নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সুষুপ্ত পাঠকের ব্লগ

সুষুপ্ত @পাঠক

এসেছি দৈব পিকনিকে

সুষুপ্ত @পাঠক › বিস্তারিত পোস্টঃ

রেহেনা ও গোয়েল রাটজনের দুর্ভাগ্য

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:২৭

ঘটনা দুটি ইস্যুর ডামাডোলে একটু পুরোনো হয়ে গেলেও বিষয়বস্তু সব সময়ই সমকালিন...

ইজরাইয়ের তেল আবিবের গোয়েল রাটজন নামের এক লোক ২১টি বিয়ে করে ৩০টি সন্তান জন্মদান করেছে। তার প্রতি অভিযোগ সে যৌন নিপীড়ন করেছে যেখানে কিনা নিজের মেয়েও অন্তর্ভূক্ত! ইজরাইল আদালত লোকটিকে ৩০ বছরের সাজা দিয়েছে। ঠিক কয়েকদিন আগেই মধ্যপাচ্যের ইসলামী দেশ ইরান রেহানা জাব্বারীকে ফাঁসি দিয়েছে তার ধর্ষককে হত্যার অভিযোগে। দুটোই ধর্মাশ্রিত রাষ্ট্র। ইজরাইল ইহুদী ধর্মগ্রন্থ অনুসারে তাদের আইন-আদালত চালায় না সেটা রায় দেখেই পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে। মধ্যপাচ্যের ইরানসহ সমস্ত রাষ্ট্র ইসলামী শরীয়া অনুসারে চলে। সেই অনুপ্রেরণায় পাকিস্তান, আফগানিস্থান বহু আগেই শরীয়া কবুল করে আছে। বাংলাদেশ শরীয়ার হাতছানি কতদিন এড়াতে সক্ষম হবে সেটা একটা প্রশ্ন। বাংলাদেশের জনগণ ইসলামপ্রেমি জনগণ। “ইসলামী পারিবারিক আইন” নামের একটা মিনি শরীয়া আগে থেকেই এখানে চালু আছে। কথা সেটা নয়, এখন দেখা যাক রেহানা যদি ইজরাইলের আদালতে তার ধর্ষণের চেষ্টার হোতার বিরুদ্ধে আর্জি জানাতো তাহলে কি হতো? আর ইসলামী আদালতে গোয়েল রাটজনের নামে অভিযোগ করা হতো তাহলে কি হতো? ইসলামী আইনে রেহানাকে তার ধর্ষণের অভিযোগকে প্রমাণিত করতে হলে দুইজন মুমিন মুসলমান পুরুষের সাক্ষি প্রয়োজন যারা কিনা ধর্ষণাটা চাক্ষুস দেখছে। একজন নারীকে ধর্ষণ করবে আর দুইজন লোক সেটা দেখবে- এভাবে দুনিয়ার কোথাও ধর্ষণ হয় কিনা একমাত্র ইসলামই বলতে পারবে। রেহানার উচিত ছিল ঘটনার সময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা পুরুষটিকে বলা যে, আপনি একটু সবুর করুন, আমি বাইরে থেকে দুজন পুরুষকে ডেকে আনি যারা এখানে দাঁড়িয়ে থেকে মজাটা দেখবে এবং পরে আমার হয়ে আদালতে সাক্ষি দিবে। দুর্ভাগ্য রেহানার। একইভাবে ইজরাইয়ের গোয়েল রাটজনও নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতে পারে কেন সে মুসলিম হলো না এবং দেশে ইসলামী আদালত গঠিত হলো না…।



