| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নীতিরাজ
আগেই বলেছি।তবে সত্যকে জানার প্রবল আগ্রহ আছে।তাই এখন ও খুজছি।সে জন্যই লেখা শুরু।আশা করি পাঠকরা এ ব্যাপারে সহায়তা করবেন।
মুহুর্ত এক (বাংলা ছায়াছবি):
একিদন রোমেল প্রস্তাব দিলো, 'চল পূরবী সিনেমা হলে নতুন ছবি লাগাইছে। দেইখা আসি।'
জিজ্ঞাসা করলাম, কিভাবে?
উত্তর আসলো, টিফিনের পর ভাগবো।
--- কোন পথে?
--- দোতলার ক্লাসরুমের জানালা দিয়ে সরাসরি সুপারি গাছ ধরে টারজান স্টাইলে সিটি ক্লাব মাঠে অবতরন।
ঠিক হলো টিফিনের পর স্যারের রোল কল হলেই চম্পট। যতদূর মনে পরে, ৫ বন্ধু মিলে পরিকল্পনা মাফিক প্রথম স্কুল পালানো। সিনেমা হলে গিয়ে প্রচন্ড ভয় আর দু:সাহস নিয়ে প্রথমবার টিকেট কেনা। একজন টিকেট কাউন্টারে আর বাকি চারজন চারদিকে কড়া পাহাড়া, যাতে পরিচিত কেউ দেখে না ফেলে। জীবনের প্রথম কেনা অ্যাডভেঞ্চার সফল হলো। কি যে চরম প্রাপ্তি। কিন্তু সিনেমা শেষ করে বের হতে পারিনি। কারন ছিলো, স্কুল ছুটির সময়ের সাথে সিনেমার শো এর সময় এর গড়মিল।
মুহুর্ত দুই ( মানুষ মানুষের জন্য, বন্ধু বন্ধুর...):
টিফিনের পর স্কুল পালানোর একটা ধারাবাহিক রীতি চলতে থাকলো। যেটা ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকলো। একদিন ধর্ম স্যার টিফিনের পর ক্লাসে আসলেন । রোল কল করলেন। তারপর আকস্মিম প্রশ্ন
---টিফিনের আগে কয়জন ছিলি?
--- নিরবতা
---তোরা যখন বলবিনা, গুনে দেখি।
--- পিন পতন নিরবতা।
--- খাতায় তো দেখি ১০০% উপস্থিত। তার মানে কেউ পালায় নাই। ভালো ছেলে তো তোরা।
--- সবার সম্মিলিত মুচকি হাসি।
আমার দিকে আঙ্গুল তুলে স্যার বললেন, তুই ক্লাসের সবাইরে গুনে দেখ তো কয়জন? জোরে জোরে গুনবি কিন্তু।
---- এবার আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়ার অবস্থা। গুনে বললাম,
---স্যার ৩২ জন।
---খাতায় তো ইয়েস স্যার বলছে ৫৬ জন।
---নিরবতা।
---এতগুলো ভুত আসলো কোথা থেকে। কারা কারা ভুত নিজেরা স্বীকার কর। তাইলে মাফ করে দিবো।
--- স্যার আজকের মত মাফ কইরা দেন।
---আগে নামগুলো বল।
---কিভাবে স্যার? মানুষ তো মানুষের জন্য, বন্ধু বন্ধুর জন্য।
তারপর যথারীতি অ্যাকশন। ফলাফল, ক্লাসে উপস্থিত সবাই মার খেলাম। কিন্তু বন্ধু তো বন্ধুর জন্যই। এর মধ্যেও একটা প্রাপ্তি ছিলো, যা জীবনে কখনো আর ফিরে আসেনি।
মুহুর্ত তিন (পরীক্ষার খাতা নিয়ে হুলস্থুল):
খুব সম্ভবত দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা। পরীক্ষার সিট যেখানে পড়তো তার আশেপাশে সবার সাথে অন্যরকম বন্ধূত্ব হয়ে যেত। পরীক্ষা চলাকালীন প্রথম প্রথম খাতা খুলে একজন আরেকজনকে দেখাইতাম। পরবর্তীতে আসে আপগ্রেডিং সিস্টেম। যে বন্ধুটা এক বেঞ্চ পিছে বা সামনে পড়ছে, সে কিভাবে দেখবে/ দেখাবে? অতিরিক্ত খাতা নেয়ার পর, আসল খাতা সরাসরি চালান করে দেয়া হতো। পরে ধিরে সুস্থে সব খাতা আবার সংগ্রহ করে স্যারের কাছে জমা দিতাম। একবার মোতালেব স্যার অংক পরীক্ষার খাতা দিতেছেন। নাম ধরে ডেকে ডেকে। আমাকে ডাকলেন,
----রায়হান, জলিল বাবু সোনারা , কাম টু মি।
--- স্যার কত পাইছি?
----তোমাদের কেস তো ভিন্ন। নম্বর পরে, আগে বলো তোমার ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তরের বাকি অংশ কুতায়? আর তোমার ৭ নম্বরের অংশ?ন
--- স্যার, জানি না তো
--- ঠিক করে বলো, কার সাথে কাগজ অদল-বদল করছিলা?
---মাথায় ঠাডা পড়ার মতোন অবস্থা।( মনে পড়লো, যে অংক পরীক্ষার দিন সময় বেশি না থাকায় তাড়াহুড়ো করে সবাই খাতা জমা
দিয়েছিলাম। ঠিকমতো চেক করা হয় নাই, দেয়া-নেয়া প্রক্রিয়া ও সমাপ্ত হয় নাই)।
স্যার ঠিকই আসামি দুইজনের খাতা বের করেছিলেন। নাম্বারের কথা না হয় আজ নাই বললাম, মাইর টা যে কি পরিমান খাইছিলাম তা আমাদের বন্ধুদের মনে থাকার কথা।
আরো অনেক ছোট-খােটা মুহুর্ত আছে স্কুলের। অনেক কথাই বলা হলোনা সময়ের অভাবে। তবে একটা কথা না বললেই নয়,
স্কুলের যে মুহুর্তগুলো কাটিয়েছি, সেরকম মুহুর্ত আর জীবনে কখনো ফিরেনি। সিনেমা অনেক দেখেছি, পরীক্ষা অনেক দিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়েও অনেক ক্লাস ফাকি দিয়েছি। কিন্তু স্কুলের ক্ষেত্রে যে মজা আর অনুভূতি পেয়েছিলাম তা কোনদিন
ভুলতে পারিনি। আর পারবো ও না। বন্ধুদের অনেক মিস করি। তবে আমি এখনো আমার কিছু স্কুলের বন্ধুদের সাথে সবসময় যোগােযাগ
রাখি। তারা আমার বন্ধু নয়, আমার ভাইয়ের মতো আমার পাশে আছে। আমি অনেক দূরে থাকায় আমাদের স্কুলের পূনর্মিলনীতে আসতে
পারছি না। আমাকে তোমরা সবাই ক্ষমা কোরো।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ( বন্ধুদের নামের জায়গায় ছদ্মনাম ব্যবহার করেছি, যাতে এখন কাউকে এসব ঘটনা নিয়ে বিব্রত হতে না হয়।)
২|
০৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:১৮
বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: আমি এত দুষ্ট ও সাহসী ছিলাম না। তাই আমার স্কুল জীবনে কোন এডভেঞ্চার ছিল না...
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: সত্য ঘটনা !!!