নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ব্রহ্মপুত্রের পাড় থেকে বলছি .....................

ধারালো কাঠপেন্সিল

সহজ সরল সাধারন মানুষ। কাজ করি খাই দাই ঘুমাই ।

ধারালো কাঠপেন্সিল › বিস্তারিত পোস্টঃ

নাস্তিকতা ও আমার ধর্মানূভুতি এবং ধর্মকারী ব্লগ

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:০৮

বেশ কিছুদিন যাবৎ একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে গনমাধ্যমগুলোতে ( ব্লগ এবং ফেসবুকে ) প্রচুর সংখ্যক ধর্ম-গবেষক( বিশেষত ইসলাম ধর্ম বিষয়ক ) ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে । তবে একটা দুঃখজনক বিষয় লক্ষ্যনীয় এখন ( মুসলিম, অমুসলিম, আস্তিক, নাস্তিক, রাম-শ্যাম, যদু-মধু, রহিম-করিম ) সবাই ইসলাম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হয়ে গেছেন । উনারা কোরানের আয়াত বা বিভিন্ন হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে নানা ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা করে উল্টা-সিধা নানা মন্তব্য করে লাইক আর কমেন্টের বন্যায় ভেসে যাচ্ছেন ।

আমরা বাঙ্গালী হুজুগে মাতাল । আমিও তার ব্যতিক্রম নই । তাই বলে ধর্মটিকে নিয়ে গুজুগে মত্ত হওয়ার মতো মাতাল এখনো হই নাই ।

আমাদের অধিকাংশ মুসলিম মতে ধর্মটা একটা উটকো জিনিস । বাপ-দাদা মুসলিম তাই আমিও মুসলিম । ধর্মের রীতি-নীতিগুলো তাদের কাছে নিতান্তই কিছু আচার বা প্রথা । এবং ধর্ম না পালন করাকে হালের ফ্যাশনের অন্তর্গত মনে করি ।

ধর্ম এতো ঠুনকো না যে ----- যে কেউ এর বিরুদ্ধাচরন বা কোন মন্তব্য করলে ধর্ম ক্ষতিগ্রস্থ হবে । এর মুল ভিত্তি ঈমান বা বিশ্বাস । সব ধর্মেই তাই এজন্য তারা আস্তিক । যা আমি অন্ধভাবেই বিশ্বাস করি প্রমান চাইলে কোন প্রমাণ নাই দুঃখিত ।

যারা বিশ্বাস করেন না উনারা নাস্তিক বা অবিশ্বাসী ।

সুদূর অতীতে নূহ (আঃ) এর জামানায় পাপরাশির কারণে সেই জাতিকে (প্লাবনে) ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। হযরত ছালেহ (আঃ) এর সময় কওমে ছামূদ-এর ধ্বংস কাহিনী রূপকথার গল্পের মতোই ।

আবার হিন্দু ধর্মে রামায়ণে বর্ণিত বায়ুপুত্র হনুমান লক্ষন কে বাঁচাতে সঞ্জীবনী পর্বতের টুকরোকেই তুলে এনেছিলেন ।

খ্রিষ্ট ধর্মে মাতা মেরীর গর্ভে যীশু খ্রীষ্টের জন্ম মাতা মেরীর কুমারী অবস্থায় ।

এগুলো তো আপাত দৃষ্টিতে কাল্পনিক কিচ্ছা-কাহিনীর ন্যায় । কিন্তু আস্তিকরা তা বিশ্বাস করেন । নাস্তিকের বিশ্বাস না করার পিছনে নানাবিধ যুক্তি বিদ্যমান ।

কারও ধর্মে বিশ্বাস থাকবে কারও থাকবে না এটাই স্বাভাবিক । যুগ যুগ ধরে এটাই চলে আসছে । আবার কেউ মুসলমান কেউ হিন্দু , কেউ বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান আরও অনেক ধর্ম বা বিশ্বাসই পৃথিবীতে বিদ্যমান । সবগুলো একার পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভব না করার দরকারও নেই তবে ---------

আপনি যে মতবাদেরই হোন না কেন তাতে আমার কিচ্ছু আসে যায় না । আমার শুধু আসে যায় আপনি আমার কোন অনুভূতিকে অসম্মান করছেন কিনা ।

