নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মেঘের আলোয়

সুমন্ত গুপ্ত

১৯০৪১৯৮৪

সুমন্ত গুপ্ত › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিছুটা সময় ডিবির বিলে ......... সুমন্ত গুপ্ত

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:০০

কিছুটা সময় ডিবির বিলে ......... সুমন্ত গুপ্ত

এ যেন শাপলার রাজ্য। লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র লাল শাপলা হার মানিয়েছে সূর্যের আভাকেও। বিলের জল প্রায় দেখাই যায় না। সবুজ পাতার আচ্ছাদনে ঢাকা পড়েছে বিস্তীর্ণ জলরাশি। লাল শাপলার হাঁসি যে কোন মানুষকেই তার মনের বন্ধ দুয়ার খুলে দেয়। বন্ধুরা আমি বলছি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত পাশাপাশি চারটি বিলের কথা সেখানে দেখা মিলবে চোখজুড়ানো এমন দৃশ্যের। বিল গুলো এ রকম অপরূপ সাজে সেজে রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই বিল পরিচিতি পেয়েছে, ‘ডিবি বিল’ নামে। বিলগুলোর নাম হচ্ছে ডিবি বিল, কেন্দ্রী বিল, হরফকাটা বিল ও ইয়াম বিল। চারটি বিলের অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে। প্রথমে এই বিল এর খবর পাই ফটো সাংবাদিক আনিস মাহামুদের কাছ থেকে এখনো ঐ স্থান টি ভ্রমণ পিপাসীদের চোখে পড়েনি।
আমি আর আমার ভ্রমণ সঙ্গী আমার মা, সিলেট শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিল । আগে থেকে বলে রাখা ভালো বিলের আসল সৌন্দর্য দেখতে হলে পড়ন্ত রোদ পড়ার আগে যেতে হবে । আমাদের পৌঁছাতে একটু দেরীই হয়ে গিয়েছিল। যাত্রা পথে প্রাকৃতিক দৃশ্য আপনার মন কেড়ে নিবে। গন্তব্য স্থল এ পৌঁছে দেখা পেলাম এক অপরুপ দৃশের ।দূর থেকে দেখলে সবুজের মধ্যে অসংখ্য ক্ষুদ্র লাল লাল বৃত্ত দেখে ঠাঁহর করা দুরূহ জিনিষগুলো আসলে কি? দূরত্ব কমার সাথে সাথে একসময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে ফুলের অস্তিত্ব। আগাছা আর লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র লাল শাপলা। পূব আকাশে সূর্যের লাল আভা যেন হার মেনেছে রক্তিম শাপলার কাছে। প্রকৃতির বুকে আঁকা এ যেন এক নকশি কাঁথা। আগাছা আর লতা-পাতায়, বিলের হাজারো শাপলা, চোখ জুড়ায় পথচারীদের। বিলের যত ভেতরে যাওয়া যায়, ততই বাড়তে থাকে লালের আধিক্য। এ যেন এক শাপলার রাজ্য। বিল এ যারা থাকেন তাদের জীবন আর জীবিকা বেশ ভিন্ন। তাদের এই বিল এর ওপর নির্ভর করে জীবন প্রবাহ করে। বিলে পৌঁছে দেখা পেলাম এক মহিলা শাপলা তুলছেন। উনাকে অনুরোধ করায় উনিই রাজি হলেন ডিবির বিল এর আশেপাশে ঘুরে দেখানোর জন্য । উনার নাম জিজ্জেস করায় বললেন সুচিত্রা দেবী। তিনি বললেন এ বিলে ঠিক কবে থেকে, শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে তা নিয়ে নেই সঠিক কোন তথ্য। তবে, স্থানীয় বয়স্কদের কাছ থেকে জানা যায় জন্মের পর থেকেই, এভাবে শাপলা ফুটতে দেখেছেন তারা। প্রায় ৭০০ একর জায়গায় বিস্তৃত চারটি বিল। পুরো বিল ঢাকা পড়েছে শাপলায়। প্রস্ফুটিত শাপলা ফুল দেখতে অনেকটা আলোকরশ্মি বিচ্চুরিত নক্ষত্রের মতো। শাপলা ফুটে রাতের স্নিগ্ধতায় আর দিনের আলোতে আস্তে আস্তে বুজে যায়। একটি শাপলার স্থায়িত্ব এক নাগাড়ে সাত দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। শাপলা ‘নিমফিয়েসি’ গোত্রের দ্বিবীজ পত্রী উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম- Nymphacaae. ইংরেজি নাম-Water Lili. উদ্ভিদ বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোন থেকে শাপলাকে পৃথিবীর সবচেয়ে আদিম দ্বিবীজ পত্রী হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘শাপলা’ শুধুই যে সৈন্দর্যের প্রতীক তা কিন্তু নয়। এর ঔষধি গুণ সম্পন্ন উপকারীতাও রয়েছে। এর বাহিরের পাপড়িগুলো অত্যন্ত কোমল। পুকুরে বা বিলে যখন আলো করে শাপলা ফুটে থাকে তখন সেই রূপের সাথে পৃথিবীর আর কোন ফুলের সৌন্দর্যকে তুলনা করা যায় না। সত্যিই এই শাপলার হাসি অতুলনীয় ।
একদিকে লাল শাপলার সমারহ অন্য দিকে মেঘালয় কন্যার অপরূপ রূপ যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। সুচিত্রা দেবী জানালেন যে বাংলাদেশ এর ওপারে ভারতের মেঘালয় এর মুক্তাপুর থানা অবস্থিত। এর পর আমরা গেলাম বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের কাছে এখানকার অধিবাসিরা বিভিন্ন ধরনের শাঁক সবজির গাছ লাগিয়েছেন ওপর প্রান্তে দেখা যায় ভারতের খাসিয়া অধিবাসিদের সুপারি এবং কমলার বাগান তবে বলে রাখা ভালো ভুলেও কেউ সাহস দেখিয়ে ও দিকে পা বারাবেন না।
এর পর গেলাম ডিবির হাওড় এ নৌকা করে ঘুরতে। হওর এর ভেতর নৌকা করে ঘুরার মজা ই আলাদা। আমরা দেখা পেলাম এক মাত্র মাঝি স্রীদাম বিশ্বাস এর। উনিই ডিবির বিল ঘুরিয়ে দেখালেন। এর পর আমরা গেলাম বিল অঞ্চল এর মানুষের জীবন ধারা দেখতে। সুচিত্রা দিদি নিয়ে গেলেন তাদের বস্তি তে। এখানকার সব মহিলারা হাতের কাজ করেন । বাঁশের টুকরি, ডালা, কুলা সব ধরনের বাঁশের কাজ করেন। আর এই বাঁশ গুলো বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের কাছে পাওয়া যায়। বিল বাসী মানুষের জীবন ধারণ বিচিত্র ডিবি হাওর এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পৌছায় নাই কিছু বাসায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ এর বাবস্থা করা আর খাবার পানি বলতে সুগভীর ইন্দিরার উপর নির্ভরশীল ঐ এলাকার মানুষজন। সময় পার হতে হতে কিভাবে যে মিশে গিয়েছিলাম জনপদের মানুষ গুলোর সাথে। তাদের আতিথিয়তা আমাদের অবাক করে দেয়। আমাদের শহর জীবনে এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর যে সারা দিনই এক অচেনা ভ্রমণ পিয়াসির পিছনে ব্যয় করেন। দিনের শেষে গোধূলি লগ্নে আমরা চললাম আমাদের শহুরে গন্তব্বে ।



