| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শহরের কোনো এক সিগন্যাল এ আমি। ট্রাফিক এর উঁচু করা হাতটি থামিয়ে রেখেছে আমাদের। চোখে বিতৃষ্ণা নিয়ে তাকিয়ে আছি আমি হলদেটে হয়ে আসা কনস্টেবলের জামার হাতার দিকে। বোঝা যাচ্ছে কোনো এক কালে সাদা ছিল ওটা কিন্তু এখন রাস্তার ধুলো, রোদ আর বৃষ্টির সাক্ষর বয়ে বেড়াচ্ছে। একটু পরেই ক্লান্ত হাতটি নামিয়ে নিলো লোকটা কিনতু আমি একচুল ও নড়লাম না। এ সিগন্যাল ছাড়তে কমপক্ষে আরো দশ মিনিট লাগবে, শুধু শুধু ব্যাতিব্যাস্ত হওয়ার মানে নেই।
হাতটি নেমে যাওয়াতে আমার সামনের গাড়ির ঢল আরো দৃশ্যমান হয়ে উঠলো। নির্বিকার নাগরিক চোখে আমি তাকিয়ে রইলাম সামনের বড় রাস্তা দিয়ে বয়ে যাওয়া যান্ত্রিকতার স্রোতের দিকে, খুব যে মনোযোগ দিয়ে দেখছি তা নয়, শুধুই সময় কাটানোর জন্য তাকিয়ে থাকা। সূর্যের তাপ টা যেন একটু বাড়লো, চোখ কুঁচকে আমি আবার ট্রাফিক পুলিশ এর দিকে তাকালাম। সে বেচারাও রোদের তাপ সহ্য করতে না পেরে ছায়ায় কিছুটা জিরিয়ে নিচ্ছে। এই সুযোগে বাসগুলো একটু স্লো করে যাত্রী নেয়ার চেষ্টায় রত যদিও এখান থেকে লোক উঠানো বিপদজনক ই বলা যেতে পারে।
দৃশ্য পটের কিছুটা বৈচিত্রের আশায় একটু দূরে তাকালাম, একটা স্টাফ বাস, হয়তো কোনো অফিস এ যাচ্ছে, কাজ শেষ করা মানুষ গুলোকে নিয়ে ফিরবে। হঠাৎ কোথা থেকে কিছু লোক ছুটে এলো, দেখতে পাইনি আমি প্রথমে। কিনতু বুঝতে পারলাম তাদের লক্ষ্য ওই বাসটি, নিপুন দক্ষতায় চলন্ত বাসেই টপাটপ উঠে পড়লো লোকগুলো। সবাই না। একজন বাদে। লোকটা হয়তো এখনো পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি অথবা দিন শেষে ক্লান্ত। যে কারণেই হোক, সে ঠিক ম্যানেজ করে উঠতে পারছে না। এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে বাস এর সাথে তাল মিলিয়ে দৌড়ানোর চেষ্টা করছে। বাসটি সাধারণ বাস গুলো থেকে উঁচু হওয়ায় সে ঠিক পা উপরে তুলতেও পারছে না। বাসটি ঠিক আমার চোখের সামনে এখন, আমার চারপাশের লোকজন ও টের পেয়ে গেছে। চারিদিকে গেলো গেলো একটা রব। পা ফস্কানো মাত্রই লোকটি চাকার নিচে চলে যাবে।
মনে হলো এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছি আমি, হঠাৎ আমার ভিতর থেকে কেউ বলে উঠলো, " মন্দ হয় না পরে গেলে , চাকার নিচে মাথাটা গেলে আরো ভালো হয়। ঠাস করে ফাটবে। রাস্তায় ছড়িয়ে থাকবে রক্তমাখা মগজ, দেখতে মন্দ হবে না।" পৈশাচিক আনন্দ নিয়ে সেই কেউ তাকিয়ে থাকলো লোকটার দিকে। কিনতু না হট্টগোলে হেল্পার টের পেয়ে তাকে টেনে হিচড়ে বাসেই তুলে ফেল্লো। বেঁচে গেলো চশমা পড়া বোকা চেহারার লোকটি।
খানিকটা মৃত্যু ঘটলো আমার।
পথের গল্প ২
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:০৬
সূরযো বলেছেন: আলো আর আঁধার এর মাঝেই আমাদের বসবাস
২|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:০২
চাঁদগাজী বলেছেন:
বাংলাদেশের চিত্র হয়েছে; তবে, লেখার স্টাইল পছন্দ হয়নি
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:০৭
সূরযো বলেছেন: মূল্যায়ন এর জন্য ধন্যবাদ
৩|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:১৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বর্তমানে ঘটনা চিত্র বাংলাদেশের জন্য সাময়িক ভাবে প্রযোজ্য
তবে মানবিক বিবেচনায় মোটেই কাম্য নয় ।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:২১
সূরযো বলেছেন: গল্পটা মানব চিত্তের সংঘাত তুলে ধরার প্রয়াস।
৪|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:১৭
কল্পদ্রুম বলেছেন: গল্পের প্লট ও আপনার লেখার ধরণ দুটাই ভালো লেগেছে।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:২২
সূরযো বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৫|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:২৮
