| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুখ
সাদ্দাম ও তুষার একত্রে তাঁদের এলাকার বাস স্ট্যান্ডে হেটে হেটে যাচ্ছে । এমন সময় এক ছেলে সাদ্দামকে ডাক দিল “এই যে ভাই,ফয়সাল ভাই কি কাজটা ঠিক করছে?”
সাদ্দাম বলল, কি কাজ ?
আমি তাঁর জন্য ‘ক’ ও ‘খ’ বাস কোম্পানিতে চাকরীর জন্য সুপারিশ করছিলাম । ‘ক’ কোম্পানিতে চাকরী হইছে সে ট্রেনিং করতাছিল। আমি তাকে ট্রেনিং করার অবস্থায় তার বেতনের ব্যবস্থা করছি। ভাইতো কথা দিয়া কথা রাখে না ।
সাদ্দাম বলল,আমিও তাঁর জন্য সুপারিশ করছিলাম । তাঁর এ ধরনের আচরণের জন্য হতাশ হয়ে আর তাকে সাহায্য করতে পারি নাই ।
ছেলেটি তুষারের দিকে তাকিয়ে বলছে,ভাই শোনেন, যে গাছ ফল দেয় ঐ গাছ কাইটা গোরাতে পানি দিলে ঐ গাছ কি হইবো ?
তুষার মাথা নাড়িয়ে বলল “না” ।
সাদ্দাম বলল,ফয়সালের জন্য আমি কয়েক জনের কাছে কথা দিয়া কথা রাখতে পারি নাই । সে এমন কাজও করছিল যে তাঁর শালীর ও লাভারের গেঞ্জাম আমার মিটমাট করতে হইছে । তাঁর বন্ধুর বন্ধু মাইর খায় আর আমাকে বলে সে মাইর খাইছে । এ কথা শুনে আমি মারপিট করছি ।
ঐ ছেলে বলল, যার দরকার তাঁর গুরুত্ব দেওয়া উচিত না যাকে দিয়া স্বার্থ আদায় করব তাঁর গুরুত্ব দেয়া উচিত ?
সাদ্দাম বলল, ওর মাথা নষ্ট, আমরা যারা বন্ধু ছিলাম কারও ওর সাথে সম্পর্ক নাই । ওর জবানের ঠিক নাই । আমাদের এলাকার সমবয়সী সবাই তাকে ভয় পাইত। কারণ সে যদি একটা ফোন করত ৬০-৮০ জন ছেলে আইসা ভইরা যাইত । আর এখন সম্পূর্ণ ঊল্টা । যার কোনো জবানের মূল্য নাই তাকে কেঊ পছন্দ করে না ।
তুষার বলল, এটাই স্বাভাবিক ।
ঐ ছেলে বলল, ও নাকি র্যা।বের লাত্থানি খাইছে ।
সাদ্দাম হেসে বলল,এটা সত্য ।
আমরাও কি কম খাইছি। ১০-১২ দিন রিমান্ডে ছিলাম। তবুও কাজ করছি,কথা দিয়া কথা রাখছি। আচ্ছা ধরে নিলাম
সে অসুস্থ্য । মোবাইলে আমাকে বলছে ঔষুধ খাইয়া শুইয়া আছে কিন্তু আমি যখন তাঁর বাসার সামনে গেলাম সে পুরি নিয়া বাসায় ঢুকতাছিল। প্যাকেটের সাইজ দেইখা মনে হল ২০-২৫ টা পুরি । সে আমাকে বলছিল তাঁর নাকি টাকা নাই ।
তাঁরা লক্ষ করল ছেলেটির হাতে সাদা কাগজ দ্বারা মোড়ান কোন এক বস্তু ।
ঐ ছেলেটি বলল,গতকাল বাস স্ট্যান্ডে দুইটা মোবাইল ঠেক দিছি (ছিন্তাই) । আর কলেজের সামনে একটা মেয়ের ঘারে সুই দুকাইছি আর মাঠে নিয়া আকাম করছি ।
তুষার জিজ্ঞেস করল, মেয়েটা কি সুন্দরী ছিল ?
