| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
২০০১ - ২০০৭
না,না,না আমার পুরোটাই চাই আমি অর্ধেক ডিম দিয়ে ভাত খাবো না । এ নিয়েই জেদ করছে শায়ন্তিকা ।
অত্যন্ত সহজ সরল প্রকৃতির মোটের উপর বলা চলে হ্যাবলা ধরনের ছেলে বড়ভাই রিহান । রিহানের কাছে পৃথিবীটা কিছুটা অগোছালো । পৃথিবীটা তার মত করে নয়,হয়তবা সে পৃথিবীর মত নয় ।
মা বললেন আজ খা,কাল পুরোটাই দিব । অনেক বোঝানোর পর রাজি করাতে পেরেছেন । খাওয়া শেষ করে শায়ন্তিকা ঘরে গেল ।
তখন পর্যন্ত রিহানের খাওয়া শেষ হয়নি । তাড়াতাড়ি খেয়ে পড়তে বস,পড়াশুনায় তো বিদ্যার সাগর মাথায় কিচ্ছু নেই । অপরদিকে সম্পূর্ণ বিপরীত শায়ন্তিকা । চালাক সাথে ভালো ছাত্রী । বাবার একমাত্র আদুরে মেয়ে তো,তাই একটু জেদ বেশি । কিন্তু সবসময় নয়,তবে জেদ উঠলে মরেছে বাসার সবাই । বাবা বললেন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড় মা, কাল সকালে উঠতে হবে ।
বাবা ইমদাদুর রহমান পেশায় সরকারী চাকুরীজীবী আর মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা । সময়ের নির্মম স্বার্থপরতায় শায়ন্তিকা ছোটবেলা থেকেই মা বাবার থেকে কিছুটা দূরে । তবে ভালবাসার পূর্ণতায় শায়ন্তিকার প্রাপ্তি অনেক । অল্পকিছুক্ষন পড়ে ঘুমিয়ে পড়ল শায়ন্তিকা । পরদিন সকাল সাতটায় ক্লাস । ভগলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্লাস ওয়ান থেকেই শায়ন্তিকা এই স্কুলেই পড়ছে । তাই নতুন শ্রেণীর প্রথম ক্লাসের প্রতি বাড়তি কোন উত্তেজনা নেই । সকালে বাবা গাড়ি করে নামিয়ে দিয়ে গেলেন । ক্লাসে ঢুকে শায়ন্তিকা সবার সাথে কুশল বিনিময় করতে না করতেই শিক্ষক প্রবেশ করলেন । শায়ন্তিকা কিছু নতুন মুখ দেখতে পেল । উপদেশমূলক কথা আর কুশল বিনিময়ের মধ্যেই কেটে গেল তিনটা ক্লাস । এরপর পুরো এক ঘণ্টার টিফিন বিরতি ।
স্কুলের সামনে বিশাল পুকুর । পুকুরপাড়ের ভারি ঘাসের উপর বসে একা একা টিফিন খাচ্ছে নীল। নতুন স্কুল,নতুন মুখ আর এ পরিবেশে নীল অনেকটাই অপরিচিত । কারও সাথে বন্ধুত্ব করার সময় হয়ে ওঠেনি নীলের।