আগেরবার দেখা গেছে যে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বানচালের ষড়যন্ত্রে আস্তিক নাস্তিক ধুয়া তুলে এই ইসলাম ধর্মটিকেই ব্যবহার করা হয়েছে । শাহবাগী সব নাস্তিক বাকী সব আস্তিক।

আবার এখন দেখা গেলো নাস্তিকতার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের সকলকে জামায়াতের দোসর বানিয়ে আবার সেই ইসলামকেই তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ।

ইসলাম ধর্মটিকে কি কারও কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে যে যার খুশি সে এসে চাষাবাদ করবেন ।

মূল কথায় আসি ।

যারা ধর্মকারী ব্লগটি পড়েছেন তারা তো জানেন । আর যারা পড়েন নাই তাদের বলছি , ব্লগটিতে ইসলামকে এমনভাবেই অপদস্ত করা হয়েছে তা কল্পনাতীত । ব্লগটি বাংলাদেশ থেকে ব্লক করা ।

আমার প্রশ্ন হলো আপনি বিশ্বাস করেন না তাই বলে কি আর একজনের বিশ্বাসকে অশ্লীল ও যাচ্ছেতাইভাবে অপমান করবেন ? আপনার অবিশ্বাসের পিছনে যুক্তি থাকতে পারে । ঠিক আছে তা আপনি লিখুন তাতে কোন সমস্যা নেই । তা প্রকাশে আমার ব্যক্তিগত কোন আপত্তি নেই । ব্যাপারটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত ।

কিন্তু আপনি আমার বিশ্বাসকে আমার অস্তিত্বকে যা ইচ্ছা তাই বলবেন নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করবেন তা কেন ? এবং শুধু যে ইসলামকে তা নয় সব ধর্মকেই কম-বেশী অবমাননা করা হয়েছে । তবে ইসলামকে তুলনামুলক বেশি । কেন ? আমি জানি অনেকেই এই বিষয়টি পছন্দ করবেন না বা এটাকে মৌলবাদের সংজ্ঞায় ফেলার চেষ্টা করবেন ।

যে যেই ধর্মেই আছেন একবার ভেবে দেখুন আপনার ধর্মটিকে যদি অপদস্ত করা হয় তাহলে আপনার অনুভূতি কি হবে ? অনেকের হয়তো কিছুই মনে হবে না ------- কিন্তু অনেকের হয় আমার হয় ।।

ধর্মকারী ব্লগটিতে বলা হয়েছে মুহাম্মদ (সঃ) এর একাধিক বিবাহ নিয়ে , ------ যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না ।

আমার যারা হিন্দু আছি তাদের কি অনুভুতি হবে যদি একজন সীতাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন বা যারা খ্রিষ্টান তাদের কি অনুভূতি হবে যদি মাতা মেরীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করা হয় ।

আমাদের প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের ( চাই তা ধর্ম হোক চাই তা ব্যক্তি হোক) শ্রদ্ধাশীল থাকা খুবই জরুরী ।



আজ যারা ধর্মানুভূতি বিষয়টাকে নিয়ে হাসি-মস্করায় লিপ্ত তাদের প্রতি অনুরোধ যেকোন মন্তব্য করার পুর্বে ভেবে-চিনতে করুন। দেখুন সত্যিকারেই কি এর কোন যুক্তি আছে কিনা ?

ধর্মানুভুতি আর লুঙ্গিনাভুতি নিয়ে আজ যারা মস্করা করছেন তারা ভাবছেন না মনের অজান্তেই আর একজনের মনে কষ্ট দিয়ে যাচ্ছেন । আর একদিন আপনার কষ্ট নিয়েও আর একজন মস্করা করতে পারে ।

ধর্মকে হেয় করায় কোন বীরত্ব নেই । বা অপরের মনে কষ্ট দেয়ায় কোন আনন্দ নেই ।

সেই সাথে যারা সিজনাল ধর্ম-ব্যবসায়ী তাদের প্রতিহত করে যুদ্ধাপরাধীর বিচার একইসাথে ইসলামকে অবমাননাকারী সেই সব নাস্তিকদের যথাযথ বিচারের ব্যবস্থা করে একটি কলঙ্কমুক্ত সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ জাতি তথা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম অটুট রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি ।