গোয়েল রাটজনের ২১ বিয়ে ইসলামী আদলতে আলোচ্য বিষয়ই হবে না। মুসলিমরা যদিও দাবী করে তাদের ধর্ম ৪টি বিয়ে সর্বচ্চ একজন পুরুষকে বেধে দিয়েছে। এটি আসলে একটি শুভংকরের ফাঁকি। আসল ব্যাপার হচ্ছে একজন মুমিন একসঙ্গে ৪টি স্ত্রী রাখতে পারবে- মানে সে যদি ৪টি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে ফের ৪টি স্ত্রী গ্রহণ করতে বাধা নেই! এই কৌশলে একজন মুসলিম পুরুষ হাজার হাজার বিয়ে করতে পারেন তাতে তার কোনই পাপ হবে না! হযরত মুহাম্মদের নাতি ইমাম হাসান ৩০০টি (অনেকের মতে ৮০টি) বিয়ে করেছেন এই রীতিকে ফলো করে জানা যায়। এছাড়া তো দাসীবাদী রইলই হিসাব ছাড়া। আগের পোস্টে দাসীদের বিষয়ে বিস্তারিত বলেছি বলে এই পোস্টে সেটা এড়ানো হলো। গোয়েল রাটজনের বিরুদ্ধে বড় একটা অভিযোগ সে নারী নিপিড়ন করেছে, যৌন নিপিড়ন করেছে। ইসলামী আদালত এটাকে কেমন করে অপরাধ হিসেবে নিবে যেখানে হাদিস বলছে: “সুনান আবু দাউদ, বই ১১ হাদিস ২১৪২: ওমর বিন খাত্তাব বলেছেন: নবী (দঃ) বলেছেন, “কোন স্বামীকে (পরকালে) প্রশ্ন করা হবে না কেন সে বৌকে পিটিয়েছিল।”।



ইসলামী আদালতে নারী নিপিড়ন বা নারীর যৌন নিপিড়ন কিভাবে গ্রাহ্য হবে যেখানে ইসলাম বলছে: “সহিহ্‌ মুসলিম, বই ৮, হাদিস ৩৩৬৭: আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, নবী দঃ) বলেছেন: যাঁর হাতে আমার জীবন (আল্লাহ) তাঁর নামে বলছি, যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে, আর সে স্ত্রী সাড়া না দেয়, তবে সে স্বামী খুশী না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন। ইমাম গাজ্জালী, বই এহিয়া উলুম আল দীন, ভলুম ১ পৃষ্ঠা ২৩৫: নিজের সমস্ত আত্মীয়, এমন কি নিজের থেকেও স্বামীকে বেশী প্রাধান্য দিতে হবে। যখনই স্বামীর ইচ্ছে হবে তখনই সে যাতে স্ত্রীকে উপভোগ করতে পারে সে জন্য স্ত্রী নিজেকে সর্বদা পরিষ্কার এবং তৈরি রাখবে। ইমাম শাফি শারিয়া আইন (উমদাত আল সালিক) থেকে, পৃষ্ঠা ৫২৫ আইন নম্বর এম-৫-১: স্বামীর যৌন-আহ্বানে স্ত্রীকে অনতিবিলম্বে সাড়া দিতে হবে যখনই সে ডাকবে, যদি শারীরিকভাবে সে স্ত্রী সক্ষম হয়। স্বামীর আহ্বানকে স্ত্রী তিনদিনের বেশী দেরি করাতে পারবে না। শারিয়া আইন, পৃষ্ঠা ৯৪ আইন নম্বর -১৩-৫: স্ত্রী যদি বলে তার মাসিক হয়েছে আর স্বামী যদি তা বিশ্বাস না করে, তাহলে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য আইনত: সিদ্ধ ”।



গোয়েল রাটজন একটি পিশাচ তাতে সন্দেহ নাই। তার বিরুদ্ধে নিজের মেয়েকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এইরকমই পিশাচীয় যৌন রীতি মুসলিমদের মধ্যে আরবে প্রচলিত ছিল যা কিনা হযরত ওমর বাতিল করেন। প্রশ্ন উঠতে পারে ওমর কেমন করে কিসের ভিত্তিতে এসবকে বাতিল করেন? তিনি কি ওহি পেতেন? মালিকের মুয়াত্তা হাদিস ২৮.১৪.৩৩: ইয়াহিয়া—মালিক—ইবনে শিহাব—ওবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ—ইবনে উতবা ইবনে মাসুদ-তাঁর পিতা থেকে। ইয়াহিয়া বর্ণনা করলেন: উমর আল খাত্তাবকে জিজ্ঞাসা করা হল: এক ব্যক্তির কাছে এক ক্রীতদাসী ও ক্রীতদাসীর কন্যা আছে। এখন ঐ ব্যক্তি কি পারবে ক্রীতদাসী ও তার কন্যার সাথে পরপর সহবাস করতে? উমর বললেন: “আমি এ রকম করা পছন্দ করি না”। কিন্তু স্বয়ং খলিফাদের উদাহরণও নেক্কারজনক! হযরত আলী তার চাচাতো ভাই নবী মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমাকেই যে বিয়ে করেছিলেন তা না, তিনি মোট ৮টি বৈধ বিয়ে করেছিলেন, তারচেয়েও উল্লেখ যোগ্য হলো তিনি নবী মুহম্মদের বড় মেয়ে জয়নবের কন্যাকেও বিয়ে করেছিলেন! হযরত ওমর মোট ১০টি বিয়ে করেছিলেন। এরমধ্যে উম্মে কুলসুমকে তিনি ৪-৫ বছর বয়েসে বিয়ে করেন। আর নবী মুহাম্মদের কথা উহ্য রাখলাম “নবী অবমাননার” ভয়ে!