সাদ্দাম বলল, ওদের যখন মাথার তাঁর ছিরে তখন সুন্দরী-অসুন্দরী বোঝে না । যা পায় তাই ধরে ।
তাঁরা হেটে যেতে যেতে ছেলেটি হাতের শুই ফেলে দিল। বাস স্ট্যান্ডের চায়ের দোকানে গিয়ে বসল ।
চা পান প্রায় শেষ,এমন সময় লম্বা ও কাল একটি ছেলে এসে একটু দূরে দারাল । সাদ্দাম তাঁকে হাত উঠিয়ে সালাম দিল । সাদ্দাম তাঁর কাছে গিয়ে কথা বলছে ।
ঐ ছেলেটি বলল,আমার বড় ভাই অপু আর আমার নাম সীমান্ত।
তুষার বলল, দুই জনের চেহারায় অনেক মিল আছে ।
সীমান্ত বলল, সাদ্দাম ভাইদের বন্ধু-বান্ধবের জবানের ঠিক নাই । আজকে সকালে আমরা দুই ভাই চাপাটি নিয়া একজন আরেক জনকে খুন করতে চাইছিলাম । মাঝখানে আম্মা আইছে আর কিছু করতে পারলাম না ।
তাঁর মানে আপনারা মা’কে অনেক ভালোবাসেন ও সম্মান করেন।
না,রাগ উঠলে আবার ছারি না ।
আপনার ভাইয়ের সাথে চাপাটি দিয়ে মারপিট করতে চেয়েও করলেন না । কারন আপনাদের মা বাধা দিল । আর মারপিট না করে আপনারা আপনাদের মা’কে সম্মান করেছেন।
সীমান্ত তুষারের কথা শুনে কিছুক্ষন চুপ হয়ে ছিল । হঠাৎ করে সুমন চায়ের দোকানের বেঞ্চের নিচে বসে গেল । ঠিক পালাতক আসামীর মত ।
তুষার বলল,কি হল?
আব্বা যাইতাছে,সম্ভবত খাইতে আইছিল ।
বাবাকে দেখার সাথে সাথে তাঁর ভাইকেও আড়াল হতে বলল ।
বুঝতে পেরে তুষার আর কথা বলল না । কঠিন সমস্যা তাই সে এমন করেছে ।
বাবা চলে যাওয়ার পর সে আবার ঠিক ভাবে বসল ।
সীমান্ত ও অপু দেখতে কাল । সীমান্ত নীল রঙের টি-শার্ট আর অপু কাল রঙের টি-শার্ট ও কাল জিন্স পরা ছিল আর পায়ে ছিল পুরনো স্যান্ডেল ।
আমি খুব খারাপ । ইন্ডিয়ায় আমাদের বাড়ী আছে । বাড়ীর কারণে আমি আমার মামাকে জবাই দিছিলাম । ঐ রাত্রে আমরা ছিলাম তিন জন । দুই জন দুই হাতে ধরছে আর আমি জবাই দিছি । মামার ভাগ্য খুব ভাল যে ঐ মুহূর্তে আমি আমার মা’র মুখ মামার চেহারায় দেখছি । দেখার পর আর ভাল করে কাটতে পারলাম না । চলে আসলাম । হাসপাতালে নেওয়ার পর বাইচ্ছা গেছে ।
মনে মনে তুষার বলছিল,আমাকে ভয় দেখাচ্ছে না নিজের পরিচয় দিচ্ছে সে যে একটা অমানুষ ।
সীমান্ত অমানুষ হলেও সে কিন্তু তাঁর মাকে অনেক বেশী ভালোবাসে ও সম্মান করে । এর প্রমাণ হল মামার মুখে মায়ের ছবি দেখতে পেয়ে সম্পূর্ণ জবাই না করা । আমরা যারা ভাল মানুষ আছি আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা প্রতিনিয়ত মা’র সাথে কম বেশী খারাপ আচরণ করি । আমি মনে করি মায়ের সাথে খারাপ আচরণ সীমান্তের অসম্পূর্ণ জবাই থেকেও অধিকতর খারাপ ।
©somewhere in net ltd.