মাহমুদ

রোববার,

৭ এপ্রিল ২০১৩,

২৪ চৈত্র ১৪১৯

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:৪১

ওছামা বলেছেন: আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করোনা, আমাদের ধর্মবিশ্বাস বেচে দিওনা। আমাদের শ্বাস নিতে দাও।আমরা সাধারন মানুষ আজ ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, বিভ্রান্ত।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:৫৫

ধারালো কাঠপেন্সিল বলেছেন: ওছামা ভাই আমাদের বেশীরভাগ মানুষের উপলব্ধি আজ এমনই । বিভিন্ন দলগুলোর নানাবিধ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ । সেই সাথে কিছু অতিউৎসাহীদের (অতি আস্তিক এবং নাস্তিক ) চিরাচরিত ইতরামী । যা সমাজের শান্তি বিনষ্ট করার মূল ।
সবাই মিলে মিশে থাকাতে কি এমন সমস্যা ?
আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন শান্তিতে রাখুন ।

২| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:৫১

বাঘ মামা বলেছেন: একটু আগে আমার আম্মুর সাথে এক দফা হয়ে গেল আমার এই ব্লগ নিয়ে,উনিও অপপ্রচারে কান দিয়ে আমাকে বলছেন ব্লগে নাকি ইসলাম কে কটাক্ষ করা হয়,জাবাবে বল্লাম- এখানে প্রায় এক লক্ষ ব্লগার আছে,এর মধ্যে হাতে গোনা ১০/১২ জন ব্লগার আছেন তারা হালের ফ্যশন হিসেবে নিজেকে বুদ্ধিমান বুঝানোর জন্য নাস্তিক চর্চা করছে।এরা আসলে নিজেও জানেনা যে নাস্তিকতা কি।খোঁজ নিলে দেখা যাবে যে এই নাস্তিক গুলো নিজের চরিত্রের ইচ্ছে মত ব্যবহার করার জন্য নাস্তিকের খাতায় নাম লেখে থাকেন যেন যা ইচ্ছে করা যায় সেমন নারী মদ নেশা সহ অন্য সব অপকর্মে কোন কিছু বাধা হয়ে না দাড়ায়,কেউ কিছু বললে যেন এক কথায় বলে দিতে পারে আমাকে এসব বুঝাতে আসবেননা,আমিতো নাস্তিক আমি এসব নিয়ম কানুন মানিনা।

আমি নাস্তিক আর ধর্ম ব্যবসায়ীর মধ্যে অনেক মিল খুজে পাই,নাস্তিক আল্লাহকে নাই করে নিজের স্বার্থ হাসিল করে,আর ধর্ম ব্যবসায়ী আল্লাহকে সামনে রেখে ব্যবসা করে,বরং বলবো নাস্তিক ভিতু ব্যবসায়ী,আল্লাহকে ভয় পায় বলেই নাই করে দেয় মানে আল্লাহ সামনে কিছু করার সাহস পায়না,অপর দিকে ষেই তুলনায় ধর্ম ব্যবসায়ীয়া দু কদম এগিয়ে এদের সাহস আরও বেশি এরা সব বুঝে শুনে সয়ং আল্লাহ পাকের সামনেই করে,ভাবটা যেন এমন আই ডন্ট কেয়ার.........।

পরিষ্কার ভাষায় বলি- কোন ব্যক্তি গোষ্ঠীর নাম ধরে এবং কারো অনুভুতিতে নোংরা শব্দ ছেড়ে যদি কেউ বলে আমি নাস্তিক আমি মেধা রাখি তো আমি বলবো সে আস্ত পাগল।যেমন টি পথে ঘাটে দেখি নগ্ন হাটে,এরা আছে বলেই আমরা বুঝতে পারি যে আমরা সুস্থ্য।হাতে গোনা কয়জন মানুষের জন্য সারা বাংলাদেশে কে অচল বা সবাইকে গন হারে নাস্তিক আখ্যা দেয়া কোন ধরণের আস্তিকতা আমার জানা নেই।

ইসলাম ধর্ম হলো শান্তির ধর্ম ,ইসলাম শব্দের অর্থই হলো শান্তি।এই শান্তিটা কারো মাথায় বাড়ি কিংবা কোন উপশনালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে অথবা দেশ অচল করে জনমনে অস্থিরতা তৈরী করে কিভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় আমার বোধগম্য নহে,তাহলে কি যুগের সাথে শান্তির সংজ্ঞা বদলে গেল?