তানিয়া শায়ন্তিকাকে বলল, কেরে ছেলেটা ? আগে দেখেছি তবে চিনিনা ঠিকঠাক । শায়ন্তিকা বলল ওর নাম নীল,আমার বাসার পাশেই ওরা থাকে । কিণ্ডারগার্ডেন স্কুল থেকে এসেছে , শুনেছি ভালো ছাত্র ।
তোকে মনে হয় তোর প্রথমস্থান ছেড়ে দিতে হবে শায়ন্তিকা বলল বিপাশা । শায়ন্তিকা রেগে গিয়ে বলল যা ,যা দেখা যাবে । প্রথম,দ্বিতীয়,তৃতীয়দিন চলে গেল নীলের সাথে কোন মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব করা হয়ে উঠলোনা ।
বিপু বলল,কি ব্যাপার শায়ন্তিকা নীলের দেখছি বেশ ভাব কোন মেয়ের সঙ্গেই কথা বলে না । নীল ভালো মনমানসিকতার ছেলে, দেখছিস না অল্পকিছুদিনের মধ্যেই ও স্কুলের স্যার আপাদের এবং ছেলে বন্ধুদের মাঝে কিরকম প্রিয় হয়ে গেছে,শায়ন্তিকার উত্তর ।
ও আবার কোন রাজ্য জয় করল যে জনপ্রিয় হয়ে গেছে,রেগে গিয়ে বলল তানিয়া । আচ্ছা শায়ন্তিকা তুইতো নীলের সাথে কিছুদিন পড়েছিস, তোর সাথে ভালো বন্ধুত্ব থাকার কথা । আসলে কথা খুব একটা বলা হয়ে ওঠেনি,তবে ও অনেক মিশুক ।
চলছে ক্লাস পরীক্ষা । ডিউটিতে আছেন প্রধান শিক্ষক। খুব কড়া তিনি,হঠাৎই রেগে উঠেন ।
স্যার আমার কলমের কালি শেষ হয়ে গেছে ভয়ে ভয়ে বলল নীল ।
আমার কাছে তো লাল কলম ,তোমাদের কারও কাছে অতিরিক্ত কলম হবে ?
তানিয়া দাড়িয়ে বলল আমার আছে স্যার , এই বলেই নীলের দিকে কলমটা বাড়িয়ে দিল । ক্লাস,পরীক্ষা তারপর সেই একঘণ্টার টিফিন বিরতি । শায়ন্তিকা,তানিয়া,বিপাশা অন্যান্য বান্ধবীরা বসে গল্প করছিলো ।
ধন্যবাদ বলে নীল কলমটা তানিয়াকে ফেরত দিল ।
ছুটির পর না হয় দিও,বাকি ক্লাসগুলো করবে কি করে ? আমি কিনে নিয়েছি তানি হাসিমাখা মুখে নীলের ছোট্ট উত্তর । ও আচ্ছা, ঠিক আছে ।
অত্যন্ত মিশুক মেয়ে ,কিছুটা চঞ্চল হঠাৎ বলে বসলো আমি প্রমি । আমার নাম তো জানোই,তারপরেও আমি নীল পাশের কিণ্ডারগার্ডেন থেকে এসেছি ,আব্বুর ইচ্ছেতেই এখানে ভর্তি হওয়া । যদিও ছোটবেলা থেকেই নানুর বাসায় থাকি ।
: তুমি তোমার বাবা মায়ের সাথে থাকো না ! বলল তানিয়া ।
: না ,থাকিনা ।
: কেন ?
: উত্তরটা আমি জানি,তবে বলতে চাচ্ছি না ।
: ঠিক আছে বলনা ।
: বাবামাকে ছাড়া তোমার খারাপ লাগেনা ?
