| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নীতিরাজ
আগেই বলেছি।তবে সত্যকে জানার প্রবল আগ্রহ আছে।তাই এখন ও খুজছি।সে জন্যই লেখা শুরু।আশা করি পাঠকরা এ ব্যাপারে সহায়তা করবেন।
ইউরোপের সংস্কৃতি দেখে আমাদের দেশের তরুন সমাজ শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আর ভাবে আহারে আমার জন্ম কেন ওইসব দেশে হইলো না।
তাদের জন্য আমার দেশ ও ইউরোপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি। এখানে আমার এক আত্মীয়র কিছু যথার্থ উপলব্ধির কথাও নকল করে হুবহু তুলে ধরলাম।
কিশোর বয়সে বড়দের কাছে গল্প শুনেছিলাম । রূপক এবং উপদেশমূলক এ ধরনের গল্পগুলো সমাজের সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে । লোকসাহিত্যে এ গুলো খুবই মূল্যবান উপকরণ । গল্পটি ছিল নিম্নরূপ:
প্রচন্ড স্রোতের মধ্যে এক মাঝি তার নৌকা শত চেষ্টা করেও গন্তব্যমুখী করতে পারছিলেন না । যতবারই নৌকার মুখ ঘুরাতে চেষ্টা করেন , ততবারই তীব্র স্রোতের কারনে নৌকার মুখ উল্টা দিকে ঘুরে যাচ্ছিল । অবশেষে মাঝি বিরক্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিয়ে বসে গেলেন আর বললেন , নৌকা ! ফিরবা তো তবে গলুই থাকবে না - অর্থাৎ বেপরোয়া চলতে গিয়ে তীরের সাথে আছড়ে পড়ে নৌকার মুখ বা গলুই ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা আছে ।
ভোগবাদী এই বর্তমান আলোকিত (? ) সভ্যতা , বিজ্ঞ দার্শনিক , উন্নতির বুলি আওড়ানো সমাজপতি ও রাজনীতিবিদ এবং জীবনকে সুখের সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখানোর দাবীদার তথাকথিত অর্থনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক মোড়লদের দেখে আমার মত নাখান্দা একজন মানুষের কেন যেন উল্লেখিত মাঝির কথাটা বার বার মনে পড়ে ।
পৃথিবী রূপী এই তরণীর আরোহী কোটি কোটি বনী আদম । জীবন সমুদ্র পাড়ি দিয়ে কি ভাবে তারা সফলতার সাথে কুলে উঠবে সে পথ মানুষের স্রষ্টাই দেখিয়ে দিয়েছেন । যুগে যুগে নবী রাসূলদের পাঠিয়ে তিনি সঠিক পথ বাতলিয়ে দিয়েছেন মানব জাতিকে । নবীদের দেখানো এই পথই জীবনের রাজপথ এবং সাফল্যের পথ । কিন্তু বেয়ারা এ তরণীর তথাকথিত মোড়লেরা নবী রাসূলদের দেখানো এ পথকে সর্বদাই উন্নতি ও প্রগতির অন্তরায় মনে করেছে । তারা দেখেছে , এ পথ নৈতিকতার পথ -এ পথ সংযমের , এ পথ ত্যাগের । এ পথে হাঁটলে ভোগের সাগরে গা ভাসানোর সুযোগ নেই - সুযোগ নেই লালসা পুরনের। কিন্তু তাদের দেখানো উন্নতি ও প্রগতির (? )পথে চলতে গিয়ে গোটা মানব জাতিকে মাশুল দিতে হচ্ছে অনেক বেশি । মানবতার নামে লুন্ঠিত হচ্ছে মানবাধিকার , স্বাধীনতার নামে গলায় পরানো হচ্ছে অধীনতার শৃঙ্খল , বাক স্বাধীনতার নামে মানব জাতির মুখে লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে কালো টেপ । দারিদ্র দূর করার নামে গুটিকয়েক মানুষ লুন্ঠন করছে পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদ আর অসহায় বনী আদম পরিনত হচ্ছে তাদের দাসানুদাসে ।
নবী রাসূলগন বলেছিলেন সুদ মানবতার জন্য এক ভয়ংকর অভিশাপ , আল্লাহ এ সুদকে নিষিদ্ধ করেছেন । এর মাধ্যমে সম্পদ অল্প কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত হয়ে যায় ; বঞ্চিত হয় সিংহভাগ মানুষ , লাঞ্চিত হয় মানুষের মৌলিক অধিকার । কিন্তু এ মোড়লেরা সুদকে জীবনের অপরিহার্য বিষয় বানিয়ে নিল যার ফলে এখন ৯৯ শতাংশ সম্পদ এক শতাংশ মানুষের কাছে কেন্দ্রীভুত হয়ে গেছে বলে অক্সফামের রিপোর্ট আমাদের জানান দিচ্ছে । আমাদের আলোকিত মানুষ প্রফেসর ইউনুস , অমর্ত্য সেনেরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হন ।