আমি একজন মুসলিম হিসেবে চিন্তা করি একটা শান্ত মনের মানুষ আমার সামনে এসে দাড়াবে আমার কাঁধে হাত রেখে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে এক ঐশ্বরীকতা দিয়ে তার মগজে থাকা শান্তির বানী গুলো নিরবে আমার মগজে বসিয়ে দেবে।আমার মনের মধ্যে সে বিশ্বাস সৃষ্টি করে দিতে হবে আমি যেই ধর্মের দীক্ষা নিয়ে এমন শান্ত হয়ে তোমাকে বুঝাচ্ছি তুমিও সেই ধর্মে আসো মানো,।
আমিতো কখনোই মেনে নেবনা আমার পিছে কেউ একজন পাঞ্জাবির হাতা গুছাতে গুছাতে হাতে তরবারী নিয়ে আমাকে তাড়া করবে আর আমিও তার কথা শুনবো কিংবা আমি বলবো হে হুজুর আমি ইমান আনিয়াছি আমি ভালো হয়ে গেছি।এটা কি আদৌ সম্ভব?
নবীজির জীবনী পড়লে এমন তো কোথাও পাবোনা মনে হয় যে তিনি কারো গলায় তরবারী ধরে কিংবা রক্ত চক্ষু দিয়ে কাউকে তিনি ধর্মান্তরিত কিংবা ধর্মের অনুশাষনে শাষিত করেছেন।

এসব নিয়ে বলতে গেলে ভাই সারা রাত বলা যাবে,পরিশেষে একটা কথাই বলবো- ধর্ম মানুষের মনের মধ্যে বুকের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে চান? তো বুকে জড়িয়ে নিন যে কোন মতের মানুষকে।বইয়ে দিন তার মনে বুকে যদি আপনার বুকের মধ্যে থেকে থাকে ইসলাম ধর্মের মুল ধর্ম।

যারা এখানে নোংরা নাস্তিকতার চর্চা করেন তাদের বলবো আগে নাস্তিকের সংজ্ঞা আর ধর্ম জানুন।আমাদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাৎ হানবেননা,নিজের জায়গায় দাড়িয়ে কথা বলুন সুন্দর ভাবে আমরাও বলতে চাই বুঝাতে চাই সাবলীল ভাবে।

সবাইকে ইসলাম ধর্মকে সঠিক ভাবে বুঝার বুদ্ধি দিন।

আপনার লেখায় সব কিছু পরিষ্কার ছিলো তবুও কিছুটা যোগ করার লোভা সামলাতে পারিনি।

শুভ কামনা সব সময়।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:১৪

ধারালো কাঠপেন্সিল বলেছেন: বাঘ মামা অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই এ মন্তব্য করার জন্য । আসলে সত্য সবসময়েই সত্য। শান্তির বার্তা কখনোই তরবারীর ডগায় বা বন্দুকের নলে বহন করা যায় না । চিন্তা চেতনায় অসুস্থ লোকজনই এই নোংরামীর অসুস্থ প্রতিযোগীতায় লিপ্ত।
আপনি দেখবেন সুস্থ কোন চিন্তায় প্রতিযোগিতা কম। ভালো ও সুস্থতা দমিয়ে রাখার প্রবণতা খুব বেশি । কেন তা জানি না ।
আপনি আপনার মাকে বুঝিয়ে বলার কথা বললেন শুনে ভালো লাগলো । পারলে আপনার আশেপাশের সবাইকে বুঝিয়ে বলুন । আসল সত্য কোনটা । চারপাশের ভ্রান্ত ধারণাগুলো আমাদেরই সমূলে উৎপাটন করতে হবে । হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে ক্ষতি আমাদেরই ।

ভালো থাকুন । এই কামনায় ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.