: কিছু প্রয়োজনে যাওয়া হয় বাবার কাছে । আর খারাপ লাগার কথা বলছ,মোটেই লাগে না । আমি জানি না বাবা মায়ের ভালোবাসাটা কেমন !অজানা কিছুতে ভালোমন্দের ব্যাপারটা থাকে না । শুধু এতটুকু জানি আমি আমার নানুকে পৃথিবীর সবথেকে বেশি ভালোবাসি ।
: সরি নীল ।
: না,ঠিক আছে । আমি অভ্যস্ত।
ক্লাস, টিফিন, বন্ধু , আড্ডা তারপর ঘরে ফিরে আসা । ভালোই চলছিল সব ।
কিছুদিনের মধ্যেই সবার সাথেই নীলের অনেক ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠলো । দেখতে দেখতে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শেষ ।
নীল প্রথম,শায়ন্তিকা দ্বিতীয় । স্কুলের সামনের সুবিশাল মাঠ,পুকুর, ক্লাসরুম,কিছু প্রিয়মুখ সব মিলিয়ে একটা পূর্ণপরিবার ।
হ্যাঁ ,পরিবারই বলব । যেখানে ঝগড়া-বিভেদ, মান অভিমান আছে, আছে দুরন্তপনা, আছে একে ওপরের প্রতি
অপরিমেয় ভালবাসা । শিক্ষকদের স্নেহ -শাসনের কমতি ছিল না ।
"সম্পর্ক" যার সংজ্ঞা তখনও পূর্ণতা পায়নি । কতইবা বয়স হবে ! আর এ বয়সের একটা ছেলের পক্ষে ভালোবাসা বোধগম্য নয় ।
যদিও অনেকটা সময়পর নীল বুঝতে পেরেছিল শায়ন্তিকাকে সে ভালোবাসে ।
ভাললাগার কিছু মুহূর্ত অনেক বেশি মনে পড়ত নীলের । নীল বুঝতে পারতো শায়ন্তিকাকে অনুভব করে ,শুধুই অনুভব করতো কি ? এ সবের উত্তর জানা ছিল না নীলের !
সময়ের বয়স বাড়ার সাথে সাথে বয়স বাড়ছিলো নীল আর শায়ন্তিকার।
সেই সুন্দর ভালোবাসার পরিবার থেকে আজ নীল,শায়ন্তিকা,তানিয়া,প্রমি,আরিফ,সজিব,অভি,বিপাশা একটু একটু করে দূরে।
স্কুল থেকে বিদায়ের দিন সবাই কেঁদেছিল।
তানিয়ার বাবার বদলির চাকরি,ও চলে গেলো নাটোর। নিয়ম করে চিঠি লিখতে ভুলে যায়নি তানিয়া।
প্রমি বিপাশা ভর্তি হল জিলা স্কুল আর শায়ন্তিকা সরকারী গার্লস এ । নীল দয়াময়ী একাডেমীতে ।
তেমন দেখা হতো না কারোই , কথাতো দূরের ব্যাপার ! নীল তখনও বুঝত না তার কাছে শায়ন্তিকা কি ! বোঝার কথাও নয় ।
ক্লাস, বন্ধু, আড্ডা,পড়াশুনা এ নিয়েই কেটে গেলো আরও একটা বছর।
কত যে নানিমার পিটুনি খেতে হয়েছে কে জানে ,তবে পড়াশুনার জন্য নয় । ক্রিকেটপাগল নীল আর এ পাগলামির জন্যই পিটুনি ।
পরের বছর রংপুর চলে আসলো নীল, ক্যাডেট কোচিং করার জন্য । যখন শুনতে পারল শায়ন্তিকাও এসেছে
তখন অনেক বেশি খুশি হয়েছিলো নীল । আনন্দে আত্মহারা ।
শায়ন্তিকা সেতু ছাত্রী নিবাস এ থাকতো আর নীল কোচিং এর আবাসিক হলে । দূরত্ব কম হলেও মাঝে মাঝে চিঠি লিখত নীল,
যদিও কোন চিঠির উত্তর কখনও আসতো না । কাঁচা হাতের ভুল বানানের চিঠিগুলো হয়তো খামের ভেতরেই আর্তনাত করতো ,
কিছু শব্দগুচ্ছের ভালবাসা মুক্তি পায়নি ।
একবার প্যারেন্টসডে তে নীল নানু ভাইকে নিয়ে শায়ন্তিকার সাথে দেখা করতে গিয়েছিল । সেই মুহূর্ত আজও অমলিন ।
ক্যাডেট এ ভর্তি হতে পারল না কেউই,আবার ঘুরে ফিরে আগের জায়গায় । শায়ন্তিকার অবশ্য একবছর গ্যাপ দিয়ে নীলের থেকে নিচের এক ক্লাস এ ভর্তি হয়েছিলো ।
নীল অনেক বেশি আবেগপ্রবন ছিল,অনেক বেশি । ওর পৃথিবী পুরোটাই স্বপ্ন দিয়ে সাজানো । পাগল বুঝতনা বাস্তবতা কতটা নির্মম হতে পারে ! সময় কারও জন্য থেমে থাকে না ,নীলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