যাবেন কিভাবে ঃ
সিলেট শহরের বন্দর বাজার পয়েন্ট থেকে জৈন্তাপুর বাজারের পর কিছুদূর গেলে দেখা যাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্প ঐ পথ ধরে কিছু দূর গেলে দেখা মেলবে বিল এর । বাস / সি এন জি / প্রাইভেট গাড়ি করে সময় লাগবে এক ঘণ্টার মতো অথবা পুরো দিনের জন্য ভাড়া নিবে ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা।

কিছু গুরুত্ব পুণ্য তথ্য ঃ
বিল এর আসল সৌন্দর্য দেখতে হলে রোদের তিব্রতা বাড়ার পূর্বে যাওয়ায় উচিত। সাথে হালকা খাবার ও পানি নিয়ে যাওয়া ভাল। রোদের তিব্রতা থেকে বাঁচার জন্য ছাতা নেয়া যেতে পারে। তবে চিপস এর প্যাকেট , পানির বোতল যেখানে সেখানে ফেলে বিল এর পরিবেশ নষ্ট করবেন না। আরো একটা জরুরী কথা কেউ ভুলে ও ভারত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেখার চেষ্টা করবেন না।
মাঝি ঃ শ্রী দাম বিশ্বাস – ০১৭৫৪৭৮৫০০৬

সুমন্ত গুপ্ত, sumantasruti@ yahoo.com,

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.