রেহানার জন্য দু:খ এ জন্য যে তার দুর্ভাগ্য সে মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েছে একটি ইসলামী রাষ্ট্রে যেখানে তার ধর্ষণকারীকে ধরার কোন উপায় ছিল না। আমাদের সৌভাগ্য যে গোয়েল রাটজনের মত পিশাচ মুসলিম নন এবং কোন ইসলামী রাষ্ট্রে তার বাস নয়। হলে এই পিশাচটিকে অপরাধী বলে গ্রাহ্যই করা হতো না! যেমন কোটি কোটি আরব মুসলিমদের মধ্যে গোয়েল রাটজনরা বেঁচে আছে। তাদের কিছুই হয় না...

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ২:২৫

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: এই বিষয়ে জ্ঞান সীমিত। তাই খুব একটা বিশ্লেষনে আপাতত গেলাম না। আপনার পোষ্টে এমন বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে যা নিয়ে অনেক আলোচনা হতে পারে। আফসোস যারা ভালো জানেন, তারা অনেকেই ব্লগে এখন আর নেই।

তাও পোষ্ট পর্যবেক্ষনে রাখলাম। দেখি অন্যরা কে কি বলেন!

২| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ২:৩০

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: ইসলামী আদালতে নারী নিপিড়ন বা নারীর যৌন নিপিড়ন কিভাবে গ্রাহ্য হবে যেখানে ইসলাম বলছে: “সহিহ্‌ মুসলিম, বই ৮, হাদিস ৩৩৬৭: আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, নবী দঃ) বলেছেন: যাঁর হাতে আমার জীবন (আল্লাহ) তাঁর নামে বলছি, যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে, আর সে স্ত্রী সাড়া না দেয়, তবে সে স্বামী খুশী না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন। ইমাম গাজ্জালী, বই এহিয়া উলুম আল দীন, ভলুম ১ পৃষ্ঠা ২৩৫: নিজের সমস্ত আত্মীয়, এমন কি নিজের থেকেও স্বামীকে বেশী প্রাধান্য দিতে হবে। যখনই স্বামীর ইচ্ছে হবে তখনই সে যাতে স্ত্রীকে উপভোগ করতে পারে সে জন্য স্ত্রী নিজেকে সর্বদা পরিষ্কার এবং তৈরি রাখবে। ইমাম শাফি শারিয়া আইন (উমদাত আল সালিক) থেকে, পৃষ্ঠা ৫২৫ আইন নম্বর এম-৫-১: স্বামীর যৌন-আহ্বানে স্ত্রীকে অনতিবিলম্বে সাড়া দিতে হবে যখনই সে ডাকবে, যদি শারীরিকভাবে সে স্ত্রী সক্ষম হয়। স্বামীর আহ্বানকে স্ত্রী তিনদিনের বেশী দেরি করাতে পারবে না। শারিয়া আইন, পৃষ্ঠা ৯৪ আইন নম্বর -১৩-৫: স্ত্রী যদি বলে তার মাসিক হয়েছে আর স্বামী যদি তা বিশ্বাস না করে, তাহলে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য আইনত: সিদ্ধ ”।


এই বিষয়গুলো কি আপনি নিজেই অনুবাদ করেছেন, নাকি অনুবাদ করাই ছিল তা একটু জানতে চাচ্ছি। হাদিস সহ বিভিন্ন ধর্মীয় বই যারা বাংলায় অনুবাদ করেন, তাদের দক্ষতা এবং উদ্দেশ্য নিয়ে আমার কিছু প্রশ্ন আছে!