সময়ের সাথে সাথে বেড়ে উঠছিল নীল শায়ন্তিকা । সেই স্কুল আগের জায়গাতেই আছে । পুকুরপাড়,কিছু চেনামুখ শুধু শায়ন্তিকা চোখের সামনে নেই । ক্রিকেট,ক্লাস,বন্ধু,আড্ডা এসব নিয়ে কেটে যাচ্ছিলো নীলের সময়।
তখনও নীল শায়ন্তিকাকে ফিল করতো অনেক,পিছনের ফেলে আসা দিনগুলোর মত ।
অনেক কষ্টে ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে টানা দেড়বছর অনেকবার ফোন ,এস এম এস দিয়েছিল নীল। কোন উত্তর আসেনি ওপার থেকে । বাতাসেই ভেসে থাকতো অব্যক্ত ভালোবাসার অনুভূতি ।
২০০৮,৫ অগাস্ট
সময় তখন রাত নয়টা প্রায়। নীল শায়ন্তিকাকে ফোন দিয়েছিল । শায়ন্তিকার কণ্ঠ , কে ? পরিচয় দিতেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন ।
অনেক বেশি মনখারাপ হয়েছিলো নীলের । কিছুক্ষণ পরেই একটা এস এম এস ।
যাতে লিখা " আমি তোমাকে চিনতে পেরেছি,বাসায় একটু সমস্যা । কাল সকাল দশটায় কথা হবে ফোন দিও "।
সে রাতের মত অনুভূতি দ্বিতীয়বার হয়নি নীলের। পরদিন সকাল দশটায় নীল শায়ন্তিকাকে ফোন দিয়েছিল ।
পুরনো কিছু স্মৃতি,কিছু সুন্দর অতীত এ নিয়েই কথা হচ্ছিল দুজনের । মাঝপথে নীল শায়ন্তিকাকে থামিয়ে দিয়ে বলে বসলো ,
" মনেকর সামনে বিশাল একটা সমুদ্র,এপারে ছোট্ট একটা নৌকা । একা এই নৌকা দিয়ে ওপারে যাওয়া সহজ ,
কিন্তু দুজন ওপারে যাওয়া অনেক বেশি কঠিন, কিছুটা অসম্ভবের মত।
তারপরেও শায়ন্তিকা তুমি আমার পারাপারের সঙ্গী হবা "।
শায়ন্তিকার ছোট্ট উত্তর সঙ্গী তো অনেক ভাবেই হওয়া যায় , তুমি কিভাবে চাচ্ছ ?
- আমি ভালোবাসি তোমায় ।
- এটা সম্ভব না ।
- কেন ? জানতে পারি ।
- বাবা মা মেনে নেবেন না ।
ভালোবাসায় ভালোবাসা হয়, অন্যকিছু নয় । আমি একজন মানুষকে ভালোবাসি কিন্তু সে এটা সে জানে না এটা কি করে হয় বল ? এতটুকু জানানোর ছিল কেউ একজন তোমাকে ভালোবাসে ।
আর প্রাপ্তির কথা তা নাহয় বিধাতার হাতেই ছেড়ে দাও । এরপর থেকে মাঝে মাঝে ,বলতে গেলে প্রায় প্রতিদিনই কথা হতো নীল আর শায়ন্তিকার । মাঝে মাঝে দেখা হতো লুকিয়ে । নীল সবসময় বলতো ভালোবাসি,ভালোবাসি,ভালোবাসি ।
২৮ অগাস্ট ২০০৮
নীল বিশ্বাস করতো কোন কিছু যদি মন থেকে চাওয়া যায়, আর সে চাওয়াতে যদি কোন খাদ না থাকে ,তাহলে সে চাওয়া থেকে সৃষ্টিকর্তা কাউকেই ফিরিয়ে দেন না । তবে সবকিছু আগলে রাখতে হয় নিজেকে,আগলে রাখতে পারলেই সার্থকতা পুরোপুরি ।
সেদিন বিকাল ৪ টার সময় নীল শায়ন্তিকাকে ফোন দিয়েছিল । বলেছিল মনের আকাশে বৃষ্টি হচ্ছে অনেক । সহানুভুতির নয়,ভালোবাসার ছাতার তলে মাথা গুঁজতে চাই । শুধু ভালোবাসতে চাই ।
নীলকে থামিয়ে দিয়ে শায়ন্তিকা বলে উঠলো " তোমায় ভালোবেসে ফেলেছি " । নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না নীল ।
ওইদিনের সব সুখ,সব ভালোবাসা শুধু যেন নীলের জন্য ।
পরিপূর্ণ পৃথিবীর শুভ সূচনা ।
ছোটখাটো ঝগড়া ,মান-অভিমান,ভালবাসাবাসি সব কিছু মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছিল নীল শায়ন্তিকার । এত সুখ কি সইবে !
