নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তৌফিকতুহিন

আমার ব্লগ হবে গঠনমুলক ও সুশীল।

তৌফিকতুহিন › বিস্তারিত পোস্টঃ

জোঁক তথ্যঃ বাংলাদেশ ও অন্যান্য এলাকার জোঁক।

০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:০২

কয়েকদিন আগে দেখলাম এক ক্যানভাসার বৈয়ামে অনেকগুলো জোঁক আটকিয়ে রেখেছে।জিজ্ঞেস করতে জানলাম,সে জোকের তেল বিক্রি করে।যারা বিভিন্ন রকম জটিল যৌনরোগে ভুগে তাদের জন্য নাকি অব্যর্থ।সে জানালো বান্দরবানের গহীন অরন্য থেকে শুরু করে সিলেটের হাওড় বিল এলাকাতেও নাকি ভালো জোঁক পাওয়া যায়।



জোঁক এনিলিডা প্রজাতির অমেরুদন্ডী প্রানি।এর শরীর ঠান্ডা ও তুলতুলে।

অবশ্যই জোঁক দেখলেই আমার গা শিরশির করে।সত্যি কথা কি জোঁককে আমি ভালো ভয় পাই।ব্লগার সৌম্য ভাইয়ের সাকা হাফ্লং অভিযানে পড়েছিলাম যে তারা কি পরিমান জোঁকের হামলায় পড়েছিলেন।



বাংলাদেশের পাহাড়ি জংলা জলভূমি হতে শুরু করে হাওড় বিল সব জায়গায় জোঁক দেখা যায়।চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের পিছনের ফটিকছড়ির পাহাড়ী এলাকায় বড় বড় পাইন্যা জোঁক দেখা যায়।এছাড়া রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলের জোঁক বিখ্যাত,এক একটি এক বিঘতের ও বেশি।আসামের কাজিরাঙ্গা ফরেস্টের জোঁক দেখলে যে কেউ আতকে উঠবে,এগুলো যেমন সাইজে ১০ইঞ্চির কাছাকাছি,তেমনি এগুলোর পিঠে গোটাগোটা কি যেনো থাকে।এগুলো যখন সেখানকার মানুষের পায়ে লাগে তারা স্রেফ কাঁচি দিয়ে এক পোঁচে দু টুকরো করে ফেলে।সেখানকার জোঁকগুলো বর্ষাকালে এত উতপাত করে যে তাদের জ্বালায় বাঘ,হাতি পর্যন্ত সমতলে নেমে আসে।উল্ল্যেখ্য যে এ দুই প্রানী জোঁককে মোটেও সহ্য করতে পারেনা।



বর্ষাকালে এসব জোঁক গরু,মহিষের নাকে মুখে ঢুকে তাদের অনেক বিড়ম্বনা ঘটায়।



তবে সবচেয়ে বৃহত্তম জোঁক দেখা যায় আমাজনের জঙ্গলে।কোন কোনটি সাইজে ১৭ইঞ্চি হয়।



জোঁকের আছে হাজার হাজার মাইক্রো দাঁত,এছাড়া তারা রক্ত খাওয়ার সময় এক জাতীয় সিরাম প্রানীদের রক্তে ঢেলে দেয় ফলে আক্রান্ত প্রানী কিছুই টের পায় না।তাই জোঁক কাঁমড় দিলে এর সবগুলো দাঁত কঠিনভাবে বসে যায়,ফলে কক্ষনো টানাটানি করা উচিত নয়।বরং লবন বা গরম পানি বা আগুনের ছ্যাকা দিলে জোঁক নিজ থেকে ছেড়ে দিবে।তবে লবন বেশী কার্যকরী।এছাড়া প্রাচীন কাল থেকে জোঁকের রক্ত চোষার এই গুনকে চিকিতসার কাজে ব্যবহার করা হতো।এখনো মানবদেহের কোন অংশে রক্ত জমাট বেধে দুষিত হয়ে গেলে ইনফেক্সান হলে জোঁক ব্যবহার করে তা দূর করা হয়।



মাঝে মাঝে জোঁকের কাঁমড় প্রানঘাতি হতে পারে,কারন আক্রান্ত স্থান দিয়ে প্রচুর রক্তপাত হয়।এছাড়া জোঁক কোন কোন সময় পায়ু বা মুত্রলিংগ দিয়ে ঢুকে যেতে পারে,তখন ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়।একবার আমাদের এখানে বর্ষাকালে ফুটবল খেলার সময় এক ছেলের লিংগ দিয়ে জোঁক অর্ধেক ঢুকে যায়,সে টের পেয়ে চিতকার শুরু করলে ছেলেপেলেরা মজা পেয়ে হাসাহাসি শুরু করে,কে যেনো তার বাবাকে খবর দিলে তিনি এসে দেখেন সবাই হাসাহাসি করছে।প্রথমে তিনি লাকড়ি নিয়ে সবাইকে একটা দৌড়ানি দেন,অতঃপর তিনি চিমটা দিয়ে জোঁকটার প্রবেশ বন্ধ করে লবন ছিটিয়ে এটাকে বের করেন।তাই বর্ষাকালে নদীনালা,মাঠঘাটে খেলার সময় সতর্ক থাকা উচিত।