৩| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ২:৫৩

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: আমি বলতে চাইছি, বাজারে যে সব বই অনুবাদকৃত বই পাওয়া যায়, তার সম্পর্কে।**

আমার মতে বাংলায় অনুবাদকৃত অনেক বই ই সঠিক নয়। বিভিন্ন সময়ে নানারকম উদ্দেশ্যকে কে কেন্দ্র করে এই অনুবাদগুলো হয়েছে। ফলে নারীদের ক্ষেত্রে ইসলামের বিভিন্ন নিয়মগুলোকে মনমত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার জানা মতে এই ধর্মে নারীদের প্রতি পুরুষদের আচরনকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, নারীর অধিকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করা হয়েছে এমনকি স্বাধীনতাও দেয়া হয়েছে। সেই বিষয়গুলো কি আপনি কখনও কোন বইয়ে পেয়েছিলেন? যদি পেয়ে থাকেন, তাহলে ইসলামের পরিভাষায় নারীরা কি ধরনের স্বাধীনতা পাচ্ছে বা অন্য কোন ধর্মে কেমন সুবিধা পাচ্ছে এই নিয়ে একটি বিস্তারিত পোষ্ট দিবেন।

৪| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৪ ভোর ৪:৩২

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রেহানা সঠিক বিচার পান নি। তিনি রাষ্ট্রীয় ভাবে ধর্মীয় অপব্যাখার শিকার, অন্যায়ের শিকার। একজন মানুষ হিসেবে তার সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে তা প্রতিবাদ করার জন্য কোন ধর্মের আশ্রয় নেয়া প্রয়োজন নেই। একজন মানুষ হিসেবে রেহানার এই অন্যায় শাস্তি আমাদেরকে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে।

কেউ যদি কোন রুলস এন্ড রেগুলেশনকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করেন, নিজেদের স্থুল স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্যায় ভাবে প্রয়োগ করেন তাহলে তার দায় কতখানি ঐ রুলসের সেটা কিন্তু একটা প্রশ্ন। সুতরাং রেহানা রাষ্ট্রীয় ভাবে যে ধর্মীয় অপব্যাখ্যার শিকার হয়েছেন- তার দায় বহন করতে হবে ঐ নির্দিষ্ট দেশটির ধর্মীয় আইন বাস্তবায়ন কমিটি বা তাদের সদস্যকে এবং সেই সাথে অবশ্যই দেশটির সরকারকেও।

আমরা ধর্মীয় গোড়ামি থেকে যেমন মুক্তি চাই, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যায় আক্রান্ত হওয়া থেকে মুক্তি চাই, তেমনি চাই না অল্প বিদ্যায় ভয়ংকর কিছু মানুষের কবলে পড়তে। আপনার এই পোষ্টটির কিছু কিছু লাইন মনে হয় বেশ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে যা একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটি সম্পর্কে অন্যকে ভুল ম্যাসেজ দিতে পারে। এটা যুক্তিযুক্তও নয়।

যেমন কিছু লাইন পড়ে মনে হচ্ছে, ইসলাম ধর্মের মেয়েদেরকে একমাত্রই যৌনকর্মের জন্যই রাখা হয়েছে। তাদের প্রধান কাজই পুরুষের সাথে শোয়া। এখানে তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্য নেই। মজার ব্যাপার হলো, এক সময় যখন ব্লগে ধর্মীয় ব্যাপার নিয়ে তর্ক বিতর্ক, আলোচনা, গালাগালি চলত তখন দেখতাম, ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করার জন্য পুরুষদের চার বিয়ে, মোহাম্মদ (সাঃ) এর বিয়ে এবং এই সংক্রান্ত আরো কিছু বিষয়কেই গুরুত্ব দেয়া হতো।

আমাদের দেশের মানুষের সমস্যা তাদের ধর্মানুভুতি আর যৌনানুভুতি দুইটার প্রবল। অথচ তারা দুইটা সম্পর্কের খুবই কম জানে। সেই কারনে তারা জানতে চায় না, আর কেউ প্রশ্ন করলে ধৈর্য ধরে শোনার চেয়ে ধৈর্য ধরে গালাগালি দিতেই বেশি পছন্দ করে। অবশ্য কথায় না পারলে গালি- এই দেশে একটি বহুল প্রচলিত যুক্তিখন্ডনের উপায়। বাস্তবতা হচ্ছে বেশ কিছু প্রশ্ন আছে, যার প্রমান কিছুটা অবান্তর এবং আরো কিছু প্রশ্ন আছে যার ব্যাপারে সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নি। কারন সেই প্রশ্নগুলো উত্তর দেয়ার মতন যেমন ভালো স্কলার আমাদের নেই। আর যদি কেউ জবাব দেনও আমাদের দেশে জ্ঞানী নাস্তিকরা তা গ্রহন করতে নারাজ।