মেহেদী হাসান হাসিব বলেছেন: শেষে পৈশাচিক আনন্দ লাভের আকাঙ্খাটা উপস্থাপনা আরো রসাত্নক করে। আর এমন পৈশাচিক ভাবনা উদয় হওয়াটাও স্বাভাবিক। "সময় কত মূল্যবান তাদের কাছে, জীবন এতটাও না"
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:৩১
সূরযো বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৬|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ২:২৪
বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: শিরোনামের সাথে লেখার মিল পেলাম না...
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩০
সূরযো বলেছেন: শিরোনামে অপর কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজে আনন্দ পাওয়ার যে প্রবনতা মানব মনে বিদ্যমান, সে দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৭|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ২:৩৮
জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: দিনদিন আমাদের ভেতরের মায়াদয়া মরে যাচ্ছে।
ভালো লেগেছে।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩১
সূরযো বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৮|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৩:৩৫
চোখেরে কাঁটা বলেছেন: ভাল গল্প।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩১
সূরযো বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৯|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৩৬
রাজীব নুর বলেছেন: গল্প সুন্দর। কিন্তু গল্পের নামটা ভালো হয়নি।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩২
সূরযো বলেছেন: মূল্যায়ন এর জন্য ধন্যবাদ ।
১০|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৩৮
পদ্মপুকুর বলেছেন: বেশ শক্তিশালী প্লট এবং লেখনী। যে কোনো ঘটনা, তা সে যত তুচ্ছই হোক, ডিটেইলে দেখতে পারার ক্ষমতাটা সবার থাকে না।
ভাল্লাগ্লো। পোস্টে প্লাস।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩১
সূরযো বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
১১|
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:১০
সনেট কবি বলেছেন: ভালো লেগেছে।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৫১
সূরযো বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
১২|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৭
ফারিহা হোসেন প্রভা বলেছেন: ধর্ষকামী মন বলতে কি বুঝানো হয়েছে?
গল্পটি ভালো লেগেছে।
০২ রা অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ২:৫৭
সূরযো বলেছেন: এখানে অপরকে কষ্ট দিয়ে নিজে আনন্দ পাওয়ার যে প্রবনতা মানব মনে বিদ্যমান, সে দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
১৩|
২৩ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:৪৩
খায়রুল আহসান বলেছেন: গল্পের শিরোনামটা উপযুক্ত হয়েছে। আর শেষের লাইনটা গল্পের সমাপ্তিরেখা হিসেবে আরও বেশী উপযুক্ত হয়েছে।
পোস্টে দ্বিতীয় প্লাস + +।
১৪|
০৮ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫২
সূরযো বলেছেন: মূল্যায়ন এর জন্য ধন্যবাদ ।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৫৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
মনে হলো এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছি আমি, হঠাৎ আমার ভিতর থেকে কেউ বলে উঠলো, " মন্দ হয় না পরে গেলে , চাকার নিচে মাথাটা গেলে আরো ভালো হয়। ঠাস করে ফাটবে। রাস্তায় ছড়িয়ে থাকবে রক্তমাখা মগজ, দেখতে মন্দ হবে না।" পৈশাচিক আনন্দ নিয়ে সেই কেউ তাকিয়ে থাকলো লোকটার দিকে।
এমন ঠান্ডা মাথায় দেখা তো বিপদজনক !!!
আপনার মেডিক্যাল টেষ্ট করিয়ে নিন , সুস্হ থাকুন !!!