| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাড়ির সামনে উঠোনে ধান শুকাতে দিয়েছে মেজ কাকী। কাক আর শালিকের উৎপাতে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। আমাকে ডেকে বল্লো 'খোকা মাঝে মাঝে একটু নজর দিসতো এদিকে'
কিন্ত আমার বন্ধু পল্টু মানিক ওরা আমাকে বেড়ার ফাক দিয়ে লুকিয়ে ইশারা করছে। আজ যে আমাদের ঐ পাড়ার শান্তদের সাথে ডাংগুলি খেলার কথা। ইশ বড়রা কেন যে আমাদের মনের কথাগুলো বোঝে না ।
এতক্ষন বাবা পড়ার টেবিলে বসিয়ে রাখলো এখন কাকী বলছে ধান পাহারা দিতে। ধুর ছাই কিছু ভালোলাগে না।
আস্তে করে বই রেখে বের হয়ে আসলাম বাড়ির বাইরে। ডাকুক কাকী ডাকুক বাবা আজ আমি কারো কথাই শুনবো না।
পল্টুদের সাথে বাশবন পেরিয়ে চলেছি শান্তদের পাড়ার দিকে। দূরে নদী দেখা যায়। ইঞ্জিন লাগানো নৌকাগুলো ভট ভট আওয়াজ করে চলেছে। মা বলতো একসময় এগুলতে নাকি পাল লাগিয়ে বাতাসের টানে বৈঠা বেয়ে চলতো। যেতেও অনেক সময় লাগতো। কি জানি এতক্ষন ধরে নৌকায় বসার কথা ভাবতেই পারে না। সবাই বলে সে নাকি খুব চঞ্চল।
পল্টু ডেকে বল্লো দেখেছিস সৌম্য গাছে কত আম ধরেছে। একটু বড় হোক তখন এসে পারবো কেমন।আমি মাথা নেড়ে সন্মতি জানালাম। কাচা আমের ভর্তা আমার খুব প্রিয়।
ঐ তো শান্তদের গ্রাম দেখা যাচ্ছে। আজ দারুন প্রতিযোগীতা হবে । কিছুতেই হারা চলবে না।
কিন্ত এত লোকজন কেন চারিদিকে? তারাতারি এগিয়ে চলি কি হলো ? শান্তর মা এর কান্না শোনা যাচ্ছে মনে হয়। লোকজনের ভীড় ঠেলে এগুতেই দেখি উঠানে শান্তকে একটা মাদুরে শুইয়ে রেখেছে। নীল হয়ে আছে তার সারা শরীর, চোখ বন্ধ। পাশে এক সাধু মত লোক তার গায়ে একটা শিকড় ছোয়াচ্ছে আর বির বির করে কি যেন বলছে।
একটু পরে সাধুটি বলে উঠলো না তোমরা আমাকে ডাকতে দেরি করে ফেলেছো। নাগরাজ অনেক দূরে চলে গেছে। তাকে এখন আর ডাকা সম্ভব না।
এ কথা শুনে শান্তর মা শান্তর গায়ে আছড়ে পরে কাদতে লাগলো। কাল রাতে নাকি ওকে সাপে কেটেছিল।
আমি সেদিন কাকার মুখে শুনেছিলাম সাপে কাটা রোগীকে কামড়ের জায়গার একটু উপরে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেধে হাসপাতালে নিয়ে গেলে নাকি বেশিরভাগ সময় রুগি বেচে ওঠে।
মন খারাপ হয়ে গেল আমাদেরই এক বন্ধু এমন করে মরে গেল দেখে। ফিরে আসলাম সারাপথ ভয়ে ভয়ে। মনে হচ্ছিল রাস্তার দু পাশেই বুঝি সাপ ওৎ পেতে আছে।
অনেক দিন কিছু লিখি না সময়াভাবে। তাই একটি সত্যি কাহিনী লিখলাম। জানি কিছু হয়নি তবুও চেস্টা করা।
১৩ ই আগস্ট, ২০১৩ দুপুর ১:২৬
সুস্মিতা গুপ্তা বলেছেন: অনেক দুঃখজনক
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।
২|
১৩ ই আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৫:২৬
আহমেদ জী এস বলেছেন: সুস্মিতা গুপ্তা,
"অনেক দিন কিছু লিখি না সময়াভাবে। তাই একটি সত্যি কাহিনী লিখলাম। জানি কিছু হয়নি তবুও চেস্টা করা।" এমোনটা শেষে লিখেছেন ।
এই যে চেষ্টা করলেন, দেখুন তো তাতে ব্লগের পাতায় একটু কি দোলা লাগলো না ? আর সময় করে যে সত্য কাহিনীটি লিখলেন তার মূল্য কি কম কিছু ?
আজ হয়তো আপনার আক্ষেপ আছে, মনের মতো লেখা হয়নি বলে । কাল কি হবে, কে বলতে পারে ?
লিখুন, সময় পেলেই লিখুন ।
২৫ শে আগস্ট, ২০১৩ সকাল ৮:২৯
সুস্মিতা গুপ্তা বলেছেন: অনেক ভালোলাগলো আপনাকে দেখে আপনার মন্তব্য পেয়ে। জী সময় পেলেই লিখবো । শুভেচ্ছা জানবেন ![]()
৩|
২৫ শে আগস্ট, ২০১৩ সকাল ৮:৩৮
ইমরাজ কবির মুন বলেছেন:
বেশ প্রাঞ্জল ভঙ্গিতে লিখা।
ভাল-খারাপ নিয়ে চিন্তা করবেন না, লিখতে ঠাকেন।
শুভকামনা ||
৪|
১৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:১০
অনিন্দ্য অন্তর অপু (অঅঅ) বলেছেন: দারুণ বর্ণনা--
কিন্তু এরকম দুঃখজনক পরিণতি দেখে খারাপ লাগছে ।
৫|
২১ শে নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৩০
শাবা বলেছেন: বর্ণনা চমৎকার, তবে ট্র্যাজেডিতে সমাপ্ত।
আমার ব্লগে আমন্ত্রণ।
৬|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:৩৮
নীল ভোমরা বলেছেন:
পড়লাম.......
শুভকামনা!
৭|
১৪ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৪:১৪
খায়রুল আহসান বলেছেন: জী সময় পেলেই লিখবো - (২ নং মন্তব্যের উত্তরে)
প্রায় তিন বছর হতে চললো এ কথা বলার, কিন্তু নতুন কোন লেখাতো এখনো এলোনা। সময় পাচ্ছেন না, সুস্মিতা গুপ্তা?
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই আগস্ট, ২০১৩ দুপুর ১:২৪
হাসান মাহবুব বলেছেন: দুঃখজনক ঘটনা।