দেখেন জোঁক নিয়ে কত কথা বলে ফেললাম।পাঠক ভাল না লাগলে ক্ষমা করবেন।কিছু ছবি দিলামঃ





















জোঁকের মুখ এরকম।



















মন্তব্য ২৫ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (২৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:১১

এন ইউ এমিল বলেছেন: ভয় লাগে

০৬ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫০

তৌফিকতুহিন বলেছেন: ধন্যবাদ।

২| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:১২

কালো চিতা বলেছেন: বাহ আপনেকি যোকের তেল বেচেন নাকি ? যাই হোক তথ্যবহুল পোষ্টু

০৬ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫০

তৌফিকতুহিন বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:১৩

পুংটা বলেছেন: আই লাভ জোকস্ :P

০৬ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫১

তৌফিকতুহিন বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:১৭

ইসতিয়াক-চৌধুরী বলেছেন: ভালো লাগল................

০৬ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫২

তৌফিকতুহিন বলেছেন: ধন্যবাদ।

৫| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:১৮

আকাশের তারাগুলি বলেছেন: ছোটবেলায় কত যে জোঁকে কেটেছে তার ইয়াত্তা নাই

০৬ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫৩

তৌফিকতুহিন বলেছেন: ধন্যবাদ।আপনার ছোটবেলার সেই অভিজ্ঞতা বর্ননা করলে বেশ হতো।

৬| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:৪১

রহমত বলেছেন: আমি একবার বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম, মাছ ধরা শেষে বাড়িতে এসে গোসল করে খাবার খাচ্ছি এমন সময় হাটুর নিচে হাত দিয়ে চুলকাতে গিয়ে দেখি বিশাল এক জোক আমার পায়ে লেগে আছে, রক্ত খেয়ে একেবারে লাল হয়ে গিয়েছে। আমি প্রথমে অনেক ভয় পেয়ে ছিলাম কিন্ত পরে আমি নিজে নিজেই পা থেকে ছুড়িয়ছিলাম তার পর থেকে জোক দেখলে আর কোন ভয় করতো না এমনকি হাত দিয়ে ধরে গায়ে লাগাতাম।

০৬ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫৫

তৌফিকতুহিন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।আপনার ছোটবেলার সেই অভিজ্ঞতা বর্ননা করলেন বলে খুশি হলাম।

৭| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১০:৫২

নিয়ম ভাঙার কারিগর বলেছেন: ছবি দেইখাই বমি আইতাসে! :-P

৮| ০৬ ই মে, ২০১১ রাত ১২:০৬

ডাইনোসর বলেছেন:
কয়েকটা সাইজ দেখি বিশাল বড়। এত বড় হয়। এগুলি কি আমাদের দেশে আছে। ছবি গুলোর নাম্ভার দিয়ে দিলে নির্দেশ করতে সহজ হতো।

ব্যাতিক্রম লেখা দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

০৬ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫৮

তৌফিকতুহিন বলেছেন: আসাম,গুমাই বিলের জোঁক দেখলে আপনি আতকে উঠবেন।ধন্যবাদ।

৯| ০৬ ই মে, ২০১১ সকাল ৭:৪২

শুভ্র নামের ছেলে বলেছেন: ভাল একটা টপিক দিছেন, জানলাম অনেক কিছু

০৬ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫৯

তৌফিকতুহিন বলেছেন: ধন্যবাদ।

১০| ০৬ ই মে, ২০১১ দুপুর ১২:২৩

শিবলী১২৩ বলেছেন: প্রথম প্রথম জোক ভয় লাগতো, বান্দরবানে বর্ষায় ট্রেকিং করতে করতে এখন জোক রে পানিভাত মনে হয়। একবার এক লগে ১৮ তার কামড় খাইসিলাম।

০৬ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০১

তৌফিকতুহিন বলেছেন: ভাই প্লিজ আপনার সে ট্রেকিং এর কাহিনী আলাদা একটি পোস্ট করুন।না হলে সংক্ষেপে হলেও এখানে কমেন্ট করুন।

১১| ০৯ ই মে, ২০১১ দুপুর ১:০৮

শিবলী১২৩ বলেছেন: আলাদা কাহিনী তো পুশট্টাইবার ইচ্ছা রাখি, কিন্তু টাইম কইরা বইতেই তো পারি না রে ভাই, আপাতত এই ২ ডা খান, পরে আরো দিমু =p~ =p~ =p~

Click This Link
Click This Link

০৯ ই মে, ২০১১ বিকাল ৩:১৬

তৌফিকতুহিন বলেছেন: আপনার অভিযান গুলো দারুন,ছবি গুলোও।প্রিয়তে নিলাম।কিন্তু আপনার জোঁকের কাহিনী শোনার অপেক্ষায় রইলাম।

১২| ০৯ ই মে, ২০১১ বিকাল ৩:২৭

মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেছেন: ছোটবেলায় সম্ভবত ইব্রাহিম খা এর লেখা জোক গল্পটা পড়ে জোক নিযে ভয়ের শুরু।

১৩| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ২:২১

মেলমুটকিড বলেছেন: ভালো লাগলো।

১৪| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:২৭

মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন: প্রাণীটা যতনা বেশী ভয়ংকর, দেখতে তার চেয়ে বেশী খাতারনাক !! /:) /:)

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৩:২৭

তৌফিকতুহিন বলেছেন: ঠিক কথা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.