![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দূরে থাকুন তারা যারা ধর্মকে পুঁজি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দূরে থাকুন তারা যারা ১৯৭১ থেকে অদ্যাবদি বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং সকল পাকিস্তানী প্রেমী , রাজাকার ও তাদের ছানাপোনা ।
বাসা থেকে বাহিরে বেরিয়ে বাস রিক্সা মোটরসাইকেল কিছুই পাচ্ছিলাম না। আমার গন্তব্য বইমেলা। যেহেতু এক খানা কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে তাই নিজ দায়িত্বে ও তাগিদে বই মেলায় যাবার জন্য মনের ভেতর খছমচ করছিলো আজ সারাদিন। তো বুকের খছমচিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম বই মেলায়।
বইমেলার প্রথম গেটে ভিড়ের ঠ্যালা ঠেলি দেখে যতটুকু মোবাইল মানিব্যাগ হারাবার ভয় পাচ্ছিলাম তার থেকে বেশি আশা জাগানিয়া ছিলো যে আজ বই পাঠকরা খপাত করে ধরবে আর ব্যাগ ভড়বে। ঠেলে গুতিয়ে, পিছন দিকে আপত্তিকর স্পর্শের অনুভব নিয়ে (সম্ভাবত তাহা অনিচ্ছাকৃত ছিলো) মেলার গেট ঠেলে ঢুকে পরলাম। মোবাইল ও মানিব্যাগের নিরাপদ অস্তিত্ব আমাকে স্বস্তি দিলো।
লোকজন কে জিজ্ঞাসা করতে করতে, হাতিয়ে হাতিয়ে খুজে পেলাম আমার স্টল। জলছবি-৮০৬ । প্রকাশকের ব্যাজার মুখ বলে দেয় বিক্রির অবস্থা গোল্লা। তারপরেও জিজ্ঞাসা করতে হয় বলে জিজ্ঞাসা করলাম। কি, বিক্রি কেমন? প্রকাশক ভাই। নিম তেতো মুখ করে বললেন, আপনি কি আসছেন তামাশা করতে? এই যাদের দেখছেন এরা আমার মনে হয় তাদের পিতৃ কুলের কারো সময়েই কফি নামক পানীয় গলধকরন করে নাই। যে পরিমানে কফি খাচ্ছে তার সিকি পরিমান বই কেউ কেনে না। আর আপনি জিগান বইয়ের বিক্রি কেমন।
এইরকম তিতা মিঠা আলাপে সময় পার করছিলাম। হঠাৎ আড় চোখে একজন সুন্দরী তরুণী কে দেখলাম আমার বই খানা নাড়াচাড়া করছে। আগ্রহি হয়ে একটু আগ বাড়িয়ে কাছে গেলাম। রমনী মিস্টি হাসির সাথে বই খানা খুলে সেল্ফি তুলে আমাকে চিরতরে বেদনার কুয়ায় ফেলে বই খানা ফেলে পালিয়ে গেল। নারী মাত্রই ছলনাময়ী।
এমন হৃদয় খণ্ডন ঘটানার পর প্রকাশকের মিচকা হাসি সহ্য করতে না পেরে আমাদের রুপক সাধু ভাইয়ের বইয়ের সন্ধানে নেমে গেলাম। আমার স্টলের পাশেই তার বইয়ের প্রদর্শনী কেন্দ্র। সেথাও তন্বী তরুনী মোহনীয় ঢং এ দাঁড়িয়ে। তাকে সাধু ভাইয়ের বইয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই উড়ে গিয়ে বই খানা যত্নের সাথে আমায় বুঝিয়ে দিলেন। লেখক আশেপাশে ঘাপটি মেরে আছেন কি না জিজ্ঞাসা করতে লাস্যময় এক খানা হাসি উপহার দয়ে উর্বশী আমাকে নিরাশ করলো।
এর পর আমাদের ব্লগের লাস্যময়ীর (শায়মা) বইয়ের দিকে কু নজর দেবার জন্য ছুটলাম। চিলে কোঠায় তিনি কি কি সব কান্ড ঘটিয়েছেন তার সবিস্তর বর্ননা সমেত বই খানা সংগ্রের জন্য আর এক মনহরিনির পানে চাহিয়া রইলাম। তিনি কোন ভাবেই চিলে কোঠার কান্ড কারখানার স্বরুপ উন্মোচন করতে পারলেন না। আমি দাঁত কেলিয়ে বললাম বই কি ছাপে নাই। লাস্যময়ী মাথা নাড়িয়ে বোঝালেন ছাপিয়েছে কিন্তু খুজে পাচ্ছেন না। (লাস্যময়ীরা কথা কম বলে, কেন?) শাড়ির আঁচল অমন ত্বন্বী কোমড়ে ঠেস দিয়ে গুজে বইয়ের হদিস বের করতে লেগে গেলেন। আমি চেয়ে চেয়া থাকি সারাদিন। আমার একটুও কষ্ট হয় নাই। আমি চাচ্ছিলাম যেন কখনোই না পাওয়া যায়। কিন্তু বিধিবাম। পাওয়া গেছে। চিলে কোঠার প্রেম।
