নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি লেখক নই, মাঝে মাঝে নিজের মনের ভাবনাগুলো লিখতে ভাল লাগে। যা মনে আসে তাই লিখি,নিজের ভাললাগার জন্য লিখি। বর্তমানের এই ভাবনাগুলোর সাথে ভবিষ্যতের আমাকে মেলানোর জন্যই এই টুকটাক লেখালেখি।

তারেক_মাহমুদ

পৃথিবীর সব ভাল টিকে থাকুক শেষ দিন পর্যন্ত

তারেক_মাহমুদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সকালের চলার পথের সাথীদের কথা

২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:১৪

একটি সকাল মানেই একটি কর্মব্যস্ত দিনের সূচনা। খেটে খাওয়া মানুষের সকালের ব্যস্ততার শেষ নেই। অনেকেই যখন গভীর ঘুমে তখন খেটে খাওয়া মানুষরা কর্মব্যস্ত একটি দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। অতঃপর রাস্তায় বের হওয়ার পালা।

সকাল সাড়ে সাতটা মানেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়া। এ সময় আমার চলার পথের সঙ্গী হাজার হাজার কর্মব্যস্ত গার্মেন্টস শ্রমিক। বাসা থেকে বের হয়েই এসব মানুষের স্রোতে ভেসে ভেসে বাস স্টান্ডের দিকে যাওয়া। এ সময় সব অলিগলিগুলো মানুষের স্রোতে প্রবাহমান এক একটি নদী। এই স্রোতের মাঝখানে শুধু দাঁড়িয়ে থাকলেই চলবে ওরাই আপনাকে ধাক্কিয়ে পৌছে দেবে আপনার গন্তব্যের। সবার চেহারায় ব্যস্ততার ছাপ।

সকালের রাস্তার এইসব খেটে খাওয়া মানুষের উপর নির্ভর করে বেচে আছে আরো কিছু মানুষ। আমার বাসার নিচের রাস্তায়ই আছেন একজন অন্ধ ভিখারী নানী। যিনি ভোর ছয়টা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত ভিক্ষা করেন। আমার ধারণা এই ভিখারী নানীর ইনকাম অনেক চাকুরীজীবীর চেয়েও বেশি। আমার বাসার দারোয়ানের ধারণা নানী প্রতিদিন এক হাজার টাকার বেশী ইনকাম করেন।এই অন্ধ নানীর মত অন্তত আরো দশজন ভিখারীর জীবিকার উৎস এই সকাল বেলার ব্যাস্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ভাই বোনেরা।

পথে যেতে যেতে প্রতিদিন সকালে দেখা হয় একজন মাদ্রাসার খাদেম সাহেবের সাথে। যিনি তার ছোট্ট হ্যান্ডমাইক নিয়ে সবাইকে দোয়া করেন আর মাদ্রাসার এতিম বাচ্চাদের জন্য টাকা তোলেন। ওনার ভাষ্য এই টাকা আখিরাতে ৭০গুন হয়ে আপনার কাছেই ফিরে আসবে। গার্মেন্টস শ্রমিক ভাই বোনেরা আখিরাতে শান্তির আশায় তাকে দু হাতে টাকা দান করেন।

সাতসকালে রাস্তার পাশে দেখা মিলে পরোটা বিক্রেতা,সিংগাড়া বিক্রেতার। এদেরকে খুবই প্রয়োজন হয় শ্রমিক ভাইবোনেদের। অনেকেই এত সকালে বাসা থেকে নাস্তা সেরে আসতে পারেন না, তাই এই ভ্রাম্যমাণ পরোটা ও সিংগারা বিক্রেতাই এদের ভরসা।

রাস্তায় আরো দেখা মেলে কিছু আচার চাটনি, তেতুল, কাচা আম মাখা, পেয়ারা মাখা বিক্রেতা। বেশিরভাগ গার্মেন্টস কর্মীই যেহেতু মহিলা তাই তেতুল আচার বিক্রেতার বেচাবিক্রিও খুবই ভাল। এছাড়াও চা, সিগারেট বিক্রেতা, পান বিক্রেতা, শরবত বিক্রেতাসহ আরো কত মানুষ যে এদের উপর নির্ভরশীল তার হিসেব নেই।

এইদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা প্রতিদিন ৮-১৫ ঘন্টা পর্যন্ত পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে। অথচ তাদেরকেও ঈদের বেতন বোনাসের দাবীতে রাস্তায় নামতে হয়। এই সামন্য রোজগেরে মানুষগুলোর উপরও আরো কিছু মানুষ নির্ভরশীল। এভাবেই এ পৃথিবীতে আমরা সবাই সবার নির্ভরশীল।

মন্তব্য ২২ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:২০

অচেনা হৃদি বলেছেন: ভাইয়া, ছবিটা তো চমৎকার। আপনি তুলেছেন? নাকি সংগ্রহ করা?

২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:২৭

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: সকালে ব্যস্ত মানুষের ছবি তোলার সময় পাওয়া যায় না, সংগ্রহ করা। অনেক ধন্যবাদ আপু প্রথম মন্তব্যের জন্য।

২| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:৩০

অচেনা হৃদি বলেছেন: প্রথম মন্তব্যে ধন্যবাদ পেয়ে খুশিতে আরেকটা মন্তব্য করলাম। আশা করি এটা দ্বিতীয় মন্তব্য হবে! :)

২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:১৭

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: আশাকরি ভালই আছেন আপু, ইদানীং ব্যস্ততার কারনে ব্লগে খুবই কম আসা হয়, আপনাকে ঈদের শুভেচ্ছা।

৩| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:৫৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


সকালে কত মানুষ কাজে যাচ্ছে, সেটা থেকে জাতির অর্থনৈতিক স্বাস্হ্য মাপা সম্ভব

২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:২১

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: এক সময় বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী ঘরের কাজে সময় কাটাতো, আর এখন মহিলারা গার্মেন্টস এ কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। আপনি ঠিকই বলেছেন এই সব শ্রমিকদের শ্রমে ঘামে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের অর্থনীতি।

৪| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:৫৬

মিথী_মারজান বলেছেন: চলতি পথের আশেপাশের এমন সঙ্গী সাথীদের আমিও দেখতে খুব পছন্দ করি ভাইয়া।
বিশেষ করে দলবেঁধে চলা পোষাক শ্রমিকদের আমি খুব মন দিয়ে দেখি।
এই আসা যাওয়ার সময়টুকুতেই আমি তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি।
খুব সুন্দর করে লিখেছেন ভাইয়া।
জীবন পথে আমরা সবাই মিলেই একে অন্যের সহযাত্রী। :)

২০ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৫

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: মিথী আপু
আমাদের দেশের পোশাক শ্রমিকদের বেশিরভাগই মহিলা ,এরা ঘরে বাইরে কাজ করে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকা উচিত।

আপনার সুন্দর মন্তব্য আমার জন্য অনেক অনুপ্রেরণা,অনেক ধন্যবাদ ও শুভ কামনা।

৫| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ১:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন।
আপনার দেখার দৃষ্টি অনেক উন্নত।

২০ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৮

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ও শুভ কামনা সুপ্রিয় রাজীব ভাই।

দেখার দৃষ্টি কেমন জানি না তবে ইদানীং ব্লগিং এ কেন যেন ইন্টারেস্ট কমে যাচ্ছে। পোষ্ট লিখতে পড়তে এবং মন্তব্য করতে খুবই অলসতা লাগে।

৬| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ১:৫৯

জাহিদ অনিক বলেছেন: ভালো পর্যবেক্ষণ-
অনেক অনেক দিন সকালে দুপুরে সন্ধায় এসব জীবনের সাথে দেখা হয়েছে- হোঁচট খেয়েছি এসব জীবনের সাথে -----

২০ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:৫১

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: ভালো পর্যবেক্ষণ-
অনেক অনেক দিন সকালে দুপুরে স
ন্ধায় এসব জীবনের সাথে দেখা হয়েছে- হোঁচট খেয়েছি এসব জীবনের সাথে।

