তিনি কাউকে বিদ্রূপকরে অথবা গালী দিয়ে কথা বলতেন না। তার উপর মাওলানা সাঈদির মত একজন ব্যক্তি-কে ড. আনোয়ার হোসেনের মত একজন গুনী ব্যক্তি এমন অকথ্য ভাষায় গালী দিয়েছেন আমার ভাবতেই লজ্জা হয়। বাকীদের ব্যপারে একেক করে মন্তব্য করতে চাই না, আমার সাহস হচ্ছে না এত গুনীদের এমন লাগামছাড়া রাগ নিয়ে মন্তব্য করতে। আমি খুবই দুঃখিত ও লজ্জিত। স্যার মহোদয়, একটা পুরোনো কথা বলি “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন”!

চাঁদে সাঈদির মুখ দেখা যাওয়া বা আধ্যাত্বিক কিছু ঘটে যাওয়ার মত আজগবি এবং অযৌক্তিক গল্প যারা বিলি করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলি আপনার একটি ঠাট্রাকরা মিথ্যা এই সংকটের সময়ে জাতিকে আরো মহাসংকটে পেলে দিতে পারে। আপনি যে দলের বা যে মতেরই হোন না কেন, এই মিথ্যার তীব্র খেসারত আপনাকে একদিন দিতে হবে এই সত্যটা মনে রাখবেন। আশা করি জাতীয় স্বার্থে এই ফালতু ও অযৌক্তিক অপ্রাসঙ্গিক মিথ্যাচার থেকে দূরে থাকবেন।

ইসলাম নিয়ে যদি আপনাদের উদ্ভিগ্নতা দেখা দেয় তবে আমি বলবো, এর চেয়ে কতশত ভয়াবহ যুদ্ধ আমরা দেখেছি আফগানিস্তান ও ইরাকে। কত নিরীহ মানুষ নির্বিচারে মারছে ইসরাইল’রা ফিলিস্তিনে, আল্লাহ্‌ সেখানে যদি অলৌকিক সমাধান না দিয়ে থাকেন তবে এত হাল্কা বিষয়ে আমাদেরও দিয়ে দেয়ার কথা না। আল্লাহ্‌ একমাত্র আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় করে দিতে পারেন, দিতে পারেন একটি সুন্দর রাষ্ট্রীয় সমাধান।

আল্লাহ্‌ আমাদের সহায় হোক, শুভ হোক সকল মঙ্গল প্রয়াস।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.