০২/১০/২০০৮
ঈদ এর আগের রাত । অনেক ভালো একটা রাত ছিল নীল আর শায়ন্তিকা ।
২৫/১০/২০০৮
যদি মেয়ে হয় নাম রাখব তাশফিয়া, বলল শায়ন্তিকা ।
১৪/০৩/২০০৯
না,না নাম রাখব তরশা , আচ্ছা । নীলের উত্তর ।
জীবনের কাছ থেকে আর যেন কিছুই চাওয়ার নেই ,সব কিছুই যেন পরিপূর্ণ । নীলের পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু শায়ন্তিকা।
কালো অন্ধকারের আবছা ছায়ার মোড়কে পৃথিবী যে অন্ধকার হতে পারে নীল তা বুঝতে পারতো না । নীল জীবনকে স্বপ্ন মনে করতো ।
বাস্তবতার সাথে কোন মিল নেই । অনেক ভীতু নীল । হারানোর ভয়ে সবসময়ই নীল কিছু ভাবতো না ,ভাবলে চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসতো ।
"হারাতে হয়েছে ঠিকই ।"
১৬/০১।২০১২
শায়ন্তিকার সাথে নীলের সেদিন শেষবারের মত দেখা হয় ।কখনও কাঁদবেনা নীল ।
আজ শায়ন্তিকা আর নীলের পথ ভিন্ন । চেনা পথে ধুলো লাগেনি আর দুজনের পায় । আর শোনান হয়নি রাজারানীর গল্প ।
সব ভুল ছিল , সব মিথ্যে ছিল । শায়ন্তিকার কোন দোষ নেই । এ ক'বছরে নীল শায়ন্তিকাকে দুঃখ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি ।
নীল মনে করতো শায়ন্তিকাকে অনেক বেশি ভালোবাসে > মিথ্যে ।
নীল মনে করতো শায়ন্তিকাকে সে তার ভালোবাসা দিয়ে ভালো রাখতে পারবে > মিথ্যে ।মিথ্যে,সবকিছু মিথ্যে ।
সময় কেটে যায় আর তার সাথে হারিয়ে যায় কিছু নষ্ট অতীত ।
নীল আগের মত আর চঞ্চল নেই,হাসতে ভুলে গেছে ,ভালবাসতে ভুলে গেছে ।
অনিয়মগুলোকে নিয়মমত পালন করে নীল ।
স্বপ্নের পৃথিবী আজ দুঃস্বপ্নের নগরী।
সময় থেমে থাকে না , নীলের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি ।
জীবন একটাই কেটে যাবে,তাতে স্বপ্নের পূর্ণতা,প্রাপ্তি থাকতে হবে এমন কোন শর্ত নেই ।
কিছু মানুষ সুখী হওয়ার অসম্ভব ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় ।
©somewhere in net ltd.