এগুলো আমাদের চিরপরিচিত দৃশ্য, ওরা সবাই আমাদের কাছের মানুষ।

অনেক ধন্যবাদ সুপ্রিয় জাহিদ অনিক ভাই।

৭| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ২:৪৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: সুপ্রিয় তারেকভাই,

আপনার দেখার ভঙ্গিটি বেশ সুন্দর । গার্মেন্টস ভাইবোনদের জন্য তাহলে অনুসারি শিল্প তৈরী হল, আরকি। যাদের মধ্যে ভিখারি নানি, মাদ্রাসার খাদেম, পরোটা সিংগারা আচার চাটনি সহ নানান বিক্রেতারা। বেঁচে থাক গার্মেন্টস ও তার শ্রমিকরা। আর একটি কথা আমার ব্লগ বাড়িটি আমার বন্ধুবর প্রিয়তারেকভায়ের পদধুলির অভাবে প্রায় নিঃচিহ্ন হতে চলেছে। প্লীজ ওনাকে বাঁচান। হা হা গা।

২০ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:৫২

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: পদাতিক চৌধুরী ভাই

আসলে ইদানীং ব্লগে আমার পদচারনা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে, কোনদিন দু একটা পোষ্ট পড়ি কোনদিন একটাও পড়ি না। এ কারণেই আপনার ব্লগবাড়িতে যাওয়া হয় না। খুব শিঘ্রীই আসছি আপনার ব্লগবাড়িতে।

অনেক ধন্যবাদ প্রিয় পদাতিক চৌধুরী ভাই।

৮| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৭

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: ওদের স্যালুট। যারা অনৈতিক কাজে না জড়িয়ে হালাল ভাবে কাজ করে খাচ্ছে...

২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৮

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: আপনার সাথে সহমত তালগাছ ভাই। এইসব ভাইবোনদের স্যালুট।

আপনাকে ইদ মোবারক।

৯| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৮

পদ্ম পুকুর বলেছেন: একটা বিষয় বুঝলাম, অবস্থা ও অবস্থানের প্রেক্ষিতে মানুষের দেখার ক্ষেত্র বদলে যায়। আপনি যেই নানী বা মাদ্রাসার খাদেমদের দেখছেন, বা আচার চাটনির বিক্রেতাকে, আমার এখন আর সুযোগ নেই ওদেরকে দেখার। অথচ একটা সময় আমিও দেখতাম আপনার মত করেই।

ক্যাম্পাসে থাকাকালীন বিভিন্ন উৎসব-অউৎসবে শামিল হওয়ার চেয়ে শামিল হওয়াদের উৎসাহ, কার্যকলাপ দেখতেই বেশি ভালো লাগতো। কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি সকাল গুলো সেই...

আপনার এই দেখাদেখি ভালো লেগেছে। বেশ ডিটেইলে দেখতে পেেরেছেন, শহিদুল আলমের মত...

২৬ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:০০

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: প্রিয় পদ্মপুকুর ভাই
প্রথমেই দেরিতে প্রতিউওরের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, আসলে ঈদের ছুটিতে গ্রামে থাকার কারনে ব্লগ জগৎ থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম।

আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ, আপনার জন্য শুভ কামনা।

১০| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ৯:১৫

সুমন কর বলেছেন: লেখায় দৈনন্দিন জীবন তুলে ধরেছেন......

২৬ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:০৩

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: সুপ্রিয় সুমন ভাই, এই মানুষগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চেনা চরিত্র , পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনাকে ইদের শুভেচ্ছা।

১১| ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:২২

ব্লগার_প্রান্ত বলেছেন: আহ! সকাল সাতটায় স্কুলে যেতাম, আর রাস্তায় দেখতাম, মানুষের স্রোত। এখনও দেখি কিন্তু সেই তীব্র আবেগটা আর অনুভব করিনা!
খুব সুন্দর লিখেছেন ভাই

২৬ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:০৬

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: অনেক দিন পর তোমার মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগলো প্রান্ত, তোমার সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.