| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হযরত মুহাম্মদের অস্থি তুলে অন্যত্র সরিয়ে ফের কবর দেয়া হবে। জায়গাটাও অজ্ঞাত রাখা হবে জনসাধারণের কাছে। ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে এতবড় ঘটনা মুহাম্মদের মৃত্যুর পর সম্ভবত দ্বিতীয়বার ঘটলো! স্বয়ং প্রফেটের দেহ তুলে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হবে! তার কবর নিয়ে যাতে শিরক করতে না পারে তার জন্য নাকি এই ব্যবস্থা। এই নিউজ বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কানে যায়নি। বাংলাদেশের “মুসলমান মিডিয়া” গলা কেশে, ঢোগ গিলে প্রকাশ করছে সামান্যই। কেউ করছেই না। যারা নিয়মিত মসজিদে যান, অফিসের মডারেট মুসলিম, পরিচিত মুমিনদের জিজ্ঞেস করলাম, ঘটনা তারা জানেন কিনা? কারুর মুখে কালো একটা ছায়া পড়ে, কেউ জানেই না, কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না, নিউজের সত্যতা নিয়ে পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র কিনা সেই প্রশ্নও কেউ তুলেলেন। সালমান রুশদী বইতে কি লিখেছেন সেটা না পড়েই কি তোলপাড় হয়েছিল এই দেশেই! তাসলিমা নাসরিনের “নির্বাচিত কলাম” মাদ্রাসা ছেলেরা এক পাতাও পড়েনি। নাস্তিক ব্লগারদের অধিকাংশের লেখাই অনলাইন থেকে দূরে থাকা জনগোষ্ঠি পড়েনি। তবু তাদের বিচার, মাথার দাম হাঁকা, হত্যার ফতোয়াকে সমর্থন করতে কারুর অনুসন্ধান প্রয়োজন হয়নি। সামান্য এক বাবরী মসজিদ ভাঙ্গায় বাংলাদেশে, ভারতে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা বেধে গিয়েছিল, অথচ ইউনুস নবীর কথিত কবর মোবারক বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরও কারুর কোন ভাবান্তর নেই। ওটা যদি ইউনুস নবীর কবর হয়ে থাকে, আর যদি সেটা জানার পরও বোমা মারা যায় তাহলে শিরকের ভয়ে মুহাম্মদের কবরেও বোমা মারা হতে পারে আশংকা করে কি সৌদি ওহাবীরা সেটাকে আইএস-এর ভয়ে সরিয়ে ফেলছে? মুহাম্মদের রওজা মোবারককে দেখতে হ্জ করতে আসা লোকজনের কাছে একটা বিড়াট উপলক্ষ্য। আর সৌদিদের কাছে হ্জ একটা ব্যবসা। ব্যবসার একটা আগ্রহের জায়গাকে নষ্ট করার মত কাজ কোন বোধ সম্পন্ন ব্যবসায়ী করতে চাইবে না। ভেতরে ঘটনা তাহলে ভিন্ন…।
যাই হোক, নিজের দেশের কথায় ফিরে আসি। সামান্য ফেইসবুকে মুহাম্মদকে নিয়ে কি লিখেছে, কে একটু কৌতুক করছে তাতে তৌহদী জনতা ভিন্ন ধর্মের উপাসনা, তাদের ঘর-বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে, তাদের নারীদের ধর্ষণ, সালতাহানী করে ছেড়েছে। মুহাম্মদের নামে সামান্য একটু সমালোচনা হলে পাকিস্তানের সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের ব্লাসফেমি আইনে অভিযুক্ত করে মৃত্যুদ্বন্ড পর্যন্ত দেয়া হয়। মুহাম্মদের ইজ্জত রক্ষার জন্য এতটাই উন্মাদ তার উম্মদরা। সেই তারাই সিরিয়ায়, ইরাকে সর্বশেষ সৌদি আরবের এতবড় নবী অবমাননায় মুখে একটা কথা নেই! ক’দিন আগেও চায়ের দোকানে “হায় গাজা”-“হায় গাজা” বলে মাতম শোনা যেতো। এখন সেখানেও তরিতরকারীর দরদাম নিয়ে আলোচনা হয়। বন্যা, আসন্ন কুরবানীতে গরুর দাম কেমন হবে- এইসব ঘর-সংসারের আলাপ-আলোচনা চলে…।
তবে প্লেগের জীবাণূর মত “নাস্তিক-ইসলামের শত্রু” ফিবার আবার ফিরে আসবে। নবী অবমাননা অভিযোগ ফের কোন অনলাইন লেখককে আক্রমন করা হবে। মুহাম্মদের ইজ্জতের মূল্য দিতে হবে ফের কোন জনপদের নিরহ জনগোষ্ঠিকে। আইএসকে মন থেকে ধন্যবাদ দিবো যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত কাবাঘরকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিবে! মুমিনের সর্বদা জাগ্রত “ধর্মানুনুভূতিতে আঘাত” তখন কেমন হয় সেটা দেখার খুব ইচ্ছা। “মডারেট ধর্মানুনুভূতি সম্পন্ন” ভদ্রলোকদের প্রতিক্রিয়া কেমন হয় সেটা দেখাও কম বিনোদন না।
আমরা কুরআনের সমালোচনা করেছি, মুহাম্মদের কিছু কাজের সমালোচনা করেছি, ইসলামের সমালোচনা করেছি, কিন্তু কোনদিন কাবাঘরকে ভেঙ্গে ফেলো বলিনি। কারণ অন্যের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সম্পর্কেও আমরা সজাগ। কিন্তু এখন মুমিনদের একাংশই কাবাঘরকে ভেঙ্গে ফেলতে চাইছে! বলছে এটা শিরক! এতদিন আমরা যেটা বলে আসছি এ যেন তারই প্রতিধ্বনি! সম্ভবত নতুন কুরআন লেখারও সময় এসে গেছে। আইএস সম্ভবত ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম গ্রহণ করবে। সেক্ষেত্রে মহাবিশ্ব নিয়ে চ্যাপ্টারগুলো লেখার সময় হকিংয়ের বইগুলো পড়ে নিলে বা নাসার কোন ভাল বৈজ্ঞানিককে দেখিয়ে নিলে ভাল হয়।… নতুন কুরআন লেখার বিনোদন উপভোগ করতে আর কত দেরি পাঞ্জেরী?...
©somewhere in net ltd.