নবী রাসূলগন বলেছিলেন মাদক বা মদ আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন , এটা মানষের মনুষ্যত্বকে বিনষ্ট করে , তার বিচার বুদ্ধি লোপ পাইয়ে দেয় । ফলে মানব সমাজে ভয়ংকর বিপর্যয় দেখা দেয় । আমাদের এ মোড়লেরা মদ বা মাদক কে সভ্যতার অপরিহার্য অনুসঙ্গ বানিয়ে নিলেন । তারা বললেন কুলীন এবং শালীন হতে হলে এ সমস্ত রঙিন পানি পান করা জরুরী । গড়ে উঠলো হাজার হাজার পানশালা , উৎপাদিত হতে লাগলো রং বেরংয়ের পানীয় এবং সুদৃশ্য পানপাত্র। আমাদের খাবার টেবিল গুলো সুশোভিত হতে থাকলো এ সমস্ত সুরাভর্তি দামী পাত্রে । আমরা উচ্ছসিত হলাম কুলীন হওয়ার আনন্দে । কিন্তু এখন হিরোইন , ইয়াবা , মদ -গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদকের সর্বনাশা ছোবলের ভয়াবহ পরিণতি দেখে আমরা বলতে শুরু করছি গেল গেল ! আমাদের দেয়ালে দেয়ালে লেখা দেখছি মাদক বিরোধী শ্লোগান । আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সভা করছেন , লিফলেট পোষ্টার বিতরণ করছেন মাদক গ্রহন না করতে । আমাদের রড্রিগো দূতের্তেরা ( ফিলিপিনের প্রেসিডেন্ট ) রাস্তা ঘাটে গুলি করে বিনা বিচারে হাজারো মানুষ মেরে ফেলছে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যাদিয়ে । উদ্দেশ্য -মাদক নিয়ন্ত্রন ।
ইসলাম নারী পুরুষের সমমর্যাদার ভিত্তিতে কর্ম ও দায়িত্বের মধ্যে একটি বিভাজন করেছে মানব বংশের সুরক্ষা ও স্থিতির স্বার্থে । দায়িত্ব ও কর্মের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই তাদের উভয়ের শারিরীক গঠন ও মানসিক প্রবনতা দিয়েই সৃষ্টি করেছেন মানুষের স্রষ্টা । নারীর নিরাপত্তা , মর্যাদা,স্নিগ্ধতা ও পবিত্রতার স্বার্থেই তাকে একটা ড্রেসকোড দেয়া হয়েছে । অপ্রয়োজনে বাইরে যেতে তাকে নিষেধ করা হয়েছে- নিষেধ করা হয়েছে নির্দিষ্ট কয়েকজন আপনজন ছাড়া অন্য পুরুষদের সাথে একান্ত হতে । কিন্তু আমাদের প্রগতির (?) ধারক মোড়লেরা বলে উঠলেন এটা একটা মধ্যযুগীয় ধারনা । মেয়েদের অধিকার ও স্বাধীনতা হরণ করার জন্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটা ষড়যন্ত্র ! এরকম প্যাকেট করে ফেলে মূলত নারীকে দারুনভাবে অবমাননা করা হয়েছে । তার সৌন্দর্য ঢেকে রাখার কিছু হলো ? এটা সবাইকে প্রদর্শন করাই প্রগতি ও উন্নতির দাবী । হিজাব নিকাবকে পশ্চাৎপদতার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করার এক অশুভ প্রবনতা শুরু হলো । এখন তো ভীতিকর উপাদান হিসেবে এর বিরুদ্ধে যুদ্ধই শুরু হয়েছে।অতএব , কাজের চেয়ে অকাজের জয়জয়কার শুরু হলো । ফল যা হবার হতে শুরু করলো । ঘর ভাঙা,পরকীয়া, ধর্ষন ,খুন ইত্যাদির সয়লাব শুরু হলো । চার বছরের শিশু থেকে চুরাশি বছরের বুড়িও ধর্ষকের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না । তনু, খাদিজা , শারমীন - ইয়াসমীনদের কিসসা দীর্ঘ হতে শুরু করলো । প্রগতির (?) যোয়ারে ভেসে যাচ্ছে দুনিয়া ।
ক'টি উদাহরণ দেব ? কলেবর বাড়িয়ে পাঠকদের কষ্ট দিয়ে কি হবে ? 'আকলমান্দ কা ইশারাই কাফি ' । ঐশী জ্ঞান বিবর্জিত তথাকথিত আলোকিত এই সমাজ , যারা ঐশী জ্ঞান তথা ওহী ভিত্তিক জ্ঞানকে কুসংস্কার বলতে পুলক বোধ করে , স্বসৃষ্ট সমস্যাগুলো যখন উপলব্ধি করে এবং প্রতিকারের জন্য ছুটাছুটি করে ততদিনে পানি অনেক গড়ায় , সমাজ দেহে ক্ষত হয়ে যায় অনেকখানি।
সবশেষে বলতে হয়, আল্লাহর বিধানই নির্ভুল, কালজয়ী এবং কল্যানকর । এটা যত তাড়াতাড়ি সভ্যতাগর্বী বর্তমান সমাজ বুঝতে পারবে ততই মঙ্গল । নয়তো বলতেই হবে, ' নৌকা ! ফিরবা তো , তবে গলুই থাকবে না ।'
২|
২০ শে মে, ২০১৭ রাত ১২:০৪
ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: সবশেষে বলতে হয়, আল্লাহর বিধানই নির্ভুল, কালজয়ী এবং কল্যানকর । এটা যত তাড়াতাড়ি সভ্যতাগর্বী বর্তমান সমাজ বুঝতে পারবে ততই মঙ্গল । নয়তো বলতেই হবে, ' নৌকা ! ফিরবা তো , তবে গলুই থাকবে না ।' সুন্দর লিখেছেন। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২১
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আকলমান্দ কা ইশারাই কাফি ' । ঐশী জ্ঞান বিবর্জিত তথাকথিত আলোকিত এই সমাজ , যারা ঐশী জ্ঞান তথা ওহী ভিত্তিক জ্ঞানকে কুসংস্কার বলতে পুলক বোধ করে , স্বসৃষ্ট সমস্যাগুলো যখন উপলব্ধি করে এবং প্রতিকারের জন্য ছুটাছুটি করে ততদিনে পানি অনেক গড়ায় , সমাজ দেহে ক্ষত হয়ে যায় অনেকখানি।
শুভ নববর্ষ ২০১৭
++++++