যাইহোক, আগেই বলেছি আমার জ্ঞান এই সব বিষয়ে খুবই ভাসা ভাসা। ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে আর যাই হোক, কোন বির্তক করা যায় না। তবে ইসলামে নারী অধিকার সম্পর্কিত কিছু তথ্য আমি অল্প বিস্তর ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করেছি। তার কিছু কিছু অংশ আপনার সাথে শেয়ার করতে চাই।


ইসলাম নারীদের আবশ্যিক শিক্ষা, ধর্মচিন্তা, কর্মের স্বাধীনতাসহ পাত্র নির্বাচন ও সম্মতি প্রদানের অধিকার দিয়েছে। বিবাহের সময় অবিবাহিতা, তালাকপ্রাপ্তা ও বিধবাদের মতপ্রকাশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। নারীরা যেন নিজেদের নৈতিক চরিত্র সমুন্নত রাখে এবং সৎ/যোগ্য পাত্রকে স্বামী হিসেবে নির্বাচন করতে পারে।


ইসলাম নারীকে সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে বেশি আর পুরুষকে দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়েছে বেশি। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে পোশাকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পোশাকের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক যত নিবিড়, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ততটাই নিবিড় হওয়া চাই। পবিত্র কোরানে বলা হয়েছে,

'' they are a garment for you, and you are a garment for them'' - al-Baqarah, ch 2 v.187
‘তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৭)

নবী করিম (সা.) স্বামীকে অধিক ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু হতে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘তোমরা নিজ পত্নীদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ এবং তাঁরই আদেশমতো তাদের তোমাদের জন্য বৈধ করে নিয়েছ। মুমিন স্বামী ইমানদার স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষ ভাব পোষণকারী হবে না। কারণ, স্ত্রীর কোনো ব্যবহারে মনে কষ্ট এলেও পুনরায় তার দ্বারাই এমন ব্যবহার পাবে, যাতে সন্তুষ্টি লাভ হবে।’ (মুসলিম)

আপনি স্বামী স্ত্রীর যৌন সম্পর্কের ব্যাপারে যে হাদিসটি উল্লেখ্য করেছেন তা ঠিক আছে। হাদিসটির হচ্ছে এমন যে,

When a man calls his wife for sexual intimacy and she refuses him, thus he spends the night in anger, the angels curse her until morning.” (Sahih al-Bukhari & Sahih Muslim, See: Riyad al-Salihin, no. 281)

পাশাপাশি আরো একটি হাদিস আছে, তা হলো,

By the one in whose hands is my life, there is not a man who calls his wife for sexual intimacy and she refuses him except that Allah becomes angry with her until her husband is pleased with her.” (Sahih Muslim, No. 1436)


তাহলে কি একজন স্ত্রী মানা করতে পারবে না? হাদিসের তাফসীরে বা ব্যাখ্যায় দুটো লাইনের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়েছে,
১)... he spends the night in anger...
২)... until her husband is pleased with her...

তাফসীরে আরো বলা হয়েছে,

However, the above does not in any way mean that the husband may force himself over her for sexual gratification. The Hadith mentions “the husband spends the night in anger or being displeased” which clearly shows that he must restrain himself from forcing himself over her.

Similarly, it should be remembered here that, the wife must obey her husband in his request for sexual intimacy unless she has a valid reason. She must obey his as long as she does not have to forego her own rights. As such, if the wife is ill, fears physical harm or she is emotionally drained, etc; she will not be obliged to comply with her husband’s request for sexual intimacy. Rather, the husband would be required to show her consideration.

Many times it is observed that the husband demands from his wife to fulfil his sexual needs no matter what state she is in, and uses the above quoted Hadiths to impose himself over her. If the wife is not in a state to engage in sexual activities and has a genuine and valid reason, and the husband forces her, then he will be sinful. Muslim husbands should realize that their wives are also humans and not some type of machines that can be switched on whenever they desire!