বই দুইখনা সংগ্রহ করে। হুমায়ুন কে মনে করলাম। তার লেখা তিন কন্যা কিনে নিজেকে একটা উপহার দিলাম। এরপর আসলে কিচ্ছু করার ছিল না। তাই ফুচকা খেতে চলে গেলাম খাবারের স্টলে। হায় মাবুদ! হায় কপাল! বিকেলের সেই পাঠকের ঢেউ খাদকের গুষ্টিতে পরিনত হতে দেখে নিজেই চমকে গেলাম। ফুড আপা, ভাইয়াদের দৌরাত্ম ও দেখতে পেলাম। সব নদী সাগরে মিলায়। খাদক কুলের খাই খাই দেখে আমার ইহাই মনে হলো। সকল পাঠক হাজির বিরিয়ানি বা ফুচকায় মিলায়। মেলার ৯০ শতাংশ পাঠক আসলে ছিলো খাদক বজলুর ভাগ্না ভাগ্নি বৃন্দ। বই হাতে আমি একা ছিলাম অসহায় ভ্যাবলা কুমার হয়ে। কিছু মুখে গুজে। স্বাদ ফাদের তোয়াক্কা না করে বইয়ের স্টলে ফিরে এসে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
ওমা! চেয়ে দেখি তারাশঙ্কর বাবুর কীর্তিহাটের কড়চা দেখি আমার দিকে তাকিয়ে অসভ্যের মতো হাসছে। যেন বলছে কই ছিলা চাঁদু? বইয়ের দোকানে হেদিয়ে পরে আছি দেখতে পাও না। নাও তুলে নাও। জমজ ভাই। শুয়ে থাকতে থাকতে আমাদের পিঠ ব্যথা হয়ে গেলো। আমিও তারা বাবুর অসম্মান হবে ভেবে আর দেড়ি করলাম না। ঝটপট ব্যাগে পুরে নিলাম। ভয় পাবেন না। দাম দিয়ে দিয়েছি। পাশ থেকে বিভুতি বাবুর তারানাথ তান্ত্রিক কেঁকিয়ে উঠলো। মিনসের কি চোখে ন্যাবা হয়েছে। আমি হেথায় কেলিয়ে পরে আছি। দেখতে পাচ্ছ না!? নাও আমাকেও তুলে নাও। কতো আর যাবে। এতো কেপ্পন কেন গা তুমি?
তারপর আর কি সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত নেমে এলো। আমি যদিও রাত কানা নই কিন্তু বাড়ির প্রতি এক অমঘ টান আমাকে টেনে বাড়ির দিকে ডায় ডায় বায় বায় করে নিয়ে চললো। আমি চেয়ে চেয়ে থাকি সারাদিন, যেন ওই চোখে সাগরেরও নীল ।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১:০৯
রানার ব্লগ বলেছেন: হু তাহার রুপে মুগ্ধ আমি ।
২| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১:২০
রাজীব নুর বলেছেন: বাহ!!
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১১:২৯
রানার ব্লগ বলেছেন: ধন্যবাদ !
৩| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বিকাল ৩:০২
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
হা, হা, হা!!!
বর্ণনা ভালো হয়েছে!!!
তন্বী তরুণীদের মনে ধরে যাওয়ায়, বাকি ব্লগারদের বই ভুলে গিয়েছেন, হয়তো!!!
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১১:২৭
রানার ব্লগ বলেছেন: হুট করে ঢুকে ধুম করে কিনেছি । তবে সবার বইয়ের নাম আর স্টল নাম্বার জানা থাকলে কেনা যেত ।
৪| ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ১:২৪
শায়মা বলেছেন: যদিও বইমেলায় বই দেবারই ইচ্ছা ছিলো না আমার। ভেবেছিলাম শুধু গিফ্টই করবো। তবুও তুমি আর অপুভাইয়া কিনেই আনলে। হা হা মনে হয় তোমরা দুজনের মাঝে রানা ভাইয়ুই প্রথম ক্রেতা আর অপু ভাইয়ু ২ নং। হা হা হা
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১১:৩৩
রানার ব্লগ বলেছেন: যে স্টলে দিয়েছেন তারা তো সোবাহানআল্লাহ !! রমনীদের সাথে তাদের উষ্ণতা শেয়ার করা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন । বই ও তার লেখক পাঠকের খোঁজ নেবার ইচ্ছা, তাগিদ, আগ্রহ কিছুই নাই । তাপরেও চ্যাঁচামেচি করে এক খানা সংগ্রহ করলাম ।
লেখকের বই কিনে পড়তে হয় । এটাই নিয়ম ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১১:৪১
অপু তানভীর বলেছেন: রূপক সাধুর বইয়ের স্টলে এক তন্বী তনয়া আছে।

কাল আমিও গিয়েছিলাম। নামাজের পরপরই। আর সাড়ে তিনটার আগেই বের হয়ে এসেছি। শুক্রবারে আমি মেলার ধারে কাছে যাই না সাধারণত। তবে কাল এক বন্ধু এসেছিল ঢাকার বাইরে থেকে । তাই তার সাথে গিয়েছিলাম। এই যে কালকের সংগ্রহ ।