![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশকে এক মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সুন্দরবনকে বাঁচানোর জন্য কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকার তো দূরে থাক, জাতীয় ঐক্য বা সংহতির দারুণ অভাব বোধ হচ্ছে আমাদের মধ্যে। সুন্দরবন ধ্বংস করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন কেন অবৈধ নয় মর্মে সরকারের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন আমাদের হাইকোর্ট। অথচ উচ্চ আদালত পর্যন্ত কেন এখন সুন্দরবনকে বাঁচাতে পারছে না? যেখানে এ দেশে কোনো একজন স্থানীয় পর্যায়ের নেতার মুক্তির জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম-হরতাল হয়, সেখানে সুন্দরবন রক্ষার জন্য একটা হরতাল পর্যন্ত আজ অবধি আমরা পেলাম না! সুন্দরবন নিজে কথা বলতে পারে না। তাই বলে সুন্দরবনের মতো আমরাও কি বোবা হয়ে গেছি? সুন্দরবনকে রক্ষা করার সব দায় যেন আমরা আনু মুহাম্মদের স্কন্ধে চাপিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘরে বসে আছি। আনু মুহাম্মদ যথার্থই বলেছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র আরেকটা করা যাবে, কিন্তু সুন্দরবন তো আরেকটা করা যাবে না।
জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইউনেসকো যেখানে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেখানে ভারত-বাংলাদেশের এই যৌথ বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইনকে লঙ্ঘনই করে না; বরং গোটা বিশ্ব মানবসত্তার ১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাপত্রের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশও বটে। তা ছাড়া এই প্রকল্পটি ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তিরও ভয়াবহ লঙ্ঘন। কেননা দুই দেশের মধ্যে সুন্দরবন এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষার চুক্তি এখনো বিদ্যমান রয়েছে।
সুন্দরবনের বুক চিরে দশটি খাল ভরাট করে এবং প্রায় দুই হাজার একর কৃষিজমি ধ্বংস করে কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই প্রাণঘাতী এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চলছে। এই প্রকল্পে আট হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়ে সম্পূর্ণ উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। যেখানে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা থেকে শুরু করে আমাদের বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর এমনকি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পর্যন্ত লিখিত আপত্তি জানিয়েছে, সেখানে সরকার কার স্বার্থে জনবিরোধী এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে?
দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সুন্দরবন থেকে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার দূরে এ ধরনের প্রকল্প নির্মাণ করতে হবে। এমনকি ভারত তার নিজ দেশে আইন করে তাদের অংশের সুন্দরবনের ২৫ কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত কোনো প্রকার শিল্প-প্রতিষ্ঠান নির্মাণ অবৈধ করেছে। ভারত তার নিজ ভূমিতে মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে এ ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্পকে নিজ দেশের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বাতিল করলেও বাংলাদেশের সুন্দরবন রক্ষায় তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তাবিত স্থানকে কৃষিজমির জন্য বিপজ্জনক বিধায় পুরো প্রকল্প বাতিল করেছে। তারা নর্মদা নদী থেকে প্রকল্পের জন্য ৩২ কিউসেক পানি উত্তোলনকে অবৈধ বলেছে। অথচ প্রায় আট বিলিয়ন গ্যালন পানির পুরোটাই নেওয়া হবে আমাদের পশুর নদী থেকে। যদিও আমাদের পশুর নদী মিঠা ও নোনা পানির ভারসাম্য বজায় রেখে সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রেখেছে। রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পশুর নদী থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৯ হাজার ১৫০ ঘনমিটার করে পানি প্রত্যাহার করতে হবে। এসব জেনেও ভারতীয়দের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় এই অন্যায় আবদারকে আমরা কেন নির্দিধায় মাথা পেতে নিচ্ছি, তা বোধগম্য নয়!
রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে যে শুধু সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশের ভারসাম্য ধ্বংস হবে, তা নয়। এতে জীববৈচিত্র্য, কৃষিজমি, বনভূমি, জলাশয় এবং বন্য প্রাণী ধ্বংসসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য ও রাসায়নিকে ভয়াবহ বিপর্যস্ত হবে গোটা অঞ্চল। ভস্মীভূত কয়লার ছাই আর উৎপন্ন গ্যাসের কারণে বায়ু ও পানিদূষণে প্রকল্প অঞ্চলের আশপাশে এসিড-বৃষ্টি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। অথচ আমরা কেন ভুলে যাই যে ভারত-বাংলাদেশের সুসম্পর্কের চেয়ে বাঁচার জন্য পরিবেশের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখাটাই বেশি প্রয়োজন। যেখানে এই প্রকল্পের ১৫ শতাংশ অর্থায়ন করবে পিডিবি, ১৫ শতাংশ ভারতীয় পক্ষ, আর বাকি ৭০ শতাংশ ঋণ নেওয়া হবে। অথচ লাভের বেলায় ভারত নিয়ে যাবে ৫০ শতাংশ হারে, তাও আবার বিনা শুল্কে কোনো ট্যাক্স-খাজনা না দিয়ে। অথচ এই ১৫ শতাংশ টাকা আমাদের প্রবাসীরা অনায়াসে দুই দিনে তহবিলে জমা দিতে পারে।
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন সারা জীবন সিডর-আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষা করেছে নিজে ক্ষতবিক্ষত হয়ে। আর আজ আমরা নিজেরাই সুন্দরবনকে ক্ষতবিক্ষত করতে কার্পণ্য করছি না! বৈশ্বিক উষ্ণতায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র বাংলাদেশ আজ যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে ভবিষ্যতে আইলা-সিডরের মতো বিপর্যয়ে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারাবে নিঃসন্দেহে।
যেখানে গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিবছর এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৮৫ লাখ টন কার্বন ডাই-অঙ্াইড নির্গত হবে, সেখানে কয়েক দফা প্রস্তাব ফেরত পাঠানোর পরও গত মাসে অতিগোপনে ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তর। পিডিবি নাকি প্রয়োজনে আরেকটি সুন্দরবন তৈরি করে দিতে পারবে বলে আশ্বস্ত করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরকে! কার স্বার্থে এসব যুক্তি, প্রতিবেদন আর ছাড়পত্র দিচ্ছি আমরা? অবিবেচকের মতো কেন কাজ করছি আমরা? সুন্দরবন ধ্বংস হলে আর বৃক্ষ না থাকলে মরুর শূন্যতায় পড়বে দেশ। শিগগিরই হয়তো আমরা চলে যাব সমুদ্রতলে। তাই দেশে যদি সম্পূর্ণ ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থাও করা হয়, তবু তা সুন্দরবনকে ধ্বংস করে নয়।
২| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:১৩
আমাবর্ষার চাঁদ বলেছেন: সহমত..............
৩| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:১৭
পরিবেশ বন্ধু বলেছেন: সুন্দর বন ধংশ কে নানানা
৪| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৪১
দুরন্ত-পথিক বলেছেন: ্কখনই নয় সবুজ ধ্বংস করে বিদ্যুৎ ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:১১
ম্যাংগো পিপল বলেছেন: বিডি নিউজ ২৪.কমের জরিপ এবং আমার কিছু ভুল