যদি কষ্ট করে একটু পড়ে নেন তাহলে আশা করি আপনি ব্যাখ্যা পেয়েছেন বলেই ধরে নিব। সমস্যা হচ্ছে, আমাদের দেশে ধর্ম নিয়ে জানার আগ্রহ খুবই কম। তারা শুধু চোখ কান বন্ধ করে হুজুররা যা শিখায় তাই ফলো করে, তাই মানে। তাদের নিজ নিজ শিক্ষা এবং জানার বাইরে কোন কাস্টম দেখলেই তারা সেটাকে সহজে গ্রহন করেন না।

অনেকেই আছেন, যারা এই সকল ব্যাখ্যা জানেন, কিন্তু জেনেও তা না জানার ভান করেন। নিজ নিজ ইচ্ছা, রুচি, স্থুল স্বার্থ বাস্তবায়ন এবং 'উদ্দেশ্য' উপর ভিত্তি করে তারা ধর্মের মূল কাঠামোর সাথে মিল রেখে নিজস্ব ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা তৈরী করেন। ফলে রেফারেন্স চাইলে তারা রেফারেন্সও দেন। কিন্তু যখন তাদের কাছে তাফসীর বা ব্যাখ্যা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়, তখনই তাদের কাচুমাচু শুরু হয় এবং তিনি যা জানেন, সেইটাই সহি, বাকি সব ভুল জানেন, কার কার এজেন্ট, ইত্যাদি কল্পিত সব শত্রু এবং পাপের কথা বলে মানুষকে ভয় দেখিয়ে শান্ত করেন। আর এটার সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়, ভুল তথ্য জেনে, সেটার ভিত্তিতে তারা বিশ্লেষন করেন, যুক্তি দেখান এবং সর্বপরি ভুলভাবেই প্রেজেন্ট করেন।


বিশাল বড় মন্তব্য করে ফেললাম, কিছুটা হয়ত অপ্রাসংঙিকও হয়েছে। দুঃখিত। অন্যের আলোচনা দেখতে গিয়ে নিজেই প্রচুর কথা বলে ফেললাম।

শুভেচ্ছা রইল।

৫| ১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ২:৪৬

*কুনোব্যাঙ* বলেছেন: আপনি বলেছেন মধ্যপাচ্যের ইরানসহ সমস্ত রাষ্ট্র ইসলামী শরীয়া অনুসারে চলে।

ইরানে প্রেসিডেন্ট ইলেকশন হয় সেটা ইসলামী নিয়ম কিনা জানিনা। মিডলইস্টের প্রভাশালী রাষ্ট্রগুলো সব রাজতন্ত্র যেটা ইসলামী নিয়মের সম্পুর্ণ বিরোধী। মিডলইস্টের আরো দুই/একটা আইন জানি যেগুলো ইসলামের বেসিক কনসেপ্টের সাথে সম্পুর্ণ সাংঘর্ষিক।

আর রেহানা জাব্বারীর ফাঁসি নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়া যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে তাতে এটা নিয়েও সন্দেহ হয়। কারণ পশ্চিমা মিডিয়ার মিথ্যাচার আর একপাক্ষিক প্রপাগন্ডার কথা সর্বজন স্বীকৃত। এমনও তো হতে পারে যে একজন মেয়ে খুন করে তাদে ধর্ষণের চেষ্টা বলে চালিয়ে দিচ্ছে। পশ্চিমা মিডিয়ার ইরান বিরোধী সংবাদের স্রোতে যদি গা ভাসিয়ে দেই তাহলে একটা সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ধরুন এই ধারণা যদি প্রতিষ্ঠা পায় তখন খুনি হিসেবে একজন মহিলাকে নিয়োগ করা বেশী নিরাপদ হবে। যে কোন মেয়ে চাইলেই একজন ছেলেকে খুন করে ধর্ষণের চেষ্টা বলে পার পেয়ে যাবে। নারীর হাতে পুরুষ খুন তখন হবে একটি বৈধ বিষয়। যেহেতু ভেতরের খবর আমরা বিশেষ কিছু জানিনা সেহেতু একপাক্ষিক মিডিয়ার কথায় আস্থা রেখে তাদের সাথে সহমত হওয়াও উচিত হবেনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.